চারখানা শক্তিশালী বাহু আর খুবই খাট পায়ের একজন দাসকে অনেক বেশি পরিমাণে সোনার ও্যর তুলে আনতে খনির একেবারে বদ্ধ স্টোপে পাঠানো যেতে পারে, বলল রেই। তার বুদ্ধিকে একটা ষাঁড়ের পর্যায়ে নামিয়ে আনা হলে তো আরও ভালো। তাতে কঠোর পরিশ্রম নিয়ে মাথা ব্যথা থাকবে না তার, বিনা অভিযোগেই কঠিন অবস্থায় কাজ করে যাবে সে। ডাক্তার আসেম এমন এক ধরনের গুল্ম উৎপাদন করেছে যেটা এই ধরনের মানসিক অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। সময় হলেই ডাক্তার হান্নাহ আর আমি হয়তো ভৌত উন্নতি ঘটাতে পারব।
নিঃসন্দেহে এইসব উদ্যানের প্রবেশ পথের সুড়ঙগুলোয় পাহারাদার প্রশিক্ষিত শিম্পাঞ্জিগুলো দেখেছেন, বলল হান্নাহ।
হ্যাঁ, দেখেছি, শুনেছি, ওদের নাম ট্রগ, জবাব দিল তাইতা।
বিরক্তির সাথে ওর দিকে তাকাল হান্নাহ। সাধারণ লোকদের মুখে তৈরি একটা শব্দ। আমরা যে নাম ব্যবহার করি সেটা হলো, ট্রোগলোলাইট। আসলে গেছো শিম্পাঞ্জির একটা দল থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে ওদের। দক্ষিণের বিশাল বনে থাকত ওরা। শত শত বছরের পরিক্রমায় বন্দি অবস্থায় প্রজনন, শৈল্য চিকিৎসা আর বিশেষ কিছু ভেষজের মাধ্যমে ওদের বুদ্ধি আর আগ্রাসনকে আমাদের কাছে কাজে লাগার মতো একটা পর্যায়ে তুলে আনতে পেরেছি আমরা। একই কায়দা ওদের নিয়ন্ত্রণকারী লোকদের বশে না আসা পর্যন্ত প্রয়োগ করা হয়েছে। অবশ্যই ওদের মনে একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের ও বর্বরসুলভ। ফলে ওরা মানুষের তুলনায় ঢের বেশি ইচ্ছামতো কাজ করার উপযোগি হয়েছে। অবশ্য, একই কৌশলে আমাদের কিছু বন্দি ও দাসদের উপর পরীক্ষা চালাচ্ছি আমরা। বেশ উত্তেজনাকর ফল পেয়েছি। একবার গিল্ডের সদস্য হয়ে গেলে আপনাকে খুশি মনেই ওদের দেখাব।
এইসব তথ্যে রীতিমতো অসুস্থ বোধ করছে তাইতা। এমন সব প্রাণী সৃষ্টির কথা বলছে ওরা, যারা আর মুনষ নেই, বরং অস্বাভাবিক দানবে পরিণত হয়েছে, ভাবল ও। কিন্তু নিজের শঙ্কা প্রকাশ না করার ব্যাপারে সতর্ক রইল ও। এই মানুষগুলো ইয়োসের অশুভ প্রভাবে প্রভাবিত। ওদের মেধাকে বিকৃত করে ফেলা হয়েছে, তার বিষে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। মেরেন, নাকোন্তোদের মতো ভালো সৎ লোকজনের সঙ্গ থেকে কীভাবে দূরে সরে আছি আমি। কতদিন ফেনের ঝলমলে সারল্য থেকে দূরে রয়েছি।
কিছু সময় পরে ওরা লাইব্রেরি থেকে ফিরে আসার সময় কবে মেঘ-বাগিচা ছেড়ে অন্তত অল্প সময়ের জন্যে হলেও মুতাঙ্গি গ্রামে ফিরে যেতে পারবে, সেই প্রসঙ্গ হান্নাহর কাছে তুলল ও। আমার অবিরাম অনুপস্থিতিতে সঙ্গীসাথীরা নিশ্চয় নিদারুণ উৎকণ্ঠায় আছে। ওদের আমার নিরাপত্তা ও সুস্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত করতে চাই। তাহলে গিল্ডে যোগ দিতে আবার ফিরে আসতে পারব।