সকাল এগারোটার দিকে আমার ড্রাইভার এসে নিয়ে যাবে।
খাবারের এক পর্যায়ে এসে রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী বললেন, তুমি জানো, স্যার নিকোলাস, কুয়েনটন পার্কের মালিক। এরপর নিকোলাসের দিকে ফিরে যোগ করলো, আমার স্বামী আবার ভালো শুটার।
কুয়েনটন পার্ক, না? আরে, পত্রিকায় পড়েছি তো। ব্রিটেনের সেরা কিছু পাখি আছে ওখানে।
একটু পর জিওফ্রে ফিসফিস করে বলল, তুমি ভালোই ওর এ জয় করেছ, নিকি!
ডিনার শেষ হবার পর যে যার নিজের কামরায় ফিরে এলো ওরা। কাপড় ছাড়তে যাচ্ছে রোয়েন, নক হলো দরজায়। কবাট সামান্য একটু ফাঁক করে বাইরে
তাকালো ও, দেখলো হাতে একটা কাগজ নিয়ে করিডরে দাঁড়িয়ে রয়েছে না।
এখানে এসেই লন্ডনে একটা ফ্যাক্স পাঠিয়ে ছিলাম, তার উত্তর এসে গেছে-ঘরে ঢুকে দেখি মেঝেতে পড়ে রয়েছে। ভদ্রবেশে আছেন তো?
এক মিনিট, বলে দরজা বন্ধ করে দিল রোয়েন, খানিক পর আবার খুলল। আসুন।
ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করলো নিকোলাস। পেগাসাসের মালিককে এখন আমরা চিনি, রোয়েন।
কে, বলুন! দুই হাত মুঠো করলো রোয়েন।
একটা চেয়ার টেনে এনে নিকোলাস বলল, বসুন।
রোয়েন বসার পর ফ্যাক্স পেপারের ভাঁজ খুলে চোখ বুলালো আরেকবার। পেগাসাসের পঁয়ষট্টি ভাগ শেয়ারের মালিক ভলহালা মাইনিং কোম্পানি, বাকি পঁয়ত্রিশ পার্সেন্টের মালিক অস্ট্রিয়ার অ্যানাকোন্ডা মেটালস। পেগাসাস এক্সপ্লোরেশন অস্ট্রেলিয়ার সিডনি স্টক এক্সচেঞ্জে রেজিস্ট্রি করা, শেয়ার ক্যাপিটাল বত্রিশ মিলিয়ন…
এতো ডিটেলস কে শুনতে চায়! আপনি আমাকে লোকটার নাম বলুন।
ভলহালা আর অ্যানাকেন্ডা, দুটোরই আবার মালিক এইচ এম আই-হ্যামবুর্গ ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ। এইচএমআই-এর সমস্ত শেয়ারের মালিক হের ফন শিলার ফ্যামিলি ট্রাস্ট। দু জন মাত্র ট্রাস্টি হের ফন শিলার আর তাঁর স্ত্রী ইনজেমার।
হের ফন শিলার! বিড়বিড় করলো রোয়েন, এখনো নিকোলাসের দিকে তাকিয়ে। সম্ভাব্য স্পনসর হিসেবে ডুরেঈদ তালিকায় তার নাম রেখেছিল। উইলবার স্মিথের বইটা নিশ্চয়ই তিনি পড়েছেন। আমি জানি, জার্মান ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে ওটা। আপনার মতো তিনিও সম্ভবত ডুরেঈদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
আমারও তাই ধারণা, বলল নিকোলাস। কায়রো মিউজিয়ামের ভেতর আপনারা ডুরেঈদ কি করছিলেন, এটা জেনে নেওয়া কঠিন কোনো ব্যাপার ছিল না। বাকিটা তো সবাই আমরা জানি।
কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি তিনি পেগাসাসকে ইথিওপিয়ায় নিয়ে গেলেন কীভাবে?
