ইয়ট আছে, তরুণতম আইনবিদ বলে।
ওটার বয়স আমার চেয়ে বেশি, মাথা নাড়ে নিকোলাস। বাপের জিনিস। ওটা কি করে বিক্রি করি? কোনো দাম পাবো না। এর চেয়ে আমার শটগান বেচলে ভালো পাবো!
দু জন আইনবিদ একটা তালিকায় চোখ বুলায়। পাওয়া গেছে! এক জোড়া সাইডলক ইজেক্টর! চল্লিশ হাজার পাওয়া যাবেই।
তালিকায় আর কী কী রেখেছেন? শুষ্ক কণ্ঠে বলে নিক। আমার পুরোনো আন্ডারপ্যান্ট আর মোজা?
ওর মন্তব্য উপেক্ষা করে অন্যরা। লন্ডনে একটা বাড়ি আছে। দেড় মিয়িয়ন পাওয়া যাবে।
এই বাজারে নয়, নিকোলাস ফোড়ন কাটে। এক মিলিয়ন হতে পারে। কাগজে নোট নেয় ল ইয়ার। সম্পূর্ণ এস্টেট যেনো বেচতে না হয়, সেদিকে আমাদের লক্ষ্য আছে বটে।
কোনো রকমের সিন্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো সভা। দারুণ ক্লান্ত, অসহায় বোধ করছে নিকোলাস।
ল ইয়ারদের বিদায় দিয়ে ফ্যামিলি কোয়ার্টারে গিয়ে গোসল সেরে নতুন জামা পরে নেয় সে। কোনো কারণ ছাড়াই, কেনো যেনো শেভ করে একটু পরিপাটি হয়।
রেঞ্জ রোভার চালিয়ে মিউজিয়ামে পৌঁছে। ঝিরঝিরে তুষার পরছে।
মিসেস স্ট্রিটের অফিসে ওর অপেক্ষায় বসেছিল রোয়েন। দরজায় দাঁড়িয়ে তার হাসির শব্দ শুনতে পেল নিকোলাস–মিসেস স্ট্রিটের সাথে ভালোই জমেছে মেয়েটার!
মেইন হাউজ থেকে গরম খাবার পাঠিয়ে দিয়েছে কুক। এমন বাজে আবহাওয়ায় এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না। বাইরে ঝড়ো হাওয়া, আগুনের পাশে বসে খেয়ে নিল ওরা।
খেতে খেতেই ডুরেঈদের মৃত্যু সম্পর্কে বিস্তারিত শুনতে চাইলো নিকোলাস। সবই বলল রোয়েন, নিজের ক্ষতের কথাও বাদ দিল না। কায়রোর রাস্তায় ওর উপর দ্বিতীয়বার হামলার কথাও মনোযোগ দিয়ে শুনলো নিকোলাস।
কাউকে সন্দেহ হয়? রোয়েনের বলা শেষ হতে বলল সে। এমন কেউ–যার কাজ হতে পারে এটা?
মাথা নাড়ে রোয়েন।
না, এমন কোনো পূর্বাভাস তো পাই নি। সে বলে।
আপন চিন্তায় ডুবে থেকে খাবার শেষ করে দু জন। কফির সময়ে এসে নিক বলে, ঠিক আছে, আমাদের এগ্রিমেন্ট নিয়ে তবে আলাপ করি, আসুন।
আবারো, এক ঘণ্টা ধরে তর্কে মেতে উঠলো দু জন।
লুটের মাল বা উদ্ধার করা আর্টিফ্যাক্ট আপনি কতটুকু পাবেন, নির্ধারণ করা সত্যি কঠিন, যতক্ষণ না আমি জানছি উদ্ধার করার পেছনে আপনার অবদান কতটুকু হবে, কফির কাপ দুটো আবার ভরার সময় বলল নিকোলাস। ভুলে যাবেন না, অভিযানের সমস্ত খরচ আমি দিচ্ছি, প্ল্যানটাও আমার তৈরি।
আপনি ধরে নিন আমার অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা না হলে লুটের মাল বা উদ্ধার করা আর্টিফ্যাক্ট বলে কিছু থাকবে না। শুধু একটা ব্যাপারে নিশ্চিত থাকুন, এগ্রিমেন্ট না হওয়া পর্যন্ত আর একটি কথাও আপনাকে আমি বলছি না।
একটু যেনো কর্কশ লাগছে আপনাকে? জিজ্ঞেস করলো নিকোলাস।
রোয়েনের ঠোঁটে দুষ্ট হাসি ফুটল।
আপনি যদি আমার শর্তে রাজি না হন, স্পনসরদের তালিকায় আরো তিনজনের নাম আছে, হুমকি দিল রোয়েন। অগত্যা তাদেরকেই আমার বিশ্বাস করতে হবে।
ধরা যাক, আপনার প্রস্তাবে আমি রাজি হলাম, কিন্তু সমান ভাগ কীভাবে সম্ভব?
