নতুন ত্বক কীভাবে ক্ষতস্থান ঢেকে ফেলেছে দেখতে পাবে। বয়ঃসন্ধির পুরুষের শরীরে যেমনটা আশা করা যায় এর পেলবতা ও স্থিতিস্থাপকতা ঠিক তেমনি। স্পর্শ করলে বুঝতে পারবে গোটা মাংসল ঢালটা কোমরের হাড়ের উপর মাংসের একটা আস্তরণ সৃষ্টি করেছে। সাধারণভাবে বিকাশটা দশ বছরের বালকের মতো। অপারশেনের কয়েক সপ্তাহর মধ্যেই এই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। টেবিলের উপর দিয়ে একমাত্র নারী দর্শকের দিকে তাকাল সে। ডাক্তার লাসুলু, নিজের হাতে পরীক্ষা করে দেখতে চাও?
ধন্যবাদ, বলল মহিলা। দেখে মনে হচ্ছে পঁয়ত্রিশের কোঠায় হবে তার বয়স, কিন্তু তাই ওর আভা পরখ করলে দেখা গেল ব্যাপারটা প্রতারণামূলক, আসলে আরও বেশি বয়স তার। গম্ভীর হাবভাব আসলে তার আসল স্বভাব তুলে ধরে না। এক ধরনের কামুক ভাব রয়েছে ওর। পরখ করল সে। হ্যাঁ, অবশেষে বলল। নিখুঁতভাবে গঠিত বলেই মনে হচ্ছে। আপনি কোনও শিহরণ বোধ করছেন, লর্ড তাইতা?
হ্যাঁ। কর্কশ শোনাল ওর কণ্ঠস্বর।
আপনার বিব্রত হওয়ার প্রয়োজন নেই, মাই লর্ড। আপনাকে অবশ্যই ডাক্তার হান্নাহর ফিরিয়ে দেওয়া পুরুষালি অংশ উপভোগ করতে হবে। এর মাঝে আনন্দ ও গৌরব পেতে হবে। কীভাবে আপনাকে খেলাচ্ছি বুঝতে পারছেন?
খুবই পরিষ্কার, আরও কর্কশ হয়ে উঠেছে তাইতার কণ্ঠস্বর। এই অনুভূতি ওর আগের যেকোনও অনুভূতিকে ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষুদে বাড়তি এই অংশটুকু যোগ হওয়ার পরের সংক্ষিপ্ত সময়ে ওটাকে খুবই সাবধানতা ও যত্নের সাথে ব্যবহার করে এসেছে ও। স্বাস্থ্য ও প্রাকৃতিক ডাকের কারণে একান্ত বাধ্য হলেই কেবল ব্যবহার করেছে। এমনকি তখনও ওর স্পর্শ ছিল আনাড়ী, অদক্ষ। ডাক্তার লাসুলুর মতো নৈপূণ্য বা দক্ষতার কিছুই ছিল না।
অঙ্গগুলো পুরোপুরি সংগঠিত হয়ে ওঠার পর কী রকম ফল আশা করছ? ডাক্তার হান্নাহকে জিজ্ঞেস করল ডাক্তার লাসুলু।
একটা বাচ্চা ছেলের বেলায় যতটা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব তারচেয়ে বেশি নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই। তবে আশা করছি, শেষ পর্যন্ত আদি অঙ্গের খুব কাছাকাছি একটা অনুকৃতি হয়ে উঠবে ওগুলো।
খুবই কৌতূহলোদ্দীপক, বিড়বিড় করে বলল ডাক্তার লাসুলু। তোমার কি মনে হয়, আগামীতে কোনও এক সময়ে আদি অঙ্গের চেয়ে উন্নত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নির্মাণ সম্ভব হতে পারে? যেমন ধরো, নিখুঁত নমুনা দিয়ে একটা থ্যাঁতলানো পা বা কাটা ঠোঁট বদলানো; অস্বাভাবিক ছোট শিশ্নকে বড় শিশ্ন দিয়ে পাল্টানো? কাজটা কি অসম্ভব?
