মুখের ভেতর থুথু জমিয়ে হেলমের চোখে ছুঁড়ে দিল টিসে। ছিটকে দূরে সরে গেল হেলম্, হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে চোখ মুছলো।
ধরে রাখুন শালীকে! কর্নেলকে বলল সে। টিসের বুক থেকে পা নামিয়ে বসে পড়লেন কর্নেল, তারপর শক্ত করে হাত দুটো ধরলেন।
পা ছুঁড়ছে টিসে, কিন্তু দু জন শক্তসমর্থ পুরুষের সঙ্গে সে পারবে কেন। তার ট্রাউজার খুলে ফেললো হেলম্। তারপর শার্টটাও ছিঁড়ে ফেললো। কোথায় সে? কি করছে মেক? জিজ্ঞেস করলো হেলম্, টিসের স্তনের বোঁটার কাছে জ্বলন্ত চুরুট সরিয়ে আনল।
মরিয়া হয়ে ধস্তাধস্তি শুরু করলো টিসে, কিন্তু কর্নেল তার হাত দুটো পিছমোড়া করে ধরে রেখেছেন। আর্তনাদ করে উঠলো টিসে, রুটের লালচে ডগা তার স্তনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
*
শীতকাল, বলল রোয়েন, ট্যানাসের সমাধিতে পাওয়া ফলকের চতুর্থ দিকটার এনলার্জ করা ফটোগ্যাফ ফ্লাডলাইটের আলোয় মেলে ধরল। এদিকটাতেই টাইটার নোটেশন রয়েছে, যেটাকে আমি বাও বোর্ড বলে মনে নিয়েছি। সংখ্যা ও সঙ্কেত সবগুলো আমি বুঝি না, তবে বাদ দেয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, প্রথম সঙ্কেতটা চারটে দিকের একটাকে চিহ্নিত করে। এ চারটে দিককে বোর্ডের একেকটা দুর্গ হিসেবে বর্ণনা করেছে সে। নোটবুকের পাতাগুলো দেখালো নিকোলাসকে, ওগুলোয় হিসাব করেছে ও।
এদিকে দেখুন, উত্তর দুর্গে বসে আছে বেবুন, দক্ষিণ দুর্গে মৌমাছি, পশ্চিমে পাখি আর পূর্বে কাঁকড়া বিছে। ফলকের ফটোগ্রাফেও চিহ্নগুলো রয়েছে, আঙুল দিয়ে দেখালো নিকোলাসকে। তারপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ফিগার, এগুলো
সংখ্যা-আমার ধারণা, এগুলো ফাইল আর কাপ-এর প্রতিনিধিত্ব করে। এগুলোর সাহায্যে আমরা তার কাল্পনিক লাল পথরের চাল অনুসরণ করতে পারব। লাল হলো বোর্ডের হাইয়েস্ট-র্যাংকিং কালার।
প্রতি সেট নোটেশনের মাঝখানে স্তবকগুলো কি? জিজ্ঞেস করলো নিকোলাস।যেমন এখানে লেখা রয়েছে উত্তুরে বাতাস আর ঝড় সম্পর্কে।
আমি জানি না, স্মোকস্ক্রীন হতে পারে। কোনো কাজই সে আমাদের জন্য সহজ করে রাখেনি। ওগুলোর কোনো তাৎপর্য থাকতেও পারে, তবে সেটা ধরা পড়বে আমরা যখন আমাদের পথর দিয়ে চাল দিতে দিতে খেলাটায় অনেক দূর এগিয়ে যাব। রোয়েন এবার মুখ তুলে পাথুরে সিঁড়ির দিকে তাকালো, যে সিঁড়ি টাইটার গোলকধাঁধার দিকে উঠে গেছে।
এবার দেখতে হবে আমার থিওরির সঙ্গে টাইটার আর্কিটেকচারের কঠিন পাথর আর দেয়াল মেলে কিনা। প্রশ্ন হলো, আমরা শুরু করব কোত্থেকে?
