“তুমি একাই বেরিয়ে পড়েছো?” ক্রিস্টোফার অবাক হলো।
“আমার ভাইদেরকে মাঠে কাজ করতে হবে।”
“তোমার স্বামী?”
বলতে বলতে আবার ক্রিস্টোফার মেয়েটার দিকে তাকালো। সেটা দেখে তামান্নার চেহারা লাল হয়ে গেলো। লাজুক একটা হাসি হাসলো ও।
“আমার বিয়ে হয়নি। আমার বাবার যৌতুক দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আর সত্যি কথা হচ্ছে মাঠের কাজে আমাকেও লাগে।”
ক্রিস্টোফার ওর দিকে তাকিয়ে রইলো। “তোমার মতো সুন্দরিকে কেউ এখনো বিয়ে করেনি সেটা আমার বিশ্বাস হয় না।”
তামান্না দৃষ্টি নামিয়ে নিলো। “আমাকেত বাবার আদেশ মানতেই হবে।”
সন্ধ্যা নাগাদ ওরা এক মন্দিরে এসে উপস্থিত হলো। আশেপাশে আর কিছুই নেই। পাহাড়ের চূড়া ওখান থেকে কাছেই। ছোট ঘরটার চারপাশে এক চিলতে দেয়াল। উঠোন জুড়ে আগাছা আর কাটা ঝোঁপ। পোড়া ছাই দেখে বোঝা গেলো এর আগেও অনেকেই এখানে আশ্রয় নিয়েছে।
জয়ন্তন প্যাগোড়ার ভিতরে কম্বল পেতে নিলো। ক্রিস্টোফার দরজার কাছের ঝোঁপ জঙ্গল পরিষ্কার করে সেখানেই নিজের বিছানা পাতলো।
“আমি বাইরেই ঘুমাবো,” তামান্নাকে বললো ক্রিস্টোফার। “ভিতরে পোকামাকড়ের বাসা। গায়ের উপর হাঁটবে।”
কারো দৃষ্টি আকর্ষণের ভয়ে ওরা কোনো আগুন জ্বাললো না। ভাত আর ডাল দিয়ে রাতের খাবার সারলো সবাই। তারপর খেলো তামান্নার আম। ক্রিস্টোফার জোর করে দাম দিয়ে দিলো। “নইলে পাহাড় পার হতে হতে তোমার আর আম একটাও থাকবে না। শেষে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হবে।”
ঘুমাতে অনেক সময় লেগে গেলো ক্রিস্টোফারের। ঘাসের উপর শুয়ে ও রাতের নিস্তব্ধতা শুনতে লাগলো। দেয়ালের ওপাশে জঙ্গলে পশু পাখিরা উচ্চস্বরে চিৎকার করে চলেছে। এই পর্বতে বাঘ আছে নিশ্চিত, আর কি আছে তা ঈশ্বরই জানেন। জঙ্গলে হাজার হাজার জায়গা আছে যেখান থেকে ওদের দিকে নজর রাখা সম্ভব। কে জানে, কেউ হয়তো সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছে।
কিছু একটা শব্দ করে উঠলো। জঙ্গলে না, দেয়ালের ভিতরেই। ও তরবারির দিকে হাত বাড়ালো। হৃৎস্পন্দন বেড়ে গিয়েছে, তবে সেটা ভয়ের জন্যে না। আবার লড়াইয়ের সম্ভাবনায় ওর শরীর জেগে উঠেছে।
“আবসালম?”
কোমর সমান উঁচু ঘাসের ভিতর দিয়ে এগিয়ে এলো তামান্না। কাটাঝোঁপ এড়াতে শাড়ি দুই হাতে উঁচিয়ে রেখেছে। এসে ক্রিস্টোফারের পাশে বসলো ও। এতো কাছে যে ওদের কাধ স্পর্শ করলো।
“আমার ঘুম আসছে না। চোখ বুজলেই…” শিউরে উঠলো তামান্না। “আপনি ভাবতেও পারবেন না।”
“এখন আর কোনো চিন্তা নেই, ক্রিস্টোফার আশ্বাস দিলো ওকে।
তামান্না ওর গায়ে হেলান দিয়ে কাঁধে মাথা গুঁজে দিলো। ক্রিস্টোফার বহু কষ্টে নিজেকে সামলে রাখলো। মেয়েটাকে চুমু খাওয়ার জন্যে ওর সারা শরীর একযোগে চিৎকার শুরু করেছে যেনো।
ও দাঁতে দাঁত চাপলো। রুথ, নিজেকে বললো ও। রুথের জন্যে নিজেকে শক্ত করো।
“আপনি যেভাবে ঐ শয়তানটাকে সামলালেন! আমি জীবনেও কাউকে এরকম করতে দেখিনি। আপনার ওই অস্ত্রটা মারাত্মক কিন্তু এতো ভালো করে কোত্থেকে শিখলেন?”
