এই ঘটনার কথা তুমি জানো কী করে?
জাররির সব নাগরিকের জন্যে সতর্কবাণী হিসাবে সেই বিদ্রোহের ইতিহাস কাউন্সিলের দেয়ালে খোদাই করা আছে। জবাব দিল তিনাত। না, ম্যাগাস। আমরা যাকে উৎখাত করতে চাইছি তার ক্ষমতা ও তার সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকি সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল আমি। আপনাকে মাফুপায় দেখার পর থেকেই ক্রমাগত ব্যাপারটা নিয়ে ভেবেছি। আমাদের সফল হওয়ার একমাত্র আশা হচ্ছে আমরা অলিগার্ক ও তাদের মানুষ সমর্থকদের ধ্বংস করার সময় আপনি যদি অশুভ শক্তিকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেন। জানি না আপনি খোদ অশুভ জিনিসটাকে ধ্বংস করতে পারবেন কিনা, তবে মিশরের সকল দেবতার কাছে প্রার্থনা করি যাতে আপনার প্রজ্ঞা ও জাদুকরী শক্তি দিয়ে আপনি যথেষ্টভাবে আমাদের জাররি থেকে পালিয়ে যাওয়া পর্যন্ত রক্ষা করতে পারেন। আমি এও প্রার্থনা করি, যেন আপনি সেই ক্ষমতা ওই শক্তির নীলের বিভিন্ন শাখার উপর বসানো বাধটাকে ধ্বংস করার কাজেও লাগাতে পারেন।
লাল জোড়া-পাথরের দেয়ালটা একবার ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিলাম আমরা, মেরেন ও আমি। চেষ্টা করতে গিয়ে মেরেন চোখ খুইয়েছে।
তার কারণ আপনারা ধ্বংস করার কাজটাকে একটা জাগতিক সমস্যা মনে করেছিলেন। ওই পর্যায়ে আপনারা এর গভীরতর ভয়ঙ্কর তাৎপর্য বুঝতে পারেননি। আমরা জানি আমাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কিন্তু আমি ও আমার অনুসারীরা সেজন্যে জীবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত আছি। আপনি কি চেষ্টা করে দেখবেন? আমাদের নেতৃত্ব দেবেন?
সেজন্যেই জাররিতে এসেছি আমি, বলল তাইতা। তোমাদের সম্ভাবনা সত্যিই এত ক্ষীণ হয়ে থাকলে আমাদের সামনে অনেক কাজ পড়ে আছে। তুমি যেমন উল্লেখ করেছ, বন্দিত্ব এড়ানো সহজ হবে না। একা ও অলক্ষ্যে থাকার সম্পূর্ণ সুবিধা আদায় করতে হবে আমাদের। প্রথমত, এখন পর্যন্ত তোমরা যেমন প্রস্তুতি নিয়েছ, তার বিস্তারিত বলতে হবে আমাকে। তোমার সাথে কতজন নারী পুরুষ রয়েছে? কীভাবে তাদের মোতায়েন করেছ? তারপর তোমাকে বলতে পারব আমার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ আর সিদ্ধান্ত কী।
এটা যুক্তিসঙ্গত কাজের ধারা।
যাত্রাটাকে সর্বোচ্চ সীমায় নিয়ে নিজেদের একা থাকার সমস্ত সুযোগ তৈরি করে দিতে দুর্বলতা ও ক্লান্তির ভান করতে লাগল তাইতা। বারবার বিশ্রামের দাবি করে চলল ও, এমনকি উইন্ডস্মোকের পিঠে চাপার পরেও ওটাকে ধীর গতিতে আগে বাড়াতে লাগল। স্পষ্টতই এই আলোচনার জন্যে প্রস্তুত থাকায় তিনাতও ওদের পরিকল্পনা ও বাহিনীর যুদ্ধ নির্দেশনা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিল ওকে।
সে শেষ করলে তাই বলল, আমার মনে হচ্ছে অলিগার্কদের উৎখাত করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী নও তোমরা, ওদের পেছনের শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো তো আরও পরের কথা। তোমার কথা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, তোমাদের সমর্থকদের বেশিরভাগই বিভিন্ন খনি ও কুয়ারিতে হয় বন্দি বা দাসত্ব করছে। যুদ্ধ করা পরের কথা, ওদের আমরা মুক্ত করার পর পথ চলতে পারবে কতজন?
