ওকে অপেক্ষা করিয়ে রাখা হচ্ছে, বুঝতে পেরে আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিল রোয়েন। আপনার যদি এতোই বুদ্ধি, তাহলে বিখ্যাত নন কেন? প্রশ্নটা করার পর হঠাৎ ভুরু কোঁচাকাল। পুরানো পদ্ধতি? তার মানে টাইটা যেভাবে কাজটা করেছিল? ডাইভিং ইকুইপমেন্ট ছাড়া যেভাবে সে হ্রদের তলায় পৌঁছেছিল?
কী সাংঘাতিক! উনি তো ধরে ফেলেছেন! নিকোলাস, কে কাকে সারপ্রাইজ দিচ্ছে? অসহায় দেখালো ড্যানিয়েলকে।
একবার তালি মারলো রোয়েন। বাধ! বলল ও। চার হাজার বছর আগে টাইটা যেখানে বাঁধ দিয়েছিল আপনারাও সেখানে আবার বাঁধ দিতে চাইছেন!
টেবিল ছেড়ে দেয়ালের পাশে এসে দাঁড়ালো ড্যানিয়েল, দেয়াল ঘেঁষে খাড়া করা পর্দা ঢাকা একটা বোর্ড রয়েছে ওখানে। পর্দাটা সরালো সে উন্মোচিত হলো পিন দিয়ে আটকানো এনলার্জ করা ফটোগুলো। ডানডেরা নদীর যেখানে টাইটা বাঁধ। তৈরি করেছিল বলে ধারণা করে ওরা, নিকোলাসের তোলা সেই জায়গার ফটো রয়েছে এখানে। আর রয়েছে তামেরের দেখানো প্রাচীন পাথরখনির ফটো।
ওগুলোর উপর মার্কার পেন দিয়ে রেখা টানা হয়েছে, দূরত্বের হিসাব রেখাও হয়েছে।
নিকোলাস আমাকে এ পয়েন্টে রিভার বেড-এর ডাইমেনশন-এর হিসাব দিয়েছে, আগের প্রবাহ ফিরে পেতে হলে কতটা উঁচু করতে হবে পাঁচিল, তারও আনুমানিক একটা হিসাব আমরা বের করেছি। সঙ্গে খুব কম ইকুইপমেন্ট থাকবে, তবু কাজটা করা সম্ভব বলে মনে করি আমি।
প্রাচীন মিশরীয়রা যদি করতে পারে, আপার জন্য কাজটা পানির মতো সহজ হবার কথা, ড্যানিয়েল, মন্তব্য করলো রোয়েন।
ধন্যবাদ, রোয়েন, আড়ষ্ট হেসে বলল স্যাপার ওয়েব। তবে কাজটা সহজ নয় মোটেই। বোর্ডে আটকনো ড্রইংগুলোর দিকে তাকালো সে। বাঁধ তৈরি করার অনেক পদ্ধতি আছে, তবে আজকাল যে পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় তাতে হাতের কাছে রিউনফোর্সড কংক্রিট আর হেভি আর্থ-মুভিং ইকুইপমেন্ট দরকার। এসব আধুনিক সুবিধে আমরা পাব বলে মনে হয় না।
টাইটা তো বুলডোজারের সাহায্য ছাড়াই কাজটা করেছিল।
কিন্তু তার ছিল বিপুল লোকবল।
লোকবল কমবেশি আমরাও যোগাড় করতে পারব।
নিকোলাস বলল, বর্ষা শুরুর আগে আমাদের হাতে সময় মাত্র দু মাস। ভাবছি মঠ সন্ন্যাসীদের সাহায্য পাওয়া যাবে কিনা।
তোমরা আমাকে শ্রমিক এনে দেবে, আমি তোমাদেরকে বাঁধ তৈরি করে দেব, প্রতিশ্রুতি দিল ড্যানিয়েল। আগে যেমন বলেছি, পুরানো পদ্ধতিই ভালো। প্রাচীন মিশরীয়রা মুল বাঁধের ভিত তৈরির জন্য যে কফার ড্যাম আর গ্যাবিয়ন সিস্টেম ব্যবহার করেছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
সরি বাধা দিল রোয়েন। গ্যাবিয়ন? ইঞ্জিনিয়ারিঙে আমার কোনো ডিগ্রী নেই।
