ঠিক বলছেন। সরে গিয়ে বিছানায় নিজের পাশে জায়গা করলো রোয়েন। বসুন এখানে।
বসলো নিকোলাস।
রোয়েন জানতে চাইলো, বলুন, সীলটা কোত্থেকে এল? কে পেয়েছিল? কবে, কোথায়?
ধীরে, সুন্দরী, ধীরে। একের ভেতর চারটে প্রশ্ন, কোনটারই উত্তর আমার জানা নেই।
কল্পনা করুন! তাগাদা দিল রোয়েন। আঁচ করুন। আইডিয়ান দিন।
বেশ, রাজি হলো নিকোলাস। সীলটা তৈরি করা হয়েছে হঙকঙে। ওখানে ছোট্ট একটা কারখানা আছে, হাজারে হাজারে তৈরি করা হয়। মিশরে বেড়াতে গিয়ে জালি হোরা একটা কিনে এনেছেন?
নিকোলাসের বাহুতে চিমটি কাটল রোয়েন, জোরে। সিরিয়াস হোন? চোখ রাঙিয়ে নির্দেশ দিল।
আমার চেয়ে ভালো আইডিয়া থাকলে শোনান, বাহুটা অপর হাতে ডলছে নিকোলাস।
বেশ, আমি বলি। ফারাও-এর সমাধি নির্মাণের কাজ চলছে, এ-সময় সীলটা এখানে খাদের ভেতর পড়ে যায় টাইটার হাত থেকে। তিন হাজার বছর পর বুড়ো এক সন্ন্যাসী, মঠে যারা প্রথম বসবাস করতে আসে তাদের একজন, এটা কুড়িয়ে পান। না, হায়ারোগ্লিফিক্স পড়তে পারেন নি। সীলটা তিনি তখনকার প্রধান পুরোহিতের কাছে নিয়ে যান, প্রধান পুরোহিত ওটাকে সেন্ট ফুমেনটিয়াস-এর একটা অলঙ্কার বলে ঘোষণা করেন, এবং সেট করেন মুকুটে।
তারপর সবাই সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতে লাগলো-আইডিয়াটা মন্দ নয়, বলল নিকোলাস।
আপনি কোনো ফুটো দেখতে পাচ্ছেন? জিজ্ঞেস করলো রোয়েন, উত্তরে মাথা নাড়লো নিকোলাস। তাহলে আপনি স্বীকার করছেন যে টাইটা সত্যিসত্যি এখানে ছিল এবং তাতে প্রমাণ হয় আমাদের থিওরি মিথ্যে নয়?
প্রমাণ খুব কঠিন শব্দ। আসুন বলি, সব মিলিয়ে ওদিকটাই নির্দেশ করছে।
বিছানার উপর শরীরটা মুচড়ে পুরোপুরি নিকোলাসের দিকে ফিরলো রোয়েন। ওহ্, নিকোলাস, উত্তেজনায় কাঁপছি আমি! যিশুর কিরে, আজ রাতে আমি এক মিনিটও ঘুমাতে পারব না। এই, আমরা আবার সার্চ শুরু করব কখন?
রোয়েনের চোখ জোড়া উত্তেজনায় চকচক করছে, রক্তিম মুখে গোলাপি আভা। ফাঁক হয়ে আছে ঠোঁট দুটো, ভেতরে লালচে জিভের ডগা দেখতে পাচ্ছে। নিকোলাস। এবার নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না ও। ধীরে ধীরে রোয়েনের দিকে ঝুঁকলো, ইচ্ছে করেই, এড়িয়ে যেতে চাইলে যাতে সুযোগ পায় রোয়েন। নড়লো না রোয়েন, কিন্তু কিন্তু ধীরে ধীরে কোমল আভায় বদলে গেল। যেনো নিকোলাসের চোখের তারায় কিছু একটা খুঁজে দেখতে চাইছে। এক ইঞ্চি মতো দূরে ওদের ঠোঁট, আর এগুলো না নিকোলাস। ঠোঁট দুটো এক হলো রোয়েনের অভিপ্রায়ে। প্রথমটায় নরম, ধীরে; কেবল আলতো শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো, এরপর ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠলো ওদের অধীর কামনা। যেনো টসটসে পাকা ফলের মতো, উন্মত্তের ভঙ্গিতে পরস্পরের মুখের স্বাদ নিল ওরা। এরপর আচমকা, যেনো জোর করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল রোয়েন। দ্বিধাগ্রস্থ চোখে চেয়ে রইলো পরস্পরের চোখে।
না, নিজেকে সরিয়ে দিল রোয়েন। প্লিজ, না। আমি…আমি এখনো তৈরি নই!
