কেন পারবে না, হের ফন শিলার? মঠের একজন সন্ন্যাসী আমার নিজের লোক। তাছাড়া, গোজাম এলাকায় এখনো মার্শল ল বলবৎ রয়েছে, কিন্তু আমি ওখানকার কমান্ডার। বিদ্রোহী বা চোর ডাকাতদের ধরার জন্য যে কোনো জায়গা আমি সার্চ করতে পারি।
ভেরি গুড, বললেন ফন শিলার। ওই ফলকটা আমি চাই। আপনি জেনে রাখুন–গুণী লোকদের পুরস্কার দিই আমি। যে কোনো সময় মি. হেলম্ কে ফোন করে খবর দিতে পারেন আপনি। আর, আমি চাই ড. নাহুত আপনার সাথে গিয়ে এলাকটা সার্চ করে দেখুক। যে কোনো রকম চিহ্ন-প্রমাণ যেনো না হারায়।
কেতাদুরস্ত ভঙ্গিতে তাঁকে স্যালুট করলেন কর্নেল নগু। এরপর দ্রুত বেরিয়ে গেলেন কক্ষ ছেড়ে।
*
এর সৈন্যদের মধ্যে থেকে বিশজনকে বাছাই করলেন তিনি, জানেন ধর্ম বা নৈতিকতার প্রতি তাদের কোনো মোহ নেই। ভোর হওয়ার দু ঘণ্টা আগে নিরাপদ পেগাসাস কমপাউন্ডে প্যারেড করালের তাদের, তারপর ফ্লাডলাইটের নিচে দাঁড় করিয়ে ব্রিফ করলেন। কাছেই জেট রেঞ্জার তৈরি হয়ে অপেক্ষা করছে, কন্ট্রোলে বসে আছে পাইলট। অস্ত্রশস্ত্র সহ এতোগুলো লোককে একবারে বহন করা সম্ভব হবে না, কাজেই ঠিক হয়েছে চারবারে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রথম ফ্লাইটে নগু থাকলেন, সঙ্গে কারিফ ফারকী। মঠ থেকে তিন মাইল দূরে কপ্টার ওদেরকে নামিয়ে দিল, ডানডেরা নদীর কিনারা ঘেঁষে ফাঁকা একটা জায়গায়। এ একই জায়গায় মিলিত হয়েছিল তারা নিকোলাসের ক্যাম্পে হামলা চালাবার আগে।
ভোরের প্রথম আলোয় মঠে পৌঁছনোর প্ল্যান করেছেন কর্নেল। কনটিনজেন্ট নিয়ে পাথুরে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলেন, রাবার সোল লাগানো প্যারাট্রুপার বুট থেকে প্রায় কোনো শব্দই হচ্ছে না।
পাথুরে চাতাল বা চাতাল ফাঁকা পড়ে আছে। আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাথেড্রাল থেকে পুরোহিত আর সন্ন্যাসীদের সম্মিলিত প্রার্থনাসঙ্গীতের একটানা ছন্দোবদ্ধ আওয়াজ ভেসে আসছে। মাঝে মধ্যে বিরতি নিচ্ছেন তাঁরা, তখন শুধু প্রধান পুরোহিতের গলা শোনা গেল। দরজাগুলোর সামনে সৈনিকদের নিয়ে থামলেন কর্নেল। কাউকে কোনো নির্দেশ দেয়ার প্রয়োজন নেই, সবাই জানে কার কি কাজ। সবার উপর একবার চোখ বুলালেন তিনি, তারপর লেফটেন্যান্টের দিকে ফিরে মাথা ঝাঁকালেন।
গির্জার আউটার চেম্বার খালি। সন্ন্যাসীরা জমায়েত হয়েছেন মিডল চেম্বার কিচ্চিতে। ভেতরে ঢুকে আউটার চেম্বারের ঢোকার দরজা খোলা দেখা গেল। ভেতরে ঢুকলেন তিনি, তার লোকজন দু সারিতে ভাগ হয়ে সাড়ি ওয়াল ঘেঁষে পজিশন নিল, হাতের অ্যাসল্ট রাইফেল কক ও লক করা, ডগায় আটকানো বেয়নেট হাঁটু গেড়ে প্রার্থনারত ভক্তদের কাডার দিচ্ছে।