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মাই লর্ড, এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই, জবাব দিল সে। মনে হচ্ছে, সুপ্রিম কাউন্সিল চায় আপনি পুরোপুরি যোগ না দেওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকুন। ওর দিকে তাকিয়ে হাসল সে। তবে মন খারাপ করবেন না, মাই লর্ড। আর এক বছরের চেয়ে বেশি হবে না সময়টা। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আমাদের সাথে কাটানো সময়টুকু যতদূর সম্ভব ফলপ্রসু ও সুফলদায়ী করে তুলব।
মেরেন বা ফেনকে না দেখে আরও একটা বছর কাটানোর সম্ভাবনা শঙ্কিত করে তুলল তাইতাকে। তবে এই ভেবে সান্ত্বনা পেল যে, ওর সাথে ডাইনী যে খেলা খেলছে, অতদিন সময় নষ্ট করতে যাবে না সে।
বিস্ময়কর দ্রুত গতিতে বেড়ে উঠত লাগল ওর নতুন অঙ্গ। ডাক্তার লাসুলুর পরামর্শ মনে রেখেছে ও। আপনাকে অবশ্যই ডাক্তার হান্নাহর দেওয়া পুরুষালী অঙ্গটি উপভোগ করতে হবে, ওটা থেকে আনন্দ ও গৌরব লাভ করতে হবে। নিজের মাদুরে একাকী রাতে নিজের মাঝে অনুসন্ধান চালাতে শুরু করল ও। নিজের হাতে সৃষ্ট অনুভূতি এতই তীব্র যে স্বপ্নেও হানা দিতে লাগল। গুহার কামুক শয়তানগুলোর ওর মনে লেলিয়ে দেওয়া ছবিগুলো আরও বেশি জোরাল ও চাহিদাসম্পন্ন হয়ে উঠেছে। এইসব স্বপ্নে সুন্দরী এক পরী এসে ধরা দিচ্ছে ওর কাছে।
উঠে বাতি জ্বালল ও। রেইয়ের দেওয়া রূপালি আয়নাটা পেয়ে আবার মাদুরে হাঁটু গেড়ে বসতে ফিরে এলো। বাতির আলোয় পুরুষাঙ্গের প্রতিবিম্বের দিকে তাকাল। পুকুরের জলে ইম্প যেমন দেখিয়েছিল ঠিক তেমনি নিখুঁত।
এখন স্বাভাবিক পুরুষদের তাড়িত করা তাগিদ বুঝতে পারছি। আমিও তাদের একজনে পরিণত হয়েছি। নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে লাসুলুর বলা সমস্ত আনন্দ ও খুশি বয়ে আনবে, আর উল্টে আমাকে নিয়ন্ত্রণ করলে ঠিক ইয়োসের পরিকল্পনা মাফিক ধ্বংস করে দেবে আমাকে।
৭. লাইব্রেরিতে ফেরা
সেদিন সকালে আরও পরে লাইব্রেরিতে ফেরার পর সামনে নিচু টেবিলের উপর মেলে ধরা স্ক্রোলে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আবিষ্কার করল ও। তলপেটের কাছে এক ধরনের আভা ও টিউনিকের স্কার্টের নিচের উপস্থিতির ব্যাপারে দারুণভাবে সজাগ।
যেন আরেকজন হাজির হয়েছে আমার সাথে জীবনে ভাগ নিতে, এক বখে যাওয়া মেয়ে সারাক্ষণ মনোযোগ দাবি করছে। ওটার প্রতি এক ধরনের আমুদে অধিকারময় দুর্বলতা বোধ করছে ও। এক ধরনের প্রতিযোগিতায় পরিণত হতে চলেছে এটা, ইচ্ছা শক্তির পরীক্ষা, আমাদের ভেতর কে কর্তৃত্বে রয়েছে সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর, ভাবল ও। কিন্তু বেদনার সর্বোচ্চ পর্যায় দমন, বা বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহে প্রশিক্ষিত নিখুঁত অবস্থায় উন্নত করা বুদ্ধিমত্তার ওর মন অনেক ছোটখাট বিকৃতির সাথে কুলিয়ে উঠতে সক্ষম। ক্কোলে মনোযোগ ফিরিয়ে আনল ও। অচিরেই এমনভাবে মগ্ন হয়ে গেল, চারপাশের পরিবশে সম্পর্কে আবছাভাবে সচেতন থাকল কেবল।