সোজা হয়ে বসলো নিকোলাস, রোয়েনের একটা হাত তুলে নিয়ে নিজের তালুর উপর রাখলো। তারপর ওর হাতে ঠোঁট ছোঁয়াল, মাত্র একবার। কাল সকালে দেখা হবে, বলে হাতটা ছেড়ে দিল ও, দাঁড়িয়ে পড়লো। খুব ভোরে, কেমন? তৈরি থাকবেন। মাথা নিচু করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল ও।
*
পরদিন ভোরে কাপড় পরার সময় পাশের ঘরে রোয়েনের নড়াচড়ার আওয়াজ পেল নিকোলাস। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মৃদু শিস দিতে বেরিয়ে এলো রোয়েন, তৈরি হয়ে অপেক্ষা করছিল, রওনা হওয়ার জন্য ব্যগ্র হয়ে আছে।
বোরিস এখনো জাগে নি, ওদেরকে নাস্তা পরিবেশনের সময় জানালো টিসে।
অবাক কাণ্ডই বলব আমি। নিজের প্লেটে তাকিয়ে আছে নিকোলাস। কাল রাতের ঘটনা মনে থাকায় ওর মতো রোয়েনও আড়ষ্ট হয়ে আছে। তবে রাইফেল আর প্যাক-কাঁধে ঝুলিয়ে উপত্যকা ধরে রওনা হতে স্বাভাবিক হয়ে উঠলো ওরা, চোখে মুখে উত্তেজনা ও প্রত্যাশা ফুটে উঠলো।
ঘণ্টাখানেক হলো হাঁটছে, এ সময় ঘাড় ফিরিয়ে পেছন দিকে তাকালো নিকোলাস, তারপর রোয়েনের দিকে তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে সাবধান করে দিল, পেছনে ফেউ লেগেছে।
কজি চেপে ধরে স্যান্ডস্টোনের বড় একটা বোল্ডারের আড়ালে রোয়েনকে টেনে নিয়ে এলো নিকোলাস। আড়ালে পৌঁছে শুয়ে পড়লো ওরা। লাফ দেয়ার ভঙ্গি নিল নিকোলাস, ডাইভ দিয়ে পড়লো নোংরা জোব্বা পরা রোগা-পাতলা একটা মূর্তির উপর। উপত্যকা ধরে ওদের পিছু পিছু উঠে এসেছে সে। চিৎকার দিয়ে জমিনে হাঁটু গাড়ল মূর্তিটা, ভয়ে ফোঁপাতে শুরু করলো।
নিকোলাস তাকে হঁচকা টান দিয়ে দাঁড় করালো। তামের! পিছু নিয়েছ কেন? কে পাঠিয়েছে তোমাকে? আরবিতে জানতে চাইলো ও।
চোখ ঘুরিয়ে রোয়েনের দিকে তাকালো তামের। না, মাফ চাই! দয়া করুন, মারবেন না! আমি কোনো ক্ষতি করতে চাই নি।
ছেড়ে দিন ওকে, নিকোলাস। তা না হলে আবার খিচুনি শুরু হবে।
নিকোলাস ছেড়ে দিতেই ছুটে এসে রোয়েনের পেছনে লুকাল তামের, ভয়ে ওর : একটা হাত আঁকড়ে ধরল, উঁকি দিয়ে ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে আছে নিকোলাসের দিকে।
মারব না, সত্যি কথা বললে মারব না, তাকে অভয় দিল নিকোলাস। কিন্তু সত্যি কথা না বললে গায়ের চামড়া তুলে নিয়ে গাছে ঝোলার। কে তোমাকে পাঠিয়েছে?
আমি নিজে থেকে এসেছি। কেউ আমাকে পাঠায় নি, কাঁপতে কাঁপতে বলল তামের। ওই জায়গাটা দেখাব আপনাদের, যেখানে পবিত্র ডিক-ডিক আমাকে দেখা দিয়েছিল। ওটার চামড়ায় ব্যাপ্টিস্টের আঙুলের ছাপ ছিল।
