ইয়েস, গুড আইডিয়া! কর্নেলকে উল্লাসিত দেখালো।
আপনার বাকি লোককে ঢালের নিচে জড়ো করুন। গেরিলাদের চোখে ধরা পড়া চলবে না, তবে বাঁধ দখল করার জন্য তৈরি হয়ে থাকতে হবে। আমি নির্দেশ দিলেই যাতে হামলা শুরু করতে পারে।
হামলাটা কখন শুরু করব আমরা?
নিকোলাসের উপর কড়া নজর রাখা হবে, বললেন হের ফন শিলার। আর্টিফ্যাক্ট সরাতে শুরু করলে আমরা জানতে পারব। অনেকগুলোই এতো বড় হবে যে লুকানো সম্ভব নয়। তখনই হামলা করব আমরা। ওরা চুরি করছে, আমরা ওদের উপর বাটপারি করব।
*
টানেলের মুখ পরিষ্কারের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। শিফটিং পদ্ধতিতে কাজ চলছে, নতুন শিফট শুরু হওয়ার আগে ড্যানিয়েলের স্টীল টেপ নিয়ে টানেলের ভেতর অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে নিকোলাস। শেষবার মাপার পর বলল, একশো বিশ ফুট পরিষ্কার করা হয়েছে। সাবাশ, হানশিত শেরিফকে বলল ও। হানশিত শেরিফ স্বেচ্ছাসেবী সন্ন্যাসীদের ফোরম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
টানেলের মেঝে এখনো তির্ষক একটা পথ ধরে নিচের দিকে চালু হয়ে আছে। ফ্লাডলাইটের আলোয় টানেলের প্রবেশ মুখটা এখন পরিষ্কারই চৌকো দেখাচ্ছে। টানেলটা যে একজন ইঞ্জিনিয়ারের নকশা ধরে তৈরি করা হয়েছে, এখন আর হাতে কোনো সন্দেহ নেই। পায়ের কাছে পানি কাদায় পড়ে থাকা একটা জিনিস দেখতে পেয়ে কুঁকলো নিকোলাস, দু আঙুলে ধরে ফ্লাডলাইটের আলোয় পরীক্ষা করলো।
টানেল থেকে বেরিয়ে এলো নিকোলাস হাসতে হাসতে। পুলটাকে ঘিরে থাকা নিচু পাঁচিলের উপর বসে রয়েছে রোয়েন, জিনিসটা ওকে দেখালো। ছো দিয়ে নিকোলাসের হাত থেকে নিয়ে নিল রোয়েন, চিৎকার করে উঠলো, ওহ, সুইট মেরি! নিকোলাস, এ আপনি কোথায় পেলেন?
কাদায় পড়েছিল, বলল নিকোলাস। চার হাজার বছর ধরে। জিনিসটা চিনতে পারছেন কী? মদের পাত্র ছিল এক কালে, তারই ভাঙা একটা টুকরো। সম্ভবত টাইটার কোনো শ্রমিকের হাত থেকে পড়ে ভেঙে যায়।
মৃৎপাত্রের টুকরোটা হাত দিয়ে ঘষে চুমো খেলো রোয়েন। আমরা যে ঠিক পথ ধরে এগুচ্ছি, এটা তার আরেকটা প্রমাণ।
পরবর্তী শিফটের কাজ দু ঘণ্টা চলার পরই শেষ বাধাটা অপসারিত হলো, হৈ চৈ শুনে টানেলের ভেতরে ঢুকে নিকোলাস দেখলো বড় একটা বোল্ডার এক পাশে সরিয়ে আনার পর সামনে একটা ফাঁক তৈরি হয়েছে। পাঁচিলের এ জানালার ভেতর টর্চের আলো ফেললো ও। খালি ও কালো শূন্যতা ছাড়া আর কিছু দেখার নেই। পিছিয়ে এসে হানশিত শেরিফের পিঠ চাপড়ে দিল ও। প্রত্যেকের জন্য এক ডলার করে বোনাস। তবে কাজ চালিয়ে যাও, সমস্ত আবর্জনা সরিয়ে ফেলতে হবে। আবর্জনা সরাতে আরো দু শিফট লাগলো। ফাঁকটা বড় হওয়ার পর দেখা গেল সামনে একটা গুহা রয়েছে।
গুহা মানে বিরাট একটা গর্ত। ওরা যেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে তার দশ ফুট নিচে পানি দেখা যাচ্ছে, চারপাশে গোলাকার ও খাড়া পাচিল। টর্চের আলোয় দেখা গেল ছাদে কয়েকটা ফাটল তৈরি হয়েছে, সম্ভত কোনো এক কালে পাথর ধসে পড়েছিল। গুহা বা গর্তের ওপারে কালো ছায়া ছাড়া কিছুই দেখা যায় না, দূরত্ব হবে একশো ফুট বা আর কিছু বেশি।
পানিতে না নেমে এ বাধা পেরুনো সম্ভব নয়। ত্রিশ ফুট লম্বা একটা বাঁশ এনে গভীরতা মাপার চেষ্টা করা হলো, কিন্তু থই পাওয়া গেল না। এর মানে? নিকোলাসকে জিজ্ঞেস করলো রোয়েন, বিহ্বল দেখাচ্ছে ওকে।
আমার ধারণা, এটা একটা ন্যাচারাল ফল্ট, বলল নিকোলাস। পানিকে পথ দেখিয়ে পাহাড়ের দিকে নিয়ে গেছে, সারফেসে আবার বেরিয়েছে সেই প্রজাপতি ফোয়ারায়। নদী আসলে নিজেই নিজের পথ খুঁড়ে নিয়েছে।
পানি তাহলে জমে আছে কেন?
