ক্ষতিগ্রস্ত সব টিস্যু সরিয়ে ফেলতে হবে। কাঁচা মাংসের স্তরে ঢুকে রক্তনালী উন্মুক্ত করতে হবে যাতে বেড়ে ওঠার জন্যে বীজ দৃঢ় ভিত্তি পায়, ব্যাখ্যা করল হান্নাহ। তারপর রেইয়ের দিকে ফিরল। তুমি মূল স্নায়ুগুলো খুঁজে বের করে সেগুলোর অবশিষ্ট কার্যকারিতা বের করতে পারবে?
স্নায়ুর শেষ প্রান্ত খোঁজার জন্যে একটা ব্রোঞ্জের উঁচ ব্যবহার করল রেই। তার খোঁচাখুঁচির কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়া রীতিমতো অত্যাচার হয়ে দাঁড়াল। যন্ত্রণা তাড়াতে চট করে মন অবরুদ্ধ করে ফেলল তাইতা। ও কী করছে বুঝে গেল রেই, স্রেফ বলল, ব্যথা দমানোর ক্ষেত্রে আপনার শক্তিকে সম্মান করি, লর্ড তাইতা, তাতে আপনার অবস্থা বরং আরও ভালো হবে। অবশ্য, আমার পরীক্ষার সময় আপনাকে তা বাদ দিতে হবে। রুদ্ধ করে রাখলে আপনার শরীরের কোন অংশ মৃত এবং সরাতে হবে, আর কোন অংশটুকু আবার নির্মাণের জন্যে জীবিত আছে বুঝতে পারব না।
হান্নাহর স্ক্যালপেল চলাতে সাহায্য করতে তাইতার তলপেটে কালো কালি দিয়ে রেখা আর প্রতীক আঁকল সে। সে ওটা নামিয়ে রাখার আগেই শত শত ছোট যন্ত্রণাদায়ক সঁচের খোঁচায় রক্তাক্ত হয়ে গেল তাইতা। অত্যাচারের ফলে রীতিমতো ফ্যাকাশে, ঘর্মাক্ত হয়ে গেল ও। যখন সামলে নিল, তখন হান্নাহর উপসংহার নিয়ে আলোচনা করল চার সার্জন।
আমরা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বীজ ব্যবহার করায় ভালোই হয়েছে। প্রথমে যেমন ভেবেছিলাম চিকিৎসার এলাকাটা তারচেয়ে অনেক বড়। নতুন দাঁতের জন্যে। কাজে লাগানো সূঁচের সংখ্যা হিসাবে ধরলে আমরা তোলা সব বীজই লাগবে মনে। হচ্ছে, বলল হান্নাহ।
আসলেও তাই। উন্মুক্ত এলাকাটা অনেক বড়। এর আগে আমরা যত জায়গা নতুন করে গঠন করেছি, তার চেয়ে অনেক বেশি সময় নেবে সেরে উঠতে। ক্ষতস্থানকে দূষিত না করে কীভাবে প্রস্রাব আর বর্জ্য বের করার ব্যবস্থা করা যায়? জানতে চাইল গিব্বা।
পায়ুপথ এখানে আসবে না, যথারীতি কাজ করে যাবে। অবশ্য ইউরেথ্রায় একটা তামার নল বসাতে হবে আমাকে। প্রথম দিকে তা প্রস্রাব বহন করবে, কিন্তু বীজ টিকে গিয়ে উন্মুক্ত এলাকা ঢেকে ফেললে অঙ্গের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে সরিয়ে ফেলতে হবে।
নিজেই প্রসঙ্গ হলেও বস্তুগত আগ্রহ দেখাতে পারল তাইতা, মাঝে মাঝে কিছু পরামর্শও দিল, অন্যরা স্বাগত জানাল সেটা। প্রক্রিয়ার সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয় বিস্তারিত আলোচনা শেষে শেষবারের মতো ওর সাথে কথা বলল আসেম: ব্যথা। কমানোর মতো ভেষজ আছে আমার কাছে, কিন্তু সম্ভবত তার দরকার হবে না। ডাক্তার রেই আপনাকে পরখ করার সময় আপনার ব্যথা সামলানোর কায়দা দেখে অবাক হয়েছি। আপনি কি অপারেশনের সময় সেই একই কায়দা ব্যবহার করতে পারবেন, নাকি ওষুধটা ব্যবহার করতে হবে?
