টমের রাগ দেখে রানি হাসলেন। হাসলে তাকে এতো সুন্দর দেখায় যে এক মুহূর্তের জন্যে টম সব ভুলে থমকে গিয়েছিলো।
“কামানগুলো আমি উদ্ধার করেছি, তাই ওগুলো আমার,” রানি ব্যাখ্যা করলেন। “এই উপকূলে যত জাহাজডুবি হয়, সেগুলোর মালামালসহ সব আমার।” বলে উনি এক হাত তুলে টমকে কিছু বলা থেকে নিবৃত করলেন। “ক্যাপ্টেন কোর্টনী, আপনার সাথে আমার কোনো শত্রুতা নেই। বরং আমি কেন যেনো আপনার প্রতি একটা অন্যরকম শ্রদ্ধাবোধ করি। তাই যদি আমার সামর্থ্য থাকতো তাহলে আমি কোনো ধরনের বাহানা ছাড়াই সবগুলো কামান আপনাকে দিয়ে দিতাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে ওগুলো আর আমার কাছে নেই। আমার সৈন্যরা যখন ব্রিঞ্জোয়ানের অবরোধ ছেড়ে পালিয়ে আসে, তখন তারা কামানগুলোও ওখানে ফেলে আসে। পর টুপিওয়ালারা ওগুলো নিয়ে নেয়। আমি শুনেছি ওগুলোকে ওরা ওদের দুর্গের দেয়ালে লাগিয়েছে।”
টম মনে মনে অভিশাপ দিলো ভাগ্যকে। এমনটা হবে সেটা ধরেই রেখেছিলো, কিন্তু তবুও রানির কাছে আগে এসেছে যদি ওর ধারণা ভুল হয়, সেই আশায়। আর গাই যদি বোম্বে থেকে ওর পালানোর খবর এখানে পাঠিয়ে থাকে, তাহলে কামানগুলো আনতে ব্রিঞ্জোয়ানে গেলে যে সমাদর পাবে না তা বলাই বাহুল্য।
“এতো কষ্ট করে আমার কাছে আসার পরেও আপনার সময় নষ্ট হলো দেখে খারাপ লাগছে,” রানি বললেন। “কিন্তু সত্যি কথা বলতে আমি আসলে আপনার সাথে আবার দেখা হওয়ায় মন থেকে খুশি হয়েছি। আর কোনোভাবে কি আপনাকে সাহায্য করতে পারি?” বলে রানি নিজের সিংহাসনে ঝুঁকে এলেন। এতে তার স্তনযুগলও আরো বেশি প্রস্ফুটিত হয়ে উঠলো।
“আর একটা ব্যাপার।” ওর প্রতি রানির এই পরিবর্তিত মানসিকতা টমকে একটু অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। তাই ও ঠিক করলো এটার পুরো সুবিধা আদায় করবে। আপনার সেনাপতি টুঙ্গার আমার একটা তরবারি কেড়ে নিয়েছিলো। ওটা আমার পরিবারের ঐতিহ্য। তরবারিটার সাথে আমার অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে। স্বর্ণের গিলটি করা ছিলো তরবারিটায়। হাতলে ছিলো একটা বিশাল নীলকান্তমণি।”
“আমি চিনি ওটাকে।” মাথা ঝাঁকালেন রানি। সত্যিই দুর্দান্ত ছিলো তরবারিটা। টুঙ্গার ওটা সবাইকে দেখিয়ে নিয়ে বেড়াতো। অবরোধের সময়েও ওর সাথেই ছিলো ওটা।”
“হ্যাঁ,” টম বললো। “টুঙ্গার মারা যাওয়ার পরে তার লাশটা আমি ব্রিঞ্জোয়ানের কাছেই খুঁজে পাই। কিন্তু অস্ত্রটা ওর কাছে ছিলো না।”
“আপনাদের কেউ হয়তো নিয়ে নিয়েছে।”
“আমিই সবার আগে ওর লাশটার কাছে পৌঁছেছিলাম। যদি কেউ নিয়ে থাকে তো আপনার সৈন্যদের কেউই নিয়েছে।”
