কর্নেল তিনাতের সথে দক্ষিণে কয়জন গেছে? জানতে চাইল তাইতা।
অসংখ্য অশিক্ষিত মানুষের মতোই আস্থা রাখার মতো স্মৃতিশক্তি রাবাতের, নির্দ্বিধায় জবাব দিল সে: ছয় শো তেইশ জন, সাথে এক শো পঁয়তাল্লিশ জন মেয়ে।
করুণাময় আইসিস, কারনাক থেকে রওয়ানা দেওয়া এক হাজারের ভেতর মাত্র এই কয়জনই বেঁচেছিল?
জলাভূমি ছিল গভীর, দিকচিহ্নহীন, ব্যাখ্যা করল রাবাত। জলাভূমির জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলাম আমরা। আমাদের গাইডরা বিশ্বস্ত ছিল না, স্থানীয় উপজাতীয়দের হাতে আক্রান্ত হয়েছে। আমাদের লোকজন আর পশুর ক্ষতি ছিল ভয়াবহ। নিশ্চিতভাবেই আপনাদেরও একই রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে, কারণ আপনারা নিশ্চয়ই আদারিতে আসতে গিয়ে একই এলাকা পার হয়েছেন।
হ্যাঁ, ঠিক। তবে পানি অনেক নিচু ছিল, আমাদের গাইডরা ছিল নির্ভুল।
তাহলে আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ভাগ্যবান আপনারা।
তুমি বললে কর্নেল তিনাত ঘোড়া আর মানুষ ফিরিয়ে দিয়েছিল এখানে। কতজন ছিল তারা? আরও জুৎসই প্রসঙ্গে ফিরে গেল তাইতা।
ছাপ্পান্নটি ফিরিয়ে এনেছিল ওরা, সবকটা মাছিতে আক্রান্ত। বেশির ভাগই এখানে পৌঁছানোর পরপরই মারা যায়। মাত্র আঠারটি বেঁচে যায়। কর্নেল তিনাতের লোকজন ঘোড়া পৌঁছে দিয়ে ওর সাথে যোগ দিতে ফের দক্ষিণে ফিরে যায়। ওদের জন্যে ঠিক করা কুলিদের সাথে নিয়ে গেছে ওরা।
তারমানে তিনাতের কেউই এখন তোমদের সাথে নেই?
ওদের ভেতর একজন এত অসুস্থ ছিল যে ওকে রেখে দিয়েছিলাম, এখনও সে বেঁচে আছে সে।
ওকে প্রশ্ন করতে চাই, বলল তাইতা।
এখুনি লোক পাঠাচ্ছি তাকে ডাকতে।
একমাত্র জীবিত লোকটা লম্বা, তবে শারীরিকভাবে কৃশ। তাইতা সাথে সাথে লক্ষ করল লোকটার শীর্ণকায় কাঠামো শাদা হয়ে যাওয়া মাথার চুল রোগেরই ফল; বয়সের কারণে নয়। তারপরেও স্বাস্থ্য ফিরে পেয়েছে সে। রাবাতের অধীনের বাকিদের চেয়ে অনেক বেশি প্রফুল্ল মেজাজের, স্বতঃস্ফুর্ত।
তোমার বিপদের কথা শুনলাম, বলল তাইতা। তোমার সাহস আর উৎসাহের তারিফ করি আমি।
কেবল আপনিই তা করলেন, ম্যাগাস। সেজন্যে আপনাকে জানাই ধন্যবাদ।
তোমার নাম কী?
তোলাস।
তোমার পদবী?
আমি হর্স সার্জেন আর ফার্স্ট ওয়াটারের সার্জেন্ট।
বেঁচে থাকা ঘোড়াসহ তোমাদের কর্নেল ফেরত পাঠানোর আগে কতদূর যেতে পেরেছিলে তোমরা?
