হ্যাঁ, দ্বিতীয়টির মালিক সম্বন্ধে আপনার কথা ঠিক, হাসতে হাসতেই বলে নিক। কিন্তু দামটা ভুল বলেছেন; পাঁচ নয়, ছয় মিলিয়ন।
ডুরেঈদ আমাকে আরো বলেছে, আপনি শাদ এবং দক্ষিণ লিবিয়ায়ও অভিযান চালিয়েছেন।
মন্তব্য করে রোয়েন। মাথা নেড়ে পরিহাস করে চলে নিক।
দেখা যাচ্ছে, আমার কোনো গোপনীয়তা আপনার কাছে গোপন নেই! বিপরীত দিকের দেয়ালে সাজানো একটা আর্মার-এর দিকে এগোয় সে। সম্ভবত সতেরোশো শতকের ফ্রেঞ্চ জিনিস। লিবিয়া থেকে আমি এবং ডুরেঈদ এ জিনিসটা নিয়ে আসি। অবশ্য কর্নেল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির কাছ থেকে অনুমতি ছাড়াই! চমৎকার ব্রোঞ্জের বস্তুটি নামিয়ে রোয়েনের হাতে দেয় সে। একজন মা, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন–এমন ভাস্কর্যটি।
হানিবল, হামিলকার বারকার পুত্র। বলে চলে নিকোলাস। খ্রিস্টপূর্ব ২০৩ সালের। উত্তর আফ্রিকার ব্যাগ্রাদাস নদীর ধারের পুরোনো ক্যাম্পে পাওয়া গিয়েছিল। রোমান জেনারেল সিপিওর হাতে পরাজয়ের আগে সম্ভবত ওখান থেকেই ধরা খেয়েছিলেন হানিবল। দুশো ব্রোঞ্জের কাজ রয়েছে ওই সময়ের তার মধ্যে সেরা পঞ্চাশটি আমার অধিকারে।
বাকিগুলো বেচে দিয়েছেন? মূর্তিটা পর্যবেক্ষণ করতে করতে রোয়েন শুধায়। এতো চমৎকার জিনিস ছাড়তে ও চাইলো?
দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিকোলাস। ছাড়তে হলো। কিন্তু কী করব, ওই অভিযানে কম টাকা খরচ হয় নি আমার। কিছু মাল বিক্রি করে খরচ উঠিয়েছি।
ডেস্কের কাছে গিয়ে একটা হুইস্কির বোতল আর দুটো গ্লাস নিয়ে ফিরে আসে নিকোলাস।
ঢালবো আপনার জন্য?
মাথা নাড়ে রোয়েন।
ঠিক আছে। রমণীসুলভ ড্রিঙ্ক চলবে?
কোকাকোলা আছে? রোয়েন বলে।
আছে। ওটা আপনার জন্য আরো খারাপ। শুধু চিনি আর চিনি। বিষ একেবারে।
যা হোক, নিকের দেওয়া কোকের গ্লাস হাতে নেয় রোয়েন, বলে, ডুরেঈদ আমাকে সবই বলেছে। ডেস্কের বসে ভদ্রলোকের চোখে তাকায় এবারে। আসলে, ডুরেঈদের অনুরোধেই আমি আপনার কাছে এসেছি। বলতে পারেন, ওর ইচ্ছে এটা।
আহা! তবে দেখছি কোনো কিছুই দৈবাৎ নয়! মনে হচ্ছে কোনো গভীর ষড়যন্ত্রে আমি তুচ্ছ এক ঘুটি মাত্র। ডেস্কের সামনে রাখা চেয়ারে দিকে ইঙ্গিত করে নিকোলাস।
বসুন। তারপর বলুন!
