ঠিকাছে, ম্যাগাস।
জীবন দিয়ে ফেনকে পাহারা দেবে। জীবন্ত অবস্থায় ওকে ইয়োসের ফাঁদে পড়তে দেবে না। কী বোঝাতে চেয়েছি বুঝতে পেরেছ?
পেরেছি, ম্যাগাস। হোরাস আর ত্রয়ীর কাছে প্রার্থনা করি যেন তার কোনও দরকার না হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেন ও সিদুদুকে রক্ষা করব।
হাসল তাইতা। হ্যাঁ, আমার পুরোনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু। হয়তো সিদুদুই সেই যার জন্যে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় আছো।
আমাকে রাজকুমারী মেরিকাকার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে ও, যখন তার প্রেমে পড়েছিলাম, সহজ কণ্ঠে বলল মেরেন।
সিদুদুর বয়ে আনা সব আনন্দ এবং তারচেয়েও বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্যতা তোমার আছে, ফিসফিস করে বলল তাইতা। যাকগে, এখন জলদি করো। ওই, ওনকা আসছে।
ঝড়ের বেগে ঘরে ঢুকল ওনকা। বিরক্তি গোপন করার কোনওই চেষ্টা করছে না।
পেয়েছ? জানতে চাইল তাইতা।
আপনি জানেন, পাইনি, আবার শূন্য শোবার ঘরের দরজার কাছে গিয়ে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল ওনকা, সন্দিহান চেহারায় উঁকি দিল ভেতরে। তারপর প্রবল ক্রোধে মাথা নেড়ে ফিরে এলো তাইতার কাছে। আমাদের এখুনি দুর্গের পথ ধরতে হবে।
অলিগার্করা আমাকে মেঘ-বাগিচায় পাঠালে গরম কাপড় নিতে হবে আমার।
সে ব্যবস্থা করা হবে, বলল ওনকা। চলুন।
মেরেনের ঊর্ধ্ববাহুতে চাপ দিয়ে বিদায় জানাল তাইতা। সিদ্ধান্তে অটুট থাকবে, বুকে সাহস রাখবে। মৃদু কণ্ঠে বলল ও। তারপর ওনকার পেছন পেছন আস্তাবলের আঙ্গিনার দিকে পা বাড়াল। ওনকার এক লোক জিন পরানো একটা বে মেয়ার নিয়ে অপেক্ষা করছিল। থমকে দাঁড়াল তাইতা। আমার মেয়ার উইন্ডস্মোক কই? জানতে চাইল ও।
সহিসরা বলেছে খোঁড়া হয়ে গেছে ওটা, ওটার পিঠে চাপা যাবে না, জবাব দিল ওনকা।
রওয়ানা দেওয়ার আগে ওকে দেখব।
সম্ভব নয়। দেরি না করে আপনাকে দুর্গে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে আমার উপর।
আরও কিছু সময় তর্ক করল তাইতা, কিন্তু ফায়দা হলো না। হতাশ দৃষ্টিতে মেরেনের দিকে তাকাল ও।
উইন্ডস্মোকের দিকে খেয়াল রাখব আমি, ম্যাগাস। আপনার ভয়ের কোনও কারণ নেই।
অচেনা ঘোড়ার পিঠে চেপে বসল তাইতা, গেট হয়ে বের হয়ে গেল ওরা।
*
পরদিন মাঝসকালের দিকে অলিগার্কদের প্রাসাদে পৌঁছুল ওরা। আবারও তাইতাকে অ্যান্টি চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হলো। গরম পানির একটা বেসিন রয়েছে ওখানে, ওটার পানিতে হাত মুখ ধুয়ে নিল ও, প্রাসাদের এক ভৃত্য পরিষ্কার লিনেনের তোয়ালে নিয়ে অপেক্ষা করছিল। একই ভৃত্য মসলাদার মুরগির মাংস আর এক বাটি লাল মদের খাবার দিল ওকে।
