এরপর ওরা দুজন প্রায় প্রতিদিন দেখা করতো। গোলঘরের পিছনে, বা ব্যাক বে-র সৈকতে, নারকেল বাগানের আড়ালে ওরা সময় কাটাতে। হাতে হাত রেখে বালির উপর দিয়ে হাঁটতে ওরা। রুথ ক্রিস্টোফারকে ইংল্যান্ডের গল্প বলতো। ওখানে ক্রিস্টোফারের বাড়ি হলেও কখনো সেটা দেখার ভাগ্য হয়নি। রুথ এমন অনেক কিছু দেখেছে যা ক্রিস্টোফার শুধু বইয়ের পাতাতেইও পড়েছে বা ওর বাবার অধীনস্তদের আলাপচারিতায় শুনেছে। রুথ ক্রিস্টোফারের প্রতি যথেষ্ট সম্মান রেখে কথা বলতো। দেখা যেতো রুথ বকবক করেই চলেছে আর ক্রিস্টোফার ওর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে শুধু তাকিয়েই আছে।
প্রথমবার চুমু খাওয়ার পর ক্রিস্টোফারের মনে হয়েছিলও যে জীবন এর চাইতে মধুর হতে পারেনা। পরে রুথ ক্রিস্টফারকে ওর কাচুলি খুলে বুকে হাত দিতে দিয়েছে। ও নিজেও ক্রিস্টোফারের পায়জামায় হাত ঢুকিয়ে ওর পুরুষাঙ্গ নাড়াচাড়া করেছে। কিন্তু এর বেশি কিছু ক্রিস্টোফারকে করতে দেয়নি। “বিয়ের আগে এসব পারবো না,” জোর দিয়ে বলেছে রুথ। আর ক্রিস্টোফার ওর দুই স্তনের মাঝে মুখ ডুবিয়ে প্রতিজ্ঞা করেছে, “তোমাকেই আমি বিয়ে করব।”
এখন রুথ ক্রিস্টোফারের উভ্রান্ত চেহারা দেখে দুই হাত দিয়ে ওর মুখ চেপে ধরলো। “কি বললেন বাবা? বলো সোনা? খারাপ লাগছে? বাবা অনুমতি দিয়েছেন?”
“না।” ক্রিস্টোফার ধপাস করে ডাঙ্গায় তুলে রাখা একটা ভাঙাচোরা নৌকার খোলের উপর বসে পড়লো। ধাক্কায় একগাদা মাছি ভনভনিয়ে উড়ে গেলো।
রুথের নিষ্পাপ নীল চোখে অশ্রু জমলো। “কি করবো আমরা এখন? আমিতো তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না। এরচে মরে যাওয়াই ভালো হবে।”
ক্রিস্টোফার চোখ বন্ধ করে ফেললো। এই চোখ ধাঁধানো আলোয় ঠিকমতো চিন্তা ভাবনা করা যাচ্ছে না। ও কপাল ডলতে ডলতে বাবার সাথে হওয়া কথোপকথনটা আরো একবার ভাবতে বসলো। রুথের জন্যে ওর ভালোবাসাটা এতো খাঁটি, এতো পবিত্র! ওর বাবা কিভাবে সেটাকে অস্বীকার করেন? কতো বড় সাহস তার? ওর এতো বেশি হতাশ লাগতে লাগলো যে একবার চিন্তা করলো একটা নোঙ্গর পায়ে বেঁধে সাগরে ঝাঁপ দেবে কিনা। সব শেষ করে দেবে। দমবন্ধ লাগছে ওর। বাবাকে বোঝানো কখনোই সম্ভব না।
কিন্তু তাতে কোনো লাভ হবে না।
“বোষে ছেড়ে চলে যাবো,” আচমকা বললো ও।
“আমিও যাবো তোমার সাথে!”।
ক্রিস্টোফার মাথা নাড়লো। “আমার বাবা আমাকে এটা কানাকড়িও দেবে না। আমাকে নিজের পরিশ্রমে নিজের ভাগ্য গড়তে হবে। আর সেখানে মহিলাদেরকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। এখানেই থাকো, তোমার পরিবারের সাথে, আর আমার ফিরে আসার অপেক্ষা করো।”
