আমার ক্ষিপ্তভাব টের পেয়ে সে বললো, অবশ্যই আছে প্রভু তায়তা।
ওদেরকে আমার কাছে নিয়ে এসো। পুরো ঘোড়ার পালটি ওদের মধ্যে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে দেবো। তারপর ওরা আলাদা আলাদা পথে ঘোড়াগুলোকে তাড়িয়ে মিসরীয় এলাকায় নিয়ে যাবে। মেশিরে আমার এস্টেটে পৌঁছে দেবার পর প্রতিটি ঘোড়ার জন্য আমি একটি করে রূপার ডেবেন দেবো। এই কাজটি করতে গিয়ে কেউ মারা গেলে আমি তার পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেবো। এ ব্যাপারে আমি প্রতিজ্ঞা করতে রাজি আছি!
আধাঘন্টার মধ্যে নাকাতি স্বেচ্ছাসেবক দলের সমাবেশ করলো। ওরা যার যার পছন্দমতো ঘোড়ার পাল বেছে নিয়ে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে গোধূলির আলোয় যাত্রা করলো।
ওদের মধ্যে কিছু লোক সাহারা হয়ে হাইকসো অবস্থান ঘুরে পশ্চিম দিক দিয়ে মিসরে পৌঁছাবার পথ বেছে নিল। অন্যান্যরা নীল নদীর বদ্বীপ পার হবার সিদ্ধান্ত নিল। সাঁতরে নদী পার হয়ে ওরা পূর্বদিকে সিনাই উপদ্বীপে পৌঁছাতে চেষ্টা করবে। সেখান থেকে দক্ষিণ দিকে লোহিত সাগরের উপকূল ধরে থিবসে পৌঁছতে পারবে।
ওদের চলে যাওয়া দেখে আমি হোরাস আর ইনানার উদ্দেশে ঐকান্তিক প্রার্থনা করলাম, যেন এই কঠিন যাত্রাপথে ওরা আমার ঘোড়াগুলোর উপর সদয় দৃষ্টি দেন।
.
এরপর বন্দীদের দিকে দৃষ্টি ফেরালাম।
রথের গুদাম আর জিন উপসাগরের যুদ্ধ থেকে বেঁচে যাওয়াসহ মোট ৭৯৩ জন হাইকসো সৈন্য আর নাবিককে বন্দী করা হয়েছিল। জারাস আর নাকাতি বন্দীদেরকে সৈকতে লম্বা সারিতে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রেখেছিল। পুরো নগ্ন করে পিছমোড়াকরে দুইহাত বেঁধে রাখা হয়েছিল। হাল ছেড়ে দিয়ে গোমড়ামুখে ওরা হাঁড়িকাঠের নিচে ফাঁসির আসামির মতো জল্লাদের ডাকের জন্য অপেক্ষা করছিল।
নাকাতি আর আমার লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, এই হতভাগাদের নিয়ে কী করা যায়? ওরা কেউ এদের ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখাল না। আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলো দ্রুত মেরামত করা হয়েছিল। যেগুলো মেরামত করার উপায় ছিল না সেগুলো বালুকা বেলায় পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। লড়াই হয়েছে আর আমরা জয়ী হয়েছি। নতুন করে হাইকসো গোষ্ঠির লোকেরা প্রতিশোধ নেবার জন্য বালিয়াড়ির উপর দিয়ে আসার আগেই সবাই জাহাজে চড়ে গভীর সমুদ্রে চলে যেতে চাইছে।
হুই বললো, এদেরকে মেরে ফেললেই হয়।
জারাসও সায় দিয়ে বললো, আমারও তাই মত। ওদের সকলকে হত্যা করা হোক। সে জোরে জোরে হাইকসো ভাষায় কথগুলো বলছিল যাতে কাছের বন্দীরা তা শুনতে পায়।