অসম্ভব? না, ডাক্তার, কোনও কিছুই অসম্ভব নয়, যতক্ষণ না সেটা প্রমাণ করতে পারছ। আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারলেও আমার পরে যারা আসবে তারা নিশ্চয়ই সফল হবে।
আরও খানিকক্ষণ স্থায়ী হলো ওদের আলোচনা, তারপর কথা রেখে তাইতার দিকে মনোযোগ দিল লাসুলু। এখনও ওর অঙ্গে হাত বোলাচ্ছে। এখন তাকে খুশি মনে হচ্ছে। ওহ, বেশ ভালো, বলল সে। জিনিসটা কার্যকর। এটাই আসলে তোমার দক্ষতার প্রমাণ, ডাক্তার হান্নাহ। শেষ পর্যন্ত চরম পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে মনে করো? নাকি সে সময় এখনও হয়নি? পূর্ণ মনোযোগর সাথে ওর শিশ্ন পরখ করল দুই মহিলা।
প্রশ্নটা নিয়ে গভীর মনোযোগের সাথে ভাবল হান্নাহ। তারপর জবাব দিল। আমার ধারণা চরম পর্যায় যাওয়া সম্ভব হয়ে গেছে।
আমরা পরীক্ষা করে দেখতে পারি। ডাক্তার, তুমি কী বলে?
শীতল নৈর্ব্যক্তিক ঢঙে আলোচনা করে চলেছে ওরা। অবশ্য ডাক্তার লাসুলু হাতের সহজ সঞ্চালনে যেমন অনুভূতি সৃষ্টি করছে, রীতিমতো বিভ্রান্ত বোধ করতে লাগল তাইতা। হাত বাড়িয়ে হাতটা সরিয়ে দিল ও। ধন্যবাদ, ডাক্তার, বলল ও।
আমরা সবাই ডাক্তার হান্নাহর শৈল্য চিকিৎসার দক্ষতায় মুগ্ধ হয়েছি। আমি তো বটেই। তাসত্ত্বেও, তুমি যে পরীক্ষার কথা বলছ সেটা আরেকটু কম লোকের সামনে হলেই ভালো হবে। টিউনিকের স্কার্ট ঠিক করে উঠে বসল ও।
ওর দিকে তাকিয়ে হাসল ডাক্তার লাসুলু। আপনার অনেক আনন্দ প্রত্যাশা করছি। তার চোখের চাহনি থেকে পরিষ্কার যে ডাক্তার হান্নাহর মতো ফুর্তির দর্শনে বিশ্বাস করে না সে।
*
এখন বিশাল লাইব্রেরিতে যাবার সুযোগ মেলায় দ্রুত কেটে যাচ্ছে তাইতার নসময়। হান্নাহ যেমন বলেছিল, ওখানে জমানো সম্পূর্ণ জ্ঞান রপ্ত করার জন্যে একটা মানুষের পূর্ণ আয়ু যথেষ্ট নয়। অদ্ভুতভাবে তালাবদ্ধ নিষিদ্ধ কামরার প্রতি কোনও কৌতূহল পুষে রাখেনি ও। রাতের ক্রন্দসী নারী ও অন্য অনেক অব্যাখ্যাত বিষয়ের মতো ভাবনাটা কেবল ওর স্মৃতির গভীরে কোথাও হারিয়ে গেছে।
পড়াশোনায় ব্যস্ত না থাকলে বেশির ভাগ সময়ই হান্নাহ, রেই ও আসেমের সাথে আলোচনায় সময় কাটায় ও। পালা করে ওকে অন্যান্য ল্যাবরেটরিতে নিয়ে যায় ওরা, যেখানে আরও বেশ কিছু অনন্য সাধারণ পরীক্ষানিরীক্ষা করছে।
উন্নত প্রত্যঙ্গ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত ডাক্তার লাসুলুর প্রশ্ন মনে আছে? জানতে চাইল ডাক্তার হান্নাহ। ধরুন, কল্পনা করা যাক, একজন সৈনিকের পা তাকে ঘোড়ার মতো দ্রুত ছুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাকে এক জোড়ার চেয়ে বেশি হাত করে দিতে পারলে কেমন হবে? এক হাতে তীর ছুঁড়বে, দ্বিতীয়টা দিয়ে যুদ্ধ কুড়োল হাঁকাবে, আর তৃতীয় জোড়া থাকবে তলোয়ার ঘোরানো আর বর্ম বইবার জন্যে। এমন একজন যোদ্ধার সামনে কিছুই টিকবে না।