আর্কিওলজিকাল আর্টিফ্যাক্টস থেকে প্রথমে আমি বেছে নিব, বলল রোয়েন।
পরের বার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন আপনি। এভাবে চলতে থাকবে।
প্রথমে আমি বাছার সুযোগ নিলে অসুবিধে কী? একদিকের ভুরু উঁচু করে জানতে চাইলো নিকোলাস।
আসুন তাহলে টস করি, বুদ্ধি দিল রোয়েন, সঙ্গে সঙ্গে পকেট থেকে এক পাউন্ডের একটা কয়েন বের করলো নিকোলাস।
কল! আঙুলের টোকায় কয়েনটা শূন্যে ছুঁড়ে দিল নিকোলাস।
রোয়েন চিৎকার দিল, হেডস!
ধ্যেত! কয়েকটা আলগোছে পকেটে ভরল নিকোলাস।
ঠিক আছে,–আপনিই আগে বেছে নেবেন–আদৌ যদি আর্টিফ্যাক্ট পাওয়া যায়। আপনার জিনিস নিয়ে আপনি যা খুশি করুন, আমার কিছু বলার থাকবে না। ইচ্ছে করলে সব আপনি কায়রো মিউজিয়ামকে দান করতে পারেন। তো, ডিল? নিচু টেবিলের উপর ডান হাতটা চিৎ করে রাখলো ও।
ডিল! নিকোলাসের হাতের উপর হাত রাখলো রোয়েন। পার্টনার।
এবার শুরু করুন। কোনো কিছু গোপন করা যাবে না। যা জানেন সব বলে ফেলুন।
বইটা আনুন, বলল রোয়েন। রিভার গড নিয়ে ফিরে এসে নিকোলাস দেখলো, টেবিল পরিষ্কার করে ফেলেছে রোয়েন। বইয়ের যে অংশটুকু ডুরেঈদ সম্পাদনা করেছিলেন, প্রথমে সেটার উপর চোখ বুলানো যাক। পাতা ওল্টাচ্ছে রোয়েন। এখান থেকে। এখান থেকে দুরেঈদের অস্পষ্টকরণ শুরু হয়েছে।
যা বলার সরল ভাষায় বলুন, বলল নিকোলাস। এরই মধ্যে আমি আপনার হেঁয়ালিকরণের শিকার।
রোয়েন হাসলো না। এ পর্যন্ত গল্পটা আপনি জানেন। হিকসস বাহিনীর কাছে উন্নতমানের চ্যারিয়াট বা রথ থাকায় রানী লসট্রিস হেরে গেলেন, তিনি তাঁর লোকজনসহ ঈজিপ্ট থেকে বিতাড়িত হলেন। নীল নদ ধরে দক্ষিণে গেলেন ওঁরা, পৌঁছলেন সাদা ও নীল নদের সঙ্গমে। অন্য ভাষায়, আজকের দিনের খার্তুমে। এ সবই স্ক্রোলে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়।
মনে পড়ছে। বলে যান।
ওঁদের রণতরীতে রানী লসট্রিসের স্বামী অষ্টম ফারাও মামোসের মমি করা লাশ ছিল। বারো বছর আগে, হিকসস বাহিনীর একটা তীর ফুসফুসে নিয়ে তিনি যখন মৃত্যুশয্যায়, স্বামীকে লসট্রিস কথা দিয়েছিলেন তাঁর সমাধির জন্য তিনি একটা সুরক্ষিত জায়গা খুঁজে বের করবেন, সেখানে সমাধির ভেতর লাশের সঙ্গে তাঁর বিপুল ধন-সম্পদও থাকবে। খার্তুমে পৌঁছে রানী লসট্রিস সিদ্ধান্ত নিলেন, স্বামীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনের সময় হয়েছে। তিনি তাঁর চৌদ্দ বছরের ছেলে প্রিন্স মেমননকে সমাধির স্থান খুঁজে বের করতে পাঠালেন, সঙ্গে থাকলো এক স্কোয়াড্রন চ্যারিয়ট। মেমননের সঙ্গে তার পরামর্শদাতা ছিল, অক্লান্ত অপুরুষ ইতিহাস লেখক টাইটা।
