ব্যাগ খুলে ক্যামেরা বের করলো নিকোলাস। প্রথমে দুই রোল কালার ফটো তুলি, তারপর পোলারয়েড ব্যবহার করব-কালার ফটোগুলো ডেভেলপ করতে সময় লাগবে, তার আগেই যাতে কাজ শুরু করতে পারি। একে একে পিলারটার চারদিকেরই ফটো তুললো ও। ছবি তোলা শেষ হতে গ্রিল গেটের সামনে এসে তালাটা পরীক্ষা করলো। এ তালাটা একটু জটিল, খুলতে হলে তালার ক্ষতি হতে পারে। তার মানে পুরোহিতরা জানবেন এখানে কেউ ঢুকছিল।
তাহলে ভেতরে ঢোকার দরকার নেই, বলল রোয়েন। গ্রিলের এদিক থেকেই ছবি তুলুন।
গ্রিলের ফাঁক দিয়ে ভেতরে ক্যামেরা ঢোকালো নিকোলাস, বেশ কয়েকটা ফটো তুললো। এবার পোলায়েড। ক্যামেরা বদল করে আরেক দফা ছবি তোলা হলো। নিকোলাস প্রতিটি প্লেট এক্সপোজ করার পর রোয়েনকে দিল ডেভেলপমেন্ট চেক করার জন্য।
প্রায় দু ঘণ্টা পরিশ্রম করার পর ফটো তোলার পর্ব শেষ হলো। ক্যামেরা রেখে দিয়ে আর্ট পেপারের একটা রোল বের করলো নিকোলাস। পিলারের গায়ে সাঁটা হলো কাগজটা, তারপর টেপ দিয়ে আটকানো হলো। দু জন দুদিক থেকে কাজ শুরু করলো-নিকোলাস উপর থেকে, রোয়েন নিচ থেকে। দু জনের হাতে একটা করে কালো আর্ট ক্রেয়ন, খোদাই করা প্রতিটি হরফ ওই পেন্সিল দিয়ে ঘষে ফাঁকা কাগজে হুবহু তুলে নিল ওরা। টাইটা এখন যেখানেই থাকুক, আমি জানি আমাদের কাজ দেখে খিকখিক করে হাসছে সে, বলল রোয়েন। ভাবছে, যতই চালাক হও তোমরা, আমার হেঁয়ালি ধরতে পারা এতো সহজ কাজ নয়!
ডিজাইনের আউটলাইন কাগজে তোলা পরিশ্রমসাপেক্ষ ও একঘেঁয়ে কাজ, তবু সময় যে কীভাবে বয়ে গেল দু জনের কেউই টের পেল না। কাজ শেষ হতে রোয়েন জানতে চাইলো, কয়টা বাজে বলুন তো?
ভোর চারটে। আসুন, জায়গাটা পরিষ্কার করে ফেলি।
আর একটা কাজ বাকি আছে, বলে আর্ট পেপারের একটা কোণ ছিঁড়ে বেদির দিকে এগুলো রোয়েন, ওখানে প্রধান পুরোহিতের মুকুটটা পড়ে রয়েছে। মুকুটটার মাঝখানে নীল, সিরামিক সীলটার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকলো ও, তারপর আর্ট পেপারে ডানা ভাঙা বাজপাখির একটা ছাপ নিল। ইতোমধ্যে পিলারটাকে কাপড়ে মুড়ে দিয়েছে নিকোলাস, নিজেদের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছে।
মিডল চেম্বারে ফিরে এসে তালটা আবার লাগিয়ে দিল নিকোলাস। রোয়েন জিজ্ঞেস করলো, মেইন দরজা দিয়ে বের হবে কীভাবে?
