ভালো ছবি, কিন্তু এটা যে-কোন জায়গায় তোলা হতে পারে।
মন্তব্যটা কানে না তুলে নিকোলাসের হাতে আরেকটা ফটো ধরিয়ে দিল রোয়েন। এটায় দশটা স্ক্রোলই দেখতে পাচ্ছেন, মিউজিয়াম ওআর্করূপে, যেখানে বসে কাজ করতেন ডুরেঈদ। বেঞ্চের পেছনে দাঁড়ানো ভদ্রলোকদের আপনি চিনতে পারছেন?
ডুরেঈদ আর উইলবার স্মিথ। নিকোলাসের চেহারায় একাধারে সন্দেহ ও কৌতুক ফুটে উঠলো। ঠিক কী বোঝাতে চাইছেন বলুন তো!
এই যে, লেখক বড় ধরনের পোয়েটিক লাইসেন্স নিলেও, তিনি তাঁর বইতে যা লিখেছেন তা সত্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব সপ্তম স্কোলের, ডুরেঈদের খুনীরা যেটা চুরি করে নিয়ে গেছে।
কেন ওটা বাকিগুলোর চেয়ে আলাদা? খানিক পর জিজ্ঞেস করলো নিকোলাস।
এ জন্য যে ওটায় ফারাও মামোসকে কবর দেওয়ার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এবং, আমাদের বিশ্বাস, দিক নির্দেশনাও আছে, সেটা ধরে সমাধির সাইট খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
বিশ্বাস করেন, নিশ্চিতভাবে জানেন না?
সপ্তম স্ক্রোলের বেশিরভাগটাই এক ধরনের সাঙ্কেতিক ভাষায় লেখা। আমি আর ডুরেঈদ যখন কোড ভাঙার কাজটা শেষ করে এনেছি, ঠিক তখনই… ডুরেঈদকে ওরা খুন করলো।
এতো দামী জিনিস, নিশ্চয়ই আরো কপি আছে?
মাথা নাড়লো রোয়েন। সমস্ত মাইক্রোফিল্ম, আমাদের সব নোট, অরিজিনাল স্লোলের সঙ্গে চুরি হয়ে গেছে। ডুরেঈদকে যারাই খুন করে থাকুক, তারা কায়রোয় আমাদের ফ্ল্যাটে গিয়ে আমার পিসি ধ্বংস করে দিয়েছে। ওই পিসিতে আমাদের গবেষণার সমস্ত তথ্য জমা ছিল।
আগুনে কয়লার টুকরো ছুঁড়ে দিয়ে ডেস্কে ফিরে এলো নিকোলাস। তার মানে আপনার কাছে কোনো প্রমাণ নেই। এমন কিছু নেই যা দেখে বোঝা যায় কথাগুলো সত্যি?
না, নেই, বলল রোয়েন। তবে এখানে সবই টুকে রাখা আছে। লম্বা আঙুল দিয়ে নিজের কপালে টোকা দিল সে। আমার স্মরণশক্তি খুবই ভালো।
রোয়েন থামতে নিকোলাস জানতে চাইলো, এবার বলুন, আপনি আমার কাছে কেন এসেছেন?
আমি প্রস্তাব নিয়ে এসেছি ফারাও মামোসের সমাধিটা আপনি খুঁজে বের করুন!
আচমকা হাবভাব পাল্টে গেছে নিকোলাসের। দুষ্ট্র স্কুলবয়ের মতো হাসে সে। এরচেয়ে বেশি কিছু আমি আর চাই না।
সেক্ষেত্রে, আপনাকে আমার সঙ্গে এক ধরনের এগ্রিমেন্টে আসতে হবে। রোয়েন বলে তাকে। ব্যবসায়িক ভঙ্গিতে একটু ঝুঁকে বসে সে। প্রথমে, আমি বলবো, আমার কি চাই, এরপর আপনার পালা।
কয়েকটা বিষয়ে একমত হলো নিকোলাস, কিছু বিষয়ে তর্ক করলো। এভাবে সময় গড়ালো, তারপর দেখা গেল রাত বাজে একটা। ক্লান্তির কাছে রোয়েনই হার মানল প্রথম, বলল, আমি আর মাথা ঘামাতে পারছি না। ভাবছি আবার কাল সকালে শুরু করলে কেমন হয়?
