তলোয়ারের ডগাটির ঢোকার মুখে এর কোণ আর গভীরতা পরীক্ষা করতে করতে আমি দেখলাম তলোয়ারটি তার পুরুষাঙ্গকে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গেছে। এই বিষয়টি নিয়ে আমার মিশ্র অনুভূতি হল।
জারাস আর তেহুতির জন্য মনে আনন্দ হল। তবে আমার নিজের সম্পর্কে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই। ভালোই হতো যদি জারাসের এই অঙ্গটি তলোয়ারের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতো, তাহলে অনেক বিষয়ে আমার দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যেত। তবে এই অশুভ চিন্তাকে মন থেকে দূর করে দিয়ে ক্ষতস্থানটি থেকে তলোয়ারের ডগাটি বের করার দিকে মনোযোগ দিলাম।
এটি তার বাম নিতম্বের পাশ দিয়ে চলে গেছে। মেরুদণ্ডের নীচের অংশে শ্রোণীর ভারী অস্থিকাঠামোতে আঘাত করলে হয়তো ডগাটি বেশি দূর যেতে পারতো না।
তবে তা হয়নি। একটা পথ করে নিয়ে ডগাটি জারাসের নাড়িভূঁড়ি পাকস্থলীর যে অস্থি-গামলায় থাকে সেখানে ঢুকেছে। আমার শত শত মানব শবদেহ ব্যবচ্ছেদ করে পরীক্ষা করার সুযোগ হয়েছিল। আমি জানি আমরা যে খাবার গ্রহণ করি তা কীভাবে, এই মোটা বা মাংসল নলের ভেতর দিয়ে ঢুকে নিচের দিকে যায়। তারপর নিতম্বের মাঝে স্থাপন করা ভিত্তিগত বহির্মুখ দিয়ে বর্জ্য ত্যাগ করে খালি হয়।
এবার আমি আতঙ্কিত হলাম। শেয়ালের তলোয়ারটি যদি জারাসের নাড়িভূঁড়ির এই নলগুলির কোনো একটি ছিদ্র করে থাকে, তাহলে বর্জ্যগুলো তার পাকস্থলিতে ঢুকে পড়তে পারে। এই বর্জ্য যাকে আমরা সাধারণত পশুর মল বলে থাকি, এতে বিশেষ ধরনের দুর্গন্ধময় দূষিত রস বা ধাতু থাকে। এই রসটি মারাত্মক বিষাক্ত, দেহে ছড়িয়ে পড়লে জখম স্থানের মাংসে পচন ধরে গ্যাংগ্রিন হয়। পরিণতিতে মৃত্যু অবধারিত।
তলোয়ারটি এক টানে বের করতে হবে। আমি ছয়জন শক্তিশালী লোককে ডেকে আনলাম, কেননা তার যে যন্ত্রণা হবে তাতে আমি যে শক্তিশালী আফিম খাইয়েছিলাম তাও অকার্যকর হয়ে পড়বে।
তেহুতি তার মাথা কোলে নিয়ে বসলো। সে জারাসের চুলে হাত বুলাতে বুলাতে একজন মা যেমন তার শিশুকে গুণগুণ করে গান শোনায় সেরকম করতে লাগলো। অন্যরা বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়ে তার হাত পা মাটিতে চেপে ধরলো। আমি তার দুই পায়ের মাঝে হাঁটুগেড়ে বসে শক্ত করে দুই হাতে তলোয়ারের হাতলটা ধরলাম।
আমি নির্দেশ দিলাম, ধরে থাক! তারপর একটু পেছনে হেলে শরীরের সমস্ত ভার আর শক্তি প্রয়োগ করলাম। তলোয়ারের পাতটা যখমের মুখে একটু বাঁকা করে রাখলাম যাতে মাংসপেশিতে আর ভেতরে কোনোধরনের ক্ষতি না হয়।
