একজন কৃষ্ণাঙ্গ চাকর গাই-এর পাশে দাঁড়িয়ে ময়ূরের পেখম দিয়ে বানানো পাখা দিয়ে বাতাস করছে। গাই ক্রিস্টোফারের দিকে ফিরেও তাকালো না।
“কি হয়েছে?” সপাং করে জানতে চাইলো গাই।
ক্রিস্টোফার ওর হ্যাঁটের কোনাটা একটু তুলে লম্বা একটা দম নিলো। “আমি বিয়ে করতে চাই, বাবা।”
গাই হতভম্ব হয়ে গেলো। “বিয়ে?” ও এমনভাবে শব্দটা আবার বললো যেনো ওটা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। “এই ভূত মাথায় চাপলো কি করে?”
“আমার বয়স হয়েছে।”
“সেটা কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার না। তা তোমার মোটা বুদ্ধিতে কোন মেয়েটাকে মনে ধরেছে শুনি?”
“রুথ রেড্ডি।”
“কে?”
“কর্পোরাল রেড্ডির মেয়ে। দুর্গের সৈন্যদলে আছেন উনি।”
“ঐ ফালতু মেয়েটা? ও তো একটা মাগী ছাড়া কিছু না!” গাই-এর অভিব্যক্তি বদলে গেলো। মাথাটা পিছনে হেলিয়ে হাসতে লাগলো সে। “আমিতো ভেবেছিলাম তুমি আসলেই বিয়ে করতে চাও। তোমাদেরকে প্রায়ই একসাথে দেখা যায় সেই খবর আমি পেয়েছি। কিন্তু আমি ভেবেছিলাম হয়তো তোমার বয়সী বাকি ছেলেপুলেরা যেমন করে সেরকম তুমিও বোধহয় সুযোগ পেলে আস্তাবলের পিছনে নিয়ে ওর সাথে একটু ঢলাঢলি করো। আমি বোধহয় তোমার সম্পর্কে একটু বেশিই ভেবে বসেছিলাম।
“আমি ওকে ভালোবাসি।”
গাই অর্ধনিমীলিত চোখে তার ছেলেকে জরিপ করলো। ছেলেটা সবসময়েই ওর বাবার মতোই গোঁয়ার। কিছু না ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, কিন্তু একবার নিলে আর ফেরানো যায় না। একজন ডাকসাইটে ব্যবসায়ী হওয়ার সমস্ত লক্ষণ ওর মাঝে আছে। দুর্দান্ত মেধাবী, গাই অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে ওকে লেখাপড়া শিখিয়েছে। পিটিয়ে পিঠের ছাল তুলতেও পিছপা হয়নি, উদ্দেশ্য ছিলো শুধু ওর ভিতরে যতো অপছন্দনীয় গুণাবলি আছে সেগুলো যাতে দূরীভূত হয়। যাতে ভবিষ্যতের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে ও শতভাগ প্রস্তুত থাকতে পারে। কিন্তু এখনো ছেলেটা কিছুই শিখলো না।
সম্ভবত জবরদস্তি করার চাইতে বুঝিয়ে শুনিয়ে কাজ আদায় করা সহজ। গাই তাই স্বর নরম করে বললো।
“তোমার বয়সে কেমন লাগে সেটা আমি জানি। আমি যখন তোমার মতো কমবয়সী এক বেকুব ছিলাম তখন এক মেয়েকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম। এতোটাই বেশি যে আমি প্রায় মরতে বসেছিলাম তার জন্যে। কিন্তু পরে আবিস্কার করলাম যে মেয়েটা আসলে একটা বাজারের মাগী। সামান্য কয়েক রুপি পেলেও সে যে কারো সাথে শুয়ে পড়ে।”
এতো বছর পরেও স্মৃতিটা মনে আসতেই গাই রাগে গরম হয়ে গেলো। জোর করে নিজেকে শান্ত করলো ও। তবে একবার তার বৌ হওয়ার পর ও বহুবার এর বদলা সুদে আসলে আদায় করেছে।
“আপনার ভুল আমার ভাবার বিষয় না বাবা।”
“কিন্তু তোমারগুলো আমার চিন্তার বিষয়। তুমি এই মেয়েটাকে বিয়ে করতে পারবে না। শুধু তোমার বাবা হিসেবে না। বোম্বে প্রদেশের গভর্নর হিসেবে আমি এই বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা দিলাম। জানো নিশ্চয়ই আমার অনুমোদন ছাড়া এখানে কোনো বিয়েই বৈধ হয় না।”
“নিজের ছেলের সাথে এমন করবেন আপনি?”
