“হ্যাঁ, তোর জন্যে ওনার একটা কাজ আছে,” পুলা গোমড়া মুখে ওকে আশ্বস্ত করল। “তবে সেজন্যে ধৈর্য ধরা ছাড়া আর কিছুই করা লাগবে না।”
প্রহরীরা বনের ভিতর থেকে একটা গাছ টেনে নিয়ে আসলো। একজন মানুষের বাহুর সমান মোটা। ওরা বাকল চেঁছে ফেলে এক প্রান্ত কেটে একটা সূচালো গজালের মতো বানিয়ে ফেললো। বাকিরা হাতের শাবল দিয়ে রাস্তার ধারেই একটা গর্ত খুঁড়তে লাগলো। বন্দী ডাকাতেরা চেয়ে রইলো সেদিকে। গলায় বেড়ি পরে থাকার পরেও তারা আতংকে চেঁচামেচি শুরু করে দিলো ওরা। বুঝতে পেরেছে যে ওদেরকে দিয়ে এরা কি করতে যাচ্ছে।
পুলা ওদের সামনে এসে দাঁড়ালো। তারপর হাতটা অর্ধেক তুলে সবার দিকে একে একে তাক করতে লাগলো, যেনো সে কসাইয়ের দোকানের কোনো খরিদ্দার, ঠিক বাছাই করতে পারছে না কোনটা থেকে মাংস নেবে। ক্রিস্টোফারের উপর ওর দৃষ্টি এসে স্থির হলো।
“তুই সবার শেষে,” ওকে বললো পুলা। “তোর সামনে একে একে তোর সব সঙ্গী সাথী মরবে এখন।”
ক্রিস্টোফারের পাশে বসে থাকা একজনের দিকে আঙুল দিয়ে দেখালো ও। কৃশকায় একজন লোক, নাম বিজয়। বিজয়ের দায়িত্ব ছিলো পুলার দিকে নজর রাখা। আর দায়িত্ব পালনের সময় ও মোটেও খুব বেশি ভালো আচরণ করেনি। টুঙ্গারের লোকেরা ঘোড়া থেকে শেকলটা খুলে রাস্তার মাঝখানে নিয়ে এসে দাঁড় করালো ওকে। ধ্বস্তাধস্তি শুরু করলো বিজয়। কিন্তু সৈন্যেরা ওকে উপুড় করে মাটির সাথে চেপে ধরলো। টুঙ্গার এগিয়ে এসে হাঁটু গেড়ে বসলো ওর পাশে।
টুঙ্গারের হাতে এক টুকরো খাসীর চর্বি দেখা গেলো। এটা দিয়ে রাইফেলের কার্তুজে তেল দেয় ও। চর্বিটা ও চোখা খুটিটার গায়ে লেপে দিলো। ওর লোকেরা উল্লাস করে নোংরা ইংগিত করতে লাগলো।
বিজয় মোচড়ামুচড়ি করতে করতে এতো জোরে চিৎকার করতে লাগলো যে প্রহরীরা ওর মুখের ভিতরে একটা ন্যাকড়া ঢুকিয়ে দিলো।
যে প্রহরীগুলো বিজয়ের পা ধরে রেখেছিলো, তারা ও দুটোকে দুদিকে টেনে ধরলো। আরও দুজন লোক এসে সূচালো দণ্ডটা এনে ওর নিতম্বের মাঝে চেপে ধরলো। ক্রিস্টোফারের সহ্য হলো না দৃশ্যটা। চোখ বন্ধ করে ফেললো। তবে হাত বাঁধা থাকায় কান চাপা দিতে পারলো না। বিজয় ওর মুখের ন্যাকড়াটা ঠেলে ফেলে দিয়েছে। শুলটা ওর পায়ুপথ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করতেই প্রচণ্ড আর্তনাদে জঙ্গল দুই ভাগ হয়ে গেলো যেনো। এরা এদের কাজ কর্ম ভালোই পারে। বিজয়ের চিৎকার থেকেই ক্রিস্টোফার বুঝতে পারলো যে এরা এমনভাবে শূলটা ঢুকিয়েছে যাতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো অঙ্গে খোঁচা না লাগে। তাহলে খুব তাড়াতাড়ি মরে যাবে বন্দী।
