এসো, বাছা, বলল ও, আমরা আর কোনও কথা বলার আগে তোমাকে খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমাতে হবে। ফেনের নিয়ে আসা স্টু আর ধুরা পিঠা খেল সে। রুটির শেষ টুকরো দিয়ে অবশিষ্ট টু মুছে মুখে দেওয়ার পর তাইতা ওকে মনে করিয়ে দিল, বলছিলে আমার খোঁজেই এদিকে আসছিলে তুমি।
হ্যাঁ, ম্যাগাস, ফিসফিস করে বলল সে।
কেন? জানতে চাইল তাইতা।
আপনার সাথে একা কথা বলতে পারি, আর কেউ যেখানে আমাদের কথা শুনতে পাবে না? লাজুক কণ্ঠে জানতে চাইল সে। নিজের অজান্তের মেরেনের দিকে তাকাল।
অবশ্যই। আমার ঘরে চলো। একটা তেলের কুপি তুলে নিল তাইতা। এসো আমার সাথে। মেয়েটাকে নিয়ে ফেনের সাথে যে ঘরে থাকছে সেখানে নিয়ে এলো। নিজের মাদুরে বসে ফেনের মাদুরটা দেখিয়ে দিল ওকে। পাছার নিচে পা ভাঁজ করে বসল সিদুদু, ছেঁড়া স্কার্ট ভদ্রভাবে ঠিকঠাক করে নিল। এবার বলো, আমন্ত্রণ জানাল তাই।
জাররির সবাই বলে আপনি বিখ্যাত শল্যচিকিৎসক, সব ধরনের ভেষজ আর আরকের ব্যাপারে দক্ষ।
এই সবাই কারা, জানি না, তবে আমি সত্যিই শল্যচিকিৎসক।
আমি চাই আপনি আমার পেটের বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো একটা কিছু দিন, ফিসফিস করে বলল সে।
হকচকিয়ে গেল তাইতা। এমন কিছু মোটেও আশা করেনি। কী জবাব দেবে স্থির করতে গিয়ে খানিকটা সময় লেগে গেল। অবশেষে শান্ত কণ্ঠে জানতে চাইল, তোমার বয়স কত, সিদুদু?
উনিশ, ম্যাগাস।
আমি আরও কম ভেবেছিলাম, বলল ও। তবে তাতে কিছু যায় আসে না। তোমার পেটের বাচ্চাটার বাবা কে? তুমি তাকে ভালোবাসো?
তিক্ত, বিষাক্ত শোনাল মেয়েটার উত্তর। আমি তাকে ভালোবাসি না। ঘৃণা করি, তার মরণ চাই, হড়বড় করে বলে উঠল ও।
পরের প্রশ্নটা স্থির করার সময় মেয়েটাকে জরিপ করল তাইতা। তাকে যদি এতই ঘৃণা করে থাকো, তবে তার সাথে শুতে গেলে কেন?
আমি তা চাইনি, ম্যাগাস। আমার কোনও উপায় ছিল না। লোকটা খুবই নিষ্ঠুর, শীতল। আমাকে মেরেছে: আমার উপর উপগত হওয়ার সময় মাতাল ছিল,
আমাকে মেরে চোখের পানি বের করে দিয়েছে, রক্তপাত ঘটিয়েছে।
তাকে ছেড়ে চলে যাওনি কেন? জানতে চাইল তাইতা।
চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমাকে ধরতে ট্রগদের লেলিয়ে দিয়েছে। তারপর আবার মেরেছে। আমি আশা করেছিলাম মারতে গিয়ে বাচ্চাটাকেও হয়তো নষ্ট করে ফেলবে, কিন্তু পেটে আঘাত না করার বেলায় খুবই সতর্ক ছিল।
লোকটা কে? কী নাম তার?