সরি বলা উচিত আমার, আড়ষ্ট হেসে বলল ড্যানিয়েল। আমার ড্রইংগুলো দেখুন, প্লিজ। বোর্ডের দিকে ফিরলো সে। এই টাইটা ভদ্রলোক সম্ভবত বাঁশ বা বেত দিয়ে বিশাল আকারের ঝুড়ি তৈরি করে সেগুলোয় পাথর ভরেছিলেন। এগুলোকে গ্যাবিয়ন বলে। বোর্ডের আঁকা নকশা দেখালো সে। তারা গ্যাবিয়নগুলোর মাঝখানে বৃত্তাকার পাঁচিল তোলার জন্য কাঠ ব্যবহার করেন। সেগুলোও তিনি পাথর আর মাটি দিয়ে ভরাট করেন।
মোটামুটি একটা ধারণা পাচ্ছি, বলল রোয়েন। তবে এতো সব খুঁটিনাটি আমার না জানলেও চলে।
তা ঠিক, বলল ড্যানিয়েল। নিকোলাস আমাকে জানিয়েছে, কাঠের কোনো অভাব হবে না। তবে বাঁশ বা বেতের বদলে ব্যবহার করব তারের জাল, গ্যাবিয়ন তৈরির কাজে।
তারের জাল? রোয়েন অবাক। অ্যাবি উপত্যকায় আপনি তারের জাল পাবেন কোত্থেকে?
কাছাকাছি একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে তৈরি হচ্ছে ওগুলো, বলল ড্যানিয়েল। অন্যান্য ইকুপিমেন্টেরও অর্ডার দেওয়া হয়েছে।
পাথরখনির কথাটাও বলো, উৎসাহ যোগালো নিকোলাস।
মাথা ঝাঁকালো ড্যানিয়েল। পাথরখনির ফটো দেখেছি আমি। দেড়শোর বেশি গ্র্যান্টি ব্লক সাইজ করা আছে। তারের জাল আর টিম্বার কফার ওয়াল-এর সঙ্গে যদি এ ব্লকগুলো ব্যবহার করি, মুল বাঁধের ভিত খুব শক্ত হবে।
একেকটা ব্লক কত টন ওজন, আন্দাজ করতে পারেন? আনবেন কীভাবে? প্রশ্ন করার পর হাত তুললাম রোয়েন। থাক, বলতে হবে না। আপনি সম্ভব বললে আমি মেনে নিব।
সম্ভব, আশ্বস্ত করলো ড্যানিয়েল।
টাইটা যখন আনতে পেরেছে, আমরাও পারব, বলল নিকোলাস। তার পদ্ধতিই ব্যবহার করব আমরা। আপনার এতে খুশি হওয়ার কথা। হাজার হোক,
সে আপনার আত্মীয়।
ঠাট্টা নয়, আত্মীয়ই তো।
সমস্ত ইকুইপমেন্ট কাল থেকে লোড করার কাজ শুরু হবে, বলল নিকোলাস। আপনাকে বলা হয় নি, আমরা মাল্টায় যাচ্ছি।
মাল্টায় কেন?
কেননা, মাল্টায় জেনি বাদেনহোর্সট-এর হোম বেস।
জেনি কি?
জেনি বাদেনহোর্সট, আফ্রিকা এয়ার-এর মালিক।
কিছুই তো বুঝছি না, কে এ?
আফ্রিকা এয়ার হলো একটা এয়ার ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি, জেনি আর ওর ছেলে ফ্রেড মিলে চালায়। রদ্দি কিছু হারকিউলিস বিমান আছে ওদের। মাল্টা হলো বেস। একেবারে নির্ঝঞ্ঝাট দেশ–কোনো আফ্রিকান পলিটিক্স নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য আর উত্তর আফ্রিকার যে কোথাও যেতে হলে এটাই হলো ভালো পথ। মূলত বিভিন্ন মুসলিম দেশে ড্রাগস চোরাচালানে ব্যবহৃত হয় জেনির বিমান, তাকে তাই মধ্যপ্রাচ্যের এলো ক্যাপোনো বলতে পারেন। তিব্বতে আমি আর ডুরেঈদ এ জেনির বিমানেই গিয়েছিলাম। এবারে, ও আমাদের অ্যাবেতে নিয়ে যাবে।
