তার মানে পুরস্কার হিসেবে ওদেরকে মামোসের মমি দিতে আপনার কোনো আপত্তি নেই?
যে মমিই পাই, আদৌ যদি পাই, বলল রোয়েন। আমরা যতো দূর জানি, আসল মামোসের মমিটা চুরি করে নিয়ে গেছেন কর্নেল নগু।
খুব সহজ ও স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রোয়েনের কাঁধটা এক হাতে জড়িয়ে ধরলো নিকোলাস। কিন্তু রোয়েন ব্যাপারটাকে ঠিক সহজভাবে নিল না। আড়ষ্ট হয়ে গেল শরীর। তবে কিছু বলল না, হাতটাও সরিয়ে দিল না, খানিক পর বরং একটু পর ঢিল পড়লো পেশীতে।
ওহ, নিকোলাস, আমার যেমন ভয় লাগছে তেমনি উত্তেজিত হয়ে আছি। ভয় লাগছে এ ভেবে যে আমাদের আশা হয়তো পূরণ হবে না। আর উত্তেজিত হয়ে আছি এ আশায় যে টাইটার সঙ্গে খেলাটায় আমরাই জিতব। মুখ ফেরালে ওর নিঃশ্বাস অনুভব করলো নিকোলাস নিজের ঠোঁটে।
রোয়েনকে চুমো খেলো ও, আলতোভাবে, ফুলের স্পর্শের মতো আলতো। এরপর, ধীরে ঠোঁট সরিয়ে পরখ করে দেখলো মেয়েটার মুখ। সরে যাবার কোনো চেষ্টা নেই রোয়েনের অবয়বে, বরঞ্চ একটু এগিয়ে পাল্টা চুমো খেলো ও, নিকিকে। প্রথম চুমোটা হলো স্নেহ-পরবশ–বোনসুলভ, রোয়েনের দু ঠোঁটের পাঁচিল শক্ত করে সেঁটে আছে পরস্পর। এক হাত উপরে নিয়ে এসে তার মাথার পেছনের চুলে ধরলো নিকি, ধরে রাখলো রোয়েনের মুখ, ওর সামনে। প্রবল, সর্বগ্রাসী চুমো খেলো এবারে–রোয়েনের বদ্ধ ঠোঁটের উপর চেপে বসলো ওর ঠোঁট জোড়া।
ধীরে, সুস্বাদু কোনো চকোলেটের মতোই রোয়েনের ঠোঁটজোড়ার বাঁধন আলগা করে ক্রমশই ভেতরে ঢুকে পড়ছে নিকোলাস, জিভ দিয়ে পরখ করছে যেনো মিষ্টি স্বাদ। নরমস্বরে গুঙিয়ে উঠলো মেয়েটা, ওর হাত দুটো জড়িয়ে ধরলো নিকোলাসকে। দু হাতে আঁকড়ে ধরে রইলো নিকির শরীর, দারুণ সাড়া দিচ্ছে ওর চুমোর। দুটো জিভ এখন পরস্পরের সান্নিধ্যে।
জোড়া দেহের মাঝখানে চোরের মতো উঠে এলো নিকোলাসের এক হাত; ধীরে ধীরে খুলে ফেলছে রোয়েনের শার্টের সামনের বোতামগুলো একদম কোমড়ের বেল্ট পর্যন্ত। ওর আলিঙ্গনে একটু সরে বসে কাজটা সহজ করে দিল রোয়েন। পাতলা, সুতির শার্টের নিচে তার উদ্ধত বুকজোড়া একেবারে নগ্ন বিষয়টা অদ্ভুত সুখ এনে দিল নিকোলাসকে। এক হাতে ও দুটোর একটাকে ধরলো ও, ছোট্ট, কিন্তু দৃঢ়, ওর মুঠো পুরোটা ভরলো কেবল। দুই আঙুলে অনুভব করে দেখলো সে বৃন্তটা; পাকা ছোট্ট স্ট্রবেরির মতো দৃঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওটা।
