মাথা তুলে ওর দিকে তাকালাম। তার চেহারায় এমন দুঃখ বেদনা কখনও দেখিনি।
মনে আর ঠোঁটের ডগায় না বলার জন্য প্রস্তুতি নিলাম, এমনকি মাথাও নাড়লাম। তবে না শব্দটি আর উচ্চারণ করা হল না। এই দুই তরুণ-তরুণীকে পরিত্যাগ করতে পারলাম না।
হ্যাঁ! তোমার জন্য আমি তাকে বাঁচাতে পারবো তেহুতি। জানি একথা বলাটা অত্যন্ত নিষ্ঠুরতা। মিথ্যা আশ্বাসের চেয়ে চূড়ান্ত অবস্থা অবশ্যই ভালো। তবে আমি তার দুঃখ সহ্য করতে পারছিলাম না।
তাই মিথ্যা বলার জন্য নীরবে ভালো দেবতার কাছে ক্ষমা চাইলাম। তারপর জারাসের আত্মার জন্য শেঠের সাথে লড়াই শুরু করলাম।
.
এটুকু আমি নিশ্চিত জানতাম যে, আমাকে খুব দ্রুত কাজ করতে হবে। কোনো মানবদেহই দীর্ঘক্ষণ নিদারুণ যন্ত্রণা সহ্য করে টিকে থাকতে পারে। কীভাবে কি করতে হবে তার কোনো নির্দেশনামা আমার কাছে নেই। আমি এখন যা করতে যাচ্ছি পৃথিবীর আর কোনো শল্যচিকিৎসক তা কখনও করতে সাহস করেনি।
আর যে এক পাত্র লাল শ্যাপ্পেন আছে তা দিয়ে জারাসকে বড়জোর এক ঘন্টা অজ্ঞান রাখা যাবে। এর পুরোটাই এখন লাগবে।
তলপেট কেটে দেখতে হবে জারাসের নাড়িভূঁড়ির কোনো জায়গায় কেটেছে। তারপর তলোয়ার কাটা অংশটিতে সেলাই করতে হবে। আর অন্ত্র থেকে পেটে যে বদ রসটি ঢুকেছে তা ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
সৌভাগ্যবশত ময়াগুহা থেকে বের হবার সময় অন্য সবার মতো জারাসও কম খাবার খেয়ে বের হয়েছিল। খাবার কম থাকায় সবার খাবারের পরিমান কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। তার অন্ত্রে খুব বেশি বর্জ্য থাকার কথা নয়। আমার কাছে উইলো গাছের ছাল আর সেডার গাছের নির্যাসের মিশ্রণ ছিল, তবে বিষ ধুয়ে ফেলার মতো যথেষ্ট পরিমাণে ছিল না। তবে সবচেয়ে ফলপ্রসু ছিল চোলাই করা মদের পাতন। কেবল ছোট একটি চামড়ার মশক ভর্তি চোলাইকরা মদ ছিল। মূল্যবান এই তরল একটি ছোট বাটিতে ঢেলে আমি আর তেহুতি হাত ধুয়ে নিলাম।
আমি অনেক আগে আবিষ্কার করেছিলাম তাপে জীবদেহ নিঃসৃত রস ধ্বংস না হলেও পরিমাণে কমে যায়। আমার নির্দেশে দুজন লোক বড় একটি পাত্র আগুনে চড়াল। পানি যখন টগবগ করে ফুটতে শুরু করলো তখন আমি আমার ব্রোঞ্জের শল্য কাঁচি, সুচ আর যন্ত্রপাতি আর ক্ষতস্থান সেলাইয়ের সুতা ফুটন্ত পানিতে ডুবালাম।
বড় আরেক মাত্রা লাল শ্যাপ্পেন ফুলের রস জারাসের গলা দিয়ে জোর করে ঢুকালাম। আর এদিকে তেহুতি চোলাই মদ দিয়ে তার পেট স্পঞ্জ করতে শুরু করলো।
তারপর রক্ষীরা আবার জারাসকে শক্ত করে মাটিতে শুইয়ে ধরলো। তার দাঁতের ফাঁকে দুই স্তর চামড়ার ফালি রাখলাম, যাতে প্রচণ্ড বেদনা উঠলে তার দাঁত কপাটি লেগে দাঁত ভেঙে না যায়। সবকিছুই প্রায় প্রস্তুত হয়েছে, আর দেরি করার কোনো কারণ নেই।