নিকোলাস বলে, তাই হোক। আপনি এখানে ঘুমোতে পারেন। সাতাশটা বেডরুম আছে আমাদের।
না, ঠিক আছে। দাঁড়িয়ে পরে বলে রোয়েন। আমি বাড়ি ফিরবো।
রাস্তায় দারুণ ঠাণ্ডা, সতর্ক করে দিয়ে নিকোলাস বলে। কিন্তু রোয়েনের চোখমুখ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ঠিক আছে, আমি জোর করছি না। কাল তাহলে আসুন একবার। দশটার সময় আমার ল-ইয়ারদের সাথে মিটিং আছে, দুপুরের আগেই শেষ হয়ে যাবে। এখানে লাঞ্চ করতে পারি আমরা, তখন না হয় কথা বলা যাবে? বিকেলে যদিও শুটিং করার কথা আমার ভাবছি, বাদ দিব। যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে তাহলে।
*
পরদিন কুয়েনটন পার্কের লাইব্রেরিতে ল ইয়ারদের সাথে বৈঠকে বসলো নিকোলাস। কাঠ-কোট্টা, নীরস আলাপ। এ বছরটা বলতে গেলে একেবারে যাচ্ছেতাই যাচ্ছে তার। বছর শুরুর কথা নিক মনে করতে না চাইলেও ওর স্মৃতিতে তা চির অম্লান থাকবে। নিশুতি রাতে, তুষারপাতের মধ্যে সে নিজেই গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল; যার ফলে ঝরে গেছে তাজা কটি প্রাণ।
ওটা থেকে সামলে উঠতে না উঠতেই পরবর্তী আঘাত। লয়েডস্ ব্যাঙ্কের ইনসুরেন্স সিন্ডিকেট থেকে ফোন পেল সে। অর্ধ-শতাব্দী থেকেই ওই সিন্ডিকেট থেকে বেশ বড় অঙ্কের একটা সাহায্য পেয়ে আসছিল হারপার পরিবার। পঞ্চাশ বছরেও যা হয় নি, এবারে ঠিক তাই ঘটলো। বিরাট অর্থক্ষতির সম্মুখীন হলো সিন্ডিকেট। ২৬ মিলিয়ন পাউন্ড স্টার্লিং! নিকোলাসের নিজের শেয়ার ছিল আড়াই মিলিয়ন। আট মাসের মধ্যে এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে হবে তাকে।
প্রায় একই সঙ্গে কুয়েনটন পার্কের সুগার বিট ফসলে লাগলো মড়ক। এক হাজার একর ভূমির ফসল নষ্ট হয়ে গেল।
অন্তত আড়াই মিলিয়ন পাউন্ড আমাদের প্রয়োজন এ মুহূর্তে, একজন ল ইয়ার বললেন। ওটা কোনো সমস্যা নয়–যাদুঘরে অনেক মূল্যবান সংগ্রহ আছে। কিছু জিনিস বিক্রি করলে ভালো আয় হতে পারে।
রামেসিস মূর্তি, কিংবা ব্রোঞ্জ বা হামুরাবি ফ্রিজ বিক্রির চিন্তায় আঁতকে উঠলো নিকোলাস। ও জানে, এর ফলে হয়তো দেনা মেটাতে পারবে সে, কিন্তু প্রাণের সমান প্রিয় সংগ্রহ হারিয়ে বেচে থাকতে হয়তো পারবে না।
কক্ষনো না, আচমকা বলে উঠে সে। ঠাণ্ডা চোখে তার দিকে তাকায় আইনবিদরা।
আর কী উপায় আছে, আসুন ভেবে দেখি। একগুয়ের মতো বলে নিকোলাস। ডেইরি ফার্ম তো আছে।
ওতে করে কেবল দশ লাখ পাওয়া যাবে, তাও যদি ভাগ্য ভালো হয়।
রেসের ঘোড়াগুলো বেচলে কেমন হয়? এবারে একাউন্টেন্ট বলে ওঠে।
মাত্র ছয়টা ঘোড়া আছে ট্রেনিং-এ। আরো দুইশো গ্রান্ড হলো। এর পরেও দুই লাখ বিশ হাজার পাউন্ড বাকি থাকে।