রানি হাত নেড়ে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার ভঙ্গি করলেন। টম তার হাতটা খেয়াল করলো; ওগুলো দারুণ সুন্দর, ঠিক তার চেহারার মতোই। “আমার কোনো প্রজা আমার কাছে থেকে এরকম কিছু লুকিয়ে রাখার সাহস করবে না। একজন কৃষক এরকম একটা অস্ত্র দিয়ে করবেই বা কি? আর আমার চোখ এড়িয়ে এতো দামি একটা জিনিস বিক্রি-ইবা করবে কার কাছে? আর যদি ওটা পাওয়া না যায়, তার মানে ওটা হয় সাগরের ভেসে গিয়েছে, নয়তো কেউ লুট করেছে।”
টমের উত্তরটা মনঃপুত হলো না। যদিও ও জানে যে রানি ঠিকই বলছেন। আর একটা প্রশ্ন আছে ওর।
“আপনার দলে একজন লোক ছিলো-লোকটা শুদ্ধ ইংরেজিতে কথা বলতে পারতো, আর একটা অদ্ভুত তরবারি ছিলো তার। অনেকটা চাবুকের মতো। তার কি হয়েছে?”
“ওর নাম ছিলো আৰসালম। শেষদিন যুদ্ধের পর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি ওর। আমরা ওর লাশও খুঁজে পাইনি। হয়তো দুর্গের ফটকের কাছে যে বিস্ফোরণ হয়েছিলো সেটায় চাপা পড়েছে।”
রানির কথাগুলো টমকে কেনো যেনো খুব কষ্ট দিলো। অবশ্যই একজন ডাকাতের মৃত্যুতে ওর কিছুই আসে যায় না। কিন্তু তবুও কেন যেনো মন মানতে চাইলো না। আবসালম নামের লোকটার সাথে ওর কিছু দেনা পাওনা ছিলো-ক্যাপ্টেন হিকসের মৃত্যুর বদলা নেওয়া তো আছেই। কিন্তু সেই সাথেও কিছু আছে।
টম যাওয়ার জন্যে ঘুরলো।
“দাঁড়ান,” আদেশ না অনুরোধের সুর রানির গলায়। টম থেমে দাঁড়ালো। “অনেক টুপিওয়ালাই ভারতে এসে সৈনিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন।”
“আমি সাতারার রাজার হয়ে কাজ করি,” টম জবাব দিলো।
“উনি যতো টাকাই দিক আমি তার তিনগুণ দেবো। আমার রাজ্যের একজন উচ্চ ক্ষমতাসীন হতে পারবেন আপনি। আপনার আর জীবনে কিছুই লাগবে না।”
রানির গাল হালকা লাল হয়ে গিয়েছে। তার অলংকারে ভরা হাতটা ওনার গলা আর স্তনযুগলের মাঝের উপত্যকায় স্থির হয়ে আছে।
“আমার সাথে থাকুন, টমাস কোর্টনী।” রানির গলা খাদে নেমে এসেছে। “আমার আপনাকে দরকার।”
কামনা আর অপরাধবোধ দুদিক থেকে টেনে ধরলো টমকে। মনে হলো ওর চেতনার ভিত্তিমূল ধরে ঝাঁকি দিয়েছে কেউ। রানি খুব বেশি সুন্দর, কিন্তু একই সাথে খুব বেশি শয়তানি তার মনের ভিতর।
টম নিজের টুপির প্রান্ত ধরে মার্জিতভাবে কুর্নিশ করলো। “দুঃখিত, মহামান্য। আমাকে যে এখন আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করতে যেতে হবে।”
*
ব্রিঞ্জোয়ানের কুঠিতে আবার এসে রানির মহলের চাইতেও বেশি অবাক হলো টম। ফটকের প্রহরী ওর দিকে এমনভাবে ওর দিকে তাকিয়ে রইলো যেনো ও কোনো অশরীরী প্রেতাত্মা।
“মিস্টার উইল্ড?” কথা জড়িয়ে গেলো প্রহরীর।
