তবে ওরা জয়ন্তনের উচ্চ জাত চিনতে পারার সাথে সাথে সাথে মাটিতে উপুড় হয়ে মাথা ঠেকিয়ে রাখলো। যতোক্ষণ না ক্রিস্টোফার আর জয়ন্তন চোখের আড়ালে গেলো ততোক্ষণ ওরা ওভাবেই রইলো।
“অন্তত এই মেয়েটা নিশ্চয়ই ডাকাত না,” ক্রিস্টোফার তরুণী বয়সী এক মেয়েকে দেখিয়ে বললো। মেয়েটার সাথে একটা গাধা। আম ভর্তি বস্তা গাধাটার পিঠে। মেয়েটার পরনে একটা সুন্দর শাড়ি। হাতে আর বাহুতে তামার বালা।
যেনো ক্রিস্টোফারের কথা শুনতে পেয়েই মেয়েটা ওর দিকে ফিরে তাকালো। অন্যদের মতো ও মাথা ঝোকালো না বা ওদের উচ্চ জাত টের পেয়ে সরেও গেলো না। বরং ও-ও বড় বড় চোখ করে ক্রিস্টোফারের চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো। মেয়েটার ঠোঁট দুটো সামান্য ফাঁক হয়ে আছে, অনেকটা লাজুক একটা হাসি। সেই হাসিতে যেনো ক্রিস্টোফারের সমস্ত কল্পনা লুকিয়ে আছে। ওর সারা শরীরে কামনা ছড়িয়ে পড়লো।
“বেহায়া মাগী, গাল দিয়ে উঠলো জয়ন্তন। “শালীকে বেয়াদবির জন্যে ধরে চাবকানো উচিত।”
কোনো তাড়াহুড়া ছাড়াই মেয়েটা তার গাধাকে রাস্তার মাথায় নিয়ে গিয়ে দাঁড়ালো আর ওদেরকে চলে যেতে দিলো। ক্রিস্টোফার আর একবার তার চোখে চোখে তাকাতে চেষ্টা করলো কিন্তু মেয়েটা গাধার পিঠের বোঝার বাঁধন টেনেটুনে দেখছিলো, তাই আর চোখ তুলে তাকালো না।
জয়ন্তন আর ক্রিস্টোফার রাস্তার পাশের একটা ছোট মঠ পেরিয়ে এলো। একটা গণেশের মূর্তি দেখে গেলো সেখানে। গলেয় ফুলের মালার স্তূপ।
জয়ন্তন ক্রিস্টোফারের কোমরের তরবারিটার দিকে তাকালো। “জিনিসটা সময়মতো ব্যবহার করতে পারবে তো? এই মঠের এখানেই কিন্তু ডাকাতেরা একজনকে খুন করেছিলো।”
ঠিক সেই মুহূর্তেই একটা খনখনে চিৎকার আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে দিলো। এক মুহূর্ত পড়েই ত্রাহি রব ছাড়তে ছাড়তে এক পাল খচ্চর রাস্তার উল্টোপাশ দিয়ে তীর বেগে ছুটে এলো। ক্রিস্টোফার তরবারি বের করে মাত্র যেদিক দিয়ে এসেছে সেদিকে দৌড় দিলো।
“আরে থামো থামো,” চিৎকার করে ডাকলো জয়ন্তন। “তোমার কাজ আমাকে বাঁচানো।”
ক্রিস্টোফার ওর কথায় কান না দিয়ে দৌড়াতেই থাকলো। পায়ের ধাক্কায় ধুলো উড়ছে চারপাশে। রাস্তার বাঁকে পৌঁছাতেই ও সেই মেয়েটাকে দেখতে পেলো। মাটিতে চিত হয়ে শোয়া। কাপড় কোমর পর্যন্ত তোলা, কাচুলি ছিঁড়ে সদ্য প্রস্ফুটিত স্তন বেরিয়ে আছে। একটা দশাশই কালো চামড়ার লোক মেয়েটার দুই পায়ের ফাঁকে বসে তাকে মাটির সাথে চেপে ধরে রেখেছে।
কালারিতে শেখা রণহুংকার ছেড়ে ক্রিস্টোফার লোকটাকে আক্রমণ করলো। কিন্তু শয়তানটা কামনায় একবারে দিশা হারিয়ে ফেলেনি। সে ক্রিস্টোফারকে আসতে দেখেই লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলো। তারপর ক্রিস্টোফারের হাতের তরবারির দিকে এক নজর যেতেই জান হাতে নিয়ে দিলো দৌড়।