“কালারিতে শিখেছি।”
তামান্না নিজের ভর বদল করতে সামান্য বাকা হলো, ভারসাম্য রাখতে ও ক্রিস্টোফারের হাঁটুতে ভর দিলো।
“ওখানে অনেকদিন আছেন, তাই না?”
“বেশি দিন না। আমার বাড়ি এখানে না। বোম্বেতে।”
তামান্নাকে বেশ কৌতূহলী দেখালো। “আপনি কি তাহলে এদেশী না?”
“না,” প্রশ্নটা ক্রিস্টোফারকে অবাক করেনি মোটেও। ওর কালো চুল আর কালো চোখের কারণে ওকে স্থানীয় বলেই মনে হয়। আর কালারিতে ঘণ্টার পর ঘন্টা রোদে অনুশীলন করার পর ওর চামড়া-ও পুড়ে গাঢ় বাদামী হয়ে গিয়েছে। ফলে এখন আর চেনার উপায় নেই। শুধু আকৃতির দিক থেকে অন্যদের চাইতে আলাদা ও।
“আমার বাবা ইংরেজ, তবে আমি সারা জীবনই এদেশেই থেকেছি।”
তামান্নার হাত ক্রিস্টোফারের হাঁটু থেকে উরুতে নেমে এলো। তারপর দুই পায়ের মাঝখানে যে ফাঁকা জায়গা সেখানে ঝুলে রইলো।
“ইংল্যান্ডে কি খুব গরম?”
“না। বাবাতো বলেন খুব ঠাণ্ডা আর সারাদিন নাকি বৃষ্টি হয়।”
“বর্ষাকালে এখানে যেমন হয়?”
“সম্ভবত।”
তামান্নার হাত আবার নড়ে উঠলো। এবার সেটা দুই পায়ের সংযোগস্থলে আলতোভাবে গিয়ে স্থির হলো। ওর হাত পাতলা কাপড়টা ভেদ করে বিদ্যুতের মতো উত্তেজনা ছড়াতে লাগলো। ওকে থামাও, ক্রিস্টোফারের মন আদেশ দিলো। কিন্তু ওর শরীর শুনলো না-তামান্নার স্পর্শ পাওয়ার জন্যে উদগ্রীব।
“কাজটা ঠিক হচ্ছে না, কোনোমতে বললো ক্রিস্টোফার। “মানে… আমার আর একজন আছে।”
“বুঝেছি,” তামান্না বললো কিন্তু হাত সরালো না। “আপনি বিবাহিত।”
“না”
“তাহলে সমস্যা কি?” তামান্নার হাতের নাড়াচাড়া আরো দ্রুত হলো। এতো দ্রুত মালিশ করতে লাগলো যে ক্রিস্টোফারের মনে হলো কামনার আবেশে ও উড়ে যাবে।
“কখনো কোন মেয়ের সাথে রাত কাটিয়েছেন?”
“না,” স্বীকার করলো ক্রিস্টোফার।
তামান্না নিজের কাচুলি খুলে বক্ষ উন্মুক্ত করে ফেললো। তারপর ক্রিস্টোফারের একটা হাত নিয়ে আঙুলগুলো ফাঁক করে একটা স্তনের উপর রাখলো। রাতের ঠাণ্ডা বাতাসে স্তনের বোটা শক্ত আর উদ্ধত হয়ে আছে। ক্রিস্টোফার বুড়ো আঙুল আর তর্জনী দিয়ে ওখানে চাপ দিতেই ও অস্ফুট শব্দ করে উঠলো।
“আস্তে,” ফিসফিস করে বললো তামান্না। ওর লম্বা ঘন চুল ক্রিস্টোফারের বুকে লাগতে লাগলো; চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিলো একজন আর একজনকে। তামান্না ক্রিস্টোফারকে জড়িয়ে ধরে নিজেকে পিষতে লাগলো ওর সাথে।
