যে মেয়েটাকে ধর্ষকটা আক্রমণ করেছিলো সে ক্রিস্টোফারের দিকে এগিয়ে এসে ওর হাতের দিকে ঝুঁকে দেখলো যে ও কি পেয়েছে। তখনও মেয়েটা নিজের কাপড় চোপড় ঠিকঠাক করছে। ক্রিস্টোফার মেয়েটার দিকে তাকালো। এতো কাছ থেকে ওকে দুর্দান্ত সুন্দর লাগছে। চুল খুবই ঘন, বেণী করে বাধা। নিয়মিত তেল দিয়ে আচড়ানোর কারণে চকচক করছে। ওর ছেঁড়া ব্লাউজের ভিতর তখনও একটা স্তন বেরিয়ে আছে। মেয়েটাও ক্রিস্টোফারের দৃষ্টি খেয়াল করে ইচ্ছে করেই সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে সেটাকে ভিতরে ঠেলে দিলো।
“ধন্যবাদ সাহেব। ভগবান আপনার ভালো করুক। এই পশুটার হাত থেকে বাঁচানোর জন্যে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো আপনার উপর।” মেয়েটার কণ্ঠ খুবই নরম আর মিষ্টি। বলতে বলতে সে ক্রিস্টোফারের কাঁধে হাত রেখে মৃদু চাপ দিলো। ক্রিস্টোফারের মনে হলো নিজেকে আর সামলাতে পারবে না।
কিন্তু মেয়েটাকে দেখে মনে হলো সে এসবের কিছুই টের পাচ্ছে না।
“আপনার সাথের লোকটা কই?” জিজ্ঞেস করলো মেয়েটা।
“ও সুইট খ্রাইস্ট!” ক্রিস্টোফারের সম্বিত ফিরলো। জয়ন্তনের কথা ভুলেই গিয়েছিলো ও। বিদ্যুতবেগে দৌড়ে আবার রাস্তার বাকে ফিরে এলো। জয়ন্তন-ও এদিকেই আসছিলো। সামান্যের জন্যে দুজন মুখোমুখি বাড়ি খেলো না।
“কত বড় সাহস তুমি আমাকে রেখে চলে যাও?” প্রচণ্ড রেগে আছে ও। “মালিক খবটা জানতে পারলে-”
“ওই মেয়েটা একটা ডাকাতের হাতে পড়েছিলো,” ঠাণ্ডা গলায় বললো ক্রিস্টোফার। “আমার কি করা উচিত ছিলো?”
“যদি এটা একটা ফাঁদ হতো? যদি ডাকাতের সাঙাতের ওঁত পেতে থাকতো, আর তুমি ওদিকে ধাওয়া করা মাত্র আমাকে আক্রমণ করতে? একটা ছোট জাতের বেহায়া মাগীর জন্যে নিজের দায়িত্ব ভুলে যেও না।”
ক্রিস্টোফার সমস্ত ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করে নিজেকে সামলালো। মৃত লোকটার গরম রক্ত তখনও ওর পায়ে লেগে আছে, আর খুন করার নেশা তখনও ওর ভেতর জ্বলছে। ওর সাথে এভাবে কথা বলার জন্যে উরুমি দিয়ে চাইলেই ও জয়ন্তনের জিহ্বাটা কেটে দিতে পারতো।
তা না করে ও আবার আগের জায়গায় ফিরে গেলো। মেয়েটা পড়ে যাওয়া আমগুলো কুড়িয়ে আবার গাধার পিঠের বস্তায় তুলে রাখছে। ক্রিস্টোফারকে একটা সাধলো ও।
“নিন না,” বললো মেয়েটা। “এর বেশি কিছু দেওয়ার মতো নেই আমার।”
ক্রিস্টোফার মেয়েটাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ দিয়ে ছুরি দিয়ে আমটা কেটে খেতে শুরু করলো। দারুণ সুস্বাদু আম।
“খুব মিষ্টি,” ক্রিস্টোফার বললো। “ঠিক তোমার মতোই।”
মেয়েটা লজ্জা পেয়ে হেসে চোখ নামিয়ে নিলো। “আমার নাম তামান্না, মেয়েটা বললো।
“ক্রিস…” বলতে গিয়ে থেমে গেলো ক্রিস্টোফার। “আবসালম।” মেয়েটার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে একটু হলে আসল নামটাই বলে ফেলেছিলো। ও জয়ন্তনের দিকে তাকালো। কিন্তু দেওয়ানজী খেয়াল করেছে বলে মনে হলো না।