ক্রিস্টোফার যথেষ্ট জোরে দৌড়াতে পারে, কিন্তু লোকটা আরো বেশি দ্রুত। খানিকটা দৌড়ানোর পরে ক্রিস্টোফার বুঝতে পারলো সোজাসুজি দৌড়ে ও কখনো লোকটাকে ধরতে পারবে না। ও থেমে দাঁড়িয়ে তরবারিটা মাটিতে ফেলে দিলো। দুই হাত মুক্ত হওয়ার পর ক্রিস্টোফার ওর ধুতি গুটিয়ে নিলো।
কোমরে একটা উরুমি পেচিয়ে পরেছে ক্রিস্টোফার। সাধারণ দৃষ্টিতে ধরা পড়বে না সেটা। উরুমি হচ্ছে দুই প্রান্তেই ধারালো, ফুট দশেক লম্বা একটা পাতলা ইস্পাতের পাত। চাবুকের কশ এর মতোই নমনীয়।
কালারিতে এটার ব্যবহারই সর্বশেষ শিখেছিলে ও। আর এটায় দক্ষতা অর্জন করাই ছিলো সবচেয়ে কঠিন। ঠিকমতো ব্যবহার করতে না পারলে ব্যবহারকারীরই গলা কাটা পড়ার সম্ভাবনা আছে।
উরুমি-র হাতীর দাঁতের হাতলটা ওর হাতের মুঠোয় ঠিকঠাক বসে গেলো। কবজির মোচড়ে ও ফলাটা ছুড়ে দিলো সামনে। দেখে মনে হতে লাগলো জিনিসটা জ্যান্ত বুঝি। বাতাসে একেবেকে সোজা হল ওটা। ধর্ষক লোকটা ছিলো
উরুমি-র একেবারে ডগায়। ওটার বাকা ডগাটা লোকটার গোড়ালিতে সাপের মতো ছোবল দিয়ে ফাসের মতো আটকে ফেললো। তারপর পর্যায়ক্রমে ওটা গোড়ালির চামড়া, মাংস, রগ ভেদ করে শেষমেশ হাড়ও ভেঙ্গে দিলো। ব্যথায় প্রচণ্ড জোরে একটা চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি দিতে লাগলো লোকটা।
ক্রিস্টোফার লোকটার কাছে এগিয়ে গেলো। কোন তাড়াহুড়া নেই! আস্তে টান দিয়ে উরুমির ফলাটা গুটিয়ে নিলো ও। পথের ধুলোয় একটা গোখরার চলার পথের মতো দাগ করে ওর হাতের মুঠোয় কুণ্ডলী পাকিয়ে গেলো ওটা।
ক্রিস্টোফার লোকটার গায়ের উপর দাঁড়িয়ে তার দিকে চেয়ে মৃদু হাসলো। “বন্ধু, তোমার সময় যে শেষ সেটা আশা করি বুঝতে পারছো? দুনিয়াকে বিদায় বলে দাও।” ও কথা বলছিলো ইংরেজিতে। ফলে লোকটা কিছুই বুঝলো না। তবে বলার ভঙ্গি আর ধরনেই যা বোঝার বুঝে নিলো। লোকটা গোঙাতে গোঙাতে প্রাণ ভিক্ষা চাইলো কিন্তু ক্রিস্টোফার হাসতে হাসতেই আবার ওর কবজি মোচড় দিলো। উরুমি-টা কুণ্ডলী খুলে ছুটে গিয়ে লোকটার গলায় স্পর্শ করলো এবার। দেখে মনে ওখানে আর একটা মুখের সৃষ্টি হয়েছে। ফুসফুসের সব বাতাস বেরিয়ে যেতে লাগলো সেদিক দিয়ে। এক মুহূর্ত পরেই ক্যারোটিড ধমনী দিয়ে সবেগে ছুটে বের হলো রক্ত, হৃৎপিণ্ডের ছন্দের তালে সেখানে রক্তের পরিমাণ কমতে বাড়তে লাগলো। ক্রিস্টোফারের পায়েও লাগলো রক্ত, তবে ও সরে যাওয়ার কোনো চেষ্টা করলো না। আস্তে আস্তে রক্তের বেগ কমতে কমতে একসময় পুরোপুরি থেমে গেলো। তারপর ও উবু হয়ে লাশটার পরনের কাপড়ের ভিতর হাত চালালো। ধুতির নিচে চামড়ার একটা থলে বাধলো হাতে। বেল্টে বাঁধা। ও থলেটার বাঁধন খুলে ভিতরের সবকিছু অন্য হাতে ঢেলে দিলো। বেশিরভাগ মুদ্রাই ছিলো তামার, তবে যথেষ্ট রুপা-ও আছে দেখে মুখে হাসি ফুটলো ওর।
