ইথিওপিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে আমাদের, বলল রোয়েন।
ফিরবো কীভাবে?
খিড়কি দরজা দিয়ে। নিঃশব্দে হাসলো নিকোলাস। গেট কীপার হিসেবে থাকবে পুরানো দোস্ত মেক।
মেকের সঙ্গে আপনি যোগাযোগ করেছেন?
টিসের মাধ্যমে। মনে হলো, টিসেই এখন মেকের প্রাইভেট সেক্রেটারি। বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে মেক, কারণ বিশাল পরিধি জুড়ে টিসের যোগাযোগ, মেকের দূত হিসেবে আফ্রিকার যে কোন শহরে যেতে পারবে ও, যেসব জায়গায় যাওয়া মেকের জন্য নিরাপদ নয়।
দেখা যাচ্ছে অনেক কাজই সেরে ফেলেছেন আপনি, বলল রোয়েন। মেক কি টাইটার ব্যাপারটা জানেন?
বিশদ জানে না। মাথা নাড়লো নিকোলাস। তবে সন্দেহ করেছে। কিছু আসে যায় না, আমি, তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করি।
ওদিকের আর সব খবর কী?
ফোনে কথা বলার সময় টিসেকে খুব উত্তেজিত মনে হলো, বলল নিকোলাস। পরিষ্কার কিছু বলতে পারলো না, তবে শুনেছে সেইন্ট ফুমেনটিয়াস মঠে নাকি হামলা করা হয়েছে। জালি হোরা সহ চল্লিশ জনের মতো সন্ন্যাসী হতাহত হয়েছেন। চার্চে যেসব পবিত্র পুরানিদর্শন ছিল সবই নাকি লুঠ হয়ে গেছে।
ওহ, ডিয়ার গড, ননা! স্তম্ভিত দেখালো রোয়েনকে।এ কীভাবে সম্ভব! কারা করলো?
ডুরেঈদকে যারা খুন করেছে, বলল নিকোলাস। আর আপনাকে খুন করা জন্য তিনবার চেষ্টা করেছে।
পেগাসাস।
হ্যাঁ, বলল নিকোলাস।হের ফন শিলার।
এর জন্য আমরাই দায়ী। ফিসফিস করে রোয়েন বলে। আমরাই তো ওদের পথ দেখিয়ে ওই পবিত্র স্থানে নিয়ে গেছি। নির্ঘাত আমাদের ক্যাম্প থেকে চুরি যাওয়া পোলারয়েড ছবি দেখে ওরা ট্যানাসের কফিনের সন্ধান পেয়েছে।
ওহ হো, রোয়েন। ফন শিলারের পাগলামীর জন্য নিজেদের দায়ি করার কোনো মানে হয় না। তীক্ষ্ণ স্বরে নিকোলাস বলল।
আমরাই তো এসব শুরু করেছি। রোয়েন তবু শান্ত হয় না।
মোটেও না। আমরা কাউকে মারি নি। আর ফন শিলার পুরো মাকডাস খালি করে ফেলেছে।
নিকি, আমার যে কি খারাপ লাগছে।
তার মানে কি ধরে নেবো পুরো অভিযান আপনি বাতিল করতে চান? কাটা কাটা স্বরে বলল এবারে নিকোলাস।
কিছু সময় নিয়ে ভেবে, মাথা নাড়লো রোয়েন।
না। এমনও হতে পারে, ফিরে গিয়ে টাইটার পুলের তলায় পাওয়া ধন সম্পদের মাধ্যমে কিছুটা হলেও সন্ন্যাসীদের ক্ষতিপূরণ দিতে পারবো আমরা।
তাই আশা করি, স্বস্তির ভঙ্গিতে সায় দেয় নিকোলাস। আমিও তাই চাই।
*
দৈত্যাকার হারকিউলিস সি-এমকে ওয়ান চার ইঞ্জিন বিশিষ্ট টারবো প্রপ প্লেন, গায়ের রঙ ধূসর খয়েরি, ফিউজিলাজের আইডেনটিফিকেশন লেটারিং ঝাপসা হয়ে গেছে। প্লেনের কোথাও আফ্রিকান স্কাই লেখা নেই। জেনি বাদেনহোর্সটের হাতে পড়ার আগে চল্লিশ বছরে পাঁচ লাখ ঘণ্টা উড়েছে ওটা।
মাল্টার ভ্যালেটা এয়ারফিল্ডের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা প্লেনটার দিকে ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে আছে রোয়েন। উড়বে তো? জিজ্ঞেস করলো ও।
জেনি ইচ্ছে করেই ওটার চেহারা এরকম করুণ করে রেখেছেন, ওকে আশ্বস্ত করলো নিকোলাস।
পাইলট হিসেবে কেমন ওঁরা?
