বি কেয়ারফুল, ডিয়ার গার্ল। কোনো ঝুঁকি নেবেন না।
আমি আপনার ডিয়ার নই। আমি গার্লও নই।
তাহলে ইয়ং লেডি বলি?
না, কেন! আমার নাম রোয়েন। কিছুক্ষণ আর কোনো কথা হলো না। তারপর গুহার ভেতর থেকে রোয়েন বলল, আর এগুতে পারছি না। সরু হয়ে গুহাটা একটা শ্যাফটে নেমেছে বলে মনে হচ্ছে।
শ্যাফট?
মানে প্রায় চৌকো একটা গর্ত আর কী।
কৃত্রিম? মানুষের তৈরি?
বলা সম্ভব নয়। তীরবেগে পানি বের হচ্ছে। পাথরে কোনো টুলসের দাগ দেখছি না। খোঁড়াখুঁড়ির কোনো চিহ্নও নেই। প্রচুর শ্যাওলা।
পানি তোড় না থাকলে ওই শ্যাফট গলে কোনো মানুষ ঢুকতে পারবে?
বামুন হলে পারবে।
কিংবা কোনো বাচ্চা ছেলে?
হ্যাঁ, বাচ্চা ছেলে হলে পারবে। কিন্তু ওখানে কে একটা বাচ্চাকে নামাবে?
টাইটার যুগে শিশুশ্রম ব্যবহার করা হতো, বলল নিকোলাস। টাইটাও হয়তো ব্যবহার করেছে।
গুহা থেকে টানেলটা পরীক্ষা করার কোনো উপায় নেই? জিজ্ঞেস করলো নিকোলাস।
অসম্ভব, জোর দিয়ে বলল রোয়েন। পানির বেগ ওখানে প্রবল। শ্যাফটের ভেতর হাত গলাতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার শক্তিতে কুলোয় নি।
ব্যাগ হাতড়ে কালো একটা অ্যানাডাইজড ইন্সটুমেন্ট বের করলো নিকোলাস। অ্যানারয়েড ব্যারোমিটার। প্রত্যেক নেভিগেটরের কাছে একটা থাকা উচিত। কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে দেখে রিডিং নোট করলো ও।
খুলে বলুন।
আমি জানতে চাই সিঙ্কহোলের মুখ যে লেভেলে রয়েছে, এ ঝরনার তার চেয়ে নিচে কিনা। তা যদি না হয়, সম্ভাবনার তালিকা থেকে এটাকে আমরা বাদ দিতে পারি।
এখন তাহলে আমরা সিঙ্ক-হোলের লেভেল মাপতে যাব, টাইটার হ্রদে?
হ্যাঁ।
*
ওরা কোথায় যাচ্ছে জানার পর নতুন একটা পথ দেখালো তামের, ঝরনার উৎস থেকে টাইটার হ্রদের উপর পাহাড়-প্রাচীরের মাথায় পৌঁছতে দু ঘণ্টার বেশি লাগলো না। বিশ্রাম নেওয়ার সময় রোয়েন মন্তব্য করলো, বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায় তো, গেম ট্রেইলের সবগুলো ওর চেনা। গাইড হিসেবে দারুণ।
বোরিসের চেয়ে ভালো, বলল নিকোলাস। ব্যারোমিটার বের করে আরেকটা রিডিং নিল ও।
চেহারা দেখে মনে হচ্ছে আপনি খুব খুশি।
খুশি হওয়ার সঙ্গত কারণ আছে, বলল নিকোলাস। নদীর সারফেস থেকে খাদের এ পাঁচিলের মাথা একশো আশি ফুট। সারফেস থেকে সিঙ্ক-হোল আরো পঞ্চাশ ফুট। হিসাবে বলছে, রিজের উল্টোদিকে আপনার ঝরনার উৎস সিঙ্ক হোলের চেয়ে একশো ফুটেরও বেশি নিচে।
অর্থাৎ?
অর্থাৎ প্রচুর সম্ভাবনা আছে স্রোতটা এক ও অভিন্ন হবার। ইনফ্লো এখানে, টাইটার হ্রদের তলায়; আর আউটফ্লো গুহার ভেতর।
কিন্তু কাজটা করলো কীভাবে টাইটা? হতভম্ব দেখালো রোয়েনকে। কীভাবে নামলো হ্রদের তলায়?
