এসব কীভাবে জানলে?
স্থানীয়রা এসব ভালো করেই জানে।
তোমার হেফাযতে থাকা কয়টা ঘোড়া আক্রান্ত হয়েও আবার সেরে উঠেছে?
বেশিরভাগই ওষুধ দেওয়ার অবস্থা থেকে অনেক বেশি অসুস্থ ছিল। অবশ্য, আঠারটা সেরা। দ্রুত জবাব দিল তোলাস, তারপর শুধরে নিল। ওগুলো মুক্ত।
তাহলে, তোলাস, ওই দেশী আরকের ভালো একটা যোগান চাই আমার। আমার জন্যে যোগাড় করতে পারবে?
তারচেয়ে ভালো কিছুই করতে পারব। প্রায় নয় বছর ব্যাপারটা পরখ করার সুযোগ পেয়েছি আমি। উপজাতীয়রা গোপনীয়তা বজায় রাখতে ও উপকরণ জানাতে রাজি না থাকলেও ওদের ব্যবহার করা গাছপালা চিনে নিয়েছি। মেয়েরা ওসব সংগ্রহ করার সময় ওদের ওপর নজর রেখেছিলাম।
আমাকে দেখাবে?
অবশ্যই, ম্যাগাস, সাথে সাথে বলল তোলাস। কিন্তু আবারও বলছি, চিকিৎসা করা হলেও কিন্তু অনেক ঘোড়াই মারা যায়। আপনার ধূসর মেয়ারটাকে এমন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার পক্ষে অনেক বেশি ভালো ঘোড়া ওটা।
মৃদু হাসল তাইতা। এটা পরিষ্কার, উইন্ডস্মোকের প্রেমে পড়েছে তোলাস, ওটাকে নিজের কাছে রাখার একটা ছুঁতো খুঁজছে। তোমার সব কথাই ভালো করে ভেবে দেখব। কিন্তু এখন প্রতিষেধক সম্পর্কে জানাটাই আমার আসল লক্ষ্য।
ক্যাপ্টেন রাবাতের অনুমতি পেলেই আপনাকে আগামীকাল বেরি সংগ্রহ করতে বনে নিয়ে যাব। ওগুলোর ক্ষেত এখান থেকে বেশ কয়েক ঘণ্টার পথ।
চমৎকার, খুশি হলো তাইতা। এবার কর্নেল তিনাতের সাথে দক্ষিণে যাবার সময় যে পথে গিয়েছিলে সেই পথের বর্ণনা দাও। যতটুকু মনে ছিল সবই বলল তোলাস, মাটির ফলকে তার তথ্য টুকে রাখল ফেন। সে শেষ করলে তাই বলল, আমাকে যা বললে, তোলাস, খুবই মূল্যবান, কিন্তু আমরা কীভাবে মাছির এলাকা চিনতে পারব তার বর্ণনা দিতে হবে তোমাকে।
মাটির ফলকে ফেনের আঁকা স্কেচ ম্যাপের উপর আঙুল ছোঁয়াল তোলাস। দক্ষিণে যাত্রা পথের আনুমানিক বারতম দিনে আপনি কুমারীর বুকের মতো এক জোড়া পাহাড়ের কাছে পৌঁছবেন আপনারা। বেশ কয়েক লীগ দূর থেকেই দেখা যাবে ওগুলো। ওই পাহাড়গুলোই সীমানা চিহ্নিত করে। ধূসর ঘোড়াটাকে আর সামনে না দিতে পরামর্শ দিচ্ছি আপনাকে। ওধারের বিষণ্ণ এলাকায় ওটাকে খোয়াবেন আপনি।
*
পরদিন সকালে ওরা বেরির খোঁজে নামলে ক্যাপ্টেন রাবাতও তাইতার পাশাপাশি ওদের সাথে চলল। সহজ পথ, কথা বলার বেশ সুযোগ পেল ওরা।