এটা ঠিক, অলিগার্কদের বিরুদ্ধে মুখোমুখি লড়াই করে পুরো দেশ দখলে রাখতে পুরো শক্তি জমায়েত করতে পারব না। এমনটা কখনওই আমার পরিকল্পনা ছিল না। আমার ইচ্ছা ছিল কোনও রকম নাশকতা বা বিপ্লবের ভেতর দিয়ে অলিগার্কদের বন্দি করা। তারপর ওদের জিম্মি করে বন্দিত্ব থেকে আমাদের সতীর্থদের মুক্ত করে জাররি থেকে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা। আমি জানি এটা একটা পরিকল্পনার একেবারেই সাধারণ একটা রূপরেখা। আপনার সাহায্য ছাড়া এই পরিকল্পনা ব্যর্থ ও মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য।
মেরেনকে ওদের সাথে যোগ দিতে ডেকে পাঠাল তাইতা। মেরেন, তুমি জানো, আমার বিশ্বস্ত সাথী, সাহসী ও চতুর যোদ্ধা। ওকে তোমার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে গ্রহণ করার অনুরোধ জানাব তোমাকে।
দ্বিধা করল না তিনাত। আপনার সুপারিশ মেনে নিচ্ছি।
খাড়া পথ ধরে নেমে যাওয়ার সময় তিনজনে মিলে মৌলিক যুদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করল, সেটাকে বিস্তৃত করল, আরও শক্তিশালী করে তোলার চেষ্টা করল। দ্রত কেটে গেল সময়, অচিরেই অনেক নিচে দুর্গের দালানকোঠা আর ছাদের দৃশ্য ফুটে উঠল চোখের সামনে। ঘোড়া থামিয়ে ভারি চামড়ার জোব্বা আর অন্যান্য পাহাড়ী পোশাক থেকে নিজেদের মুক্ত করে নিতে নেমে পড়ল ওরা।
কথা বলার মতো আর অল্প সময় আছে আমাদের হাতে, তিনাতকে বলল তাইতা। কী করতে হবে তুমি আর মেরেন জানো। এখন আমার পরিকল্পনা খুলে বলছি। কর্নেল তিনাত, তুমি এতক্ষণ আমাকে যা বলেছ তার ভেতর সত্যির অংশ রয়েছে, আমি যা যা দেখেছি, জানতে পেরেছি তার সাথে মিলে যাচ্ছে। আমার চেয়ে আরও অনেক শক্তিশালী ভবিষ্যদ্বক্তা ও ম্যাগাস আমাকে যে অশুভ সত্তার কথা বলেছিল তুমি তার সম্পর্কে জানিয়েছ আমাকে। এই দেবী আদতে স্বর্গীয় বা অমর নয়। তবে এত বেশি প্রাচীন যে এর আগে কোনও মরণশীলের পক্ষে আয়ত্ত করা সম্ভব জ্ঞানের তুলনায় অনেক বেশি জ্ঞান আয়ত্ত করতে পেরেছে। ভোরের মেয়ে ইয়োসের নাম ধরেছে সে। ক্ষমতার প্রতি তার রয়েছে দানবীয়, অনুতাপহীন ক্ষুধা। এসবই আমার ও মেরেনের খুব ভালো করে চেনা ম্যাগাস দিমিতারের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। নিশ্চয়তার জন্যে সঙ্গীর দিকে তাকাল তাইতা।
