জবাবে নিজের আত্মার প্রতীক তৈরি করল ও। শাপলার জটিল রেখা ওর বাজপাখির প্রতাঁকের সাথে প্রেমিকসুলভ আলিঙ্গনে মূর্ত হয়ে উঠল। এক মুহূর্ত বেশি সময় ওর সাথে রইল তাইতা। যোগাযোগ পলায়নপর ছিল, কিন্তু আরও বেশি সময় থাকা বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াতে পারে। ওর মনে একটামাত্র বার্তা গেঁথে দিল ও। শিগগিরই ফিরে আসব। শিগগিরই। খুব তাড়াতাড়ি। তারপর সরে আসতে শুরু করল।
ওর বিদায় টের পেল ফেন, মুখের হাসি ম্লান হয়ে এলো ওর। যেন ওকে আটকে রাখতে চায়, একটা হাত বাড়িয়ে দিল সামনে। কিন্তু থাকবার সাহস হলো তাইতার।
একটা ঝকির সাথে নিজের শরীরে ফিরে এলো ও। মেঘ-বাগিচায় নিজের ঘুমানোর মাদুরে আসন পাতা বসা অবস্থায় আবিষ্কার করল নিজেকে। সংক্ষিপ্ত যোগাযোগের পর ফেনের সাথে বিচ্ছেদের বেদনা ভারাক্রান্ত করে তুলল ওকে।
*
পরের মাসগুলোতে নিজের নতুন মাংস নিয়ে যুদ্ধ করে চলল ও। বরাবরই ঘোড়সওয়ার থাকায় ওটাকে পোষ না মানা কোল্ট হিসাবে দেখছিল। শক্তি ও তাগিদ দিয়ে ইচ্ছার দাসে পরিণত করতে হচ্ছে। তরুণ বয়স থেকেই শরীরের উপর এখনকার কাজের চেয়ে ঢের কঠিন দাবি প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে নিষ্ঠুরভাবে নিজেকে শিক্ষিত ও শৃঙ্খলিত করে তুলল ও। প্রথমে শ্বাসপ্রশ্বাসের অনুশীলন রপ্ত করল। ফলে মনোসংযোগের অসাধারণ ক্ষমতা মিলল। অবশেষে সদ্যজাত অঙ্গের উপর কর্তৃত্ব করতে পারল ও। অল্প সময়ের ভেতরই কোনও রকম মানবিক অনুপ্রেরণা ছাড়াই ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি শক্তিমান থাকতে সক্ষম হয়ে উঠল।
দিমিতার ইয়োস বাগে পাওয়ার পর ওদের নারকীয় সঙ্গমের অভিজ্ঞতা কথা ওকে বলেছিলেন। তাইতা জানে অচিরেই তার জৈবিক আক্রমণের শিকার হতে হবে। বাঁচতে হলে প্রতিরোধ করা শিখতে হবে। যুদ্ধের জন্যে ওর সমস্ত প্রস্তুতি ব্যর্থ মনে হতে লাগল। বহু যুগের সবচেয়ে লোভী ও ক্ষুধার্ত শিকারীর মোকাবিলা করতে চলেছে, অথচ নিজে এখনও কুমার রয়ে গেছে।
নিজেকে সশস্ত্র করতে একজন নারীর সাহায্য লাগবে, স্থির করল ও। বেশ অভিজ্ঞ কেউ হতে হবে।
প্রথম পরিচয়ের পর থেকে ডাক্তার লাসুলুকে লাইব্রেরিতে বেশ কয়েববার দেখেছে ও। মনে হয় ওর মতোই বেশির ভাগ সময়ই লাইব্রেরিতে কাটায়। সংক্ষিপ্ত সৌজন্য বিনিময় করেছে ওরা, কিন্তু মেয়েটা ওদের বন্ধুত্বকে আরও দূরে নিয়ে যেতে আগ্রহী হলেও ও সেটাকে তেমন আমল দেয়নি। এবার তার খোঁজ শুরু করল ও। একদিন সকালে দেখা হয়ে গেল। লাইব্রেরির একটা রূমে ওঅর্কটেবিলে বসেছিল সে।
তোমার উপর দেবীর করুণা বর্ষিত হোক, শান্ত কণ্ঠে শুভেচ্ছা জানাল ও। হান্নাহ ও রেইকে একই কথা বলতে শুনেছে। মুখ তুলে তাকিয়ে উষ্ণ হাসি দিল লাসুলু। ভয়ানক আঁকাবাঁকা রেখায় ঝলসে উঠল ওর আভা। গায়ের রঙ গাঢ় হয়ে এলো, দুই চোখ জলজল করতে লাগল। উত্তেজিত হলে বেশ সুন্দর লাগে তাকে।
