বোট নিয়ে নিকোলাসের পাশে চলে এলো মেক। অথচ আমি ভাবছিলাম কর্নেল নগুকে ফাঁকি দিতে পেরেছি।
প্রথম হামলাটা হালকার উপর দিয়ে গেছে. বলল নিকোলাস। নদীতে ওরা আমাদেরকে আশা করে নি, ফলে দেখতে পেয়ে অবাক হয়ে গেছে।
হ্যাঁ, কর্নেল গুকে আর চমকে দেওয়া যাবে না। বাজি ধরতে পারো, রেডিওতে কথা বলছে ওরা। নগু এখন জানে কোথায় রয়েছি আমরা, যাচ্ছিই বা কোনদিকে। মুখ তুলে আকাশের দিকে তাকালো মেক। মেঘ কেটে গেলে বিপদ হবে।
সুদান সীমান্ত আর কত দূরে?
আর বোধহয় দুঘণ্টার পথ।
বর্ডার ক্রসিঙে গার্ড থাকে? জানতে চাইলো নিকোলাস।
না। দু দিকেই ফাঁকা ঝোঁপ।
ফাঁকা থাকলেই হয়, বিড়বিড় করলো নিকোলাস।
গোলাগুলি থেকে যাবার ত্রিশ মিনিট পর আবার ওরা হেলিকপ্টারের আওয়াজ পেল। মেঘের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে, যাচ্ছে ভাটির দিকে। বিশ মিনিট পর আবার শোনা গেল রোরের আওয়াজ, তবে এবারও মেঘের আড়ালে থাকায় দেখা গেল ণা। উজানের দিক থেকে এলো, খানিক পর আবার ভাটির দিকে গেল। নগুর মতবলটা কী বলো তো? গলা চড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো মেক। আওয়াজ শুনে মনে হচ্ছে নদীর উপর টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু মেঘের নিচে আমাদেরকে তো দেখতে পাচ্ছে না।
নিজের লোকজনকে ভাটির দিকে নিয়ে যাচ্ছে, বলল নিকোলাস। আমাদের সঙ্গে বোট আছে, কোনদিকে যাচ্ছি আন্দাজ করে নিয়েছে। হয়তো রোজারিস এয়ারস্ট্রিপ সম্পর্কেও তার জানা আছে। নদীর কাছাকাছি ওটাই একমাত্র পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ। পৌঁছে হয়তো দেখবো ওরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
নিজের বোট আরো কাছে সরিয়ে আনল মেক, তারপর বলল, আমার ভালো ঠেকছে না, নিকোলাস। সরাসরি ওদের ফাঁদে পা দিতে যাচ্ছি। কিছু একটা পরামর্শ দাও।
কিছুক্ষণ চিন্তা করলো নিকোলাস। তারপর জিজ্ঞেস করলো, নদীর এ অংশটা তুমি চিনতে পারছ না? এখনো বুঝতে পারছ না ঠিক কোথায় আমরা রয়েছি?
মাথা নাড়লো মেক। সীমান্ত পার হবার সময় নদীর কাছ থেকে দূরে সরে থাকি আমরা। তবে পুরানো সুগার মিলটা চিনতে পারব, ওখানে পৌঁছবার পর। এয়ারস্ট্রিপ থেকে তিন মাইল উজানে ওটা।
পরিত্যক্ত?
