আপনাকে দেখে দারুণ তপ্ত মনে হচ্ছে। কায়রো সফর কেমন হলো?
কায়রো সবসময়ই আমার কাছে টনিকের মতো। অনেক পুরনো বন্ধুর সাথে দেখা হলো। রোয়েন বলে।
বাসায় তো কোনো খাবার নেই। থেমে, সামনে কোনো পাবে খেয়ে নেবেন?
আগে মাকে দেখতে চাই। অনেক দিন দেখি না। কেমন আছেন, কে জানে।
গত পরশু গিয়েছিলাম দেখতে। ভালোই আছেন। নিকোলাস বলে। নতুন কুকুর ছানাটা বেশ মনে ধরেছে। নাম কি রেখেছে শুনবেন–টাইটা!
সত্যি, আপনি খুব দয়ালু মানুষ।
ভালোলাগে ওনাকে। চলুন, এক বোতল লাফ্রোয়েগ কিনে তাকে দেখে আসি।
মধ্যরাত হয়ে গেল জর্জিনার কটেজ ছেড়ে বের হতে। দারুণ খাওয়া-দাওয়ার পর, ওদেরকে দরজায় বিদায় জানালেন তিনি। বুকে ধরে আছেন নতুন কুকুরছানা টাইটা-কে।
আপনি আমার মা-কে খারাপ করে দিচ্ছেন! অনুযোগের সুরে রোয়েন বলে।
কে-কাকে খারাপ করছে? নিকোলাস জানতে চায়।
আমাকে উনার সাথে থাকতে দেওয়া উচিত ছিল।
এখন তো টাইটা আছে তার সাথে। আর, আপনাকে আমার এখন হাতের কাছে রাখা দরকার। মিশরে যখন ছিলেন, কাজ অনেক এগিয়ে রেখেছি।
ইয়র্ক মিনিস্টারের পেছনের ফ্ল্যাটে কুয়েনটন পার্কের হাউজকিপার কামরা প্রস্তুত করে রেখেছিল।
ফ্ল্যাটে পৌঁছে রোয়েনের ব্যাগ নিয়ে করিডর ধরে এগুচ্ছে নিকোলাস, পাশের একটা কামরা থেকে নাক ডাকার আওয়াজ শুনে থমকে দাঁড়ালো রোয়েন। কে ওখানে?
স্যাপার ওয়েব, বলল নিকোলাস। দলের নতুন সদস্য। আমাদের নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ার। কাল আপনার সঙ্গে পরিচয় হবে। দাঁড়িয়ে পড়েছে নিকোলাস, ওর পেছনে এসে দাঁড়াতে হলো রোয়েনকেও।
আপনি কি কুয়েনটন পার্কে থাকছেন, না এখানে?
আরে না! কুয়েনটন পার্কে আমি আছি জানলে ব্যাঙ্কের লোকেদের আসার. ধুম পরে যাবে। ওদের সাথে এখন দেখা করতে চাচ্ছি না। আপনার উপরের তলার বেডরুমে আছি। কোনো প্রয়োজন হলে ডাকবেন।
নিকোলাস চলে যেতে ছোট্ট রুমটার চারপাশে চোখ বোলালো রোয়েন। বেশ বড়ো একটা বেড, সঙ্গে ছোট্ট এটাচ বাথরুম। বিছানায় শুয়ে তার মনে হলো, নিকোলাস বলেছে প্রয়োজন হলে ডাকতে!