“পারবো না।”
“পারতেই হবে। আমি জানি কতোটা কষ্ট হবে তোমার, কিন্তু আমাদের জন্যে তোমাকে পারতেই হবে।” ক্রিস্টোফার উঠে দাঁড়িয়ে রুথকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চুলে মুখ ডুবিয়ে দিলো। কামনার আগুনে জ্বলে যাচ্ছে ও, কিন্তু তারচে বড় কথা ওর বাবাকে ভুল প্রমাণ করতে হবে। “তুমি এখানেই থাকো, তাহলে বাবা ভাববেন যে উনি-ই জিতেছেন। কিন্তু যখন আমি ফিরে আসবো, তখন আমার জয় সম্পূর্ণ হবে-সেই সাথে আমাদের দুঃখেরও শেষ হয়ে যাবে।”
রুথ ক্রিস্টোফারের ঠোঁটে চুমু খেলো। “কথা দাও ক্রিস্টোফার, কথা দাও যে তুমি আমাকে সুখী করবে।”
“প্রতিজ্ঞা করলাম সোনা। যদি তুমি আমার জন্যে অপেক্ষা করো, আমি এতো বেশি টাকা কামাবো যে আমার বাবাও আমাদেরকে ছুতে পারবে না।”
“আমি অপেক্ষা করবো। ঈশ্বরের কসম। তুমি বিশ বছর পরেও যদি ফিরে আসো, তবুও আমি অপেক্ষা করবো। প্রতিদিন এখানে বসে তোমার ফেরার অপেক্ষা করবো।”
“ওডিসাস আর পেনেলোপির মতো,” হাত নেড়ে বললো ক্রিস্টোফার।
রুথের ভ্রু কুঁচকে গেলো। “কাদের মতো?”
“কাদের মতো সেটা ব্যাপার না।” বলতে বলতে ও গায়ের কোটটা খুলে ফেললো। ঘামে ভিজে চপচপে হয়ে গিয়েছে সেটা। আর এখন যখন একবার সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছে, রওনা দিতে আর তর সইছে না ক্রিস্টোফারের। চোখের উপর হাত দিয়ে ও বন্দরের দিকে তাকালো। ইস্ট ইন্ডিয়াম্যানটা তখনও বাধা অবস্থায় দুলছে। তবে একটা ছোট সওদাগরী জাহাজের ডেক এ নড়াচড়া দেখা গেলো। জাহাজটা সমুদ্রে নামানোর জন্যে প্রস্তুত করছে ওটার ক্রু-রা।
“জোয়ার আসলেই জাহাজটা ছেড়ে যাবে। ওটায় চড়ে কোথায় যাওয়া যায় দেখি।” আবার রুথকে চুমু খেলো ক্রিস্টোফার। ওর শক্ত বাহুর স্পর্শে রুথের শরীরেও শিহরণ বয়ে গেলো।
“আমার জন্যে অপেক্ষা কোরো কিন্তু।”
“কথা দিচ্ছি করবো।”
*
সাথে নেওয়ার মতো ক্রিস্টোফারের কিছুই নেই। ওর সব সম্পত্তি রয়ে গিয়েছে গভর্নরের বাড়িতে, ওর ঘরে। আর ওখানে ফিরে যাওয়া ওর পক্ষে সম্ভব না। ক্রিস্টোফার ঘাটে গিয়ে একটা ডিঙ্গি নৌকাকে ডেকে বললো ওকে সওদাগরি জাহাজটায় নিয়ে যেতে। জাহাজটার নাম জোসেফ। আলাদা একটা আড়কাঠে খোদাই করে লেখা। ও জাহাজে উঠে পড়লো। বেশিরভাগ ক্রু ই ভারতীয়, সবার গায়ের রঙ গাঢ়, গায়ে কাপড় নেই বললেই চলে। মালপত্র বোঝাই চলেছে। ডেক-এর একমাত্র শ্বেতাঙ্গ লোকটাকে দেখে মনে হলো সে-ই মাস্টার। লম্বা একটা লোক, চুল একেবারে খুলির সাথে ছেটে রাখা। পেশল বাহুতে একটা মৎস্যকুমারীর ট্যাটু। মালপত্র ওঠানামা তদারকিতে বিরতি দিয়ে ক্রিস্টোফারের দিকে এগিয়ে এলো।