বেশ কয়েক ঘণ্টা পরে গোর্জের গভীরে নদীর তীরে জন্মানো বিশাল চওড়া ডুমুড় গাছের এক বনে নিয়ে এলো ওদের তোলাস। বেশির ভাগ ডালই সর্পিল লতার ভারে নুয়ে পড়েছে। ওগুলোর উপর ছোট ছোট পিঙ্গল বেরি ধরেছে। ফেন, তোলাস আর তাইতা দুর্গ থেকে ওর সাথে আনা অন্য লোকেরা গাছে উঠে পড়ল। প্রত্যেকের কাঁধে একটা করে চামড়ার ফসল তোলার ঝুড়ি ঝুলছে, ফল পেড়ে ওতে রাখতে লাগল। ওরা গাছ থেকে নামার পর দেখা গেল ওদের হাত পিঙ্গল হয়ে গেছে, অসুস্থ, পচা গন্ধ বের হচ্ছে বেরি থেকে। মুঠি ভরে ওয়ার্লউইন্ডদের দিকে বাড়িয়ে দিল ফেন, কিন্তু কোল্টটা প্রত্যাখ্যান করল। উইন্ডস্মোকও সমান অনীহ।
এটা ওদের স্বাভাবিক রুচির খাবার নয়, মেনে নিচ্ছি, তবে বেরিকে ধুরা শস্যের সাথে মিশিয়ে পিঠা বানিয়ে খেতে দিলে ভালোমতোই খাবে। বলল তোলাস। আগুন জ্বেলে তাতে নদীর চ্যাপ্টা পাথর বসাল তোলাস। ওটা গরম হয়ে ওঠামাত্র ফলগুলোকে কীভাবে মণ্ডের মতো বানিয়ে তারপর ধুরা খাবারের সাথে মেশাতে হয় সেটা বাতলে দিল তোলাস। অনুপাতটা গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচভাগ খাবারের সাথে একভাগ ফল। বেরির পরিমাণ বেশি হলেই ঘোড়া প্রত্যাখ্যান করবে। আর খেলেও বমি করে উগড়ে দেবে, ব্যাখ্যা করল সে। পাথরগুলো উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মুঠো ভর্তি মিশ্রণটা তাতে রাখল ও, তারপর ওটাকে পিণ্ডে পরিণত হতে দিল। ঠাণ্ডা হতে ওগুলো একপাশে নামিয়ে রেখে আরেক দফা পিঠা বানাতে শুরু করল। পিঠাগুলো অনেক মাস নষ্ট হবে না। এমনকি সবচেয়ে বাজে অবস্থাতেও টিকে থাকবে। এমনকি সবুজ ছত্রাকে ঢেকে গেলেও।
একটা পিঠা হাতে নিতে গিয়ে আঙুলে ছ্যাকা খেল ফেন। এক হাত থেকে আরেক হাতে চালান করে ফুঁ দিয়ে ঠাণ্ডা করল ওটা, তারপর উইন্ডস্মোকের কাছে নিয়ে গেল। নাক ফুলিয়ে পরখ করল ঘোড়াটা। তারপর দুই ঠোঁটের মাঝখানে তুলে নিয়ে চোখ গোল গোল করে তাইতার দিকে তাকাল।
চালিয়ে যা, দুষ্টু কোথাকার, তীর্যক কণ্ঠে ওটাকে বলল ও। খা, তোর শরীরের জন্যে ভালো হবে।
পিঠায় কামড় দিল উইন্ডস্মোক। মুখের কোণ দিয়ে কয়েকটা টুকরো পড়ে গেল। কিন্তু বাকিটুকু গিলে ফেলল সে। এবার ঘাসের উপর পড়ে যাওয়া টুকরোগুলোও তুলে নিতে মাথা নোয়াল ওটা। কৌতূহলের সাথে ওর দিকে তাকিয়ে ছিল ওয়ার্লউইন্ড। ফেন ওর কাছে একটা পিঠা নিয়ে যেতেই মেয়ারের নজীর অনুসরণ করে ঝটপট গিলে ফেলল। তারপর নাক দিয়ে ফেনকে ধাক্কা দিতে লাগল। আরও চায়।
ওদের কি পরিমাণ ওষুধ দিয়েছ? তোলাসকে জিজ্ঞেস করল তাইতা।
ওটা ছিল পরীক্ষার ব্যাপার, জবাব দিল তোলাস। ওদের শরীরে রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ামাত্রই রোজ চার থেকে পাঁচটা করে পিঠা খেতে দেব যতক্ষণ না লক্ষণ মিলিয়ে যাচ্ছে, তারপর সম্পূর্ণ সেরে না ওঠা পর্যন্ত ওষুধ অব্যাহত রাখব।
ফলের নাম কী? জানতে চাইল ফেন।
