একাউন্ট নং, পাসওয়ার্ড দিয়ে ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে টাকা পাঠানোর অনুরোধ করলো সে। সত্যি, টাকা থাকলে সব কাজ কতোই না সহজ হয়ে যায়!
ঘড়ি দেখলো নিকোলাস। ফ্লোরিডাতে এখনো ভোররাত। কিন্তু দ্বিতীয়বার রিং হতেই ধরলো অ্যালিসন। সোনালি চুলো এক সেক্স বোম্ এ মেয়ে–পৃথিবীর দুর্গমতম জায়গায় সাফারি আয়োজন করে থাকে।
নিকোলাস, তুমি তো দেখছি আমাদের কথা একদম ভুলেই গেছ!
না, ঠিক ভুলি নি। একটু ব্যস্ত ছিলাম। কেমন করে মানুষকে বলবে সে, ওর স্ত্রী আর দুই মেয়ে মারা গেছে?
ইথিওপিয়ায়? জিজ্ঞেস করলো অ্যালিসন, গলার আওয়াজ একটু ম্লান শোনালো। কবে যেতে চাও?
এই ধরো আগামি সপ্তায়।
ঠাট্টা করছ নাকি? ওখানে আমরা মাত্র একজন হান্টার গাইডকে দিয়ে কাজ করাই, দু বছরের জন্য বুক হয়ে আছে সে।
আর কেউ নেই? বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ঢুকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাকে।
শিকার কী হবে, পর্বত নায়ালা? মেনেলিকের বুশবাক?
মিউজিয়ামের জন্য এটা হবে আমাদের কালেকটিং ট্রিপ, অ্যাবে নদীপথে, এর বেশি আর কিছু বলতে প্রস্তুত নয় নিকোলাস।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো অ্যালিসন। আগেই বলে রাখছি, এতে আমাদের সায় নেই। এতো অল্প সময়ে নোটিশে মাত্র একজন গাইডকে তুমি পেতে পারো, তবে আমি জানি না নীল নদে তার কোনো ক্যাম্প আছে কিনা। লোকটা রাশিয়ান, তার বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগও শোনা গেছে। কেউ কেউ বলে সাবেক কেজিবি-র লোক, মেনজিসটুর পাণ্ডাদের একজন।
মেনজিসটুকে কালো স্টালিন বলা হয়, উৎখাত করার পর বুড়ো সম্রাট হাইলে সেলাসিকে হত্যা করেন। ষোলো বছর মার্কসিস্ট শাসনে ইথিওপিয়াকে নতজানু অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর স্পনসর ছিল সোভিয়েত রাশিয়া, ওখানে কমিউনিজমের পতন ঘটার পর মেনজিসটুকে উৎখাত করা হয়, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। আমার খুব ঠেকা, যে কোনো একজন গাইড হলেই চলে। কথা দিচ্ছি, পরে অভিযোগ করব না।
ঠিক আছে, তবে মনে থাকে যেন। নিকোলাসকে আদ্দিসআবাবার একটা ফোন নম্বর দিল অ্যালিসন।
আবার ডায়াল ঘোরাল নিকোলাস। আদ্দিসের লাইন পাওয়া এতো সহজ হবে ভাবে নি নিকোলাস, একবার ডায়াল করতেই অপরপ্রান্ত থেকে ইথিওপিয়ান বাচনভঙ্গিতে মিষ্টি একটা নারীকণ্ঠ সাড়া দিল। নিকোলাস বোরিস ব্রুসিলভকে চাইতেই মেয়েটা ভাষা বদলে ইংরেজিতে কথা বলল।
বর্তমানে তিনি সাফারিতে আছেন, বলল সে। আমি তাঁর স্ত্রী, ওইজিরো টিসে। নিকোলাস জানে, ইথিওপিয়ার মেয়েরা স্বামীর নাম উচ্চারণ করে না। ওইজিরো টিসে শব্দের অর্থ নারী সূর্য, চমৎকার নাম।
আপনি যদি সাফারি সম্পর্কে কিছু জানতে চান, আমি জবাব দিতে পারব। নারী সূর্য বলে ওঠে।
*
হাসপাতালের বাইরে থেকে রোয়েনকে রেঞ্জ রোভারে তুলে নিল। নিকোলাস। কেমন আছেন জর্জিনা? জানতে চাইলো ও।
পায়ের অবস্থা ভালো, কিন্তু ম্যাজিকের জন্য এখনো খুব কাতর।
ওরকম একটা ছানা কালই কিনে দিন। তারপর নিকোলাস জিজ্ঞেস করলো, আমরা যদি আফ্রিকায় যাই, মায়ের কাছ থেকে আপনি বিদায় নিতে পারবেন?
