“কিন্তু সেজন্যে আপনাকে লন্ডনের নৌ আদালতে যেতে হবে,” টম বললো। ডাওজার-এর ক্যাপ্টেন ইঞ্চবার্ডের সাথে ওর কথোপকথন মনে পড়লো টমের। “লন্ডনে আমার প্রভাবশালী বন্ধুবান্ধব আছে। একবার যদি ওখানে কেস ওঠে তাহলে আপনার সব বাণিজ্যের চালান খতিয়ে দেখা হতে পারে। তখন কিন্তু আপনার সারা বছরের সব মুনাফাই হারাবেন।”
ফয় গরগর শব্দ করে উঠলো, ঠিক যেনো একটা অসন্তুষ্ট কুকুর। “আপনি কি আমাকে হুমকি দিচ্ছেন স্যার?”
“আরে না, না! কি যে বলেন। আমি আপনাকে বোঝাতে চাচ্ছি যে আমরা চাইলেই এমন একটা সমঝোতায় আসতে পারি যেটায় দুজনেরই লাভ হয়।”
ফয় ভ্রু কুঁচকে ডেস্কে রাখা কাগজগুলোর দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর আবার একটা খেজুর মুখে পুরে শব্দ করে চাবাতে লাগলো।
“অর্ধেক,” ফয় বললো।
“আচ্ছা,” টম রাজি হলো। “তবে আমাদের বাড়ি ফেরার উপায় হওয়ার আগ পর্যন্ত আপনার এখানেই থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।”
“আপনারা সৈন্যদের ব্যারাকে থাকতে পারবেন, আর কোম্পানির ক্যান্টিনে খাবেন। আমি সব খরচ পরে কেটে নেবো।” তারপর অধৈর্য ভঙ্গিতে হাত নেড়ে বললো, “এখন আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার হাতে যথেষ্ট কাজ আছে।”
টম ভাবলো এ আবার ওদের সম্পর্কে গাইকে লিখে জানাবে না-তো? ও দরজার সামনে থেমে দাঁড়ালো। “আপনি বোম্বের গভর্নর কোর্টনীর কথা বললেন। আপনারা কি পরিচিত?”
ফয়ের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে গেলো। শুধু পরিচিত? খুবই ঘনিষ্ট আমরা। গাই কোর্টনী আমার গুরুর মতো-না, আমার বন্ধু। ওনার জন্যেই আজ আমি এই অবস্থানে এসেছি। অবশ্য আমিও ওনাকে সুরাটের সওদাগরদেরকে ঠাণ্ডা করতে ছোটখাটো কিছু সাহায্য করেছিলাম।”
টম মনে মনে ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিলো যে ও ফয়কে নিজের আসল পরিচয় বলেনি। “উনি ভালো আছেন?”
“আছেন ভালো মন্দ মিলিয়ে। এই বাজে আবহাওয়ায় ইদানিং আর ঘর ছেড়ে তেমন একটা বের হন না।”
“আর ওনার পরিবার? ওনারতো একটা ছেলে ছিলো, তাই না?”
টমের পাশ সারাহ নাক সিটকালো। ও কনুই দিয়ে টমের পাজরে তো দিলো কিন্তু ফয় তখন গাই-এর সাথে নিজের ঘনিষ্টতা প্রমাণে ব্যস্ত, তাই খেয়াল করলো না ব্যাপারটা।
“আহ! ওনার ছেলেটা আসলে একটা কুলাঙ্গার। বড়সড় কুলাঙ্গার,” আবার বললো ও। “বাবার আদেশ অমান্য করে পালিয়ে গিয়েছে বাড়ি ছেড়ে। এরপর আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। গাই বলেন যে এটা ওর মায়ের প্রভাবে হয়েছে।”
টম আরো কিছু জিজ্ঞেস করবে ভেবেছিলো, কিন্তু ফয় দেরিতে হলেও টমের কণ্ঠে আগ্রহের ব্যাপারটা খেয়াল করে ফেললো। ওর চোখে কেমন একটা ঈর্ষা দেখতে পেলো টম।
“আপনারা পরিচিত নাকি?”
“বহু দিন আগের কথা,” টম বললো। “উনি এই ফ্যাক্টরির খোঁজ খবর রাখেন নাকি?”