ক্রিস্টোফার চোখ খুললো। বিজয় পড়ে আছে মাটিতে, চিৎকার চলছেই। চিৎকার দ্বিগুণ হয়ে গেলো যখন প্রহরীরা শূলটা সোজা উপরের দিকে তুলে ধরলো। বিজয় দণ্ডটা বরাবর নিচে নেমে এলো, আর চোখা মাথাটা ওর শরীরের আরো গভীরে ঢুকে গেলো। কিন্তু প্রহরীরা দণ্ডটার মাঝ বরাবর একটা আড়কাঠ লাগিয়ে দিয়েছে যাতে খুব বেশি ভিতরে না ঢোকে। বিজয় তড়পাতে তড়পাতে একসময় নিস্তেজ হয়ে শিকে ঢোকানো মুরগির মতো ঝুলে রইলো। ওর পায়ু দিয়ে রক্ত বেরিয়ে নিচেই একটা ছোটোখাটো পুকুর হয়ে গিয়েছে। মাছির দল তাতে মহানন্দে সাঁতার কাটছে।
প্রহরীরা শূলটার গোড়া একটু আগে খোঁড়া গর্তে ঢুকিয়ে আবার মাটি আর পাথর দিয়ে ভরে দিলো, যাতে ওটা খাড়া হয়ে থাকে। তারপর পিছনে সরে এসে নিজেদের কাজ উপভোগ করতে লাগলো। নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছে। বিজয় কতক্ষণ টিকবে তা নিয়েও নিজেদের মধ্যে বাজি ধরতে শুনলো ক্রিস্টোফার। বেশিরভাগই বললো দুই কি তিন দিন। বিজয় এখন আর চিৎকার করছে না, ফোঁপাচ্ছে আর বাতাসের জন্যে হাঁসফাস করছে। কারণ দণ্ডটার খোঁচায় ওর ফুসফুস ছ্যাদা হয়ে গিয়েছে।
পুলা সামনে এগিয়ে এসে চেহারায় একজন ধর্ষকামীর আনন্দ নিয়ে ক্রিস্টোফারের দিকে চেয়ে রইলো।
“এখান থেকে চিত্তাত্তিঙ্কারা প্রায় বিশ মাইল। প্রতি দুই মাইল পর পর তোর একজন লোকের এই হাল করবো আমি। তারপর যখন রানির মহলে পৌঁছাবো, তখন তোকে আর তোর ঐ মাগীটাকে সদর দরজার দুই পাশে গেঁথে রাখবো। তাহলেই সবার শিক্ষা হবে যে যারা রানির কর্মচারীদের গায়ে আঙুল তোলে বা তার ব্যবসায় বাধা দেয়, তাদের কি অবস্থা হয়।”
*
পরের দুই দিন ধরে পুলা তার হুমকি অক্ষরে অক্ষরে পালন করলো। একে একে সবগুলো ডাকাতকেই ধরে নিয়ে রাস্তার ধারে শূলে চড়িয়ে দেওয়া হলো। অবশেষে যখন ওরা পাহাড়ের নিচের মহলে পৌঁছালো তখন শুধু ক্রিস্টোফার আর তামান্নাই বাকি আছে।
ক্রিস্টোফার ভেবেছিলো বারবার একই দৃশ্য দেখতে দেখতে হয়তো ওর আর এ বাপারে কোনো অনুভূতি থাকবে না। কিন্তু দেখা গেলো এতে করে। আতংক আরো কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। যতোবার ও কারো পিছন দিক। দিয়ে গজাল ঢুকে যাওয়া দেখলো, ততোবার ওর নিজের পায়ুর পেশিও সঙ্কুচিত হতে লাগলো। শত চেষ্টা করেও এই ভয়ানক দৃশ্য থেকে চোখ ফেরাতে পারছিলো না। টানা কয়েকদিন দানা পানি না পেয়ে ও উল্টাপাল্টা দেখা আরম্ভ করলো। স্বপ্নে দেখতে লাগলো যে ও ওর বাবার পড়ার ঘরে উপস্থিত, পায়জামা গোড়ালি পর্যন্ত নামানো, একটা চেয়ারের উপর বাঁকা হয়ে অপেক্ষা করছে কখন চাবুকের বাড়ি পড়বে। আর ওর মা চুপচাপ ঘরের এ কোণে বসে ওকে শক্ত হতে বলছে। একবার স্বপ্নে দেখলো ও তামান্নাকে আদর করছে। আবেশে তামান্না হাত ক্রিস্টোফারের পিঠে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তামান্না যখন ওর হাত সামনে আনলো, ক্রিস্টোফার দেখলো সেই হাত দিয়ে ওর পিঠ থেকে এক তাল মাংস খুবলে নিয়ে এসেছে।