শ্যাফটে একটা বাঁক থাকায়, সম্ভবত, বলে নিচের পানিতে টর্চের আলো ফেললো নিকোলাস। আলোয় আকৃষ্ট হয়ে সারফেসের দিকে উঠে এলো একটা ঈল, দেখে আঁতকে উঠলো রোয়েন।
গুহাটার ওপারে আরেক বার টর্চের আলো ফেললো নিকোলাস। গর্তটা যদি পাথর ধসে তৈরি হয়ে থাকে, টাইটার টানেল তাহলে তো গুহার ওপারেও থাকার কথা। আছেও, যদিও ওর চোখে নয়, ধরা পড়লো রোয়েনের চোখে। ওটা কি, চৌকো ফাঁকটা?
মুচকি হেসে নিকোলাস বলল, ওটাই আমি খুঁজছিলাম। এ টানেলেরই অংশ ওটা।
আমরা ওপারে যাব কীভাবে? রোয়েন উদ্বিগ্ন।
আশপাশে প্রচু বেওবাব গাছ আছে, ওগুলোর শুকনো কাঠ খুব হালকা, বলল নিকোলাস। ভাসমান একটা ব্রিজ বানাতে কতক্ষণই বা লাগবে।
*
জুলুরা বলে–এনকুলু-কুলু তাঁদের মহান দেবতা, বেওব্যাব গাছকে উল্টো করে মাটিতে গেঁথেছেন, শ্বাস্তি হিসেবে। নিকোলাস জানালো রোয়েনকে।
কেনো? বেওব্যাব গাছের এমন শাস্তি কোনো? কী এমন করেছিল এ গাছ? রোয়েন জানতে চায়।
নিজেকে জঙ্গলের সবচেয়ে উঁচু আর মোটা গাছ বলে বেশ গর্ব ছিল তার। তাই এনকুলু-কুলু এ শাস্তি দিলেন।
সেই বেওব্যাব গাছের কাণ্ড পাশাপাশি পানিতে ফেলে তার দিয়ে বাঁধা হয়েছে, ভাসমান সেতু পেরিয়ে সিঙ্কহোল-এর ওপারে প্রথমে পৌঁছাল নিকোলাস, তারপর ওর পিছু নিয়ে রোয়েন। টানেলের দ্বিতীয় অংশের মুখে দাঁড়ালো দু জন, ভেতরে টর্চের আলো ফেলার সঙ্গে সঙ্গে দুই অংশের পার্থক্যটা ধরা পড়লো চোখে। মুল স্রোতটা নিশ্চয়ই সিঙ্কহোল দিয়ে বেরিয়ে যেত। টানেলের দ্বিতীয় অংশের মাপ প্রথমটার মতোই-তিন মিটার চওড়া, দুই মিটার উঁচু। তবে চৌকো আকৃতি আরো বেশি স্পষ্ট। পাঁচিল আর ছাদ কর্কশ হলেও, এগুলোকে আকৃতি দেয়ার জন্য, যে টুলস ব্যবহার করা হয়েছে তার চিহ্ন পরিষ্কার চোখে পড়লো। পায়ের নিচে টানেলের মেঝে চ্যাপ্টা পাথর ফেলে তৈরি করা হয়েছে, পলেস্তারার কাজ এখনো সবটুকু ক্ষয়ে যায় নি। টানেলের পুরোটা দৈর্ঘ্য জলমগ্ন ছিল, পানি সরে যাবার পরও পিচ্ছিল হয়ে আছে শ্যাওলায়। ভেতরের বাতাসে পচা একটা গন্ধ ভেসে আছে। ড্যানিয়েল তার টেনে নিয়ে এসে আলো জ্বালার ব্যবস্থা করলো। ওরা দেখলো, দ্বিতীয় অংশের শ্যাফট ক্রমশ উপর দিয়ে উঠে গেছে।
