প্লিজ, ফিসফিস করলো টিসে। আমাকে মারবেন না!
কথার জবাব না দিয়ে সৈনিক এক পা এগুলো, সবুট লাথি মাল টিসের পাঁজরে। একদম চুপ!
ব্যথার চেয়ে মৃত্যু ভয় বেশি কাহিল করে ফেললো টিসেকে।
কবর খোঁড়া হয়ে গেল। গর্ত থেকে উঠে এলো সৈনিক দু জন। ট্রাক থেকে নেমে এলেন লেফটেন্যান্ট হাম্মেদ, হাতে একটা টর্চ। টর্চের আলোয় গভীরতা দেখলেন তিনি। গুড। যথেষ্ট গম্ভীর হয়েছে। টর্চটা নিভিয়ে দিলেন। তোমরা সবাই ট্রাকের কাছে চলে যাও। কর্নেল বলে দিয়েছেন, কোনো সাক্ষী থাকা চলবে না। গুলির আওয়াজ হলে ফিরে আসবে, কবরে মাটি ফেলতে সাহায্য করবে আমাকে।
সৈনিকরা ফিরে গেল।
এগিয়ে এসে টিসেকে ধরে দাঁড় করালেন হাম্মেদ, টেনে আনলেন কবরের কাছে। আপনার চাদরটা দিন আমাকে, বলে নিজেই টিসের গা থেকে খুলে নিলেন সেটা। তারপর লাফ দিয়ে নেমে পড়লেন কবরের ভেতর। টিসে শুনতে পেল হাত . দিয়ে কবরের তলার মাটি নাড়াচাড় করছেন লেফটেন্যান্ট। তারপর তার নিচু গলা শুনতে পেল, কবরের ভেতর কিছু একটা দেখাতে হবে ওদেরকে। দেখে যাতে মনে হয় লাশ….
চামড়ার বেল্টটা কব্জি থেকে খুলে ফেলে দিলেন কবরের ভেতর। দিশেহারা টিসে ফিসফিস করে জানতে চাইলো, কি করছেন আপনি? কবরের ভেতর তাকিয়ে দেখলো চাদরের উপর এমন ভাবে মাটি ফেলা হয়েছে, দেখে মনে হবে ভেতরে একটা লাশ আছে।
প্লিজ, কথা বলবেন না! চাপা গলায় সতর্ক করে দিলেন হাম্মেদ। টিসেকে নিয়ে চলে এলেন ঘন একটা ঝোঁপের ভেতর, বসিয়ে দিয়ে বললেন, এখানে শুয়ে পড়ন। পালাবার চেষ্টা করবেন না। আমরা চলে না যাওয়া পর্যন্ত নড়বেন না বা কথা বলবেন না।
কবরের কাছে ফিরে এসে পিস্তলের ফাঁকা দুটো আওয়াজ করলেন আহমেদ। তারপর তার চিৎকার শুনতে পেল টিসে, চলে এসো তোমরা, কাজটা শেষ করি।
সৈনিকরা কবরের কাছে ফিরে এলো। ঝোঁপের ভেতর থেকে মাটিতে কোদালের কোপ মারার আওয়াজ পেল টিসে, গর্তটা ভরা হচ্ছে। একজন সৈনিক বলল, লেফটেন্যান্ট, আপনার টর্চটা জ্বালছেন না কেন? কবরের ভেতরটা তো দেখতে পাচ্ছি না।
মাটি ভরার জন্য আলো লাগবে কেন? ধমকের সুরে জিজ্ঞেস করলেন হাম্মেদ। তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করো। আলগা মাটি সমান করে দেবে, আমি চাই না এখানে এসে কেউ হোঁচট খাক।
কিছুক্ষণ পর মাটি ভরার কাজ শেষ হলো, ট্রাক নিয়ে ফিরে গেল সৈনিকরা। স্বস্তি, ব্যথা ও ক্লান্তিতে ঝোঁপের ভেতর শুয়ে কাঁদছে টিসে। আরো কিছুক্ষণ পর হামাগুড়ি দিয়ে ঝোঁপ থেকে বেরিয়ে এলো সে, একটা গাছ ধরে দাঁড়ালো, টলছে।