গভীর অন্তর্ভেদি সবুজ চোখে রোয়েনের দিকে চেয়ে থাকে সে। মনে মনে প্রমাদ গোণে রোয়েন–এ লোকের কাছে মিথ্যে বলে পার পাওয়া সহজ নয়।
বড় করে শ্বাস নিল সে, তারপর জিজ্ঞেস করলো, আপনি নিশ্চয়ই প্রাচীন এক মিশরীয় রাণী, রাণী লসট্রিস-এর নাম শুনেছেন। আমি সেকেন্ড ইন্টারমিডিয়েট পিরিয়ডের কথা বলছি, হিকসস ইনভেশন-এর সময় বেঁচেছিলেন।
হেসে ফেললো নিকোলাস। ও, আপনি ওই বইটার কথা বলছেন, রিভার গড। সোফা ছেড়ে লম্বা একটা শেলফের সামনে চলে এলো ও। বইটা হাতে নিয়ে আবার ফিরে এলো, ডেস্কে রাখলো ওটা। বহুবার উল্টানো হয়েছে পৃষ্ঠাগুলো বোঝাই যায়।
পড়েছেন বইটা? রোয়েন জানতে চায়।
হ্যাঁ। উইলবার স্মিথের সমস্ত লেখাই আমি পড়েছি। দারুণ লাগে। এখানে, কুয়েনটন পার্কে বার দুয়েক শিকার করেছেন উনি।
তারমানে উপন্যাসে দুর্দান্ত ভায়োলেন্স আর যৌনতা পছন্দ করেন আপনি কোনো সন্দেহ নেই। চেহারা বিকৃত করে বলল রোয়েন। এ বইটার সম্পর্কে কী ভেবেছেন?
স্বীকার করছি, লেখক আমাকে বোকা বানিয়েছেন। পড়ার সময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছিল নিশ্চয়ই সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করেই লেখা হয়েছে। হেসে উঠলো নিকোলাস। কিন্তু তা কি করে সম্ভব। পড়া শেষ করি, তারপর ডুরেঈদকে ফোনও করেছিলাম। বইটা তুলে নিয়ে পাতা উল্টে শেষ দিকে চলে এলো ও। লেখকের নোট সত্যি বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে। শেষ বাক্যটা তো আমি ভুলতেই পারি না। পড়ি, কেমন?
নীলনদের উৎসমুখের কাছাকাছি আবিসিনিয়ান পাহাড়ে কোথাও ফারাও মামোস-এর অনাবিষ্কৃত ও সুরক্ষিত সমাধির ভেতর ট্যানাস-এর মমি আছে। ..
চোখে প্রশ্ন, নিকোলাসের দিকে তাকিয়ে আছে রোয়েন।
বইটা টেবিলের উপর নামিয়ে রাখলো নিকোলাস। পড়া শেষ হতে ভাবলাম, সত্যি হলে কি ভালোই না হত। আসলে অ্যাডভেঞ্চারের গন্ধ পেলেই নেশাটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, জানেন না, ফারাও মামোসের সমাধি খুঁজে বেরুতে পারলে কি যে খুশি হতাম! ডুরেঈদকে ফোন করি। কিন্তু তিনি যখন বললেন, এ-সব স্রেফ ভিত্তিহীন অনুমান, মনটা খারাপ হয়ে যায়।
না, ভিত্তিহীন অনুমান নয়, প্রতিবাদ করলো রোয়েন, তারপর নিজেই দ্রুত সংশোধনী আনল, মানে, অন্তত সবটুকু নয়।
কিন্তু ডুরেঈদ তো মিথ্যে কথা বলার মানুষ ছিলেন না!
ডুরেঈদ মিথ্যে কথা বলেন নি, সত্যি কথাটা বলার জন্য একটু সময় নিচ্ছিলেন। পুরো কাহিনীটা আপনাকে বলার প্রস্তুতি ছিল না তার। স্বভাবতই আপনি অনেক প্রশ্ন করতেন, কিন্তু উত্তরগুলো তার জানা ছিল না। তৈরি হওয়ার পর আপনার কাছেই আসার কথা ছিল। স্পনসরদের একটা তালিকা তৈরি করি আমরা, তাতে আপনার নামটাই ছিল সবার উপরে।
সব প্রশ্নের উত্তর জুরেঈদের জানা ছিল না, তারমানে কি আপনার জানা আছে?
স্ক্রোল আবিষ্কার মিথ্যে নয়। ওগুলোর নয়টা আছে কায়রো মিউজিয়ামের ভন্টে। রানী লসট্রিসের সমাধি থেকে আমিই ওগুলো আবিষ্কার করি। লেদার স্লিং ব্যাগ থেকে একগাদা কালার ফটোগ্রাফ বের করলো রোয়েন, একটা বেছে ধরিয়ে দিল নিকোলাসের হাতে। সমাধির পেছনের দেয়ালের ছবি। কুলঙ্গিতে রাখা চকচকে জারগুলো অস্পষ্ট হলেও দেখতে পাবেন। ছবিটা তোলা হয় আমরা ওগুলো নামানোর আগে।
