আমি তৈরি।
এক কাঁধের উপর থেকে আলখেল্লা সরিয়ে ফেলল সে। দীর্ঘ, সূক্ষ্ম কাঁধের সাথে সম্পূর্ণ মানানসই তার বাঁক। জোব্বাটাকে আরও নিচে নামতে দিল সে। কোমর দোলাতেই জোব্বাটা ওর গোড়ালির কাছে ফুলের মালার মতো খসে পড়ল।
ওটার ভেতর থেকে বের হয়ে তাইতার দিকে এগিয়ে এলো ও। আরও একবার সামনে ঝুঁকে একহাতে তাইতার ঘাড় জড়িয়ে ধরল।
এবার আবার পিছিয়ে গিয়ে মসৃণ ভঙ্গিতে পিঠে দুই হাত বোলাল সে। অনুগতের মতো অনুসরণ করল ওর চোখ। ইয়োসের চোখের গভীরে তাকাল, সেখানে স্পষ্ট আদিম ক্ষুধা দেখতে পেল, এক মুহূর্ত আগেও যা ছিল না। জানে, ওর খোদ আত্মাকে চাইছে সে। এবার দুই হাতই ওর উপর রাখল সে, ওকে তুলে কাউচের দিকে নিয়ে গেল। ওর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে স্যান্ডেলের ফিতে ঢিলে করে খুলে নিল পা থেকে। মাথা তুলে ওর গায়ে ঘষল। তাই ফের উঠে দাঁড়ালে ওর মাথার উপর দিয়ে টিউনিক খুলে নিয়ে আবার কাউচে শুইয়ে দিল। এক পা বাড়িয়ে ওর উপর চড়াও হলো সে, যেন ঘোড়ায় চাপতে যাচ্ছে, তারপর উবু হয়ে ওকে গোপন অভ্যন্তরে প্রবেশে সাহায্য করল।
পুলক এত প্রবল হয়ে উঠল যে প্রায় বেদনায় পরিণত হলো। ওর শরীরে গভীর অভ্যন্তরের পেশিগুলো দপদপ করছে, চেপে আসছে। শিকার পেঁচিয়ে ধরা পাইথনের মতো অনড়ভাবে পেঁচিয়ে ধরছে। ওকে এমন এক মিলনে বন্দি করে ফেলেছে সে তার থেকেও বের হয়ে আসার উপায় নেই। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আছে তার চোখ, হত্যা করতে উদ্যত যোদ্ধার মতো বিজয়ীর দৃষ্টি সেখানে। তুমি সম্পূর্ণ আমার। সাপের মতো ফিসফিস করে বলল সে। তোমার সবই আমার। আর ভনিতা নেই, আসল রূপ ধারণ করতে সব মুখোশ ফেলে দিয়েছে।
তার জৈবিক আক্রমণের সূচনা টের পেল তাই। যেন কোনও বর্বর বাহিনী ওর আত্মার দুর্গ অবরোধ করে রেখেছে, দেয়ালের গায়ে আঘাত হানছে। ওকে ঠেকানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করল তাইতা, তাকে প্রবেশাধিকার না দিতে সব দরজা বন্ধ করে দিতে চাইল। ঠেলে ফেলে দিতে চাইল। ভুলিয়ে ভালিয়ে তাইতা ওকে ফাঁদে ফেলেছে টের পেয়ে তার চোখে বিপদের ছাপ পড়ল। তারপর খুনে অভিব্যক্তি ফুটে উঠল চেহারায়। ফের আক্রমণ শানাল সে।
পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে চলল ওরা; প্রথমে সমানে সমানে লড়ল। একসাথে আবদ্ধ অবস্থায় মালাকাইটের মেঝেয় আছড়ে পড়ল ওরা, কিন্তু ইয়োস নিচে থাকায় ওর শরীরের পুরো চাপটা সহ্য করল। ধাক্কা খেয়ে মাত্র মুহূর্তের জন্যে তার দেহের পেশিগুলো শিথিল হলো। এই সুযোগটাকে কাজে লাগাল তাইতা। ওর মূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। নীরবে পরস্পরের সাথে যুঝছে ওরা। সমস্ত শক্তি এক করার প্রয়াস পাচ্ছে, পরস্পরকে ভঙুর ভারসাম্যে আটকে রেখেছে।