ব্যাপারটা নিঃশব্দে ও দ্রুত ঘটে গেছে। বেশ কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে সন্ন্যাসীরা টের পেলেন যে তাদের পবিত্র স্থানে বৈরী একদল লোক ঢুকে পড়েছে। ঢাক-ঢোল পেটানোর আওয়াজ থেমে গেল, থেমে গেল প্রার্থনাসঙ্গীত, গাঢ় মুখগুলো পেছন ফিরে সশস্ত্র লোকজনকে দেখছে। একা শুধু প্রধান পুরোহিত ওলি জারকস সচেতন নন, চোখ বুজে নিবিষ্টচিত্তে প্রার্থনা করছেন এখনো।
নিস্তব্ধতার ভেতর এগুলেন কর্নেল নগু, হাঁটু গেড়ে বসে থাকা সন্ন্যাসীদের লাথি মেরে পথ থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন। ওদি জারকাসের হাড়সর্বস্ব কাঁধ ধরে একটা ঝুঁকি দিলেন, তারপর ধাক্কা মেরে ফেলে দিলেন মেঝেতে। প্রধান পুরোহিতের মাথা থেকে খসে পড়লো মুকুটটা।
সন্ন্যাসীদের দিকে ফিরে অ্যামহ্যারিক ভাষায় কর্নেল বললেন, চোর-ডাকাত আর গুণ্ডাবদমাশদের খোঁজে গোটা মঠ সার্চ করা হবে। আমার লোকজনকে কর্তব্য পালনে বাধা দিলে পরিণতি হবে ভয়াবহ।
ক্রল করে তাঁর দিকে ঘুরলেন জালি হোরা, এমব্রয়ডারি করা পর্দা ধরে অনেক কষ্টে সোজা হলেন। স্পষ্ট ও কঠিন সুরে বললেন, এটা আমাদের পবিত্র স্থান। এখানে আমরা পরম পিতা, সন্তান ও পবিত্র আত্মার আরোধনা করি।
চুপ ব্যাটা! গর্জে উঠলেন কর্নেল নগু, হোলস্টার থেকে টেকারেভ পিস্তল বের করে তাক করলেন প্রধান পুরোহিতের বুকে।
হুমকিটা গ্রাহ্য না করে জালি হোরা বললেন, এখানে কোনো শুফতা নেই। আমরা সবাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যিশু ও পরম পিতার নামে বলছি, আপনারা চলে যান, আমাদেরকে নির্বিঘ্নে….
পিস্তলটা উল্টো করে জালি হোরার চোয়ালে প্রচণ্ড বাড়ি মারলেন কর্নেল, গালটা তরমুজের মতো ফেটে গিয়ে লাল হয়ে উঠলো। ব্যথায় গুঙিয়ে উঠলেন প্রধান পুরোহিত, পর্দা ধরে কোনো রকমে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি গোঙাচ্ছেন, তাঁর সঙ্গে সন্ন্যাসীরাও।
হেসে উঠে জালি হোরার পায়ে ল্যাং মারলেন কর্নেল। মেঝেতে একটা রক্তাক্ত স্কুপে পরিণত হলেন প্রধান পুরোহিত। বুড়ো বেবুন, কোথায় তোর গড? যত জোরে পারিস ডাক, কোনো সাড়া পাবি না। হেসে উঠলেন নগু, পিস্তল নেড়ে লেফটেন্যান্টকে সংকেত দিলেন।
মিডল চেম্বরে ছয়জনকে পাহারায় রেখে মাকডাস-এর দিকে এগুলেন কর্নেল। দরজায় তালা দেওয়া দেখে লেফটেন্যান্ট সবাইকে পিছিয়ে যেতে বলে হাতের একে-ফরটিসেভেন তুলে গুলি করলো। বন্ধ জায়গার ভেতর এক পশলা গুলি বিকট আওয়াজ করলো, সেটা থামার পর শোনা গেল সন্ন্যাসীরা একযোগে বিলাপ শুরু করেছে।
কাঁধের ধাক্কায় বিশাল দরজা পুরোপুরি খুলে ফেলা হলো। ভেতরে কয়েকটা মাত্র কুপি জ্বলছে। হঠাৎ এমন কি নাস্তিকরাও এ পবিত্রতম স্থানে ঢুকতে ইতস্তত করছে। বুঝতে পেরে হাঁক ছাড়লেন কর্নেল, নাহুত! এদিকে আসুন! হের ফন শিলার আপনাকেই জিনিসটা খুঁজে বের করতে বলেছেন।
