প্রতিটি অ্যামুনিশন ক্রেট ভরা হয়ে গেছে, তারপরও মাত্র পাঁচ শতাংশ প্রত্ন সম্পদ নিতে পারছে ওরা। ক্রেটগুলো বয়ে আনা হলো সীল করা ডোরওয়ের বাইরে। লম্বা গ্যালারির আটটা মূর্তিও নিচ্ছে ওরা। ওগুলো বাক্সে ভরার কাজ শেষ হয়েছে, এ সময় সিঁড়ি বেয়ে প্রায় উড়ে আসতে দেখা গেল ড্যানিয়েলকে।
তুমি কি মরতে চাও, নিকোলাস? আর এক মিনিট সময়ও পাচ্ছ না। নদী ফুঁসছে, ফর গডস সেক! বাধটা যে কোনো মুহূর্তে চুরমার হয়ে যাবে।
তোরণের সামনে এসে থমকে দাঁড়ালো ড্যানিয়েল, স্তম্ভিত বিস্ময়ে চারদিকে তাকালো। তবে বিস্ময়ের ঘোরটা কয়েক মুহূর্তে পরই সামলে নিল সে।
মিনিট, নিকোলাস, ঘণ্টা নয়! যিশুর কিরে, বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। তাছাড়া, গিরিখাদের মাথায় যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে কমান্ডার মেক। টাইটার পুল থেকে তুমি গুলির আওয়াজও শুনতে পাবে। মিস রোয়েনকে নিয়ে এখুনি আমার সঙ্গে বের হতে হবে তোমার।
ঠিক আছে, ঠিক আছে, বলল নিকোলাস।
ওদিকের সিঁড়ির নিচে, চেম্বারে, ক্রেটগুলো দেখেছ তো? মাথা ঝাঁকালো ড্যানিয়েল। গুড। ওগুলো মঠে নামিয়ে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করো। তুমিই কাজটা সুপারভাইজ করবে, ঠিক আছে? বাকি সবাইকে নিয়ে ট্রেইলে তোমাকে আমরা অনুসরণ করব।
নিকোলাস দোহাই লাগে, সময় নষ্ট করো না। বিপদ এলে বলতে পারবে না আমি তোমাকে সাবধান করি নি।
তুমি যাও, আমরা আসছি, বলল নিকোলাস। বোটগুলো কোথায় আছে, জানো তো? মঠে পৌঁছেই ওগুলোয় বাতাস ভরার ব্যবস্থা করবে।
ড্যানিয়েল চলে যেতেই ছুটে তোরণের ভেতর ঢুকলো নিকোলাস, রোয়েন যেখানে এখনো ট্রেজার ভরছে ক্রেটে। যথেষ্ট হয়েছে, এবার চলুন!
কিন্তু নিকোলাস, এ সব আমরা ফেলে যেতে পারি না…
বেরোন, এক্ষুনি বেরোন! কঠিন সুরে ধমক দিল নিকোলাস। বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে! কী বলছি, শুনতে পাচ্ছেন, বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে!
আমি কি শুধু…
না, আর কিছুই নিতে পারবেন না। উঠুন! ঝুঁকে রোয়েনের বাহু ধরে টান দিল নিকোলাস।
ঝাঁকি দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল রোয়েন, ওর হাতে চেস্ট থেকে তোলা এক গাদা সোনার অলঙ্কার। এগুলো ফেলে যাই কী করে! ওগুলো ট্রাউজারের পকেটে ভরতে শুরু করলো।
ঝুঁকলো নিকোলাস, দু হাতে ধরে রোয়েনকে তুলে নিল বুকে, তারপর তোরণ পেরিয়ে এসে ছুটলো।
চেম্বারের দূর প্রান্তের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে হানশিত শেরিফের কয়েকজন লোক, প্রত্যেকের মাথায় একটা করে ক্রেট। এখানে পৌঁছে রোয়েনকে নামালো নিকোলাস, বলল, কোনো রকম পাগলামি করবেন না।
মাথা নাড়লো রোয়েন, মনে হলো কেঁদে ফেলবে। সিঁড়ি বেয়ে নিকোলাসের আগে ছুটলো সে। মাথায় বোঝা থাকলেও, পোটাররা শৃঙ্খলা বজায় রেখে দ্রুতই এগুচ্ছে। তাদের দীর্ঘ এক লাইনের মিছিলের সঙ্গে মিশে গেল নিকোলাস ও রোয়েন, আঁকাবাঁকা গোলকধাঁধার ভেতর দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসছে। প্রতিটি বাঁকে চক দিয়ে আঁকা চিহ্ন থাকার পথ চিনতে কোনো অসুবিধে হলো না। অবশেষে বিধ্বস্ত লম্বা গ্যালারিতে পৌঁছল ওরা। সীর করা ডোরওয়েটা ভেঙে গেছে, ওখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে ড্যানিয়েল। ওদেরকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো সে।
তোমাকে না মঠে গিয়ে বোটগুলো রেডি করতে বললাম? জিজ্ঞেস করলো নিকোলাস।
আমার একটা দায়িত্ব বোধ আছে, গম্ভীর সুরে বলল ড্যানিয়েল। তোমাদের নিয়ে যাই কীভাবে?