খানিক চিন্তা করে নিকোলাস বলল, মিডল চেম্বার থেকে বের হওয়ার আরো রাস্তা থাকতে বাধ্য। মেঝের মাঝখানে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকালো ও। পুরোহিতরা মেইন গেট খুব কমই ব্যবহার করেন। এখান থেকে ওদের কোয়ার্টারে যাবার কোনো না কোনো পথ নিশ্চই আছে…. হঠাৎ থেমে হাত তুলে দেখালো রোয়েনকে। ….ওদিকে তাকান! দেয়াল ঘেঁষে একটা মসৃণ লম্বা দাগ দেখা গেল মেঝেতে, শত শত বছর ধরে আশা-যাওয়া করায় মেঝে ওখানে ক্ষয়েও গেছে। পর্দার দিকে তাকান, ওদিকে, হাত দিয়ে ধরায় কেমন কালচে হয়ে গেছে। দ্রুত এগিয়ে এসে পর্দাটা সরাতেই গোপন একটা দরজা দেখা গেল। যা ভেবেছি! পিছু নিন।
পাথুরে একটা টানেল ধরে এগুলো ওরা। ডান দিকে বাঁক নেওয়ার পর সামনে ম্লান আলোয় আভাষ পাওয়া গেল। টর্চ নিভিয়ে ফেললো নিকোলাস।
বাসি খাবার আর ঘামের গন্ধ ঢুকলো নাকে। সন্ন্যাসীদের একটা পাথুরে সেলকে পাশ কাটালো ওরা, দরজা নেই। টর্চের আলো ফেলতে দেখা গেল ভেতরটা ফাঁকা। কোনো ফার্নিচার নেই, দেয়ালে শুধু একটা কাঠের ক্রস, তার নিচে চাকা লাগানো বিছানা। এরকম আরো দশ-বারোটা সেলকে পাশ কাটালো ওরা, একই রকম দেখতে। পরবর্তী বাঁক ঘুরে দাঁড়িয়ে পড়লো নিকোলাস। মুখে সামান্য বাতাস লাগছে। কেউ কোথাও নেই দেখে আবার এগুলো ওরা। কিছু দূর যাবার পর পেছন থেকে নিকোলাসকে আঁকড়ে ধরল রোয়েন।
কী? জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল নিকোলাস, রোয়েন ওর কাঁধে চাপ দেওয়ার চুপ করে গেল। তারপর শুনতে পেল আওয়াজটা। মানুষের গলা, গোলক ধাঁধার ভেতর অস্পষ্টভাবে প্রতিধ্বনি তুলছে।– তারপরই ভেসে এর বুকের রক্ত ছলকান একটা আর্তচিৎকার, যেনো তীব্র ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে কেউ। সাবধানে এগুলো ওরা, কাও চোখে ধরা পড়তে চায় না। তবে আওয়াজটা ক্রমশ বাড়ছে।
এতোক্ষণে ওরা আলো দেখতে পাচ্ছে। গলিপথের একধারে একটা সেল থেকে বের হচ্ছে আলোটা। আরো একটা রক্ত হিম করা আর্তচিৎকার শোনা গেল, এটা একটা নারীকণ্ঠ। চিৎকারটা প্রতিধ্বনি তুলে ফিরে আসছে, গলিপথে দাঁড় করিয়ে রেখেছে ওদেরকে।
কী ঘটছে বলুন তো? নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফিসফিস করলো রোয়েন।
জবাব না দিয়ে মাথা নাড়লো নিকোলাস, রোয়েনের হাত ধরে আবার এগুলো। আলোকিত সেলের দরজাটাকে পাশ কাটাতে হবে ওদের। উল্টো দিকের দেয়ালে পিঠ ঘষে একটু একটু করে এগুচ্ছে নিকোলাস। ওর পাশেই রয়েছে রোয়েন, ওর একটা বাহু ধরে আছে।
সেলের ভেতর তাকালো ওরা, নারীকণ্ঠের চিৎকারটা আবার শুনতে পেল। তবে এবার চিৎকারের সঙ্গে মিশে আছে একটা পুরুষকণ্ঠ।
দৃশ্যটা ওদের চেখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠলো। চাকা লাগানো বিছানার উপর সম্পূর্ণ নগ্ন ওরা, ঘামে চকচকে দুটো শরীর এক হয়ে আছে। শক্তিশালী শরীরে আদিম কোনো পুরুষের মতোই নারীর অভ্যন্তরে নিজেকে প্রবেশ করিয়ে ভালোবাসছে একটা জোড়া।
কেঁপে কেঁপে উঠে শিকার করে উঠলো মেয়েটা। চরম পুলকে শিউড়ে উঠছে বারবার।