জারাসের পুরো দেহ শক্ত হল। তার সমস্ত মাংসপেশি মার্বেলের মতো শক্ত হল আর প্রচণ্ড যন্ত্রণায় সে একটা আহত ষাঁড়ের মতো চেঁচিয়ে উঠলো। ছয়জন বলশালী মানুষও তাকে চেপে ধরে রাখতে পারছিল না। দীর্ঘ একটি মুহূর্ত কিছুই হল না। ব্রোঞ্জের তলোয়ারের পাতটি ভেতরের মাংসপেশিতে আটকে রয়েছে। তারপর হঠাৎ ঝটকা মেরে তলোয়ারটি বের হয়ে আসতেই আমি পেছন দিকে উল্টে পড়লাম।
কাঁপতে কাঁপতে জারাস শেষ আরেকবার গোঙানী দিয়ে জ্ঞান হারাল। আমি একটা ভেড়ার লোমের পট্টি বানিয়ে রেখেছিলাম। এবার পট্টিটা ক্ষতস্থানের উপর রেখে তেহুতিকে নির্দেশ দিলাম, সমস্ত শক্তি দিয়ে এটা এজায়গায় চেপে ধরে রাখ, যেন রক্ত বের না হয়। তারপর জারাসকে ধরে রাখা লোকদেরকে বললাম, এবার ছেড়ে দাও ওকে।
তারপর হাতে ধরা তলোয়ারটার দিকে তাকিয়ে পরিমাপ করলাম ডগাটা কতটুকু ভেতরে ঢুকেছিল।
পরিমাপটি আন্দাজ করার পর বললাম, দেড় হাত পর্যন্ত ভেতরে ঢুকেছিল। বেশ গভীরই মনে হচ্ছে।
ক্ষতস্থানে তেহুতি যে পট্টিটা ধরে রেখেছিল সেটা তুলে নিচু হয়ে জখমটা পরীক্ষা করলাম।
বেশ মোটা হয়ে কেটেছে। পট্টি সরাতেই রক্তের চিকন ধারা গড়িয়ে পড়লো। দেখে মনে হচ্ছে পরিষ্কার আর স্বাস্থ্যকর রক্ত। একটু কাছে মুখ নিয়ে শুকলাম। কোনো পুঁজের গন্ধ নেই।
এবার একটু ক্ষীণ আশার আলো অনুভব করলাম। হয়তো তলোয়ারের ধারাল ফলাটি কোনো নাড়িভূড়ি কাটে নি।
তেহুতি জিজ্ঞেস করলো, কী দেখছো?
দেখছি কতটুকু আশা আছে।
ভেড়ার লোমের পট্টিটা জখমের উপর রেখে একটা শক্ত বাঁধন দিলাম আর বদ রস প্রতিরোধ করতে সামান্য কয়েকফোঁটা মদ ছড়িয়ে দিলাম। এরপর জারাসের পেছন দিকে গিয়ে দুই নিতম্বের উপর হাত রাখলাম। তারপর শরীর শক্ত করে নিতম্ব দুদিকে টেনে ফাঁক করলাম। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। মলদ্বার পরিষ্কার আর এঁটে রয়েছে।
আরেকটি পরীক্ষা করতে হবে। ওর পেছনে হাত রেখে নিচের দিকে জোরে চাপ দিলাম। অন্ত্র থেকে ফুত ফুত শব্দ করে বায়ু বের হল, তারপর মলদ্বার থেকে ফিনকি দিয়ে তরল বিষ্ঠা আর তাজা রক্ত বের হল। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তেই আমি আর তেহুতি দুজনেরই মুখ কুঁচকে উঠলো।
এবার আমি নিশ্চিত হলাম তলোয়ারটি আসলেই অন্ত্রে আঘাত করেছে। এতে বেশ হতাশা অনুভব করলাম। জারাসের আর কোনো আশা নেই। পৃথিবীর কোনো শল্যচিকিৎসক, এমনকি আমিও তাকে বাঁচাতে পারবো না। সে এখন দেবতা শেঠের হয়ে গেছে।
তেহুতির দিকে না তাকালেও অনুভব করছিলাম, সে ঠিকই আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
ফিসফিস করে সে বললো, তায়তা দয়া কর। তুমি কি তার প্রাণ বাঁচাতে পারো না? আমার জন্য কি জারাসকে বাঁচাতে পারো না? একটা উত্তর তাকে আমার দিতে হবে। এভাবে তাকে আর যন্ত্রণা দেওয়া যায় না।