তারপর ওকে সুপ্রিম কাউন্সিলের দরবারে নিয়ে যেতে পরিচারক হাজির হলো। যারপরনাই সম্মানের সাথে মঞ্চের ঠিক নিচে, কামরার সামনের দিকে একটা চেয়ারে বসানোর ব্যবস্থা করল ওকে। সাবধানে চারপাশে চোখ বোলাল তাইতা, তারপর চামড়ার পর্দার দিকে মনোযোগ দিল। ইয়োসের কোনও চিহ্ন পেলো না। এবার দীর্ঘ অপেক্ষার জন্যে নিজেকে স্থির করে নিল ও, শরীর শিথিল করে ফেলল।
অবশ্য অল্প খানিকক্ষণ পরে প্রহরীরা সার বেঁধে ঢুকে মঞ্চের নিচে অবস্থান নিল। অলিগার্কদের আগমন ঘোষণা করল পরিচারক। সুপ্রিম কাউন্সিলের সম্মানিয় প্রভুদের প্রতি দয়া করে সম্মান দেখান।
তাইতা আনুগত্য প্রকাশ করলেও পর্দার পেছন থেকে অলিগার্করা ঢোকার সময় চোখের পাতার আড়াল থেকে ওদের উপর নজর রাখল। আবারও লর্ড আকেরের নেতৃত্বে এসেছে ওরা। মাত্র দুজনকে দেখে বিস্মিত হলো তাইতা। লর্ড ক্যাইথরকে দেখা যাচ্ছে না। আকের ও তার সঙ্গী যার যার টুলে বসল, তৃতীয় টুলটা খালি রইল।
হাসল আকের। আপনাকে স্বাগত। দয়া করে বসুন, ম্যাগাস। আপনি সমগোত্রীয়দের মাঝেই আছেন।
একথায় বিস্মত হলো তাইতা। তবে সেটা প্রকাশ না করার চেষ্টা করল। সোজা হয়ে গদিতে হেলান দিল ও। তুমি মহানুভব, লর্ড আকের, বলল ও।
আবার হাসল আকের। তারপর পরিচারক ও প্রাসাদ প্রহরীদের দল নায়ককে তলব করল। আমরা একা থাকতে চাই। দয়া করে আমাদের ছেড়ে চলে যাও, তলব না করা পর্যন্ত আসবে না। অচেনা কেউ যেন আড়ি পেতে না শুনতে পারে সেদিকে খেয়াল রেখো।
বর্শার হাতল আঁকড়ে ধরল প্রহরীরা, তারপর সার বেঁধে বেরিয়ে গেল। ওদের অনুসরণ করল পরিচারক। পিছন ফিরে হাঁটছে, তার গোটা শরীর প্রণামের ভঙ্গিতে বাঁকা হয়ে আছে।
ওরা বেরিয়ে যাবার পর বিশাল দরজাগুলো বন্ধ হওয়ামাত্র আবার কথা বলল আকের। আমাদের গত সাক্ষাতের সময় আপনার সাথে অভিজাত এক-তাংয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিইনি। বসে থেকেই পরস্পরের উদ্দেশে মাথা নোয়াল তাইতা ও কাউন্সিল সদস্য।
এক-তাং ছোটখাট স্বাস্থ্যবান লোক, মাঝবয়সী, শিল্পীসুলভ চেহারা। কয়লার মতো কালো একজোড়া চোখ তার, দুর্বোধ্য।
বলে চলল লর্ড আকের, মেঘ-বাগিচার সার্জনদের কাছ থেকে অসাধারণ খবর পেয়েছি। আমাদের বলা হয়েছে যে কর্নেল ক্যাম্বিসেসের চোখের অপারেশন সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছে। কোনওভাবেই জুড়ির চেয়ে ভিন্ন হবার কোনও কারণ নেই ওটার।
আমাদের সার্জনরা পৃথিবীর সবচেয়ে অগ্রসর, কিন্তু আসল সাফল্য ধরা দিতে বাকি আছে এখনও, বলল আকের।
জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে মাথা কাত করল তাইতা, তবে চুপ করে থাকল।
পরে এই প্রসঙ্গে আবার আসব আমরা, রহস্যময় ভাব করে আকের বলল, স্পষ্টতই ওকে কৌতূহলী করে তোলার ইচ্ছা। তারপর অকস্মাৎ প্রসঙ্গ বদলাল।
