স্ক্রোলটা এখন তার কালেকশনের অমূল্য সম্পদ হয়ে আছে, অন্যান্য অমূল্য সম্পদের সঙ্গে ইস্পাত আর কংক্রিটের ভল্টে রেখে দিয়েছেন যত্ন করে। স্কলস পাহাড়ের নিচে তার নিজের একটা নিভৃত দুর্গ আছে, ভল্টা সেখানে।
তবে নাহুত তার উপকার যেমন করেছেন, অপকারও কম করেন নি। ডুরেঈদ আর তাঁর স্ত্রীকে মেরে ফেলার দায়িত্বটা তাঁকে দেওয়া উচিত হয় নি। উচিত ছিল প্রফেশনাল কাউকে পাঠানো। কিন্তু নাহুত জেদ ধরে বলেছিলেন কাজটা তিনি নিখুঁতভাবে সারতে পারবেন। এর জন্য মোটা টাকা নেন তিনি, অথচ গোটা ব্যাপারটা লেজেগোবরে করে ছাড়েন। কাজেই, সময় হলে, নাহুতকেও সরিয়ে ফেলা হবে। তবে এ মুহূর্তে ওকে তাঁর দরকার।
সন্দেহ নেই ঈজিপ্টোলজি আর হায়ারোগ্লিফিক্স-এর নাহুত একজন এক্সপার্ট। হবে না, সারাজীবন এসব নিয়েই তো পড়ে আছেন। তিনি নিজেও কিছু কিছু বোঝেন বৈকি, তবে উৎসাহী অ্যামেচার ছাড়া আর কিছু বলা যায় না তাকে। স্ক্রোল ছাড়াও নতুন যেসব উপকরণ পাওয়া গেছে, সবই গড় গড় করে পড়তে পারেন নাহুত, যেনো বন্ধুকে লেখা চিঠির মতোই সহজপাঠ্য। ওর সাহায্য নিয়ে ফারাও মামোস-এর সমাধি খুঁজে পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী তিনি।
বসুন সবাই, বসুন, প্লিজ, বললেন হের ফন শিলার। আসুন শুরু করি আমরা।
সবাই বসার পরও খুদে মঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে থাকলেন ফন শিলার। সবার চেয়ে উঁচু হয়ে থাকতে ভালোবাসেন তিনি। একটা কথা পরিষ্কার বলে দিতে চাই। এ কামরা থেকে কোনো পর, ডকুমেন্ট, নোট ইত্যাদি বাইরে বের হতে পারবে না। এখানকার সব কিছুই অত্যন্ত কনফিডেনশিয়াল এবং আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। ফ্রয়লিন কেম্পার আপনাদেরকে একটা করে ডকুমেন্ট ফোল্ডার দেবেন, মিটিং শেষে ওগুলো আবার তার কাছে ফিরে যাবে। আমার ইচ্ছা আর নির্দেশের এদিক ওদিক হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
সবাইকে একটা করে ফোল্ডার বিলি করলেন প্রাইভেট সেক্রেটারি উতে কেম্পার। টেবিল থেকে ডোশিয়ে তুলে খুললেন ফন শিলার। আপনদের ফোল্ডারে হারপার নিকোলাসের ক্যাম্প থেকে সংগ্রহ করা পোলারয়েড ফটোগ্রাফির কপি আছে। প্লিজ, ওগুলো দেখুন।
সবাই যে যার ফোল্ডার খুলল।
স্টাডি করার পর ড. নাহুত বলছেন ফটোগ্রাফে যে ফলকটা দেখা যাচ্ছে সেটা জেনুইন, প্রাচীন ঈজিপশিয়ান আর্টিফ্যাক্ট, প্রায় নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়া চলে যে সেকেন্ড ইন্টারমিডিয়েট পিরিয়ড সতেরোশো নব্বই বি.সি.-র। আপনি নতুন আর কিছু বলতে চান, ড. নাহুত?