মেয়েটা সামনের ফাঁকা জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে শিউরে উঠলো। “আমার সাথে একটু যাবেন, আবসালম? আমার ভয় করছে।”
“না,” বললো জয়ন্তন।
“হ্যাঁ,” বললো ক্রিস্টোফার।
“না,” আবার বললো জয়ন্তন। ওর কণ্ঠে অধৈর্য। “তোমাকে টাকা দেওয়া হচ্ছে আমাকে পাহারা দেওয়ার জন্যে আর আমার কথা শোনার জন্যে।”
ক্রিস্টোফার দুই পা ফাঁক করে, বুকে হাত বেঁধে দাঁড়ালো। “আপনি নিজে যেতে চান তো যেতে পারেন। তবে আমি এই ভদ্রমহিলার সাথেই যাবো।”
“যখন মালিকের কানে খবরটা যাবে…” রাগের চোটে জয়ন্তনের কথা জড়িয়ে গেলো। বুকের যেখানে চুনি ভরা থলেটা রাখা সেখানে ধরে দেখলো।
তামান্না ওদের মাঝে এসে দাঁড়ালো। আমার জন্যে আপনাদের মধ্য ঝামেলা করবেন না।”
“উনি আমার বন্ধু-ও না, আমার মালিকও না, ক্রিস্টোফার গাধার লাগামটা ধরে হাঁটা শুরু করে দিলো। “তাছাড়া যেখানে বলা হয়েছে সেখানেই যাচ্ছি আমি।”
“ওনার কি হবে?” রক্তে ভরা লাশটার দিকে ইঙ্গিত করে বললো মেয়েটা। এর মধ্যেই মাছি ভনভন করতে শুরু করেছে সেখানে।
ক্রিস্টোফার কাঁধ ঝাঁকালো “ওখানেই থাক। অন্যদের জন্যে হুশিয়ারি হয়ে থাকবে।”
*
বাকি দিনটা ওরা হেঁটেই কাটালো। জয়ন্তন চুপচাপ সামনে, ক্রিস্টোফার আর তামান্না পিছনে। জয়ন্তন তামান্নার দিকে তাকালোই না বলা চলে। কারণ ও হচ্ছে নীচু জাত, তাই ওর কাছে বস্তুতঃ মেয়েটার অস্তিত্ব নেই। এদিকে ক্রিস্টোফার তামান্নার উপর থেকে চোখ ফেরাতেই পারছে না। কারণ, যা দেখেছে সেটা কিছুতেই মন থেকে সরছে না। ছিন্ন ব্লাউজের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে থাকা প্রস্ফুটিত স্তন আর ধর্ষক লোকটা যখন কোমর পর্যন্ত ওর শাড়ি তুলে ফেলেছিলো তখন ও দুইপায়ের সংযোগস্থলটাও দেখতে পেয়েছিলো।
রুথ এর কথা ভাবো, নিজেকে বললো ক্রিস্টোফার। যখন স্বামী স্ত্রী হিসেবে একসাথে থাকবে তখন ব্যাপারটা কতোটা মিষ্টি হবে সেটা চিন্তা করো।
কিন্তু তামান্নাকে পাশে রেখে রুথ এর কথা ভাবাটা বেশ শক্তই বটে। রুখের কথা ভাবতেই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো ওর। কিন্তু তামান্নার হাসি আর কথায় সেসব উড়ে গেলো সহসাই। মেয়েটা বয়সে ওর চাইতে খুব বেশি বড় না, কিন্তু একেবারে চপল আর ইচড়ে পাকা। সেই সাথে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আর উদার মনের অধিকারি। সম্ভবত এই শ্যামল প্রকৃতির কোলে বড় হয়েছে বলেই এমন স্বভাব। তামান্নার বাবা একজন কৃষক। সমুদ্রতীরের কাছে এক গ্রামে বাড়ি ওদের। ওর বাবা নাকি এক পথচারীর কাছে শুনেছেন যে হায়দ্রাবাদের নিজামের সাথে যুদ্ধ চলার কারণে পাহাড়ের ওপাশে খাবার ঘাটতি চলছে। তাই তামান্না ওখানে আম নিয়ে চলছে, ভালো দাম পাওয়ার আশায়।