“নাহ! উনি এখন পর্যন্ত একবারও তার পদধূলি দেননি এখানে।” ব্যাপারটা নিয়ে যায় যে আসলেই দুঃখিত তা স্পষ্টতই বোঝা গেলো। “তবে তার ভায়রা এখানে আছেন। এই দুর্গেই এখন আছেন উনি।”
একটা ঠাণ্ডা স্রোত টমের শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে গেলো। ওকে কি চিনে ফেলেছে? ‘গাইয়ের ভায়রা’ মানে? টম আর গাই দুই বোনকে বিয়ে করেছে, কিন্তু ওরা তো আপন ভাই।
“বুঝলাম না,” যতোটা সম্ভব নির্মোহ গলায় বললো টম। ঘরের ভিতর একটা অস্ত্রের খোঁজে তাকালো ও। ব্যবহার করতে পারে এরকম যে কোন কিছু। দরজার প্রহরীর কাছ থেকে মাস্কেটটা কেড়ে নেবে কিনা ভাবলো। গুলির আওয়াজ পাওয়া গেলো সৈন্যদলের এখানে পৌঁছাতে কতোক্ষণ লাগতে পারে?
ফয় নিজের কপালের ঘাম মুছলো। ওর কথা শুনে টমের কি অবস্থা হচ্ছে সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। “ক্যাপটেন হিকস আর তার স্ত্রী জানুয়ারী থেকে ব্রিঞ্জোয়ানে আছেন। গাই-ই এক প্রকার জোর করে ওদেরকে এখানে পাঠিয়ে দিয়েছেন।”
টম থেমে গেলো। কি বলছেন এসব? বলতে চাইলো ও। কিন্তু কিছু বলার আগেই সারাহ কথা বলে উঠলো।
“ও আচ্ছা,” খুশি হওয়ার ভঙ্গিতে বললো ও। “ক্যাপ্টেন হিকস অ্যাগনেস বিয়াত্তিকে বিয়ে করেছেন। গাইয়ের স্ত্রী ক্যারোলিনের বোন। আহা অ্যাগনেস। ইয়র্কে থাকার সময় আমরা খুবই কাছের বান্ধবী ছিলাম।”
টম ডেস্কের উপর ঝুঁকে এলো। “আপনি বলতে চাচ্ছেন অ্যাগনেস বিয়াত্তি আছে এখানে?”
“উনি এখন অ্যাগনেস হিকস। আজ সকালেই তো দেখলাম। ওনার স্বামী আমাদের সৈন্যদলের প্রধান।” ফয়-এর চোখে এখন আর টমের প্রতি তাচ্ছিল্যের ভাবটা নেই। কারণ এরা ওর ধারণার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তবে ও ঠিক নিশ্চিত না যে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই ব্যাপারটাই ওকে উদ্বিগ্ন। করে তুললো। ওর পেশাগত উন্নতির পুরোটাই হয়েছে গাই কোর্টোনীর লেজুড়বৃত্তি করে। আর গাই অসম্ভষ্ট হলে তোটা রেগে যায়, সেটা ওর ভালোই জানা আছে। আবার যদিও যতোটা ভাব দেখাচ্ছে আসলে গাই-এর সাথে ও ততোটা ঘনিষ্ট, কিন্তু তবুও ও জানে যে গাই নিইজের পরিবারের লোকদেরকে খুব বেশি গোণে না। খুব কৌশলে সব সামলাতে হবে ওকে।
আগে এই অতিথিদের হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যাক। ও চওড়া একটা হাসি দিলো। “আপনারা থাকার জায়গা চেয়াছিলেন। আমি নিশ্চিত ক্যাপ্টেন হিকস আর তার স্ত্রী আপনাদেরকে খুশি মনেই স্বাগত জানাবেন। আমি এখুনি আপনাদেরকে সেখানে নিয়ে যাচ্ছি।”
*
যাওয়ার পথে টম স্বাভাবিক কৌতূহলবশতই চারপাশ দেখতে লাগলো। দুর্গের দেয়াল খুবই শক্ত, পাথরের তৈরি, ফাঁকে ফাঁকে তিনকোণা গম্বুজ। ওখান থেকে গুলি করা সহজ। তবে পুরো দুৰ্গটাই বালির উপরে বানানো।