প্রথমে নাভির ঠিক নিচে থেকে শুরু করে তলপেটের নিচের হাড় পর্যন্ত লম্বা করে কাটলাম। চামড়ার ফালির মধ্য দিয়ে জারাস গোঙাতে শুরু করলো আর মাথা এপাশওপাশ করতে লাগলো।
তেহুতিকে দেখালাম কীভাবে লম্বা কাচির দুই প্রান্তে আঙ্গুল ঢুকিয়ে ক্ষতস্থানের মুখটা টেনে খুলে রাখতে হবে। এবার আমি কব্জিসহ দুই হাত তার পেটের ভেতরে ঢুকালাম। তলোয়ারের ফলাটি কোন পথ দিয়ে ঢুকেছিল, তার একটা ছবি আমি মনে মনে এঁকেছিলাম। এখন সেই পথে হাত চালিয়ে কাজ শুরু করলাম।
প্রায় সাথে সাথেই অন্ত্রের পিচ্ছিল দড়ির মতো অংশে আমার কড়ে আঙুলের সমান একটি ছিদ্র খুঁজে পেলাম। ছিদ্রটা দিয়ে তীব্র কটু গন্ধ ছড়ানো পরিপাক করা খাদ্যকণা বের হয়ে আসছিল।
বাঁকা ব্রোঞ্জের উঁচ আর শল্যসুতা দিয়ে কয়েকটা সেলাই দিয়ে কাটা অংশটা বন্ধ করলাম। আর কোনো ছিদ্র রয়ে গেল কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাবারের সাপের মতো অন্ত্রটা দুই হাতের মাঝে ধরে চিপলাম। আমার সেলাই পানি নিরোধক হলেও চাপের ফলে অন্ত্রের আরও গভীরে তিনটি কাটা জায়গা থেকে বাদামি রংয়ের ঘোলা ময়লা চুঁইয়ে বের হতে লাগলো।
এই ছোট কাটা জায়গাগুলোতেও দ্রুত সেলাই করে ছিদ্রগুলো বন্ধ করলাম। আমি দেখতে পেলাম এই কঠিন শল্য চিকিৎসার চাপে জারাস ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে আসছে।
যখন আমি সন্তুষ্ট হলাম যে, তলোয়ারের আর কোনো জখম নেই তখন আমার আর তেহুতির উভয়েরই বিষ্ঠার দুর্গন্ধ সয়ে এসেছে। তবে এতে সচেতন হলাম যে, কাটা পেট আবার সেলাই করে বন্ধ করার আগে তার দেহ থেকে সমস্ত দূষিত রস ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এরকম দুর্গন্ধময় রস নিশ্চয় খারাপই হবে।
তেহুতি তখনও তার পেট ফাঁক করে ধরে থাকা অবস্থায় আমি মুখভর্তি চোলাই মদ নিয়ে তার অন্ত্রের গর্ত আর কুণ্ডলীগুলোর মধ্যে কুলি করে ফেললাম। তারপর তাকে একপাশে কাত করে তরলটি পেট থেকে বের করে দিলাম।
তারপর পানি ফুটিয়ে শরীরের তাপমাত্রার সমমাত্রায় ঠাণ্ডা করার পর সেই পানি দিয়ে আমরা তার নাড়িভূড়ি ধুয়ে পানিটা আবার পেট থেকে বের করে দিলাম।
সবশেষে আমরা আমাদের প্রস্রাব দিয়ে তার পেটের ভেতরটা ধুয়ে দিলাম। দেহনিঃসৃত রসের জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকর একটি ঔষধ। তবে প্রস্রাবটি টাটকা হতে হবে এবং অন্য কোনো তরল অথবা শরীরের অন্য কোনো বস্তুর মিশ্রণ দিয়ে দূষিত হওয়া চলবে না। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি এটি একটি সুস্থ মুত্রথলি থেকে আসে আর দাতার দেহের বাইরের যৌনাঙ্গ: অর্থাৎ পুরুষের লিঙ্গ এবং লিঙ্গের অগ্রভাগের আবরক তৃক কিংবা নারীর ওষ্ঠ্যের সাথে স্পর্শ না হয়।