প্রথম থেকে, বলল নিকোলাস। দেবতা প্রথম চাল দিলেন। টাইটা তো তাই জানিয়েছে। আমরা যদি ওসিরিস-এর শ্রাইন থেকে শুরু করি, সিঁড়ির গোড়া থেকে, তাহলে আমরা হয়তো তার কাল্পনিক বাও বোর্ডের অ্যালাইনমেন্ট পেয়ে যাব।
আমারও তাই ধারণা, বলল রোয়েন। আসুন ধরে নিই এটা টাইটার বোর্ডের উত্তর দুর্গ। এখান থেকে আমরা ষাঁড় চতুষ্টয়ের ধ্রুপদী নিয়ম আবিষ্কার করব।
কঠিন ও একঘেয়ে কাজ, এগুলো শম্বুকগতিতে। প্যাসেজ আর টানেলের ভেতর বারবার ঢুকে প্রাচীন লেখকের এ মস্তিষ্কের তার আর চিন্তাধারা চার হাজার বছর পর আঁচ করতে চাওয়া। গোলকধাঁধায় এখন ওরা ঢুকছে চক নিয়ে, প্রতিটি টানেলের শাখা ও মোড়ের দেয়াল চিহ্নিত করছে নিকোলাস, লিখে রাখছে শীতকাল শিরোনামে নিকোলাসমে ফলকের দিকটায় পাওয়া নোটেশন।
ওরা বুঝতে পারলো ওদের প্রথম ধারণাটা সঠিক হয়েছে, ওসিরিস-এর শ্রাইন হলো বোর্ডের উত্তর দুর্গ। কাজেই খুশি হয়ে উঠলো মন, জানে এটাকে সূত্র ধরে খেলার চাল আবিষ্কার করা খুব একটা কঠিন কাজ হবে না। কিন্তু আবার হতাশ হতে হলো যখন বুঝল প্রচলিত বোর্ডের সহজ দুই ডাইমেনশন-এর কথা ভাবে নি টাইটা। সমীকরণে তৃতীয় একটা ডাইমেনশন যোগ করেছে সে।
ওসিরিস-এর শ্রাইন থেকে উঠে যাওয়া সিঁড়িটাই আটটা ল্যান্ডিঙের মাঝখানে একমাত্র লিঙ্ক নয়। সিঁড়ি থেকে শুরু হওয়া প্রতিটি প্যাসেজ অতি সূক্ষভাবে হয়ে উপরে উঠে গেছে, নয়তো নিচে নেমেছে। এ-ধরনের একটা টানেল অনুসরণ করতে গিয়ে অনেক মোচড় আর বাঁক ঘুরতে হলো ওদেরকে, অথচ টেরই পেল না যে ওদের লেভেল বদলে যাচ্ছে। তারপর হঠাৎ ওরা সেন্ট্রাল ল্যান্ডিঙে বেরিয়ে এলো, তবে যেটা ধরে ঢুকেছিল তারচেয়ে এক ল্যান্ডিং উপরে।
ওখানে দাঁড়িয়ে স্তম্ভিত বিস্ময়ে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে থাকলো ওরা। নিস্তব্ধতা ভাঙল রোয়েন। একবারও মনে হয় নি যে ওপরে উঠছি। আমাদের ধারণার চেয়ে গোটা ব্যাপারটা আরো অনেক বেশি জটিল, নিকোলাস।
ভীতিকর, মন্তব্য করলো নিকোলাস।
তবে কিছু প্রতাঁকের অর্থ এখন আমার কাছে পরিষ্কার, বলল রোয়েন। ওগুলো লেভেল-এর প্রতিনিধিত্ব করে। গোটা ছকটা আবার নতুন করে সাজাতে হবে।
থ্রী-ডাইমেনশনাল বাও, ধাঁধা মেলনোর নিয়মে খেলতে হবে, বলল নিকোলাস। আমাদের আসলে একটা কমপিউটর দরকার। বুড়ো ক্রীতদাস সত্যিই জিনিয়াস ছিল। জানা সত্ত্বেও বোঝার উপায় নেই যে টানেলের মেঝে উপরে উঠেছে। নাকি নিচে নেমেছে, অথচ তার কাছে একটা স্লাইড কল পর্যন্ত ছিল না। এ গোলকধাঁধা আশ্চর্য এক ইঞ্জিনিয়ারিং বিস্ময়।
তার প্রশংসা পরে করলেও চলবে, বলল রোয়েন। এখন আসুন সংখ্যাগুলো নতুন করে সাজাই।