ধন্যবাদ, হের ফন শিলার, বলে হাসলেন নাহুত, নার্ভাস দেখাচ্ছে তাকে। জার্মান ধনকুবেরের আচরণে ঠাণ্ডা এমন কিছু আছে যা তাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে। ডুরেঈদ আর রোয়েনকে খুন করার নির্দেশ দেয়ার সময় ভদ্রলোকের মধ্যে এক বিন্দু উত্তেজনা বা আবেগ দেখেন নি তিনি। জানেন, তাঁকে খুন করার জন্য অন্য কাউকে নির্দেশ দেয়ার সময়ও একদম নির্লিপ্ত দেখাবে ফন শিলারকে। কোনো সন্দেহ নেই, স্বেচ্ছায় বাঘের পিঠে চড়ে বসেছেন তিনি। আমি আমার আগের কথাই রিপিট করতে চাই। এ প্রিন্টের ফলকটা জেনুইন বলেই মনে হচ্ছে। তবে নিশ্চিত হবার জন্য ফলকটা আমাকে দেখতে হবে।
সেটা যাতে আপনি দেখার সুযোগ পান তার ব্যবস্থা করার জন্যই এখানে আমরা মিলিত হয়েছি, মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন ফন শিলার। এখন আপনার মতামত দিন, প্লিজ। ফলকটা যদি জেনুইন হয়, কোথায় পাওয়া যাবে? মানে, কোথায় আমরা খুঁজব?
শুধু ফলকটার কথা ভাবলে চলবে না, বললেন নাহুত। কর্নেল নও যে পোলারয়েড সংগ্রহ করেছেন সেগুলোও বিবেচনার মধ্যে আনতে হবে। নিজের ফোল্ডার থেকে একটা ফটোগ্রাফ বেছে নিলেন তিনি। এই যেমন এটা। তার দেখাদেখি বাকি সবাই যে যার ফোল্ডার থেকে নির্দিষ্ট ওই ফটোগ্রাফটা হাতে নিল।
ফলকটার পেছনে তাকালে দেখতে পাবেন ছায়ার ভেতর একটা গুহার দেয়াল রয়েছে, আবার বলল নাহুত, ফন শিলার উৎসাহ দিয়ে হাসলেন। আরো রয়েছে বার লাগানো একটা দরজা বা প্রবেশ পথ। হতেরটা রেখে দিয়ে আরেকটা ফটো তুললেন। এবার এটা দেখুন। অন্য এক সাবজেক্টের ছবি। দেয়ালচিত্র বলল আমি, প্লাস্টার করা দেয়ালে বা কোনো গুহার মসৃণ পাথরের উপর আঁকা হয়েছে। সম্ভবত গ্রিল বা বার লাগানো দরজার ভেতর ক্যামেরা গলিয়ে এ দেয়ালচিত্রের ছবি তোলা হয়েছে। দেয়ালচিত্রে ঈজিপিশিয়ান স্টাইলের ছাপ ও প্রভাব স্পষ্ট। আপার ঈজিপ্টের কুইন লসট্রিসের সমাধিতে এ ধরনের দেয়ালচিত্র আছে, ওখান থেকে আদি টাইটা স্ক্রোল উদ্ধার করা হয়। কাজেই আমার ধারণা, ওই একই গুহা বা সমাধি থেকে এসেছে এ ফলক আর দেয়ালচিত্রের ছবি।
তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ালো, ছবিগুলো হারপার নিকোলাস কোত্থেকে তুলেছেন। কর্নেল নগু, এলাকটা আপনি চেনেন। মোনা যাক এ ব্যাপারে আপনার কি বলার আছে।
অনেক আলোচনার ও তর্ক-বিতর্কের পর সিদ্ধান্তে আসা হলো, ছবিগুলো তোলা হয়েছে একটা কপটিক খ্রিস্টান গির্জার ভেতর থেকে। নিকোলাসের ক্যাম্প থেকে স্যাটেলাইট ফটোগ্রাফ সংগ্রহ করেছেন কর্নেল নগু, একটা ফটোয় লাল কালির বৃত্ত দেখা যাচ্ছে। ক্যাম্পসাইট থেকে মাত্র এক মাইল দূরে জায়গাটা। বৃত্তের ভেতর ওটা সেন্ট ফুমেনটিয়াসের মঠ।
ওই মঠ সার্চ করা হোক, নির্দেশ দিলেন ফন শিলার কর্নেল নগু, ওখানে আপনার লোকজন ঢুকতে পারবে?
