বলে যান, শুনছি।
ছকের প্রথম সারির কাপ, ইঙ্গিতে স্কেচটা দেখালো রোয়েন। ডুরেঈদ বলেছেন, প্রথম থেকে শুরু করবে। আর টাইটা বলেছে, মহান ওসিরিস প্রথম চাল দিলেন।
ঠিক বুঝলাম না।
আসুন আমার সঙ্গে, বলে নোটবুক হাতে সাদা প্লাস্টার করা দরজার হ্যাঁচ দিয়ে ভেতরে ঢুকলো রোয়েন, দাঁড়ালো ওসিরিস-এর শ্রাইন-এর কাছে। প্রথম চাল। শুরু। গ্যালারির দিকে মুখ করলো ও। এটা প্রথম শ্রাইন। সব মিলিয়ে কয়টা শ্রাইন?
আটটা।
বাহ্, হারপার নিকোলাস দেখছি শুনতেও জানেন!
আটটা উপর-নিচে, আটটা আড়াআড়ি… থেমে গেল নিকোলাস, রোয়েনের দিকে তাকিয়ে আছে। তার মানে আপনি বলতে চাইছেন
জবাব না দিয়ে নোটবুকটা খুলল রোয়েন। এখানে যে সংখ্যা আর সঙ্কেত রয়েছে, অর্থবহ ভাষায় রূপান্তর করা সম্ভব নয়। একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো রকম সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না। শুধু একটা ব্যাপার দেখতে পাচ্ছি, তালিকায় এমন কোনো সংখ্যা নেই যেটা আট-এর চেয়ে বড়।
কী যেনো বুঝেও বুঝতে পারছি না।
আজ থেকে চার হাজার বছর আগে কেউ যদি দাবার চাল ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করত, সে কী এভাবে সংখ্যা সাজিয়ে রাখত না?
আপনি বলতে চাইছেন, টাইটা আমাদের সঙ্গে বাও খেলা খেলছে।
হ্যাঁ, আর প্রথম শ্রাইনটাই টাইটার প্রথম চাল।
কিন্তু খেলার নিয়ম যেখানে জানি না, টাইটার সঙ্গে এ খেলা আমরা খেলব কীভাবে? জানতে চাইলো নিকোলাস।
*
হের ফন শিলার ডেকে পাঠিয়েছেন, গর্বিত ভঙ্গিতে কনফারেন্স রুমে ডুকলেন কর্নেল টুমা নগু। পিছু নিয়ে ঢুকলেন নাহুত গাদ্দাবিও, তিনিও নিজের গুরুত্ব বোঝাবার জন্য চেহারায় ভাবগাম্ভীর্য ফুটিয়ে তুলেছেন। উতে কেম্পারের সঙ্গে কথা বলছিলেন ফন শিলার, ওদেরকে দেখে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়ালেন, এগিয়ে এলেন দ্রুত। নাহুতকে যেনো দেখতেই পান নি, কর্নেলকে প্রশ্ন করলেন, কাল আমাকে রিপোর্ট দেয়ার কথা ছিল। খাদ থেকে আপনার ইনফরমার কোনো মেসেজ পাঠায় নি?
এক নিমেষে চুপসে গেলেন কর্নেল নগু। জার্মান বিলিওয়ানিয়ারকে খুব ভয় পান তিনি। দেরি হওয়ার জন্য দুঃখিত, হের ফন শিলার। নিকোলাসের ক্যাম্প থেকে মেয়েগুলো ফিরতে দেরি করে ফেলেছে।
বুঝলাম, কিন্তু খবর পেতে দেরি হলে আমার তো চলবে না, কর্কশ সুরে বললেন ফন শিলার। রিপোর্ট দিন।
নিকোলাস বাঁধের কাজ শেষ করেছেন সাতদিন আগে। ভাটির দিকে সরে গেছেন তিনি, ঝুলন্ত মাচা বানিয়ে নালায় নেমেছেন। আমার ইনফরমার জানিয়েছে, খালি হ্রদের তলায় একটা ফাঁক পরিষ্কার করছে ওরা।
একটা ফাঁক? কী ধরনের ফাঁক? অসুস্থ দেখালো হের ফন শিলারকে।
গর্ত বা ফাটল হবে…।
ব্যাখ্যা করুন, বর্ণনা দিন। ধৈর্য হারিয়ে চিৎকার করছেন ফন শিলার।
যে মেয়ে মেসেজটা নিয়ে এসেছে তার মাথায় খুব একটা বুদ্ধি নেই, হের:ফন শিলার, বললেন নগু। পানি সরে যাবার পর হ্রদের তলায় নাকি একটা ফাঁক বা গর্ত দেখা গেছে। আবর্জনায় ভরা ছিল।
ওটা একটা টানেল! হিসহিস করে উঠলেন ফন শিলার। সমাধির ভেতর ঢোকার পথ পেয়ে গেছেন ওঁরা। আর কী দেখেছে সে?