নাকাতি তার মত দিয়ে বললো, এটা ভালো প্রস্তাব। ওদেরকে ছেড়ে দিলে ওরা কাল আবার আমাদের লোকদের হত্যা করবে আর মেয়েদেরকে ধর্ষণ করবে। সবাই চেঁচিয়ে একমত হল। তবে নাকাতি এক হাত তুলে ওদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমাকে বললো, তবে প্রভু তায়তা, আপনাকে আমি ভালো করেই জানি, আপনি কখনও আমাদের এই প্রস্তাবে রাজি হবেন না। যে লোক আত্মসমর্পণ করেছে তাকে আপনি কখনও ঠাণ্ডা মস্তিষ্কে মারতে পারবেন না।
আমি কাঁধে ঝাঁকি দিয়ে বললাম, দুর্বল ও অসহায়ের প্রতি সহানুভূতি দেখাবার বিষয়ে তুমি আমার সম্পর্কে হয়তো একটু বেশি বলে ফেলেছ। আমি হয়তো তোমাকে অবাক করে দিতে পারি। তবে সে ঠিকই জানে আমার এই প্রতিবাদ সমাটেই আন্তরিক নয়। সে দাঁত বের করে হেসে বললো, তাহলে আমি একটা প্রস্তাব করছি। আমি আপনাকে দেখাচ্ছি কীভাবে নিশ্চিত করা যায় যে, এই কুকুরগুলো আর কখনও ফারাও আর আমাদের মিসরের বিরুদ্ধে তীর ছুঁড়তে পারবে না কিংবা তরবারি উঠাতে পারবে না। তারপর আমরা তাদেরকে ছেড়ে দিতে পারি যাতে আপনার বিবেকের কাছে আপনি পরিষ্কার থাকতে পারেন।
তার এই অন্তঃসারশূন্য বিতর্কে বিরক্ত হয়ে আমি বললাম, কীভাবে সেটা করবে শুনি? কী কারণে ওদেরকে বিশ্বাস করতে বলছো?
হাঁটু গেড়ে বসা বন্দীদের পাহারায় তার যে লোকগুলো ছিল, তাদের দিকে একবার তাকিয়ে মাথা নেড়ে কিছু ইঙ্গিত করে সে আমাকে বললো, আমি আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি, অনুগ্রহ করে এক মুহূর্ত এদিকে তাকান! ওরা একজন হাইকসো রথিসেনাকে টেনে নিয়ে এসে মুখ বালুর উপর রেখে উপুড় করে শোয়াল। বন্দীর দুই হাত পিছমোড়া করে বাঁধা ছিল। নাকাতি লোকটির পেছনে দাঁড়িয়ে তরবারি বের করলো।
সে লোকটিকে নির্দেশ দিল, তোমার বুড়ো আঙ্গুল তুলে ধর! বন্দীটি তার নির্দেশ পালন করলো। তরবারির দুই কোপে সে লোকটির বুড়ো আঙুল দ্বিতীয় গাঁট থেকে কেটে ফেললো। লোকটি যন্ত্রণায় চেঁচিয়ে উঠলো। ক্ষতস্থান থেকে দরদর করে রক্ত ঝরে পড়তে লাগলো আর কাটা বুড়ো আঙুলের অংশগুলো বালুতে পড়ে কাঁপতে লাগলো।
নাকাতি বললো, এবার আমি বাজি ধরে বলতে পারি, এই লোকটি আর কখনও মিসরের বিরুদ্ধে তীর কিংবা তরবারি কোনোটাই চালাতে পারবে না। আমরা সবাই অবাক বিস্ময়ে হা করে কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তারপর আমার লোকেরা উল্লাসে ফেটে পড়লো।
এরপর আমি কিছু বলার আগেই জারাস সামনে এগিয়ে গেল। সে এক পা দিয়ে নগ্ন আর আহত বন্দী লোকটিকে ঠেলে উল্টিয়ে চিৎ করে শোয়াল। তলোয়ার বের করে লোকটির পুরুষাঙ্গের নিচে তলোয়ারের ডগাটি ঢোকাল। তারপর সে বললো, এভাবে নিশ্চিত করা হল যেন, সে আর কখনও কোনো মিসরীয় নারী কিংবা সদ্যজাত শিশুকে ধর্ষণ করতে না পারে। এই কথা বলার সাথে সাথে তলোয়ারের ধারালো ফলার উপরের দিকে এক টানে সে লোকটির পুরুষাঙ্গ কেটে ফেললো। তারপর তলোয়ারের ডগায় বিধিয়ে সাগরের ফেনায় ছুঁড়ে ফেললো।