মোটামুটি বিশ দিনের পথ, ম্যাগাস, সম্ভবত দুইশো লীগ। কর্নেল তিনাত দ্রুত আগে বাড়তে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন-অনেক দ্রুত। আমার ধারণা, তাতেই বেশি ঘোড়া হারাতে হয়েছে আমাদের।
এত তাড়াহুড়ো করছিল কেন সে? জানতে চাইল তাইতা।
কৃশ হাসল তোলাস। আমাকে বলেননি তিনি, ম্যাগাস, আমার কাছে কোনও পরামর্শও চাননি।
একটু ভাবল তাইতা। এমন হতে পারে, তিনাতও ডাইনীর প্রভাবের অধীনে চলে গিয়েছিল, তাকে জাদু করে দক্ষিণে টেনে নিয়ে গেছে সে। তাহলে, সৎ তোলাস, ঘোড়াকে আক্রান্ত করা অসুখ সম্পর্কে বলো আমাকে। ক্যাপ্টেন রাবাত এ কথা বলেছে, তবে বিস্তারিত বলো তুমি। কী কারণে তোমার ধারণা জন্মাল যে মাছির কামড়েই দেখা দিয়েছিল অসুখটা?
পোকাগুলোর সাথে আমাদের মোকাবিলার দশদিনের মাথায় দেখা দেয় অসুখটা। দরদর করে ঘামছিল ঘোড়াগুলো, চোখ ভরে উঠেছিল রক্তে, ফলে আধা অন্ধ হয়ে গিয়েছিল ওগুলো। প্রথম লক্ষণ দেখা দেওয়ার দশ কি পনের দিনের মধ্যেই মারা গেছে বেশির ভাগ।
তুমি একজন হর্স সার্জন। কোনও চিকিৎসা জানা আছে তোমার?
দ্বিধা করল তোলাস। কিন্তু জবাব দিল না। তার বদলে মন্তব্য করল, আপনার ধূসর মেয়ারটা দেখেছি। জীবনে হাজার হাজার ঘোড়া দেখেছি, কিন্তু আমার ধারণা ওই মেয়ারটা সবার সেরাটার মতোই ভালো। আপনি হয়তো আর কোনওদিনই ওটার মতো আর একটা ঘোড়ার দেখা পাবেন না।
বোঝা যাচ্ছে, ঘোড়ার ভালো সমঝদার তুমি, তোলাস, কিন্তু আমাকে একথা বলছ কেন?
কারণ মাছিদের কাছে এমন দারুণ একটা ঘোড়া খোয়ানো লজ্জার ব্যাপার হবে। যেমন ভাবছি, আপনি সামনে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকলে, ফিরে না আসা পর্যন্ত ঘোড়া আর ওটার বাচ্চাটাকে আমার হেফাযতে রেখে যান। ওদের নিজের সন্তানের মতো দেখেশুনে রাখব।
কথাটা ভেবে দেখব, ওকে বলল তাইতা। কিন্তু, আমার প্রশ্নে ফিরে আসা যাক, মাছির রোগের কোনও প্রতিষেধক জানা আছে তোমার?
এখানকার স্থানীয় উপজাতীগুলো বুনো বেরি থেকে বের করা একটা আরক ব্যবহার করে। ওদের গরুর পালের চিকিৎসা করে এটা দিয়ে।
কর্নেল তিনাত আদারি দুর্গ ছাড়ার আগেই ওকে ওরা রোগ সম্পর্কে সতর্ক করেনি কেন?
তখন গোত্রগুলোর সাথে আমাদের যোগাযোগ ছিল না। আমি মাছিতে আক্রান্ত ঘোড়া নিয়ে ফিরে আসার পরেই ওষুধ বিক্রি করতে হাজির হয়েছিল ওরা।
কাজের?
অব্যর্থ, বলল তোলাস। আমার মনে হয় আক্রান্ত দশটা ঘোড়ার মধ্যে ছয়টিকেই সারিয়ে তুলবে ওটা। তবে আমি যে ঘোড়াগুলোর ওপর প্রয়োগ করেছিলাম সেগুলো সম্ভবত অনেক বেশি দিন অসুস্থ ছিল।
ওটা ব্যবহার না করলে কেমন ক্ষতি হতো তোমার?
নিশ্চিত করে বলতে পারব না।
আন্দাজ করো।
আমার ধারণা কোনও কোনও জানোয়ারের হুলের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক প্রতিরোধ শক্তি রয়েছে। সেটা খুবই কম, ধরুন, এক শোর ভেতর পাঁচটা কোনও প্রভাব দেখাবে না। অন্যরা, সম্ভবত একশোতে তিরিশ বা চল্লিশটা, অসুস্থ হলেও সেরে উঠবে। বাকিগুলো মারা পড়বে। কোনও পশু আক্রান্ত হয়ে আবার সেরে উঠলে সেটা আর এর পরে আক্রান্ত হয় না।
