তিনি কি কালো?
না, ফর্সা। লাল দাড়ি আছে। পেইন্টিংটা খুব পুরানো। ঝাপসা হয়ে গেছে। কফিনের কাঠ পচে গেছে, গুঁড়ো হয়ে ঝড়ে পড়ছে।
সমাধির মেঝেতে শোয়ানো কফিনটা?
না। পাথরে একটা শেলফে খাড়া করা।
আর কিছু মনে করতে পারো তুমি? তামের মাথা নাড়তে রোয়েন অন্য প্রশ্ন করলো তাকে, কফিনটা কি মাকডাসের পেছনের দেয়ালে?
হ্যাঁ। বেদি আর টাবট পাথরের পেছনে।
বেদিটা কী দিয়ে তৈরি? পাথর দিয়ে?
কাঠের বেদি। মোমবাতি আছে, বড় একটা ক্রস আছে, কয়েকটা মুকুটও আছে। আর আছে পানপাত্র।
বেদির গায়ে কি ছবি আঁকা আছে?
না, খোদাই করা ছবি আছে। মুখগুলো কেমন যেনো, কাপড়-চোপড়ও অন্য রকম। ঘোড়া আছে।
টাবট সম্পর্কে বলুন, নিকোলাসকে জিজ্ঞেস করলো রোয়েন। আমাদের চার্চে টাবট স্টোন বলে কিছু নেই।
আমাকে জিজ্ঞেস করে লাভ কী। ইহুদিদের তাবেরনাক জাতীয় কিছু নাকি ওটা? আপনি জানার কথা।
ওর উদ্দেশ্যে ফিরলো রোয়েন। হ্যাঁ, অন্তত, মিশরীয় গির্জায় ব্যাপারটা তাই। এমব্রয়ডারি করা স্বর্ণের কাপড়ে মুড়ে একটা মণিমুক্তা খচিত বাক্সে রাখা হয়। বলা যেতে পারে, একটা গির্জার প্রাণ হলো তা।
রোয়েনের প্রশ্ন শুনে টাবট সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলতে পারলো না তামের, শুধু জানালো, পাথরটা কাপড়ে মোড়া। সবাই বলে, শুধু সেইন্টের জন্মদিনে প্রধান পুরোহিত ওটা খোলেন।
নিকোলাস ও রোয়েন দৃষ্টি বিনিময় করলো, তারপর নিকোলাস বলল, চিন্তা করে বের করুন আমরা কীভাবে দেখতে পারি।
সেইন্টের জন্মদিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, আপনাকে হতে হবে ভারপ্রাপ্ত পুরোহিত… হঠাৎ সচকিত দেখালো রোয়েনকে, ফিসফিস করে জানতে চাইলো, আপনি কি… না, তা আপনি ভাবতে পারেন না।
আরে না, তা কি আমি ভাবতে পারি!
মাকডাসে আপনি ধরা পড়লে ওরা আপনাকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করবে।
উত্তরটা হলো, ধরা না পড়া।
আপনি গেলে আমিও যাব। কীভাবে ম্যানেজ করবেন?
ধীরে। নিকোলাস ঠোঁটে অলস হাসি। মাত্র দশ সেকেন্ড হলো আইডিয়াটা মাথায় এসেছে। প্ল্যান করার জন্য অন্তত দশটা মিনিট সময় দিন।
দু জনেই ওরা গহ্বরের ওপারে চুপচাপ তাকিয়ে থাকলো। নিস্তব্ধতা ভাঙল রোয়েন, কাপড়ে মোড়া একটা পাথর। টাইটার স্টোন টেস্টামেন্ট?
জোরে বলবেন না, শয়তান শুনছে।
হঠাৎ চিৎকার দিল তামের। ওই দেখুন! ওদিকে তাকান! রোয়েনের হাত ধরে ঝকালো সে। বলেছি না! অপর হাতে নদীর ওপারটা দেখাচ্ছে। কাটাঝোঁপের কিনারায়! দেখতে পাচ্ছেন না?
কী? কী দেখবো?