কাউকে বলবেন না, কথা দিন? দ্বিধা করল সে, তারপর হড়বড় করে বলে ফেলল, এমনকি আমাকে বাঁচিয়ে বন থেকে নিয়ে এসেছে যে সেই ভালো মানুষটিকেও না? আমি চাই না সে আমাকে ঘৃণা করুক।
মেরেন? অবশ্যই তাকে কিছুই বলব না। তবে তোমার চিন্তার কিছু নেই। তোমাকে ও কোনওদিন ঘৃণা করবে না। তুমি খুবই ভালো সাহসী মেয়ে।
লোকটার নাম ওনকা-ক্যাপ্টেন ওনকা। আপনি চেনেন তাকে। সেই আপনার কথা লেছে আমাকে। তাইতার হাত চেপে ধরল সে। দয়া করে বাঁচান আমাকে! মরিয়া হয়ে হাত ধরে ঝাঁকুনি দিতে লাগল। দয়া করুন, ম্যাগাস! মিনতি করছি! দয়া করে আমাকে বাঁচান! বাচ্চাটা নষ্ট করতে না পারলে আমাকে ওরা মেরে ফেলবে। ওনকার জারজ সন্তানের জন্যে মরতে চাই না আমি।
পরিস্থিতি সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করল তাইতা। সিদুদু ওনকার মেয়েমানুষ হলে এর কথাই তবে কর্নেল তিনাত বলেছিল, ওনকার খাবারে ওষুধ মিশিয়ে তাইতাকে মেঘ-বাগিচা থেকে নিয়ে আসতে পারার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল সে। মেয়েটা এখন ওদের হেফাযতে, ওকে রক্ষা করতেই হবে। আগে তোমাকে পরীক্ষা করতে হবে, তবে যথাসাধ্য চেষ্টা করব আমি। আমার সঙ্গী ফেনকে আমাদের সাথে যোগ দিতে ডেকে পাঠালে আপত্তি নেই তো?
মেরেনের পিঠ থেকে ট্রগটাকে ফেলে দেওয়া সোনালি চুলের সুন্দরী মেয়েটা? দয়া করে ওকে ডাকুন।
সাথে সাথে হাজির হলো ফেন। মেয়েটার কী লাগবে তাইতা বুঝিয়ে বলার পরপরই সিদুদুর পাশে বসে ওর হাত ধরল ও। ম্যাগাস এই পৃথিবীর সেরা শল্যচিকিৎসক, বলল ও। তোমার ভয়ের কোনওই কারণ নেই।
শুয়ে তোমার টিউনিক ওঠাও, ওকে নির্দেশ দিল তাইতা। হুকুম তামিল করার পর দ্রুত অথচ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরখ করল ও। এই দাগগুলো ওনকার মারের কারণে হয়েছে? জিজ্ঞেস করল ও।
হ্যাঁ, ম্যাগাস, জবাব দিল সে।
তোমার হয়ে তাকে আমি খুন করব, বলল ফেন। ওনকাকে কখনওই ভালো লাগেনি আমার, তবে এখন তাকে ঘৃণা করছি।
সময় এলে নিজের হাতে তাকে মারব, ওর হাতে চাপ দিয়ে বলল সিদুদু। তবে তোমাকে ধন্যবাদ, ফেন। আশা করছি তুমি আমার বন্ধু হবে।
আমরা তো বন্ধু হয়েই গেছি, ওকে বলল ফেন।
পরীক্ষা শেষ করল তাইতা। এরই মধ্যে জরায়ুর সন্তানের ক্ষীণ আভা লক্ষ করতে পেরেছে ও। বাবার অশুভ প্রবৃত্তির ছাপ রয়েছে তাতে।
উঠে পোশাক ঠিক করে নিল সিদুদু। বাচ্চাটা আছে, তাই না, ম্যাগাস? ওর হাসি ম্লান হয়ে এলো, আবার হতাশ দেখাল ওকে।
এই পরিস্থিতিতে দুঃখের সাথেই বলতে হচ্ছে, হ্যাঁ।
গত দুটি চাঁদ বাদ গেছে আমার।
এখানে একমাত্র ভালো দিকটি হচ্ছে, খুব বেশি দূরে যাওনি তুমি। এমন প্রাথমিক অবস্থায় আমাদের পক্ষে ভ্রণটাকে খসানো কঠিন হবে না। উঠে কামরার অন্য প্রান্তে চলে গেল ও, ওখানে ওর ডাক্তারির ব্যাগ রাখা। তোমাকে একটা আরক খেতে দেব। খুবই জোরাল ওষুধ, বমি হবে তোমার, নাড়িভুড়ি উঠে আসতে চাইবে। কিন্তু আবার সাথে সাথে জিনিসটাকে নিচে ঠেলে দেবে। একটা মুখ বন্ধ শিশি থেকে মাটির বাটিতে সবুজ পাউডারের ডোজ মেপে নিল ও। উত্তপ্ত পানি মেশাল। ঠাণ্ডা হয়ে এলেই খেয়ে নেবে, ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে, ওকে বলল ও।
