ধীরে, এ খারাপ ভাবটা চলে যায় ওর। সত্যি, আফ্রিকার তুলনা হয় না।
মেয়ে দু জনের প্রার্থনা শেষ হতে পুরোহিতকে ধন্যবাদ জানিয়ে কিছু টাকা এবং পোলারয়েডে তোলা তার একটা ছবি দিল নিকোলাস। দারুণ খুশি বুড়ো ভদ্রলোক।
ফেরার পথে নিঃশব্দে পাহাড়ের ঢাল ধরে নেমে চললো ওরা।
*
নিকি! নিকোলাস! উঠুন, প্লিজ! ধাক্কা দিয়ে নিকোলাসের ঘুম ভাঙালো রোয়েন। উঠে বসে টর্চ জ্বাললো ও, দেখলো ঢোলা প্যান্ট আর ব্লাউজের উপর উলের ওড়না পরেছে রোয়েন।
কী হয়েছে? জিজ্ঞেস করলো নিকোলাস, তবে রোয়েন জবাব দেওয়ার আগেই বোরিসের কর্কশ গর্জন আর খিস্তি শুনতে পেল, রাতের নিস্তব্ধতাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে তার তাঁবু থেকে ভেসে আসছে। আরো একটা রোমহর্ষক শব্দ পেল নিকোলাস, শক্ত মুঠো দিয়ে মাংস ও হাড়ে আঘাত করলেই শুধু এ ধরনের আওয়াজ হতে পারে।
মেয়েটাকে মারছে, রাগে কেঁপে গেল রোয়েনের গলা। যেভাবে পারেন থামান আপনি।
প্রতিটি আঘাতের পর ব্যথায় চিৎকার করছে টিসে, তারপর ফোঁপাচ্ছে। ইতস্ত ত করছে নিকোলাস। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ায় শুধু একজন বোকা নাক গলায়, এবং সাধারণত পুরস্কার হিসেবে তার কপালে জোটে অকস্মাৎ ঐকমত্যে পৌঁছনো স্বামী স্ত্রীর কঠোর নিন্দা।
কিছু একটা করুন, নিকোলাস! প্লিজ!!
অনিচ্ছাসত্ত্বেও কট থেকে নামলো নিকোলাস। শুধু শর্টস পরে রয়েছে ও। জুতো খোঁজার ঝামেলায় গেল না, বেরিয়ে এলো তাঁবু থেকে। রোয়েন ওর পিছু পিছু আসছে, ওর পা-ও খালি।
ওদের তাঁবুর ভেতর লণ্ঠন জ্বলছে এখনো, ক্যানভাসের দেয়ালে বড় আকৃতির ছাড়া নড়াচড়া করছে। নিকোলাস দেখলো বোরিস তার স্ত্রীর চুল ধরে হিড়হিড় করে মেঝের উপর দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, গর্জন করছে রুশ ভাষায়।
বোরিস! মনোযোগ আকর্ষণের জন্য তিনবার চিৎকার করতে হলো নিকোলাসকে। টিসেকে ছেড়ে দিয়ে তাঁবুর ফ্ল্যাপ তুললাম বোরিস। শুধু আন্ডারপ্যান্ট পরে আছে সে। শরীরে কিলবিল করছে পেশী, তবে বুকটা চ্যাপ্টা ও লোহার মতো শক্ত মনে হলো, কোঁকড়ানো সোনালি চুলে ঢাকা। তার পেছনে মেঝেতে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে টিসে, উল্টোদিকে মুখ ঘুরিয়ে ফোঁপাচ্ছে। সম্পূর্ণ উলঙ্গ মেয়েটা, তার শরীরের সমতল অংশগুলো সাপের চামড়ার মতো মসৃণ।
রাত দুপুরে এ-সব কী? জিজ্ঞেস করলো নিকোলাস, অনেক কষ্টে রাগ চেপে রাখছে। শান্ত সরল একটা মেয়ের এ অপমান সহ্য করার মতো নয়।
কালো বেশ্যাটাকে ভদ্রতা শেখাচ্ছি, খেঁকিয়ে উঠলো বোরিস। আপনার কোনো ব্যাপার নয়, মিস্টার। তবে আপনিও যদি ঝাল মাংসের খানিকটা ভাগ চান, সেটা আলাদা কথা। হেসে উঠলো সে, আওয়াজটা শুনে গা ঘিন ঘিন করে উঠলো নিকোলাসের।
আপনি সুস্থ, ওইজিরো টিসে? আমাদের সাহায্য দরকার থাকলে বলুন। কথাগুলো বলার সময় বোরিসের দিকে তাকিয়ে আছে নিকোলাস, নগ্ন শরীরটার দিকে তাকিয়ে টিসেকে আরো অপমান করতে ইচ্ছুক নয়।