মেয়েটা বলছে, ফাঁকটার ভেতর একটা গুহা আছে। পাথরের কুলুঙ্গি আর দেয়ালচিত্র আছে…
ওহ, গড! দেয়ালচিত্র মানে কি? খ্রিস্টান সেইন্টদের ছবি?
নাহুত বললেন, তা সম্ভব নয়, হের ফন শিলার। আমি আপনাকে বলছি, হারপার নিকোলাস ফারাও মামোসের সমাধি আবিষ্কার করেছেন।
আপনি চুপ থাকুন। হুংকার ছাড়লেন ফন শিলার। কর্নেলের দিকে ফিরলেন তিনি। মেয়েটা কী বলেছে সব আমাকে জানান।
দেয়ালচিত্র আর মূর্তির কথাই শুধু বলেছে, হের ফন শিলার। দুঃখিত।
বাক্সে ভরেছেন, বললেন নগু।
নিকোলাস কি শ্রাইনে কোনো মমি পাননি?
আমি জানি না, হের ফন শিলার। মেয়েটা আর কিছু বলতে পারে নি।
কোথায় সে? আমার কাছে আনুন তাকে। আমি নিজে তাকে জেরা করতে চাই।
কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্রাম্য এক তরুণীকে কনফারেন্স রুমে নিয়ে আসা হলো। তার মুখে লাল আর কালো কালি দিয়ে ডোরা কাটা দাগ, পরনে ঢোলা আলখেল্লা, কোলে দুধের বাচ্চা। আলখেল্লা সরিয়ে স্তনের বোঁটাটা বাচ্চার মুখে পুরে দিল সে। শিশু ও মা ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শিলারের দিকে।
ওকে জিজ্ঞেস করুন কুলুঙ্গি বা শ্রাইনে কোনো কফিন ছিল কিনা।
এক মিনিট মেয়েটির সঙ্গে কথা বললেন কর্নেল। তারপর ফন শিলারকে। জানালেন, বোকা মেয়েলোক। বলছে, লাশ সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। তবে মূর্তিগুলো বাক্সে ভরা হয়েছে। ওগুলো পাহারা দিচ্ছে একদল সৈনিক।
সৈনিক? সৈনিক মানে?
ও আসলে মেক মেক নিমুরের গেরিলাদের কথা বলতে চাইছে, ব্যাখ্যা করলেন নগু। কমান্ডার মেক এখনো নিকোলাসের সঙ্গে আছেন।
মোট কটা বাক্স? কটা মূর্তি? জানতে চাইলেন ফন শিলার।
কর্নেল জিজ্ঞেস করলেন মেয়েটিকে। তারপর ফন শিলারকে বলরেন, পাঁচটার কম নয়, দশটার বেশি নয়। ও ঠিক জানে না।
একেকটা কত বড়?
কর্নেলের প্রশ্ন শুনে একটা হাত পুরোপুরি লম্বা করে দেখালো মেয়েটি।
ফন শিলার বললেন, সংখ্যায় এতো কম? আকারে এতো ছোট? জানালার সামনে এসে বাইরে তাকালেন তিনি। মেয়েটা যদি মিথ্যে কথা না বলে, নিকোলাস এখনো মামোসের ট্রেজার আবিষ্কার করতে পারেন নি। আরো অনেক বেশি থাকার কথা। :
মেয়েটির সঙ্গে এখনো কথা বলছেন কর্নেল নগু। শিলারের দিকে ফিরে তিনি বললেন, ও বলছে, টিসে নামে একটা মেয়ে নিকোলাসের ক্যাম্প থেকে ডেবরা মারিয়ামে গেছে, সঙ্গে আছে সন্ন্যাসীদের একট দল। মেয়েটিকে আমি চিনি, হের ফন শিলার। এক রাশিয়ান শিকারীকে বিয়ে করেছিল, এখন অবশ্য মেকের মনোরঞ্জন করছে।