এতোক্ষণে অপরাধবোধটা গ্রাস করলো তাকে। ভাবল, মেকের সঙ্গে আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, শত্রুপক্ষকে বলে দিয়েছি সব কথা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে গিয়ে তাকে আমার সাবধান করা উচিত।
টলতে টলতে রাস্তার দিকে এগুলো টিসে।
*
টাইটার কোড ভাঙা গেছে কিনা বোঝার একমাত্র উপায় হলো তার তৈরি তালিকায় পাওয়া চাল অনুসারের খেলাটা চালিয়ে যাওয়া। জটিল ছকে তৈরি টানেলের শাখা-প্রশাখার ভেতর দিয়ে সাবধানে এগুলো ওরা, টাইটার চাল ধরে এগুচ্ছে, সেগুলো সাদা চক দিয়ে এঁকে রাখছে দেয়ালের গায়ে।
ফলকের শীতকাল শিরোনামে আঠারোটা চাল রয়েছে। রোয়েন যেটাকে প্রথম চাল ধরে নিয়েছে সেখান থেকে বারোটা চাল পর্যন্ত এগোনো সম্ভব হলো। কিন্তু তারপর সামনে পড়লো নিরেট দেয়াল, পরবর্তী চালে পা ফেলার কোনো সুযোগ নেই।
ধ্যেত, এতো পরিশ্রম সব বৃথা গেল, দেয়ালটায় লাথি মেরে বলল নিকোলাস।
দুঃখিত, চোখ থেকে চুল সরাল রোয়েন। আমারই কোথাও ভুল হয়েছে। দ্বিতীয় কলামের ফিগার উল্টো করে ধরে এগুতে হবে।
তার মানে নতুন করে শুরু করো আবার।
হ্যাঁ, প্রথম থেকে।
খেলাটা যদি ঠিকমতো খেলতেও পারি, জানব কীভাবে খেলতে পেরেছি? জানতে চাইলো নিকোলাস।
সূত্র অনুসরণ করে আমরা যদি একটা উইনিং কম্বিনেশনে পৌঁছতে পারি, সেটা : হবে চালমাত, ঠিক আঠারো চালের মাথায়। এরপর আর যুক্তিসঙ্গত কোনো চাল থাকবে না, তখন ধরে নিতে হবে খেলাটা আমরা শেষ করতে পেরেছি।
ওই পজিশনে পৌঁছে কী পাব আমরা?
ওখানে পৌঁছনোর পর বলতে পারব। মিষ্টি করে হাসলো রোয়েন। হাসিখুশি থাকুন, নিকোলাস। কষ্টের মাত্র শুরু হয়েছে।
টাইটার নোটেশনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির সংখ্যাগুলোর মূল্যমান নতুন করে নির্ধারণ করলো রোয়েন, প্রথমগুলোকে ধরল কাপ মূল্যমানে, দ্বিতীযগুলোকে ফাইল মূল্যমানে। কিন্তু এভাবে মাত্র পাঁচটা চল এগোলো গেল, তারপর আর সামনে বাড়ার পথ নেই।
তৃতীয় সারির প্রতীকগুলোকে আমরা লেভেল পরিবর্তনের চিহ্ন হিসেবে ধরেছি, হয়তো এখানে ভুল হচ্ছে বলল নিকোলাস। আসুন আবার শুরু করি, এবার ওগুলোকে দ্বিতীয় মূল্যমান দিই।
তাতে প্রচুর সময় লাগবে, প্রতিবাদ করলো রোয়েন। তারচেয়ে আসুন, নোটেশনের মাঝখানে টাইটা যেসব উক্তি করেছে সেগুলো আরেকবার পড়ি। দেখা যাক কোনো সূত্র বেরোয় কিনা।
বেশ।
প্রথম কোটেশন, হায়ারোগ্লিফিক্সে আঙুল রাখলো রোয়েন। পড়ছি-নাম থাকলে জিনিসটাকে চেনা যায়। নামবিহীন জিনিস শুধু অনুভব করা যায়। পেছনে জোয়ার আর মুখে বাতাস নিয়ে জলপথে ভ্রমণ করেছি আমি। হে, ভালোবাসা আমার, তোমার স্বাদ আমার ঠোঁটে মিষ্টি-মধুর।
ব্যস?