ওষুধটা যে বেশ কার্যকর তাতে আমার সন্দেহ নেই, তবে নিজেই ব্যথা সামলাতে চাই আমি, বলল তাইতা।
দারুণ মনোযোগ দিয়ে আপনার এই কৌশল লক্ষ করব।
হান্নাহ যখন আলোচনার সমাপ্তি টানল তখন মাঝ বিকেলে হয়ে গেছে। নিজের কোয়ার্টারে ফিরে আসতে পারল তাইতা। হান্নাহর কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার আগে সে বলল, ডাক্তার আসেমের বানানো বেদনা নাশক ওষুধটা একটা কাঁচের শিশিতে আপনার বিছানার পাশে রাখা থাকবে। এক বাটি উষ্ণ পানি দিয়ে খেয়ে নেবেন। আজ রাতে বা কাল সকালে আর কিছু খাবেন না। সকালে আলো ফুটে ওঠার সাথে সাথে কাজ শুরু করতে চাই আমি। যথেষ্ট সময় নিয়ে কাজ করতে হবে। কী। ধরনের অপ্রত্যাশিত সমস্যার মোকাবিলা করতে হতে পারে তার কোনও ধারণা নেই আমাদের। তেলের কুপির আলো আমাদের কাজের জন্যে যথেষ্ট হবে না।
আমি তৈরি থাকব, ওকে নিশ্চিত করল তাইতা।
*
পরদিন সকালে তাইতা যখন হান্নার কামরায় পৌঁছুল, ওর সার্জনদের দলটা সমবেত হয়ে কাজ শুরু করতে তৈরি। মেরেনের সাথে এর আগের দফা কাজের সময় চেনা দুজন নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট পোশাক খুলতে সাহায্য করল ওকে। সম্পূর্ণ নগ্ন হওয়ার পর পাথরের টেবিলে তুলে দিয়ে চিত করে শুইয়ে দিল ওকে। পিঠের নিচে শীতল, কঠিন ঠেকল পাথরটা, তবে বাতাস প্রীতিকরভাবে উষ্ণ, মেঝের নিচের গরম পানির নলের কারণে তপ্ত হয়ে আছে। চার জন ডাক্তারই কোমর পর্যন্ত নগ্ন, ওদের পরনে কেবল শাদা নেংটি। হান্নাহ ও রেইয়ের শরীরের উর্ধ্বাংশ ও স্তন অন্য তরুণীদের মতোই দৃঢ়, সুডৌল, ওদের ত্বক মসৃণ, কোঁচকানো নয়। তাইতা আন্দাজ করল নিজেদের এমনি অবস্থায় ধরে রাখতে নিশ্চয়ই প্রাচীন দক্ষতা কাজে লাগিয়েছে ওরা। নারী জাতির চিরন্তন অহঙ্কারের কথা ভেবে মনে মনে হাসল ও। তারপর আপনমনে চিন্তা করল: এখানে ছুরির অপেক্ষায় শুয়ে থেকে ওদের চেয়ে কম অহঙ্কারী আমি? হাসি বন্ধ করল ও, শেষবারের মতো কামরার চারপাশে নজর বোলাল। কাছেই আরেকটা মাৰ্বল পাথরের টেবিলে অসংখ্য রূপা, তামা ও ব্রোঞ্জের সার্জিকাল সরঞ্জাম স্তূপ করে রাখা দেখতে পেল। তার ভেতর টেবিলের উপর শাদা পাথরের উপর অন্তত পঞ্চাশটা চকচকে স্কেলপেল সাজানো দেখে অবাক হয়ে গেল ও।
ওর আগ্রহ লক্ষ করল হান্নাহ। তীক্ষ্ণ ছুরি দিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি আমি, ব্যাখ্যা করল সে। আপনার এবং আমার সুবিধার জন্যে। কামরার দূর প্রান্তে আরেকটা ওঅর্ক টেবিলে বসা দুজন টেকনিশিয়ানের দিকে ইঙ্গিত করল সে। ওরা দক্ষ কাটলার। ধার কমার সাথে সাথে স্কেলপেলে শান দেবে ওরা। কাজ শেষ হওয়ার আগেই ওদের প্রতি কৃতজ্ঞ বোধ করবেন আপনি। সহকারীদের দিকে ফিরল সে। সবকিছু তৈরি থাকলে আমরা কাজ শুরু করতে পারি।
