এই বাগানগুলো খুবই সুন্দর, বলল তাইতা।
ওরা স্যানেটোরিয়ামে নিজেদের কোয়ার্টারে পৌঁছানোর পর একজন পরিচারককে অপেক্ষা করতে দেখল। ডাক্তার হান্নাহর কাছ থেকে আপনাদের জন্যে নিমন্ত্রণ নিয়ে এসেছি। আপনার মেঘ-বাগিচা ছেড়ে যাবার সময় ঘনিয়ে এসেছে বলে আজকের সন্ধ্যায় তিনি আপনাদের সাথে খাবেন বলে স্থির করেছেন।
ওকে গিয়ে বলো নিমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমরা খুশি হয়েছি।
সূর্যাস্তের খানিক আগে আপনাদের নিতে আসব আমি।
সূর্যটা ক্লিফের চূড়ার ওপাশে কেবল ডুবেছে, এমন সময় আবার এলো সেই পরিচারক। ওদের বেশ কয়েকটা প্রাঙ্গণ আর আচ্ছাদিত গ্যালারির ভেতর দিয়ে নিয়ে গেল সে। গ্যালারি বরাবর অন্যদের দ্রুত এগিয়ে যেতে দেখল ওরা। কিন্তু কারও সাথে কোনও রকম সম্ভাষণ বিনিময় ছাড়াই এগিয়ে চলল। কয়েকজনকে মেরেনের অপারেশনের সময় ওদের সাথে থাকা পরিচারক হিসাবে শনাক্ত করতে পারল তাই।
এতক্ষণ এই দালানগুলো কতটা বিশাল সেটা লক্ষ করিনি কেন? কেন এগুলো জরিপ করার আগ্রহ বোধ করিনি? ভাবল ও। হান্নাহ ওদের বলেছিল বাগান আর দালানকোঠা শত শত বছরের পরিক্রমায় গড়ে তোলা হয়েছে। সুতরাং ওগুলোর বড় হওয়ায় বিস্ময় ছিল না। কিন্তু ওগুলো ওর কৌতূহল জাগিয়ে তোলেনি কেন? তারপর ওর মনে পড়ে গেল কীভাবে একটা ব্লকের মেয়েদের অনুসরণের চেষ্টা করেছিল ও, কিন্তু অব্যাহত রাখার ইচ্ছে হারিয়ে ফেলেছিল।
গেট বা প্রহরীর কোনও প্রয়োজন নেই ওদের, বুঝতে পারল ও। অনাহুতদের দূরে সরিয়ে রাখতে, ওরা যেখানে কাউকে ঢুকতে দিতে চায় না সেখানে তাদের যাওয়া ঠেকাতে মানসিক প্রতিবন্ধকতা ব্যবহার করে-আমার বেলায় যেমন করেছে; আমার খোঁজে আসার সময় মেরেনের বেলায় যেমন করেছে।
একটা প্রাঙ্গণে ফোয়ারার পাশে নীরবে বসে থাকা অল্পবয়সী মেয়েদের একটা ছোট দলের পাশ দিয়ে এগোল ওরা। একজন বাঁশি বাজাচ্ছে, অন্য দুজন সিস্ট্রাম দোলাচ্ছে। বাকিরা মিষ্টি বিষাদের সুরে গান গাইছে।
আজ বিকেলেই এদের কয়েকজনকে দেখেছিলাম, ফিসিফিস করে বলল মেরেন। সূর্য এরই মধ্যে ক্লিফের ওধারে চলে গেলেও বাতাস এখনও উষ্ণ, কোমল। মেয়েদের পরনে হালকা পোশাক।
ওরা সবাই অন্তসত্তা, বিড়বিড় করে বলল তাইতা।
জ্বালামুখে প্রথমদিন যাদের সাথে দেখা হয়েছিল তাদের মতে, সায় দিল মেরেন। মুহূর্তের জন্যে তাইতার মনে হলো কথাটার ভেতর গুরুত্বপূর্ণ কিছু থাকার কথা। কিন্তু চিন্তাটা পুরোপুরি ধরার আগেই প্রাঙ্গণ পেরিয়ে দূরের দলিজে উঠে এলো ওরা।
আপনাদের এখানেই রেখে যাচ্ছি আমি, বলল ওদের পথপ্রদর্শক, তবে খাওয়া শেষ হলেই আবার নিতে আসব। অন্য মেহমানদের নিয়ে আপনাদের জন্যে অপেক্ষা করছেন ডাক্তার। দয়া করে ভেতরে যান। উনি আপনাদের অপেক্ষা করছেন।
