কত বয়স তার, দেখতে কেমন?
বয়স কম, সুন্দরী। তাকে দেখেছেন?
দুঃখিত দেখিনি, মেরেনের দিকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকাল তাই। কর্নেল, এই বর্ণনার সাথে মেলে এমন কাউকে দেখেছ?
দেখিনি, মিথ্যা কথা বলায় তেমন পটু নয় মেরেন, সন্দিহান দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাল ওনকা। ম্যাগাস ও তার ঘরে নাক গলানোর আগে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতে, জোর গলায় বলল মেরেন।
আবারও ক্ষমা চাইছি, বলল ওনকা, তবে মোটেই আন্তরিক দেখানোর চেষ্টা করছে না সে। কিন্তু ব্যাপারটা জরুরি, সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করার উপায় ছিল না। আমি কি ঘরের ভেতরটা একবার দেখতে পারি?
বুঝতে পারছি, তুমি যা চাইবে সেটাই করবে, হাসল তাইতা। জলদি শেষ করো, তারপর আমাদের শান্তিতে থাকতে দাও।
ভেতর ঘরের দরজার দিকে ছুটে গেল ওনকা। পাল্লা খুলে ভেতরে ঢুকল।
ওকে অনুসরণ করে দোরগোড়ায় এসে দাঁড়াল তাইতা। মেঝের মাঝখানে রাখা মাদুর আর কম্বলের তূপের কাছে গিয়ে দাঁড়াল ওনকা। তলোয়ারের ডগা দিয়ে ওল্টাল ওগুলো। কেউ নেই ওগুলোর তলায়। চোখ রাঙিয়ে কামরার চারপাশে তাকাল সে, তারপর চট করে কিউবিকলের কাছে গিয়ে রাতের পাত্রের দিকে চোখ চালাল। চোখমুখ কুঁচকে ফিরে এলো শোবার ঘরে। ফের চারপাশে নজর বোলাল। আগের বারের চেয়ে অনেক সাবধানে।
দোরগোড়ায় তাইতার পেছনে এসে দাঁড়াল মেরেন। খালি! বলে উঠল ও।
অবাক হয়েছ মনে হচ্ছে? পাঁই করে ওর দিকে ঘুরল ওনকা।
মোটেই না, নিজেকে সামলে নিল মেরেন। আমি শুধু ম্যাগাসের কথাই নিশ্চিত করছি।
এক মুহূর্ত ওর দিকে তাকিয়ে রইল ওনকা, তারপর আবার তাইতার দিকে মনোযোগ দিল। আপনি জানেন, আমি কেবল আমার দায়িত্ব পালন করছি, ম্যাগাস। সমস্ত বাড়িঘর তল্লাশি শেষে আমার উপর নির্দেশ আছে আপনাকে দুর্গে নিয়ে যাবার, ওখানে অলিগার্করা আপনাকে স্বাগত জানাবেন। দয়া করে সাথে সাথে রওয়ানা দেওয়ার জন্যে তৈরি থাকবেন।
ঠিক আছে। এত গভীর রাতে ব্যাপারটা সুবিধাজনক নয়, কিন্তু সুপ্রিম কাউন্সিলের নির্দেশ মেনে নিচ্ছি।
ওরা চলে যাওয়ার সাথে সাথে অন্তর্চক্ষু খুলল তাইতা। কামরার দূরের কোণে দুটো আলাদা আভা জ্বলজ্বল করতে দেখল। আভাজোড়ার উপর মনোযোগ নিবদ্ধ করতেই ফেন ও সিদুদুর অবয়ব ফুটে উঠল। বাম হাতের ভঁজে সিদুদুকে বাঁচানোর ঢঙে ধরে রেখেছে ফেন। অন্য হাতে তাইতার তালিসমানের সোনার টুকরোটা ধরে আছে। নিজের আভাকে ম্লান আভায় দমিয়ে রেখেছে ও। আতঙ্কে নাচছে সিদুদুর আভা, জ্বলজ্বল করছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও আড়াল করার মন্ত্র দিয়ে সেটা চেপে রাখতে। পেরেছে ফেন। ফেনের চোখের দিকে তাকিয়ে বায়বীয় সঙ্কেত পাঠাল ও। ভালো কাজ দেখিয়েছ। যেমন আছো সেভাবেই থাকো। নিরাপদ মনে করার পর মেরেনকে তোমাদের কাছে পাঠাব। ও তোমাদের আরও ভালো কোনও জায়গায় নিয়ে যাবে।