ডোরাকাটা ডিক-ডিক। জন দ্য ব্যাপ্টিস্টের ডিক-ডিক। গায়ে পবিত্র ছাপ…
ওপারের ঝোঁপের গায়ে নরম, খয়েরি একটা অস্পষ্ট প্রলেপ দেখতে পেল রোয়েন। কি জানি। এতো দূর থেকে…।
প্যাক হাতড়ে বাইনোকুলার বের করলো নিকোলাস। কিছুক্ষণ দেখার পর হেসে উঠলো। মাই গড! বুড়ো দাদার রেপুটেশন এতোদিনে নিরাপদ হলো! এ তো সত্যি সত্যি ডোরাকাটা ডিক-ডিক! বাইনোকুলারটা রোয়েনের হাতে ধরিয়ে দিল।
আগের দিন সাধারণ যে ডিক-ডিকটা ওরা দেখেছিল, আকারে এটা তার অর্ধেক হবে। গায়ের রঙও ধূসর নয়, উজ্জ্বল লালচে খয়েরি। তবে প্রথমেই চোখে লাগে কাঁধে ও পেছন দিকের গাঢ় চকলেট রঙের ডোরাগুলো পাঁচটা দাগ, পরস্পরের সঙ্গে সমান দূরত্বে, দেখে সত্যি সত্যি মনে হবে পাঁচ আঙুলের ছাপ।
ডিক-ডিকের অর্ধেক গায়ে ছায়া পড়েছে, বাতাস শোঁকার সময় নাক কোঁচকাচ্ছে। মাথা উঁচু করে আছে, সন্দিহান ও সতর্ক। ম্যাডোকোয়া হারপারি কোনো সন্দেহ নেই, ফিসফিস করে রোয়েনের কানে কানে বলল কী। দুঃখিত, গ্রান্ড পা- তোমাকে জোচ্চোর ভাবার জন্য!
রাইফেলটা হাতে নিল সে, বোল্ট টেনে চেম্বারে একটা রাউন্ড ঢোকালো। রোয়েন জানতে চাইলো, গুলি করবেন নাকি?
এখুনি না। ছোট টার্গেট, তিনশো গজ দূরে। মাথা নাড়লো নিকোলাস। আরো কাছে আসার অপেক্ষায় থাকব।
কেমন করে পারবেন এটা করতে? এতো সুন্দর একটা প্রাণী?
সুন্দর বা কুৎসিত- কী আসে যায়? এখানে আসার পেছনে ডিক-ডিক শিকার একটা কারণ!
কথা না বলে চোখে আবার বাইনোকুলার তুললো রোয়েন। পালিয়ে যা, পালিয়ে যা, মনে মনে বলছে। কিন্তু পালিয়ে না গিয়ে. গহ্বরের দিকে এগিয়ে আসছে ডিক-ডিক।
দুশো গজ, বিড়বিড় করলো নিকোলাস, শুয়ে পড়েছে ও, টেলিস্কোপ সাইটে চোখ। এ সময় হঠাৎ উত্তেজনায় টান টান হলো খুদে হরিণ, ফেলে আসার পথ ধরে ছুটলো, অদৃশ্য হয়ে গেল কাঁটা ঝোঁপের ভেতর।
ভয় পেল কেন? বলার পর মুখের ভাব বদলে গেল নিকোলাসের বাতাসে কিসের যেনো একটা গুঞ্জন, প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে। হেলিকপ্টার! রোয়েনের হাত থেকে বাইনোকুলার নিয়ে আকাশের দিকে তাক করলো। আকাশে মেঘ নেই, একটু পরই যান্ত্রিক ফড়িংটাকে দেখা গেল। কাঠামোটা চিনতে পারলো নিকোলাস।
বেল জেট রেঞ্জার। এদিকেই আসছে। আসুন, লুকিয়ে পড়ি।
কাটাঝোঁপের ভেতর গা ঢাকা দিল ওরা। হেলিকপ্টারটাকে এখনো বাইনোকুলার ধরে রেখেছে নিকোলাস। সম্ভবত ইথিওপিয়ান এয়ার ফোর্স অ্যান্টি শুফতা টহলে বেরিয়েছে। না, দেখে তো সামরিক বলে মনে হচ্ছে না। সবুজ আর লাল ফিউজিলাজ, লাল ঘোড়া। লাল ঘোড়া তো পেগাসাস এক্সপ্লোরেশনের লোগো।
কাছাকাছি চলে আসায় রোয়েন এখন খালি চোখেই লোগোটা দেখতে পাচ্ছে। ওদের সামনে আধ মাইল দূরে রয়েছে কপ্টার, উড়ে যাচ্ছে নীল নদের দিকে।