আপনার উপরও শন্তি বর্ষিত হোক, মাই লর্ড, জবাব দিল সে। আপনার দাড়ি ছাঁটার নতুন ধরনে রীতিমতো চমকে গেছি আমি। খুব মানিয়েছে। কয়েক মিনিট কথা বলল ওরা। তারপর বিদায় নিয়ে নিজের টেবিলে চলে এলো তাই। অনেকক্ষণ তার দিকে আর তাকাল না। শেষে যে স্ক্রোলটা পড়ছিল সেটা গুটিয়ে রেখে মহিলার উঠে দাঁড়ানোর শব্দে চোখ তুলে তাকাল। সে কামরা পেরুনোর সময় পাথুরে মেঝেতে হালকা শব্দ তুলল পায়ের স্যান্ডেল। চোখ তুলে তাকাল তাইতা, চোখাচোখি হয়ে গেল ওদের। দরজার দিকে মাথা কাত করে আবার হাসল সে। ওকে অনুসরণ করে বনে চলে এলো তাই। স্যানেটোরিয়ামের পথ ধরে ধীর পায়ে এগিয়ে চলেছে সে। আরও এক শো গজ যাবার আগেই তাকে ধরে ফেলল তাইতা। আবহাওয়া নিয়ে আলাপ করল ওরা। শেষে লাসুলু জানতে চাইল, প্রায়ই আপনার উপর ডাক্তার হান্নাহর চালানো অপারেশন থেকে আপনার সেরে ওঠা নিয়ে ভাবি। শুরুর মতো শেষটাও কি ঠিকমতো হয়েছে?
সত্যিই তাইতা, ওকে আশ্বস্ত করল তাইতা। মনে আছে, ডাক্তার হান্নাহর সাথে আমার ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করেছিলে?
উস্কানিমূলক শব্দের প্রয়োগে ওর আভা চড়া হয়ে উঠতে দেখল ও। জবাব দেওয়ার সময় কিঞ্চিত কর্কশ শোনাল তার কণ্ঠস্বর। হ্যাঁ।
বেশ, বিজ্ঞানী ও সার্জন হিসাবে তোমার হয়তো একটা প্রদর্শনীতে পেশাদারী আগ্রহ থাকতে পারে।
মহিলা তাইতার কামরায় না ঢোকা পর্যন্ত সহকর্মীর ভান করে গেল ওরা। কামরার কোণের পিপহোলটা জোব্বা দিয়ে ঢাকতে এক মুহূর্ত সময় নিল ও। তারপর লাসুলু যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে ফিরে এলো।
আরও একবার তোমার সহযোগিতা লাগবে আমার, টিউনিক খোলার সময় বলল ও।
অবশ্যই, সায় দিল সে, তৈরি হয়ে ওর কাছে এলো। আরেকটু পরে জানতে চাইল, মাই লর্ড, আপনি এর আগে কোনও মহিলাকে চিনতেন কিনা জানতে পারি?
হায়! দুঃখের সাথে মাথা নাড়ল ও। কীভাবে শুরু করতে হয় তাই জানি না।
তাহলে আমি শিখিয়ে দিচ্ছি।
পোশাক পরা অবস্থা থেকে নগ্ন অনেক বেশি সুন্দরী সে। মাদুরে চিত হয়ে শুয়ে ওকে আমন্ত্রণ জানাল সে। আরেকটু হলেই নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছিল প্রায়। অনেক চেষ্টায় নিজেকে ও শরীরকে সামাল দিল ও। এখন অনুশীলন ও আত্মপ্রশিক্ষণ থেকে ফায়দা পাবে ও। নিজের শিহরণ ঠেকিয়ে রেখে নাবিক যেভাবে মহাসাগরের মানচিত্র পড়ে সেভাবে তার আভা পরখ করে চলল। মহিলা নিজে বোঝার আগেই তার প্রয়োজন ও চাহিদা জানার কাজে ব্যবহার করল তাকে। চিৎকার করে উঠল সে, গোটা শরীর খিচুনি উঠতে লাগল। মেরে ফেললে তো! অবশেষে ফুঁপিয়ে উঠল সে। দেবীর পবিত্র নামের দোহাই, আর পারছি না। কিন্তু চালিয়ে গেল তাই।
