প্যাসেজ থেকে ফাঁকা চাতালে বেরিয়ে এলো ওরা, থামলো সিঁড়ির গোড়ায়, নীলনদের গন্ধ মেখে উঠে আসা তাজা বাতাসে ভরে নিল নিজেদের ফুসফুস।
টিসে ওর কাছে চলে গেছে, নরম সুরে ফিসফিস করলো রোয়েন। অন্তত আজ রাতের জন্য তো বটেই, মন্তব্য করলো নিকোলাস।
না, প্রতিবাদ করলো রোয়েন। শুধু আজ রাতের জন্য নয়, চিরকালের জন্য। আপনি ওর মুখ দেখেন নি? টিসে এখন মেকের মেয়ে মানুষ।
৪. নিকোলাসের ঘুম ভাঙল
বিকেলে নিকোলাসের ঘুম ভাঙল বোরিসের চেঁচামেচিতে। আমার বউ! আমার বউ! আপনি জানেন কোথায় গেছে আমার বউ? কোথাও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না!
হাত দিয়ে চোখ রগড়ে বিছানার উপর উঠে বসলো নিকোলাস। তোমার বউ কোথায় আছে তার আমি কি জানি।
শালী আমার কালা কুত্তাটার সঙ্গে পালিয়েছে! হুংকার ছাড়লো বোরিস। আপনি সব জানেন! বলুন কোথায় গেছে ওরা, তা, না হলে খুনোখুনি কাণ্ড ঘটে যাবে!
মুখ সামলে কথা বলুন, সাবধান করে দিল নিকোলাস।
বউ তো নয়, বেশ্যা! মেক নিমুরকে ভালো খদ্দের ভেবে তার সঙ্গে পালিয়েছে! কিন্তু আমার নামও বোরিস ব্রুসিলভ। আমি ইন্টেলিজেন্স চীফ ছিলাম…. কি বলে ফেলছে বুঝতে পেরে থেমে গেল বোরিস।…শালীর পেটে গুলি করব আমি, বেশ্যা মাগীটা তাকে মরতে দেখবে। ছুটে নিকোলাসের কুঁড়ে থেকে বেরিয়ে গেল সে। গায়ে শার্ট চড়িয়ে তার পিছু নিল নিকোলাস।
নিজের কুঁড়েতে ফিরে একটা ব্যাগে কয়েকটা জিনিস ভরেছে বোরিস। এ মুহূর্তে হান্টিং রাইফেলে কাট্রিজ ঢোকাচ্ছে।
গেছে যাকগে, দরজা থেকে বলল নিকোলাস। ওদের পিছু নিলে আপনার বিপদ হতে পারে। মেকের সঙ্গে পঞ্চাশ জন গেরিলা আছে। আপনার যথেষ্ট বয়েস হয়েছে, বোঝা উচিত জোর করে কোনো মেয়েকে ধরে রাখা যায় না।
কে ধরে রাখতে চায়? বেশ্যাটাকে আমি খুন করতে চাই! চাবির গোছাটা নিকোলাসের পায়ের কাছে ছুঁড়ে দিল বোরিস। সাফারি শেষ হয়ে গেছে, মিস্টার। ল্যান্ড ক্রুজারের চাবি রইল, নিজের চেষ্টায় আদ্দিস আবাবায় ফিরে যাবেন। বড় ট্রাকটা আমার জন্য রেখে যাবেন। আদ্দিসে পৌঁছে আমার ট্র্যাকারকে ল্যান্ড ক্রুজারের চাবি বুঝিয়ে দেবেন। সাফারি বাতিল করায় আপনি কিছু টাকা ফেরত পাবেন, সেটা পরে আমি পাঠিয়ে দেব।
নিকোলাসের কোনো যুক্তিই মানলো না, কাঁধে ব্যাগ আর হাতে রাইফেল নিয়ে। ক্যাম্প ত্যাগ করলো বোরিস। নিজের কুঁড়েতে ফিরে আসছে নিকোলাস, দেখলো দরজা দিয়ে মাথা বের করে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে রোয়েন। সবই শুনলাম, বলল সে। টিসেকে পেলে সত্যি মেরে ফেলবে। আমাদের কি কিছুই করার নেই?
