ও থাকবে! শিলার বলেন।
লোক দু জন চলে যেতে উতে এগিয়ে গিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে এলো। এরপর, দরজায় পিঠ রেখে তাকালো জার্মান ধনকুবেরের চোখে।
তার উন্নত বুকজোড়া সামনে ঠেলে বেরিয়ে এসেছে; দৃঢ় বৃন্তদুটো বড়ো বিন্দুর মতো। পাতলা সুতির ব্লাউজের নিচে থেকে পরিষ্কার দেখা যায়।
কসটিউম? জানতে চাইলো উতে। ওটা চাই আপনার? তার নিজের কণ্ঠস্বরও কষ্টার্জিত। এ খেলাটা সেও কম পছন্দ করে না।
হ্যাঁ, কসটিউম চাই। ফিসফিসায় শিলার।
ব্যক্তিগত দরজা গলে উতে অদৃশ্য হয়ে যেতেই নিজের কাপড় খুলতে শুরু করলো সে। পুরোপুরি নগ্ন হয়ে উতে যে দিক দিয়ে আসবে, সেদিকে ফিরে দাঁড়ালো।
হঠাৎ, দোরগোড়ায় উদয় হলো উতে। ওর রূপান্তরে শ্বাস আটকে ফেললো শিলার। বেণী করা চুলের মিশরীয় পরচুলা পরেছে উতে, তার উপর ফনা তোলা কোব্রার ইউরিয়াস মুকুট। বহু পুরনো জিনিস ওটা–পাঁচ মিলিয়ন ডয়েস মার্ক দিয়ে কিনেছে ফন শিলার।
আমি প্রাচীন মিশরের রানী, লসট্রিসের পুনর্জন্ম, নীচুস্বরে বলে চলে উতে।
আমার আত্মা অমর। আর দেহ অবিনশ্বর। রানির কবর থেকে উদ্ধার করা স্বর্ণের স্যান্ডেল উতের পায়ে। ব্রেসলেট, আংটি, কানের দুল–সবই রানি লসট্রিসের সমাধি থেকে পাওয়া। ভক পাওয়া।
হ্যাঁ, তুমি-তাই–শিলারের স্বর রুদ্ধ হয়ে আসে।
আমি চিরকাল বাঁচবো, এমন কোনো শক্তি নেই, আমাকে বিনাশ করে।
চিরকাল–শিলার কাঁপছে আবেগে।
কোমড়ের উপরে পুরোপুরি নগ্ন উতে। সাদা, বিশাল স্তন একেবারে দুধ সাদা। দুই হাত দিয়ে ও দুটোকে মুঠোর ভেতর ধরলো সে।
চার হাজার বছর ধরে এ সম্পদ তোমার অপেক্ষায় আছে, আহ্বান জানায় উতে। নাও ওদের!
স্বর্ণের স্যান্ডল থেকে সুন্দর পা জোড়া ছাড়িয়ে আনে লসট্রিস। হলুদ স্কার্টের সামনের অংশ দুই ভাগ করা ফাঁক করে ধরে নিজের শরীরের চুম্বক অংশ দেখায়। প্রতিভাবান অভিনেত্রী উতে, তার প্রতিটি ভঙ্গি হিসেবি।
এ হলো অমরত্বের শপথ, মধু-রঙা যৌনাঙ্গের চুলের উপর একটা হাত রাখে। উতে। নাও আমাকে!
চোখ পিটপিট করে ঘাম সরায় শিলার, মৃদু শব্দে গুঙিয়ে উঠে।
ধীরে, কোমর নাচায় উতে; খুব ধীরে, যেনো প্যাঁচ খুলতে থাকা কোব্রা। ঊরুজোড়া ফাঁক করে দাঁড়ায়। দুই আঙুলে ছড়িয়ে দেয় যোনির ঠোঁট।
এ হলো অমরত্বের প্রবেশদ্বার! ঢোকো এখানে!
জোরে গুঙিয়ে উঠেন শিলার। বহুবার অভিনীত এ নাটক কখনোই তাকে হতাশ করে না। ঘোরের মধ্যে যেনো উতের দিকে এগিয়ে যায় সে। পাতলা, কাঠখোট্টা; হাজার বছরের পুরনো শুকনো মমির মতো তার দেহ। বুকের চুল রুপালী, কোমড়ের চামড়া আলগা হয়ে ঝুলে গেছে, কিন্তু যৌনাঙ্গের এবং মাথার চুল কুচকুচে কালো ফন শিলারের। বিশাল পুরুষাঙ্গ তার দেহের সাথে মেলে না। ধীরে উতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়ে ক্রমশ ফুলে প্রবল হয়ে উঠলো তা–অগ্রভাগের চামড়া সরে গিয়ে পথ করে দিল গোলাপি ডগাটার।
তাড়াতাড়ি, শিলার আবেদন জানালেন, ওই পাথরটার উপরে!