কোনো রকমে উঠে বসলো টিসে, ভাঁজ করা হাঁটু তুললাম বুকের সামনে, নগ্নতা ঢাকার জন্য সে দুটোকে হাত দিয়ে আলিঙ্গন করলো। আমি ভালো আছি, স্যার নিকোলাস। ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার চেয়ে আপনারা চলে যান, প্লিজ। তার নাক থেকে গড়ানো রক্ত ঠোঁট ভিজিয়ে দিচ্ছে, লাল হয়ে উঠছে সাদা দাঁতগুলো।
আমার স্ত্রী তোমাকে নিজের চরকায় তেল দিতে বলছে, ইউ ইংলিশ বাস্টার্ড! ভাগো, যাও! তা না হলে এমন শিক্ষা দিব…। টলতে টলতে এগিয়ে এলো। বোরিস, ঘুসি তুললাম নিকোলাসের বুক লক্ষ্য করে।
সাবলীল অনায়াস ভঙ্গিতে সরে গেল নিকোলাস, বোরিসকে ঠেলে দিল যেদিকে তার এগোবার ঝোঁক। ভারসাম্য হারিয়ে তাঁবুর সামনে খোলা জায়গায় আছাড় খেলো সে, পড়ার সময় একটা ক্যাম্প চেয়ারকেও সঙ্গে নিল।
প্লিজ, এসব করবেন না! এখনো ফোপাচ্ছে টিসে।
ও রেগে গেলে মানুষ থাকে না। আপনার সঙ্গে যদি পেরে না ওঠে, দেখবেন কারো না কারো ক্ষতি করবে।
রোয়েন, টিসেকে আপনার তাঁবুতে নিয়ে যান, নরম সুরে নির্দেশ দিল নিকোলাস। ছুটে তাঁবুতে ঢুকলো রোয়েন, কট থেকে চাদর তুলে এনে জড়িয়ে দিল টিসের গায়ে, তারপর তাকে দাঁড় করালো।
টিসেকে নিয়ে নিজের তাঁবুর দিকে এগুচ্ছে রোয়েন, এ সময় উঠে দাঁড়ালো বোরিস। হুঙ্কার ছাড়লো সে, উল্টে পড়া ক্যাম্প চেয়ার হাতে নিল। মাটিতে আছাড় মেরে চেয়ারের একটা পা ভাঙল সে, সেটা নিয়ে এগিয়ে এলো নিকোলাসের দিকে।
খেলতে চাও, তাই না, ব্যাটা ইংরেজ? এসো তাহলে, হয়ে যাক! ধেয়ে এলো নিকোলাসের দিকে, নিনজা ব্যাটনের মতো হাতের কাঠ ঘোরাল। বাতাসে শিস কেটে নিকোলাসের মাথার দিকে ছুটে এলো পায়াটা।
ঝট করে মাথা নিচু করলো নিকোলাস, লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পায়াটা এরপর ওর বুক বরাবর নামিয়ে আনল বোরিস। লাগলে পাঁজরের হাড় গুঁড়িয়ে যেত, তবে শেষ মুহূর্তে মোচড় খেয়ে সরে গেল নিকোলাস।
একটা বৃত্ত ধরে ঘুরছে ওরা, তারপর আবার হামলা করলো বোরিস। ভদকা খাওয়ায় তার রিফ্লেক্স ভোতা হয়ে গেছে, তা না হলে এরকম শক্ত ও অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের সঙ্গে লাগতে যাবার আগে দ্বিতীয়বার চিন্তা করত নিকোলাস। বোরিসের পায়াটা আরেকবার বাতাসে শিস কেটে ছুটে এলো ওর মাথার দিকে, এবারও ঝট করে নিচু হয়ে আঘাতটা এড়ালো সে। তারপর সোজা হলো, কষে একটা ঘুষি মারল বোরিসের তলপেটে। হুসস করে বাতাস বেরিয়ে এলো, ফুসফুস খালি হয়ে গেল বোরিসের। হাত থেকে ছিটকে পড়লো, কুঁজো হলো শরীরটা, তারপর পড়ে গেল মাটিতে। হেঁটে এসে তার সামনে দাঁড়ালো নিকোলাস। তোমাকে প্রথম ও শেষবার সাবধান করে দিচ্ছি, বোরিস ব্রুসিলভ। মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া চলবে না।