না, নেই। আমাদের কোনো সাহায্য ওদের লাগবেও না। যান, আবার শুয়ে পড়ুন।
কাল রাতের পোলারয়েড ছবিগুলো দেখছিলাম। টাইটা আমাদেরকে অঢেল দান করে গেছে। আসুন না, দেখবেন।
ভেতরে ঢুকে নিকোলাস দেখলো পোলারয়েড আর আর্ট পেপারে তোলা ছাপগুলো ক্যাম্প টেবিলে বিছিয়ে রেখেছে রোয়েন।
আপনি যখন নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন, আমি কিছু কিছু কাজ করেছি। চারটে পোলারয়েড পাশাপাশি রাখলো রোয়েন, ওগুলোর উপর টেনে আনল বড় আকারের ম্যাগনিফাইং গ্লাসটা। ভাঁজ করা পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে জিনিসটা, প্রফেশনাল ল্যান্ড সার্ভেয়ারস মডেল। ওটার নিচে ফটোগ্রাফের প্রতিটি সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য ধরা পড়বে। টাইটা পাথরের প্রতিটি দিকের নাম রেখেছে-বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ আর শীত। এর মানে কী?
পৃষ্ঠা সংখ্যা?
ঠিক আমি যা ভেবেছি, বলল রোয়েন। মিশরীয়রা বিশ্বাস করে বসন্ত হলো সমস্ত নতুন জীবনের সূচনা। প্যানেলগুলো কী নিয়মে পড়তে হবে সে-কথাই এখানে বলে দিচ্ছে টাইটা। এটা বসন্ত, একটা ফটোগ্রাফ দেখালো ও।
মৃতের পুস্তক থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে এখানে, বলল রোয়েন। পড়ছি, অনাদি অনন্ত ও অন্ধকার সমুদ্রের উপর মৃদুমন্দ প্রথম বায়ু আমি। আমি প্রথম সূর্যোদয়। আলোর প্রথম আভাস। ভোরের বাতাসে উড়ছি সাদা একটা পালক। আমি রা। সমস্ত বস্তুর শুরু আমি। বেঁচে থাকব চিরকাল। আমার ক্ষয় বা বিনাশ নেই। গ্লাস থেকে চোখ তুলে নিকোলাসের দিকে তাকালো রোয়েন। আপাতত এ-সব থাক, পরে ফিরে আসা যাবে। পরের অংশটুকু পড়া দরকার…এটা পড়ার সময় আমি আপনার দিকে তাকাবো না। টাইটা মাঝে মধ্যে বাজে ভাষা ব্যবহার করে। এ শুরু করছি :
দেবীর কন্যা তার মায়ের কাছে পৌঁছানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলো। সিংহীর মতো সগর্জনে মিলিত হবার জন্য ছুটছে সে। পাহাড় থেকে লাফ দিল, দাঁতগুলো সাদা। সমস্ত বিশ্বের বেশ্যা সে। তার জননেন্দ্রিয় থেকে বিপুল স্রোত বেরিয়ে আসে। তার জননেন্দ্রিয় একদল কর্মীকে গ্রাস করেছে। তার শারীরিক ক্ষুধা পাথরমিস্ত্রী আর রাজমিস্ত্রীদের খেয়ে ফেলেছে। তার জননেন্দ্রিয় একটা অক্টোপাস, গিলে ফেলেছে একজন রাজাকে।
ওরে ব্বাপ! নিকোলাস মুচকি হাসে। দারুণ জিনিস। একি আপনি কি লজ্জা পেলেন নাকি? ওটা কি আমি লালিমা দেখছি আপনার গালে? হতেই পারে না!
আপনার স্কটিশ উচ্চারণের মতোই ভুয়া, ঠাণ্ডা স্বরে বলে রোয়েন। এখনো চোখ তুলে দেখছে না নিকি কে।
কি বুঝলেন?
মাথা নাড়লো নিকোলাস।
চলুন আপনাকে একটা জিনিস দেখিয়ে আনি।
এক ঘণ্টা পর ঝুলন্ত ব্রিজের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল ওদেরকে, ডানডেরা নদীর তীব্র স্রোতের অনেক উপরে এদিক ওদিক দোল খাচ্ছে ব্রিজটা।