কথা না বলে তার কাঁধে হালকা একটা ঘুসি মারলো নিকোলাস, তারপর ছুটে অ্যাপ্রোচ টানেল পার হলো, উঠে এলো সিঙ্কহোল-এর উপর ভাসমান সেতুতে। ঘাড় ফিরিয়ে ড্যানিয়েলের দিকে তাকালো ও, হাঁপাচ্ছে, চিৎকার করে জানতে চাইলো, মেক কোথায়? টিসেকে তুমি দেখছ?
টিসে ফিরে এসেছেন, তবে তাঁর অবস্থা খুবই করুণ।
কেন, কী হয়েছে তার? জিজ্ঞেস করলো নিকোলাস।কোথায় সে?
ফন শিলারের গরিলাটা ধরেছিল তাকে, মারধর করেছে। মেকের লোকজন মঠে নিয়ে গেছে তাকে। কথা হয়েছে বোটের কাছে অপেক্ষা করবে।
গুড। আর মেক?
কর্নেল নগুর আক্রমণ ঠেকাবার চেষ্টা করছে। সেই সকাল থেকে রাইফেল, গ্রেনেড আর মর্টারের আওয়াজ পাচ্ছি। মেকও পিছু হটে মঠে পৌঁছবে, বোটের কাছে অপেক্ষা করবে আমাদের জন্য।
টানেলের শেষ কয়েক গজ পানির উপর দিয়ে ছুটলো ওরা। বাইরে বেরিয়ে এসে ক্রল করে টাইটার পুলকে ঘিরে থাকা নিচু পাঁচিলে উঠে পড়লো। ওখান থেকে চলে এলো পাহাড়ের গোড়ায় সরু কার্নিসে। মুখ তুলে নিকোলাস দেখলো হানশিত শেরিফের লোকজন দোলনার মতো দেখতে চওড়া কপিকলে তুলে পাহাড় প্রাচীরের চূড়ায় ক্রেটগুলো ওঠাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে একটা শব্দ ঢুকলো কানে, সঙ্গে সঙ্গে চিনতেও পারল। গান ফায়ার! রোয়েনকে বলল ও।মেক লড়ছে এখনো, তবে পিছু হটে খুব কাছাকাছি চলে এসেছে।
ঝুলন্ত মাচায় উঠে পড়লো ওরা। পাহাড় প্রাচীরের চূড়ায় পৌঁছে চারদিকে তাকালো। মাথার উপর সূর্য, তেতে আগুন হয়ে আছে। সব কয়টা ক্রেট নিয়ে পোটাররা উপরে উঠেছে কিনা চেক করলো নিকোলাস। ঝোঁপ-ঝাড় ঢাকা ট্রেইল ধরে রওনা হয়ে গেল তারা, কলামের মাথায় থাকলো ড্যানিয়েল, গোড়ায় নিকোলাস ও রোয়েন। যুদ্ধের আওয়াজ এতো কাছে চলে এসেছে,ভয়ে কাপ ধরে যাচ্ছে বুকে। মনে হলো গিরিখাদের ভেতর মাত্র আধ মাইল দূরে লড়াই করছে ওরা। অটোমেটিক রাইফেলের আওয়াজ পোর্টারদের ছোটার গতি বাড়িয়ে দিল,ঝোঁপ ঝাড়ের জঙ্গল পার হয়ে মেইন ট্রেইলে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব পৌঁছতে চাইছে ওরা, কর্নেল নগুর সৈনিকরা পথটা দখল করে নেওয়ার আগেই।