হ্যাঁ, বলল মেক। বিশ বছর আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই খালি।
আকাশে মেঘ থাকায় এক ঘণ্টার মধ্যে সন্ধে হয়ে যাবে, বলল নিকোলাস। নদী শান্ত, কাজেই রাতেও আমরা বোট চালাতে পারি। গুমা হয়তো তা আশা করছে না। অন্ধকারে তাকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
এই তোমার পরামর্শ? মেকের গলায় ক্ষোভ। এ যেনো চোখ বুজে নিজেকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেয়া।
আরো ভালো প্ল্যান পেতে হলে তথ্য দাও আমাকে, বলল নিকোলাস। জেনি কাল কখন পৌঁছবেন জানাও। এখন ঠিক কোথায় রয়েছি বলো।
মেক কথা বলল না।
ওদের মতো গেরিলারাও খুব টেনশনে ভুগছে। সন্ধ্যে হয়ে এলেও, হাতের অস্ত্র দুই পারের দিকে তাক করে রেখেছে তারা। আরো অনেকক্ষণ পর মেক বলল, আমরা সম্ভবত এক ঘণ্টা আগেই সীমান্ত পেরিয়ে এসেছি। সুগার মিলটা আর বেশি দূরে হতে পারে না।
অন্ধকারে ওটাকে তুমি খুঁজে পাবে কীভাবে? জিজ্ঞেস করলো নিকোলাস।
নদীর পারে পাথরের তৈরি একটা জেটি আছে, বলল মেক। ওখান থেকে কার্গো বোটগুলো খার্তুমে চিনি নিয়ে যেত।
ঝপ করে রাত নেমে এসে অন্ধকারে ঢেকে দিল ওদের জগৎ। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো নিকোলাস, পাড় থেকে এখন আর ওদেরকে দেখা যাচ্ছে না। অন্ধকার আরো একটু গাঢ় হতে বোটগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে নাইলন রশি দিয়ে বেঁধে নিল ওরা, কোনটা যাতে আলাদা হয়ে না যায়। বৈঠা চালাতে নিষেধ করলো নিকোলাস, কোনো রকম শব্দ না করাই ভালো। স্রোতের টানে নিঃশব্দে ছুটে চলছে বোটগুলো। ডানদিকের তীর ঘেঁষে যাচ্ছে ওরা, মাঝে-মধ্যেই নদীর তলায় ঘষা খেয়ে আটকে যাচ্ছে ওরা, মাঝে-মধ্যেই নদীর তলায় ঘষা খেয়ে আটকে যাচ্ছে বোট, তখন পানিতে নেমে ঠেলে গভীর জলে আনতে হচ্ছে।
অকস্মাৎ রোজিরেস-এর পাথুরে জেটি ওদের সামনে যেনো লাফ দিয়ে উদয় হলো, সময় মতো দেখতে না পাওয়ায় নিকোলাসের বোট ধাক্কা খেলো ওটার সঙ্গে। বোট থেকে কয়েকজন আরোহী ছিটকে পড়লেও, কেউ আহত হলো না। পানি এখানে কোমর সমান, বোট টেনে পাড়ে তুলতে কোনো অসুবিধে হলো না, বিশজন গেরিলাকে আখ খেতের ভেতর ছড়িয়ে দিল মেক, কর্নেল নগুর আকস্মিক হামলা যাতে ঠেকানো সহজ হয়।
রোয়েনকে, বোট থেকে নামতে সাহায্য করলো নিকোলাস, তারপর টিসেকে–নিতে এলো। হেসে উঠে নিকোলাসের সাহায্য প্রত্যাখ্যান করলো টিসে, জানালো নিজেই নামতে পারবে। দীর্ঘ বিশ্রামে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছে সে। তবে নিকোলাসকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলল না।
টিসে তীরে নামতেই নিকি তাকে জিজ্ঞেস করলো, একটা কথা, টিসে। জিজ্ঞেস করার সময় পাইনি। ডেবরা মারিয়াম থেকে রোয়েন আপনাকে যে মেসেজটা পাঠাতে বলেছিলেন, সেটার কি হলো?
ও, হ্যাঁ, বলল টিসে। মিশরীয় দূতাবাসের কালচারাল অ্যাটাশে মুসাদকে মেসেজটা আমি জানিয়ে দিয়েছি। ফিরে এসে আপনার বান্ধবীকে বলেওছি কথাটা, উনি আপনাকে বলেন নি?
ওঁর হয়তো মনে নেই, বলে এড়িয়ে যাবার চেস্টা করলো নিকোলাস। তাছাড়া, ব্যাপারটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবু, ধন্যবাদ, টিসে।
অ্যামুনিশন ক্রেটগুলো বোট থেকে দ্রুত নামানো হলো। খালি বোট পানি থেকে তুলে লুকিয়ে রাখা হলো আখ খেতের ভেতর। অন্ধকারে কাজ চলছে, আলো জ্বালতে নিষেধ করে দিয়েছে নিকোলাস। গেরিলাদের মধ্যে ক্রেটগুলো ভাগ করে দেওয়া হলো। নিজের কাঁধে ড্যানিয়েলও একটা বাক্স তুললাম। নিকোলাসের এক কাঁধে রেডিও, অপর কাঁধে ইমার্জেন্সি প্যাক জ্বলছে, মাথায় নিয়েছে একা কেট, ফারাও-এর সোনার ডেথ-মাস্ক আর টাইটার উশব তি আছে ওটায়।