হেসে ফেললো রোয়েন। বলতে পারেন বিদায় আমি নিয়ে রেখেছি। চার্চ গ্রুপ থেকে একজন মহিলা থাকবেন ওর সঙ্গে, মাম্মির কোনো অসুবিধে হবে না। সীটে একটু ঘুরে বসে নিকোলাসের দিকে সরাসরি তাকালো রোয়েন। সারাদিন কোথায় ছিলেন? আপনার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটেছে।
আরবীয় কায়দায় শয়তানের বিপরীতে চিহ্ন আঁকলো নিক। আল্লাহ আমাকে শয়তান ডাইনির হাত থেকে রক্ষা করুন!
আরে, ধ্যাত! কী করেছেন, বলুন তো?
আগে মিউজিয়ামে ফিরি, তারপর।
যাদুঘরে ফিরে মিশরীয় সংগ্রহের হলঘর পেরিয়ে আফ্রিকার স্তন্যপায়ী প্রাণীর সংগ্রহশালায় এসে ঢুকলো নিকোলাস। একটা অ্যান্টিলোপ হরিণের ডায়োরামার সামনে এসে থামালো রোয়েনকে। ছোট্ট এবং মাঝারি গড়নের প্রাণী এগুলো ইম্পালা, থম্পসন এবং গ্রান্টের গ্যাজেল, জেরেনুক প্রভৃতি।
কোণার দিকের ছোট্ট একটা প্রাণীর উদ্দেশ্যে ইঙ্গিত করে নিকোলাস। ম্যাডোকাওয়া হারপারি, এটাকে বলা হয় হারপারস ডিক-ডিক, ডোরাকাটা ডিক ডিক হিসেবেও পরিচিত।
প্রাণীটির তেমন কোনো বৈশিষ্ট্য নেই, আকারে বড় একটা খরগোশের মতো। কাঁধ আর পিঠের ব্রাউন চামড়ার উপর চকলেট রঙের ডোরা, নাকটা এতো লম্বা যে শুড় বলে মনে হয়। নিকোলাসের চেহারায় গর্বের ভাব দেখে তাচ্ছিল্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকলো রোয়েন, শুধু বলল, এটার কি বিশেষ কোনো তাৎপর্য আছে?
তাৎপর্য নেই মানে? এ প্রজাতির এটাই সম্ভবত শেষ নমুনা। এতোই দুর্লভ, জুলজিস্টরা সন্দেহ করে এটা একটা কাল্পনিক প্রাণী, কোনো কালেই অস্তিত্ব ছিল না। ছবি দেখে তারা কি বলেছিল জানেন? সাধারণ একটা ডিক-ডিকের কাঠামোয় বেজির চামড়া পরানো হয়েছে। এর চেয়ে জঘন্য অভিযোগ কখনো শুনেছেন?
আমি হতভম্ব, এরকম অন্যায় কেউ করতে পারে! হেসে উঠলো রোয়েন।
ঠাট্টা নয়, বলল নিকোলাস। পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষা করতে আবারো একটা ডিক-ডিক শিকারে আফ্রিকা যাচ্ছি আমরা।
ঠিক বুঝলাম না।
আসুন, আমার সঙ্গে, সব বুঝিয়ে দিচ্ছি। নিজের স্টাডিতে রোয়েনকে নিয়ে চলে নিক। লাল চামড়ায় বাঁধানো একটা নোটবুক তুলে নেয়। অত্যন্ত পুরোনো নোট বুকটা–স্থানে স্থানে ক্ষয়ে গেছে মলাট।