প্রলোভন দেখিও না! ফিসফিসালো রোয়েন, ছাতের দিকে তাকিয়ে।
অ্যাবি গিরিখাদে ফিরে গেল ও। নিকোলাসের মেদহীন একহারা কাঠামো, ঘামে ভেজা, খাড়া ট্রেইল ধরে উঠে যাচ্ছে, পিঠে ঝুলে রয়েছে ও।
রোয়েনের অস্তিত্ব তারস্বরে চিৎকার করে জানান দিচ্ছে সর্বগ্রাসী এক ক্ষুধার কথা।
যথেষ্ট হয়েছে আজে-বাজে চিন্তা! নিজেকেই বকুনি দিল ও, বাথরুমে ঢুকলা শাওয়ার নিতে।
*
পরদিন সকালে দরজায় নিকোলাসের ধাক্কায় ঘুম ভাঙলো রোয়েনের।
ব্রেকফাস্ট খেতে বসে তার সঙ্গে ড্যানিয়েলের পরিচয় করিয়ে দিল ও। ড্যানিয়েলের বয়স পঁয়ত্রিশের মতো, দারুণ স্বাস্থ্যবান।
হ্যালো, আমি রোয়েন আল সিমা, রোয়েন বলে।
ওহ হো, আমারই পরিচয় করিয়ে দেওয়া উচিত ছিল, ডিম পোঁচে ঘা দিয়ে নিকোলাস বলে উঠে। এ হলো ড্যানি ড্যানিয়েল ওয়েব, বন্ধুরা ডাকে স্যাপার।
রোয়েনকে সে বলল, আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে খুশি হলাম, মিস আল সিমা।
মাথা নাড়লো রোয়েন। না, আমাকে শুধু রোয়েন বলে ডাকবেন, প্লিজ। :
ব্রেকফাস্টে বসে ইথিওপিয়া বা টাইটা প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হলো না, ড্যানিয়েল আর নিকোলাস নিজেদের অতীত স্মরণ করে খানিকক্ষণ হাসাহাসি করলো। তারপর হাতে কফির কাপ নিয়ে দাঁড়ালো নিকোলাস, আসুন, রোয়েনকে বলল। আপনাকে একটা জিনিস দেখাই।
ওর পিছু নিয়ে সিটিংরুমের সামনে এসে দাঁড়ালো রোয়েন আর ড্যানিয়েল। কামরাটার দরজা খুলে নাটকীয় ভঙ্গিতে কুর্নিশ করলো নিকোলাস, বলল, দয়া করে ভেতরে ঢুকুন!
সেন্ট্রাল টেবিলের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে জলজ্যান্ত ডোরাকাটা ডিক-ডিক, শিং সহ। আফ্রিকা থেকে আনা ছালটা কিছু দিয়ে ভরা হয়েছে, জায়গামতো বসানো হয়েছে শিং দুটো-ব্যস, তৈরি হয়ে গেছে নিখুঁত মডেল। রোয়েনের মনে হলো, এখুনি ওটা লাফ দেবে। ওহ, নিকোলাস, কি সুন্দর! ডিক-ডিককে ঘিরে চক্কর দিচ্ছে ও।
মডেলটা সব কথা মনে করিয়ে দিল রোয়েনকে। গিরিখাদের ঝোঁপের ভেতর প্রচণ্ড গরম, খাদ থেকে নিচে পড়ে যাবার ভয়, ডানডেরা নদী, টাইটার পুল, পেগাসাসের হেলিকপ্টার, মঠ, সন্ন্যাসী, তামেরের মর্মান্তিক মৃত্যু, সব যেনো একসঙ্গে ভিড় করে এলো মনের কানাচে। অদ্ভুত এক বিষণ্ণতা গ্রাস করলো ওকে। সেটা বুঝতে পেরে ওর একটা হাত ধরে টান দিল নিকোলাস, ফিরিয়ে আনলো ডাইনিং রুমে।
ডানডেরা নদীর গহ্বরে কীভাবে নামব, আসুন আলোচনা করি, বলল নিকোলাস। আপনি ছিলেন না, ড্যানিয়েল আর আমি একটা প্ল্যান তৈরি করেছি। আপনার মনে আছে তো, টাইটার পুলে ডুব দেয়ার জন্য স্কুবা ব্যবহার করার কথা ভেবেছিলাম আমরা? কী কী সমস্যা আছে তা-ও বলেছিলাম।
হ্যাঁ, মনে আছে, বলল রোয়েন। আপনি বলেছিলেন অ্যান্ডারওয়াটার ফাটলের কাছে প্রেশার খুব বেশি, কাজেই অন্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
হ্যাঁ। সেই অন্য পদ্ধতির কথা আমাকে জানিয়েছেন ড্যানিয়েল। বলা যায়, সমস্যাটার সমাধান হয়ে গেছে।
ড্যানিয়েলের দিকে তাকালো রোয়েন। ড্যানিয়েল একবার কেশে গলা পরিষ্কার করলো, তারপর বলল, একটু আভাস দিই। মাঝে মধ্যে পুরানো পদ্ধতিই সবচেয়ে ভালো কাজ দেয়।