শৈল্পিকভাবে সাজানো একটা বিশাল কামরায় পা রাখল ওরা। ঠিক মাঝখানে ক্ষুদে পুকুরে ভাসতে থাকা সাজানোর জাহাজে ভাসছে ছোট ছোট সব প্রদীপ। দেয়ালের বাস্কেটে বা মোজায়েকের মেঝেতে সাজানো সিরামিকের পাত্র আর মাটির পটে বেড়ে উঠছে ফুলের নকশা।
ওদের দিকে এগিয়ে এলো হান্নাহ। হাত ধরে অন্য অতিথিদের কাছে নিয়ে গেল। নিচু কাউচ বা কুশনের তূপে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে তারা। অন্য আরও দুজন ডাক্তারের সাথে গিব্বা রয়েছে ওখানে, দুজন পুরুষ আর একজন মহিলা। অমন উঁচু পদ আর মেঘ-বাগিচার অসাধারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানের জগতে প্রবেশ করার অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কম বয়সী ঠেকছে ওদের। অন্য মেহমানটি হচ্ছে কর্নেল তিনাত। তাই ওর কাউচের দিকে এগিয়ে যেতেই উঠে দাঁড়াল সে, গভীর সম্মানের সাথে অভিবাদন জানাল ওকে। হাসল না, কিন্তু সেটা আশাও করেনি তাই।
কয়েক দিনের মধ্যেই আপনাকে আর কর্নেল ক্যাম্বিসেসকে পাহাড়ের নিচে যেতে হবে, তাইতাকে বলল হান্নাহ। আপনাদের এসকর্ট ও গাইড হতে এসেছে কর্নেল তিনাত।
আমার জন্যে আনন্দ ও সম্মানের কাজ হবে সেটা, তাইতাকে নিশ্চিত করল তিনাত।
বাকি অতিথিরা মেরেনের নতুন চোখ পরখ করতে ওকে ঘিরে ধরেছে। অবাক মানছে। ডাক্তার হান্নাহ, তোমার অন্য সব সাফল্যের কথা জানি, বলল মহিলা। কিন্তু নিঃসন্দেহে এটাই তোমার সাফল্যের সাথে বসানো প্রথম চোখ।
আরও ছিল, তবে সেগুলো তুমি আসার আগে, ওকে শুধরে দিল হান্নাহ। এখন আমি আত্মবিশ্বাসের সাথে মানুষের শরীরের যেকোনও অঙ্গ বদলানোর ব্যাপারে সফল হতে পারব বলে মনে করছি। আজকের সন্ধ্যায় এখানে বেড়াতে আসা বীর কর্নেলরা তার পক্ষে সাক্ষী দেবে। তিনাতের দিকে তাকাল তিন অতিথি।
তুমিও কর্নেল! অল্প বয়সী মেয়েটা জানতে চাইল। জবাবে ডান হাত তুলে ধরল তিনাত, আঙুল দোলাল।
প্রথমটা এক বুনো যোদ্ধার কুড়োলের ঘায়ে কাটা পড়েছিল। এটা এসেছে ডাক্তার হান্নাহর দক্ষতার ফল হিসাবে। একই হাতে তাকে অভিবাদন জানাল সে। ওটা পরীক্ষা করতে মেরেনের চোখ পরীক্ষা করার মতো একই আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে এলো বাকি সার্জনরা।
শরীরের অঙ্গ আবার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনও সীমাবদ্ধতা আছে? জানতে চাইল একজন পুরুষ সার্জন।
হ্যাঁ, প্রথমত, অপারেশনের জন্যে অলিগার্কদের সুপ্রিম কাউন্সিলের অনুমোদন লাগবে; দ্বিতীয়ত, অবশিষ্ট অংশ কার্মক্ষম হতে হবে। আমরা মাথা বা হৃৎপিণ্ড বদল করতে পারব না, কারণ ওগুলো না থাকলে শরীরের বাকি অংশ বীজ বপনের আগেই মারা যাবে।