দু জনেই, মানে বাপ ও ব্যাটা, ফাস্ট-রেট অ্যারো ইঞ্জিনিয়ার। বিগ ডলির ইঞ্জিন চকচকে রেখেছে এখনো।
বিগ ডলি কী জিনিস?
ডলি পারটনের বড়ো ভক্ত আমাদের জেনি।
হ্যাঙ্গার থেকে বেরিয়ে এলেন জেনি বাদেনহোর্সট, হাতছানি দিয়ে ডাকলেন ওদের। তাঁর পিছু নিয়ে বিশাল হ্যাঁঙ্গারে ঢুকলো ওরা, থামলো ছোট একটা অফিসের সামনে, দরজায় লেখা রয়েছে আফ্রিকান স্কাই। ভেতরে সুন্দরী একটা মেয়ে বসে রয়েছে।
জেনি বাদেনহোর্সটের নতুন সেক্রেটারি, ফিসফিস করলো নিকোলাস।
ম্যাচিউর আর রক্ত-রঙা চুলের না হলে ওর আবার মনে ধরে না!
ম্যারা ওদেরকে কফি পরিবেশন করলো। জেনি বাদেনহোর্সটের সঙ্গে ফ্লাইট প্ল্যান নিয়ে কথা হলো নিকোলাসের।
জ্ঞাতি ভাই গাদ্দাফীর সঙ্গে এ মুহূর্তে আমার একটু এ কষাকষি চলছে, তাই তাঁর রাজ্য এড়িয়ে প্লেন চালাতে হবে আমাকে। মিশরের উপর দিয়ে যাব, তবে ল্যান্ড করব না। হাত তুলে ডেস্কে ছড়ানো ম্যাপগুলো দেখালেন তিনি। সুদানে আবার গৃহযুদ্ধ চলছে, তবে উত্তর দিকটায় রাডার ব্যবস্থা আধুনিক নয়, তাই ব্ল্যাঙ্ক স্পট থেকে উড়ে যাওয়া কঠিন হবে না। সামরিক স্থাপনাগুলোর কাছ থেকে দূরে থাকব আমরা। ল্যান্ড করবো সীমান্তের বেশ খানিক এ দিকে।
ফ্লাইং টাইম সম্পর্কে একটা ধারণা দিন, বলল নিকোলাস।
পনেরো ঘণ্টা।
রিফুয়েলিং?
দরকার হবে না। এক্সটা ট্যাংক আছে। একাত্তর হাজার কিলো ফুয়েল নিচ্ছি। হ্যাঁঙ্গারের গেট দিয়ে বড় একটা ট্রাক ঢুকলো। ফ্রেড আর ড্যানিয়েল ফিরে এসেছে।
ট্রাকটা থামলো হ্যাঁঙ্গারের শেষ মাথায়, ওখানে ইকুইপমেন্ট ও স্টোর তূপ হয়ে রয়েছে, ললাড করার জন্য তৈরি। ট্রাক থেকে নেমে এলো ফ্রেড, নিকোলাস ও রোয়েনের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো। ছেলেটা বাপেরই তরুণ সংস্করণ।
এটাই শেষ ট্রাক, ট্রাকের সামনের দিকটা ঘুরে এগিয়ে এলো ড্যানিয়েল। আর কোনো কার্গো নেই। ইচ্ছে করলে এখুনি আমরা প্লেনে ওগুলো তুলে ফেলতে পারি। আমার ফ্রন্ট-এন্ড লোডিং ট্রাক্টর একদম শেষে তুলবো।
ভোর চারটের সময় রওনা হতে চাই আমরা, বলল নিকোলাস। সব কার্গো একসঙ্গে নেওয়া যাচ্ছে না, হারকিউলিসকে আরো একবার কার্গো নিয়ে যেতে হবে।