কাঁধ ঝাঁকালো নিকোলাস। এ-সব কাজ করার নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি আছে। পানির তলায় বহুকাল আগে থেকে কাজ করছে মানুষ। পানির নিচে ব্রিজের পিলার তৈরি করে না? কিংবা বাঁধের ভিত? ভেবে দেখুন না, পানির প্রবাহ মাপার জন্য টাইটা নীলনদের লেভেলের নিচে শ্যাফট তৈরি করে নি? সে তার হাইড্রোগ্রাফ-এর বর্ণনা দিয়েছে রিভার গড-এ, মনে পড়ে? প্রতিষ্ঠিত টেকনিক হলো একটা কফার ড্যাম তৈরি করা… হঠাৎ থেকে গেল ও। আরে, একটা ড্যাম! টাইটা, বুড়ো ভাম, নদীতে বাঁধ দেয় নি তো?
কিন্তু তা কি সম্ভব?
আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছি, টাইটার পক্ষে সবই সম্ভব। তার হাতে লোকাল ছিল প্রচুর। আসওয়ানের কাছে নীলনদে সে যদি হাইড্রোগ্রাফ তৈরি করতে পারে, তার মানে ধরে নিতে হবে হাইড্রোডাইনামিক্স প্রিন্সিপাল সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা ছিল তার। হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব।
আমরা প্রমাণ করব কীভাবে?
ডানডেরা নদীকে বাধা বিশাল একটা কাজ। কিছু না কিছু প্রমাণ আজও রয়ে গেছে, থাকতে বাধ্য।
সেই বাঁধ টাইটা কোথায় তৈরি করতে পারে? উত্তেজিত হয়ে উঠেছে রোয়েন। আপনি হলে কোনো জায়গাটা বেছে নিতেন?
একটা জায়গার কথা বলতে পারি আমি, সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল নিকোলাস। ট্রেইল যেখানে নদীর কিনারা ছেড়ে ঘুরপথে উপত্যকা ধরে নেমেছে, আর নদীটা যেখানে গহ্বরে পড়েছে। দু জনেই ওরা একযোগে মাথা ঘুরিয়ে উজানের দিকে তাকালো।
তাহলে আমরা অপেক্ষা করছি কেন? লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো রোয়েন। চলুন দেখে আসি।
উত্তেজনাটা সংক্রামক, হাসির ফোয়ারা ছেড়ে নাচতে নাচতে কাঁটাঝোঁপের ভেতর দিয়ে ট্রেইল ধরল তামের, তারপর উপত্যকা বেয়ে উঠে এলো ট্রেইল যেখানে নদীর পাশে ফিরে এসেছে। আবার যখন জলপ্রপাতের ওপরে এসে দাঁড়ালো ওরা, সূর্য তখন অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। ডানডেরা এখানে লাফ দিয়ে পড়েছে গহ্বরের মুখে, তারপর সর্বশেষ দৌড় শুরু করেছে নীলনদের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য। টাইটা যদি এখানে বাঁধ দিয়ে থাকে- খাদের মুখের দিকটায় হাত তুললাম নিকোলাস,–সাইড ভ্যালির দিকে নদীর দিক বদল সম্ভব।
আমারও মনে হচ্ছে সম্ভব। হেসে উঠলো রোয়েন। কিছু না বুঝে ওদের সঙ্গে তামেরও হাসছে।
হাত তুলে চোখে ছায়া ফেললো নিকোলাস, মুখ তুলে জলপ্রপাতের দু দিকে ব্লাফ দুটো দিকে তাকালো। ব্লাফ দুটো লাইমস্টোনের তোরণ বা গেট তৈরি করেছে, মাঝখানে গর্জন করছে নদী ঠোঁট থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ার সময়। ওদিকটায় উঠতে চাই আমি, এলাকার লেআউট বুঝতে হবে। আপনি উঠবেন?
বাধা দিতে দেখতে পারেন, চ্যালেঞ্জ করলো রোয়েন, ওঠার সময় সে-ই পথ দেখালো। কঠিন চড়াই, কোথাও কোথাও হামাগুড়ি দিয়ে এগুতে হলো। অনেক জায়গায় আলগা বা ঝুরঝুরে হয়ে আছে লাইমস্টোন, বিপদ ঘটার সমূহ আশঙ্কা। তোরণটার পুব শাখার চূড়ায় উঠতে ঘেমে গোসল হয়ে গেল ওরা। তবে এতো কষ্টের পুরস্কারও জুটল। নিচের দুর্গম এলাকা পুরোপুরি উন্মোচিত হয়েছে ওদের সামনে।