জিওফ্রে আমাকে জানিয়েছে, ওখানে তারা একটা কনসেশন পায় পাঁচ বছর আগে। স্ক্রোল হাতে পাবার অনেক আগে থেকে ওখানে রয়েছেন হের ফন শিলার। শুধু বেস ক্যাম্পটা অ্যাবি খাদে সরিয়ে আনতে হয়েছে ওদেরকে। খোঁজ নিলে জানা যাবে জ্যাক হেলম্ ফন শিলারের একজন ম্যাসলম্যান। কর্নেল নগুও ওদের পকেটে।
সব কিছু মিলে যাচ্ছে, বলল রোয়েন। বসকে হেলই ওখানে আমাদের পৌঁছানোর খবর দেয়। ফন শিলারের নির্দেশেই, শুফতাদের দিয়ে আমাদের ক্যাম্পে হামলা করা হয়।
যাক, এখন অন্তত আমরা জানি কার সঙ্গে লড়ছি।
মাথা নাড়লো রোয়েন। এই কাজে হের ফন শিলারকে কেউ সাহায্য করছে। কায়রোর কোনো লোক।
নিকোলাস জানতে চাইলো, আপনার মিনিস্টারের নামটা যেনো কী?
আরে না! সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করলো রোয়েন। আতালান আবু সিন হতে পারেন না! আমি তাকে সারাজীবন ধরে চিনি। অত্যন্ত সৎ মানুষ। সতোর টাওয়ার বলব আমি।
মোটা টাকা ঘুষ পেলে এ রকম বহু টাওয়ারকে কাত হয়ে যেতে দেখেছি আমি, নরম সুরে বলল নিকোলাস, শুনে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকলো রোয়েন।
*
পরদিন সকালে পুলিশ কমিশনারের গাড়ি হেডকোয়ার্টারে নিয়ে এলো ওদেরকে। খুব আন্তরিকতার সঙ্গে অভ্যর্থনা জানালেন জেনারেল ওবেঈদ। বেশ কিছু প্রশ্ন করলেন তিনি, ইন্সপেক্টর গালা সব লিখে নিলেন। বোরিস ব্রুসিলভ যে কেজিবির অফিসার ছিল, ওরা সেটা জানে কিনা জিজ্ঞেস করা হলো। ইন্টারভিউ শেষ হতে একটা বিবৃতি টাইপ করা হলো, পড়ে দেখার পর সেটায় সই করলো। নিকোলাস। বিদায় দেয়ার সময় জেনারেল বললেন, যে কোনো ধরনের সাহায্য দরকার হলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানাবেন, স্যার নিকোলাস। এরপর রোয়েনের দিকে তাকালেন তিনি। আমি আশা করব আবার আপনি ইথিওপিয়ায় বেড়াতে আসবেন।
আসব না মানে! কিছুদিনের মধ্যেই আবার আমাদেরকে দেখতে পাবেন আপনি! হাসছে রোয়েন।
বাইরে বেরিয়ে এসে নিকোলাসকে বলল ও, সত্যি, এরকম ভালো মানুষ আজকাল দেখা যায় না।
আমারও তাই ধারণা, বলল নিকোলাস।
*
পরদিন সকালে ডাইনিং রুমে ব্রেকফাস্ট করতে নেমে দু জনেই ওরা একটা করে এনভেলাপ পেল, ডাইনিং টেবিলের উপর পড়ে রয়েছে। ওয়েটারকে কফি দিতে বলে নিজের এনভেলাপটা খুলল নিকোলাস। পড়ার পর অবাক হয়ে তাকালো রোয়েনের দিকে, বলল, জেনারেল ওবেঈদ আবার আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন! আপনাকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে দুপুরের আগে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে হাজির হবে। মানে? প্লিজ বা থ্যাঙ্ক ইউ গেল কোথায়?
আমাকেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বলল রোয়েন। আমিও জানতে চাই, এর মানে কি?
ওখানে না গেল জানা যাবে না।
আজ সকালে কিন্তু ওদের কপালে উষ্ণ অভ্যর্থনা জুটলো না। গার্ড ওদেরকে জেনারেল চার্জ অফিসে পাঠিয়ে দিল। ওখানে ডেস্ক অফিসারের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ভুল বোঝাবুঝির ঝামেলা শুরু হলো। লোকটা ইংরেজি প্রায় জানে না বললেই হয়। অবশেষে টেলিফোনে ফিসফিস করে কার সঙ্গে যেনো কথা বলল সে, কথা শেষ করে দেয়াল ঘেঁষে ফেলা কাঠের বেঞ্চ দেখিয়ে বসতে বলল ওদেরকে।
