তরুণ বয়সে নিজের চেহারা নিয়ে বেশ খুশিই ছিল তাইতা। সেই সময় তা খানিকটা পুরুষত্বহীনতা পুষিয়ে দিয়েছিল। এখন দেখতে পাচ্ছে, এত দিন পরেও, চেহারা পুরোপুরি খোয়ায়নি ও।
ফেন অবাক হয়ে যাবে, ভাবল ও। আনন্দের সাথে মৃদু হাসল। আয়নায় ঝিকিয়ে উঠল ওর নতুন দাঁত। চোখের অভিব্যক্তি দ্রুততর হয়ে উঠল। ভালো কাজ দেখিয়েছ, সায় দিল ও। এমন তুচ্ছ মাল দিয়ে এমন অসাধারণ কাজ সম্ভব ভাবিনি।
সেদিন সন্ধ্যায় হান্নাহ ওর সাথে দেখা করতে এলে চিন্তিত চেহারায় ওর চেহারার বৈশিষ্ট্য পরখ করল। অনেক আগেই আমি ধরে নিয়েছিলাম যে প্রেম বিলাসে অযথা সময় নষ্ট না করে অন্য কাজের মতো কাজে মাথা খাটালেই ভালো, বলল সে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি কোনও কোনও মেয়েমানুষ কেন আপনাকে সুদর্শন সুপুরুষ ভাবতে পারে, মাই লর্ড। আপনি অনুমতি দিলে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের স্বার্থে সতর্কতার সাথে নির্বাচিত গিল্ডের কয়েকজন সদস্যকে আপনার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই যাতে আপনি কী পেয়েছেন তার একটা ধারণা পায়।
তুমি ও তোমার সহকর্মীরা যা পেয়েছে, শুধরে দিল তাইতা। অন্তত এটুকু সৌজন্য পাওনা আছো তুমি।
কয়েকদিন পরে হান্নাহর অপারেটিং রূমে এলো ও। তাড়াহুড়ো করে লেকচার রূমে পরিণত করা হয়েছে ওটাকে। পাথুরে টেবিলের সামনে টুলগুলো অর্ধবৃত্তাকারে বসানো হয়েছে। গিব্বা, রেই ও আসেমসহ আটজন নারীপুরুষ আসন গ্রহণ করেছে।
তাইতাকে টেবিলের কাছে নিয়ে এলো হান্নাহ, ছোট দর্শকমণ্ডলীর মুখোমুখি বসতে বলল ওকে। শুরু থেকে ওর সেবা করা সার্জনরা ছাড়া এদের সাথে আগে পরিচয় হয়নি তাইতার। মেঘ-বাগিচায় ওর দীর্ঘ দিন অবস্থানের কথা ভাবলে ব্যাপারটা বিস্ময়করই লাগে। নিশ্চয়ই স্যানিটোরিয়াম ওর ধারণার চেয়েও বিশাল এলাকা জুড়ে অবস্থিত; কিংবা অন্যান্য বিভাগগুলো মূল ভবন থেকে বিচ্ছিন্ন ও লাইব্রেরির মতো বনে লুকানো। তবে সবেচেয়ে বেশি সম্ভাবনা, মেঘ-বাগিচার বেশির এলাকাই এখনও ইয়োসের অপ-শিল্পকর্মের কারণে ওর কাছে থেকে আড়াল করে রাখা। ছেলেমানুষি ধাঁধার মতো বাক্সের ভেতর বাক্স লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
নবাগতদের একজন মেয়ে। বাকিরা পুরুষ। সবাইকেই বিশিষ্ট ও গণ্যমান্য বিজ্ঞানী মনে হচ্ছে। তাইতাকে চরম তোষামুদে ভঙ্গিতে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর ওর চিকিৎসার বর্ণনা দিল হান্নাহ। তাইতার পুরোনো ক্ষয়ে যাওয়া দাঁত ফেলে মাঢ়ীতে নতুন দাঁতের বীজ বপন করার বর্ণনা দিল রেই। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিদের এক এক করে নতুন দাঁত পরখ করতে বলল। গোটা পরীক্ষার সময় নিরাসক্ত চেহারায় বসে রইল তাইতা, ওদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিল। ওরা আবার টুলে বসলে ওর পাশে দাঁড়াল এসে হান্নাহ।