“যখন সে উল্টা পাল্টা কাজ করে? অবশ্যই, গাই চেয়ারে হেলান দিলো। “তোমার বিয়ে করার শখ? আমি ব্যবস্থা করবো। তোমার বয়স হয়েছে, তোমার বিয়ে করার ইচ্ছা হতেই পারে। আমার আগেই এ ব্যাপারটা দেখা উচিত ছিলো। তাহলে আজকের এই বিড়ম্বনায় পড়তে হতো না। আমি তোমার জন্যে উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে বের করবো। স্যার নিকোলাস চিল্ডসের একজন ভাতিজি আছে। অথবা আর্ল অফ গোডলফিনের নাতনীকেও দেখা যায়। এমন কাউকে খুঁজে বের করতে হবে যার সাথে বিয়ে হলে তোমার ভবিষ্যতের পথটাও মসৃণ হয়।”
সাথে আমারও, মনে মনে ভাবলো গাই। অবশ্য না বললেও বোঝা কষ্ট না। ছেলে যদি বাবার কাজে না লাগে তো সেই ছেলের দরকার কি? এর মধ্যেই গাই মনে মনে হিসেব করা শুরু করেছে যে জায়গা মতো বিয়ে হলে ও কোম্পানির আরো কতোগুলো শেয়ার বাগাতে পারবে। হয়তো কোর্ট অফ ডিরেক্টরসেও একটা জায়গা পাওয়া যাবে, এমনকি রাজদূত হয়ে যাওয়াটাও অসম্ভব কিছু হবে না।’
ক্রিস্টোফার কিছু না বলে তার দিকে তাকিয়ে রইলো। এতো সাধ্য সাধনার পরেও ছেলেটা সারাজীবন রামগড়রের ছানা-ই থেকে গেলো, মনে মনে ভাবলো গাই। অকৃতজ্ঞ, গাই ওর জন্যে কতোটা স্বার্থ ত্যাগ করেছে সেটা কোনোদিন বুঝলো না।
“আমি লন্ডন থেকে খবর পেয়েছি যে স্যার নিকোলাস চিল্ডস এর শারীরিক অবস্থা ভালো না,” গাই বলতে লাগলো। “একদিন হয়তো লেডেনহাল স্ট্রিটের ঐ অফিসটায় তুমিই বসবে।”
এতো ভালো একটা খবরেও ছেলেটার চেহারায় কোনো আনন্দের ছাপ পড়লো না। গাই-এর মনে হলো ক্রিস্টোফার সম্ভবত এখনো কর্পোরালের মেয়েটার সাথে শোয়নি। ও সম্ভবত আদর্শ বিয়ে নামের কোনো উদ্ভট চিন্তা থেকে নিজেকে এসব থেকে বিরত রাখছে। গাই-ও যখন এই বয়সী ছিলো, ও ও একটা বিশুদ্ধ আর পবিত্র ভালোবাসায় বিশ্বাস করতো। কিন্তু ওর ভাই টমের কল্যানে সেই বিভ্রম কেটে যায়।
“আমি জানি যে তোমার চাহিদা আছে, সেসবকে অবহেলা করে আমি অপরাধ করেছি,” বলতে বলতে ও ডেস্কের একটা ড্রয়ার থেকে একটা প্যাগোডা খচিত স্বর্ণমুদ্রা বের করে ক্রিস্টোফারের দিকে ছুঁড়ে দিলো। “তোমার ভবিষ্যৎ বৌয়ের কাছে থেকে যৌতুক হিসেবে এর চাইতে অনেক বেশি আদায় করা হবে। আপাতত এটা নিয়ে কাস্টম হাউজের ওখানে যে বেশ্যাপাড়াটা আছে ওখানে যাও। ওটাই সবচেয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। অফিসারেরা ওখানেই যায়। ওখান থেকেই একটা মেয়েকে নিয়ে একটু ফুর্তি করে এসো।” মিটিমিটি হাসলো গাই। “খোদার দোহাই ওখানেও কারো প্রেমে পড়ে যেও না।”