তার দিকে পেছন ফিরে প্রাচীন পাথরটার উপর উবু হয়ে বসলো উতে। ঘাড় ফিরিয়ে দেখছে শিলারকে, পেছন থেকে তার অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে সে, অসট্রিচ পাখির ডিমের মতো গোলাকার দু অংশের মাঝখান দিয়ে।
*
সারারাত ধরে কাজ করলো হেলম্ আর তার লোকজন। পেগাসাস ওয়ার্কশপে বসে সমস্ত মালামাল কাঠের বাক্সে ভরে রাখলো। সকালে ট্রাকে তুলে আদ্দিস আবাবায় পাঠানো হলো সেগুলো। তার পরামর্শে নাহুত ট্রাকের পেছনে রইলো। হের ফন শিলার রাজধানীর এয়ারপোর্টে পৌঁছল কোম্পানির হেলিকপ্টারে চড়ে, সঙ্গে রয়েছেন উতে কেম্পার। ওঁরা পৌঁছবার কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজির হলেন পুলিশ কমিশনার জেনারেল ওবেঈদ। হের ফন শিলারকে বিদায় জানাতে এসেছেন তিনি।
ত্রিশ ঘণ্টার কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে পেগাসাস ট্রাকও সময়মতোই পৌঁছল। কাঠের বাক্সগুলো যখন ফন শিলারের প্রাইভেট জেটে তোলা হচ্ছে, জেনারেল ওবেঈদ তখন ডিউটিরত কাস্টমস অফিসারের সঙ্গে কথা বলছেন। জিওলজিক্যাল স্যামপল হিসেবে ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়েছে,তাতে সই করে নিঃশব্দে বিদায় নিলেন অফিসার।
একুশশো ঘণ্টায় ফ্রাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করলো জেট প্লেনটা। সিনিয়র। কাস্টমস আর ইমিগ্রেশন অফিসার যারা অপেক্ষা করছেন তারা সবাই হের শিলারের পুরানো বন্ধু, খবর পাওয়া মাত্র এয়ারপোর্টে চলে আসেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে জেটে বসে হুইস্কি খেলেন তারা, প্রত্যেককে একটা করে মোটাতাজা এনভেলাপ দেওয়া হলো।
বাকি রাতটুকু পাহাড়ী পথ ধরে ছুটলো ট্রাক। তেরপল দিলে ঢাকা ট্রাকটাকে অনুসরণ করছে হের শিলারের শোফার, কার্গো ট্রাক মুহূর্তের জন্য চোখের আড়াল হতে দিচ্ছে না। ভোর পাঁচটার দিকে লোহার গেট দিয়ে দুর্গের ভেতর ঢুকলো গাড়ি। দুৰ্গটা আকারে বিশাল, পরিবেশেটাও ভৌতিক। বাটলার থেকে শুরু করে বিশাল, পরিবেশটাও ভৌতিক। বাটলার থেকে শুরু করে কর্মচারীরা সবাই মনিবের জন্য অপেক্ষা করছিল। শিলারের কালেকশন দেখাশোনা করেন হের রিপার, তিনিও স্টাফসহ উপস্থিত। বাক্স দুটো ফর্কলিফটে তোলা হলো, ভল্টে নিয়ে যাওয়া হবে।
কাঠের বাক্স খোলা হচ্ছে, দুর্গের উত্তর টাওয়ারে চলে এলেন ফন শিলার। গোসল সেরে ব্রেকফাস্ট করলেন, পাশেই দাঁড়িয়ে থাকলো চাইনিজ শেফ। নাস্তা শেস করে স্ত্রীর বেডরুমে চলে এলেন তিনি। আগের চেয়ে রোগা আর নিপ্রভ লাগলো ভদ্রমহিলাকে। সব চুলই একদম সাদা হয়ে গেছে, মুখ দেখে মনে হচ্ছে মোমের তৈরি। নার্সকে বিদায় করে দিয়ে স্ত্রীর কপালে চুমো খেলেন ফন শিলার। ক্যান্সার রোগ ধীরে ধীরে খেয়ে ফেলছে মহিলাকে, তবু ফন শিলারকে তিনি এক জোড়া পুত্রসন্তান উপহার দিয়েছেন, এ কথাটা মনে রেখে এখনো স্ত্রীকে ভালোবাসেন ফন শিলার।