চুমো ভেঙে, মুখটা রোয়েনের নরম বুকে ডুবিয়ে দিল নিকোলাস। নরমস্বরে গুঙিয়ে উঠে ওকে যেনো স্বাগত জানাচ্ছে মেয়েটা। একটা বৃন্তে নিকোলাসের ঠোঁটের স্পর্শে পরম সুখে শ্বাস আটকে আসতে চাইলো রোয়েনের, ওর আঙুলের লম্বা নখগুলো ডেবে গেছে দয়িতের পিঠের গভীরে। পুরুষসঙ্গীর দৃঢ় আলিঙ্গনের ভেতর নিজে থেকে আগুপিছু দুলছে রোয়েন; কিন্তু একটু পরই, ঠোঁট সরিয়ে নিল সে। নিকোলাস ভাবলো, ও হয়তো আমাকে প্রত্যাখ্যান করছে। পরমুহূর্তেই নিকোলাসের চুল খামচে ধরে আরেকটা বুক বাড়িয়ে ধরলো সে, ওর ঠোঁটের সামনে। এবারেও, নিকোলাসের তৃষ্ণার্ত টানার সময় কেঁপে কেঁপে উঠলো তার শরীর।
ক্রমশ উন্মত্ত হয়ে উঠছে রোয়েনের নড়াচড়াগুলো। আর অপেক্ষা করতে পারছে না নিকোলাস–এক হাত রোয়েনের খাকি স্কার্টের নিচে দিয়ে নরম পাপড়ির উপর রাখল ও। হঠাৎই, নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ধড়মড় করে উঠে দাঁড়ালো রোয়েন। দ্রুত হাতে স্কার্ট সমান করে, লাগিয়ে ফেললো শার্টের বোতাম।
আমি আমি খুব দুঃখিত, নিকি! আমি সত্যি চাই অনেক বেশি করে চাই-কিন্তু বড়ো বড়ো শ্বাস নিয়ে বুকের আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করছে মেয়েটা। কিন্তু এখন না! এখনই না! দুটা দুনিয়ার মধ্যে পরে গেছি আমি, নিকি! আমায় ক্ষমা করো! একটা অংশ তোমাকে চায় ওহ, খুব করে চায় কিন্তু আমার অন্য অংশটা যে বাধা দেয়!
উঠে দাঁড়িয়ে, কেতাদুরস্ত চুমো খেল নিকোলাস। তাড়াহুঁড়োর কিছু নেই, হুঁ? সবুরে যেনো কী ফলে? এখন চলুন, আপনাকে আমি বাড়ি নিয়ে যাই!
*
পরদিন ভোরে আলো ভালো করে ফোঁটার আগেই মাই মেতাম্মার প্রতিশ্রুতি অনুসারে সন্ন্যাসীদের প্রথম দলটা উপত্যকা বেয়ে উঠে এলো। এক লাইনের একটা মিছিল, সন্ন্যাসীরা সবাই তরুণ, সবার পরনে সাদা আলখেল্লা, সুর করে গান করতে করতে আসছে।
কী সর্বনাশ! অকারণে হাসি পাচ্ছে নিকোলাসের। আবার না ক্রুসেড বেঁধে যায়।
ডাকাডাকি করে টিসেকে খুঁজলো নিকোলাস, সে কাছে আসার পর বলল, অনুবাদক হিসেবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হলো তোমাকে। ড্যানিয়েল অ্যামহ্যারিক বা আরবীর একটা বর্ণও জানে না, কাজেই ওর কাছাকাছি থাকতে হবে তোমাকে।
ঠিক আছে, নিকি।
দিনের আলো আরো উজ্জ্বল হতে মেককে নিয়ে ড্রপ সাইট দেখতে বের হলো নিকোলাস। দুপুরের দিকে সিদ্ধান্তে এলো, উপত্যকাটাই ব্যবহার করতে হবে। ওদেরকে ঘিরে পাথুরে যে রিজগুলো দাঁড়িয়ে আছে তার তুলনায় উপত্যকার মেঝেই বেশি সমতল, বাধা-বিঘ্নও কম। তাছাড়া, প্লেন থেকে জিনিসগুলো ফেলা দরকার বাঁধ এলাকার যতোটা সম্ভম কাছাকাছি।
পরদিন সকালে নির্বাচিত সাইটে দাঁড়িয়ে মেককে নিকোলাস বলল, টাইম একটা মেজর ফ্যাক্টর। প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে আসছে বর্ষা।
আকাশের দিকে তাকালো মেক। সন্ন্যাসীদের ধরলে ওরা দেরিতে বর্ষা শুরু করার জন্য প্রার্থনায় বসবে।