বার্তা পেয়ে ফেনের চোখজোড়া বিস্ফারিত হয়ে গেল। জবাব দেওয়ার সময় আবার সংকীর্ণ হয়ে এলো। তোমার কথামতোই করব। ওনকাকে বলতে শুনেছি সুপ্রিম কাউন্সিল তোমাকে ডেকে পাঠিয়েছে। আমরা দূরে থাকার সময় তোমার জন্যে সতর্ক থাকব আমি।
আরও কয়েক মুহূর্ত ফেনের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকল তাইতা। ফেনের নিরাপত্তার কথা ভেবে মনের সমস্ত উদ্বেগ আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্ট করে গেল, ভালোবাসা আর নিরাপত্তার বোধ জাগানোর প্রয়াস পেলো। বিশ্বস্ততার সাথে হাসল ফেন, ওর আভা আবার স্বাভাবিক আগুনে সৌন্দর্য ফিরে পেলো। ডান হাতে তালিসমান ধরে ওর উদ্দেশে আশীর্বাদের একটা ভঙ্গি করল ফেন।
লুকিয়ে থাকো, আবার কথাটা বলে ঘর ছেড়ে বের হয়ে এলো ও।
বৈঠকখানায় একা অপেক্ষা করছিল মেরেন। কিন্তু ওনকা ও তার দলবলের বাড়ির পেছনে তাণ্ডবলীলা চালানোর শব্দ পেলো তাই। ভালো করে শোনো, মেরেন। ওর একেবারে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল তাইতা। ফেন আর সিদুদু এখনও আমার ঘরেই আছে। কথা বলার জন্যে মুখ খুলল মেরেন, কিন্তু হাত তুলে ওকে চুপ থাকার ইঙ্গিত করল ও। নিজেদের উপর আড়াল করার মন্ত্র প্রয়োগ করেছে ফেন। আমি ওনকার সাথে অলিগার্কদের সমনের জবাব দিতে দুর্গের পথে রওয়ানা হয়ে যাবার পর ওদের কাছে যেতে পারবে। বিলতোর মারফত তিনাতের কাছে খবর পাঠাতে হবে তোমাকে। মেয়েদের অবস্থা কতটা নাজুক হয়ে দাঁড়িয়েছে, ওকে জানাবে। আমি দূরে থাকার সময় ওদের জন্যে আরও নিরাপদ একটা জায়গা খুঁজে বের করতে হবে ওকে। লম্বা সময়ের জন্যে দূরে থাকতে হতে পারে আমাকে। আমার ধারণা অলিগার্করা সাথে সাথে আবার আমাকে মেঘ বাগিচায় পাঠাবে। মেরেনকে উদ্বিগ্ন দেখাল। খুব জরুরি প্রয়োজনে বা আমাদের উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে গেলে ফেনের সাথেই কেবল বায়বীয় যোগাযোগ রাখব আমি। তার আগে তুমি আর তিনাত জাররি থেকে পালানোর সব ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। বুঝতে পেরেছ?
হ্যাঁ, ম্যাগাস।
আরেকটা কথা, সৎ মেরেন। ইয়োসের সাথে না জেতার সমস্ত সম্ভাবনাই আছে আমার। অন্যদের মতো আমাকেও শেষ করে ফেলতে পারে সে। যাদের বন্দি করেছে। তেমন কিছু ঘটলে, সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই ফেনকে জানাব। আমাকে উদ্ধার করার কোনও চেষ্টা করতে যাবে না। ফেন ও দলের বাকি সবাইকে নিয়ে অবশ্যই জাররি থেকে পালাবে। কারনাকে ফিরে যাবার পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে, কী ঘটেছে সব জানাবে ফারাওকে।