ইয়োস শেষ শক্তি জড়ো করছে টের পেয়ে তাইতাও ওর সমস্ত শক্তি প্রস্তুত রাখল। তারপরই এক মনস্তাত্ত্বিক পাহাড় ধসের মতো ওর উপর চড়াও হলো ইয়োস। ওর প্রতিরক্ষায় জোর করে দুর্বলতা তৈরির চেষ্টা করছে সে। ওর আত্মার গোপন জায়গায় ঢুকে পড়তে চায়। তাই ওর শরীরের পরাস্ত হওয়া টের পেল। আরও একবার বৈরী বিজয়ীর ছাপ পড়ল তার চোখে। হাত নামিয়ে গলায় ঝোলানো লস্ত্রিসের মাদুলিটা চেপে ধরল। মনে মনে শক্তির শব্দ ফুটিয়ে তুলল। মেনসার! বেসুরোভাবে চিৎকার করে উঠল ইয়োস। কিদাশ! নিউবে! আবার চিৎকার করে বলল তাইতা। মাদুলি থেকে মনস্তাত্ত্বিক শক্তির একটা ঝলক দেখা দিল। বিদ্যুঝলকের মতো ইয়োসকে ওর আত্মায় নিক্ষেপ করল। আরও একবার পরস্পরকে ঠেকিয়ে রাখল ওরা। ওদের শক্তি সামান সমান। পরস্পরের গায়ে লেগে থেকে আইভরিতে খোদাই করা মূর্তির মতো অটল রইল ওরা।
কুপির তেল টিমটিম করে জ্বলছে, শিখাটা একবার দপ করে উঠেই নিভে গেল। চেম্বারের অনেক উঁচু ছাদের ফোকর দিয়ে ভেতরে আসছে একমাত্র আলো। সূর্যটা পাহাড়ের আড়ালে অস্ত যাবার সাথে সাথে আলো ফিকে হয়ে এলো। যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে অন্ধকারে ছুঁড়ে দিল ওদের। সারা রাত এমনি ভীষণ সঙ্গমে জড়িয়ে থাকল ওরা।
ছাদের ফোকর দিয়ে ভোরের আলোে চুঁইয়ে ঢুকতে শুরু করার মুহূর্তেও পরস্পরের সাথে সেঁটে ছিল ওরা। আলো স্পষ্ট হয়ে উঠলে ইয়োসের চোখ দেখতে পেল তাইতা। সেগুলোর গভীরে কামনার আতঙ্কে পরিণত হওয়া দেখতে পেল, অনেকটা খাঁচায় বন্দি পাখির গরাদের গায়ে ডানা ঝাপ্টানোর মতো। ওর চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল সে, কিন্তু দৃষ্টি স্থির রাখল ও। অনেক আগেই ক্লান্তির সব সীমা পার হয়ে গেছে ওরা। কারুরই কেবল লেগে থাকার ইচ্ছাটুকু ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। লম্বা পায়ে তাইতার কোমর পেঁচিয়ে রেখেছে সে, দুই হাতে পিঠ জড়িয়ে ধরেছে। ওকে নিজের দিকে আকর্ষণ করল ও। ওর ডান হাতে তখনও লক্ট্রিসের মাদুলি ধরা; তার পিঠের মাঝখানে মুঠি পাকানো অবস্থায় রাখা। খুব সাবধানে যেন ইয়োস সতর্ক হয়ে না উঠতে পারে, বুড়ো আঙুলের নখের সাহায্যে লকেটের মুখ খুলে ফেলল ও। লাল পাথরের গুড়ো ওর হাতে পড়ল।
ইয়োসের মেরুদণ্ডে পাথরের গুঁড়ো চেপে ধরল ও। ইয়োসের উপর শক্তি চালিত হওয়ামাত্র উত্তপ্ত হয়ে উঠতে লাগল। আর্তচিৎকার করে উঠল ইয়োস। প্রলম্বিত, মরিয়া আর্তনাদ; তারপর দুর্বলভাবে যুঝল, ওকে বিতাড়িত করার মরিয়া প্রয়াসে আর্তচিৎকার করার মতো কোমর দোলাতে শুরু করল। তার খিচুনীর সাথে ধাক্কাগুলোকে সমন্বিত করল তাইতা।