তাইতার নির্বীজকরণ ও ক্ষতের গভীরতার ব্যাখ্যা দিল। শ্রোতারা সন্ত্রস্ত হয়ে উঠল। মেয়ে বিজ্ঞানী বিশেষভাবে আলোড়িত হয়ে স্পষ্ট ভাষায় সহানুভূতি জানাল।
তোমার উদ্বেগের জন্যে ধন্যবাদ, জবাব দিল তাইতা। তবে অনেক কাল আগের ঘটনা এটা। বছরের পরিক্রমায় সেই স্মৃতি ফিকে হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতি চাপা দেওয়ার এক ধরণের কৌশল রয়েছে মানুষের মনের। সায় দিয়ে মাথা দোলাল ওরা।
প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন পরীক্ষা ও অপারেশনের প্রস্তুতির বিবরণ দিল হান্নাহ।
তাইতা ভেবেছিল গ্র্যাফটিংয়ের জন্যে ফসল তোলা ও বীজ লাগানোর ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করবে। এই ব্যাপারে অজ্ঞ রাখা হয়েছে ওকে, ব্যাখ্যা জানতে অধীর উৎসাহ বোধ করছে ও। কিন্তু হতাশার সাথে লক্ষ করল তেমন কোনও প্রয়াসই পেল না। সে। দর্শকরা এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল, ধরে নিল ও, সম্ভবত নিজেদের কাজেও একই কৌশল কাজে লাগায় ওরা। যাহোক, অপারেশনের বর্ণনা দিতে শুরু করল হান্নাহ: কীভাবে বিক্ষত টিস্যু একেবারে ভিত্তি থেকে কেটে সেখানে গ্রাফট বীজ বপন করেছে। সহকর্মীরা অসংখ্য অনুসন্ধানী, শিক্ষামূলক প্রশ্ন রাখল, বিস্তারিত উত্তর দিল সে। শেষে ওদের বলল, তোমরা সবাই জানেনা, লর্ড তাই সর্বোচ্চ পর্যায়ের ম্যাগাস, তাছাড়া বিশিষ্ট শল্যচিকিৎসক ও নিজস্ব অবস্থানে একজন বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষকও বটে। তার পুরুষাঙ্গের পুনর্গঠন ছিল অস্বাভাবিকভাবে একান্ত ও স্পর্শকাতর ব্যাপার। বলাবাহুল্য, অনেক যন্ত্রণার মোকাবিলা করতে হয়েছে তাঁকে। এসবই ছিল তাঁর মতো অসাধারণ ব্যক্তির মর্যাদা ও গোপনীয়তার উপর এক ধরনের বিশাল ভার। তাসত্ত্বেও তিনি আমাদের পরীক্ষা ও তার ফলাফল মূল্যায়ন করতে দিয়েছেন। আমি নিশ্চিত, আমরা মেনে নেব যে এটা. তার পক্ষে কোনওভাবেই সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। এ সুযোগ পাওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।
অবশেষে তাইতার দিকে ফিরল সে। আপনার অনুমতি চাইছি, লর্ড তাই।
মাথা দুলিয়ে টেবিলের উপর চিত হয়ে শুয়ে পড়ল ও। এগিয়ে এসে হান্নাহর উল্টোদিকে টেবিলের পাশে দাঁড়াল গিব্বা। তাইতার টিউনিকের হেম ওঠাল ওরা। ভালো করে দেখতে আরও কাছে আসতে পারো, দর্শকদের বলল হান্নাহ। টুল ছেড়ে টেবিলের চারপাশে একটা অর্ধবৃত্ত তৈরি করে দাঁড়াল ওরা।
এমনি দর্শনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে বলে ওদের পরীক্ষার অধীনে বিশেষ কোনও লজ্জা বোধ করল না তাইতা। হান্নাহ বক্তব্য শুরু করার পর কনুইয়ে ভর দিয়ে উঁচু হয়ে নিজের শরীরের দিকে তাকাল ও।
