*
ক্রিস্টোফার মাথা ঝাঁকিয়ে লিডিয়াকে নিজের ঘরে নিয়ে এলো। দুর্গের উত্তর-পূর্ব কোণে ওর ঘরটা। ওর আগে এখানে কেউ থাকতো না। দস্যুদের স্বভাব নেকড়েদের মতোই-লুট করুক, খাক বা ঘুমাক সব একসাথে করে। স্বভাবতই তাই এরকম নির্জন জায়গা এড়িয়ে গিয়েছে বাকিরা। কিন্তু ক্রিস্টোফারের জন্যে এই নীরব জায়গাটাই ছিলো সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত।
তাছাড়া এটা ওকে ওর গোপনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ও নিজেকে বুঝিয়েছে যে লিডিয়াকে এখানে নিয়ে এসেছে শুধু নিরিবিলি ওর কাহিনি শোনার জন্যে। কিন্তু সেটা পুরোপুরি সত্যি না। গার্ডরুমে পা দিয়েই যা দেখতে পেয়েছিলো সেটা ভুলতে পারছে না কোনোমতেই কোমর পর্যন্ত চেরা জামার ভিতর থেকে বেরিয়ে থাকা লিডিয়ার ভরাট স্তন। এখন অবশ্য লিডিয়া ওর ছেঁড়া জামার দুটো অংশ কোনো মতে গিট দিয়ে নিজের আব্রম্ন রক্ষা করছে। কিন্তু তবুও গিটের ফাঁক দিয়ে নগ্ন চামড়া দেখা যাচ্ছে।
পুলার হাতে ও আর তামান্না ধরা পড়ার পর থেকে আর কোনো মেয়ের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়নি ক্রিস্টোফারের। এমন না যে সুযোগ হয়নি-এই দুর্গে প্রচুর বেশ্যা বা এমনি আগ্রহী মেয়েমানুষ আসে-কিন্তু ও কখনো তাদের প্রতি কোনো আকর্ষণ অনুভব করেনি। কিন্তু এই মেয়েটার প্রতি করছে এখন।
“কি বলবেন বলুন,” ক্রিস্টোফার জানতে চাইলো।
লিডিয়া আবারও নিজের পরিস্থিতি ভুলে অন্য বিষয়ে নাক গলানো শুরু করলো। “একজন ভারতীয় জলদস্যু হয়ে কিভাবে এতো নিখুঁত ইংরেজি শিখলেন?” জিজ্ঞেস করলো ও।
“ওদের সাথে কাজ করেছি অনেকদিন,” ব্যাখ্যা করলো ক্রিস্টোফার।
“বোম্বেতে গিয়েছিলেন কখনো?”
ক্রিস্টোফার কি বলবে ভেবে পেলো না। এ কি ওকে চিনতে পারবে? কিন্তু সেটা অসম্ভব। আজ সকালেও এক বালতি পানিতে ও নিজের প্রতিচ্ছবি দেখেছে। ওর মা পর্যন্ত ওকে চিনতে পারবে না।
“গিয়েছি দুয়েকবার,” ক্রিস্টোফার বললো।
“তাহলে নিশ্চয়ই গভর্নর গাই কোর্টনীর নাম শুনেছেন?”
“হ্যাঁ,” সংক্ষেপে বললো। “তা শুনেছি।”
“আপনি কি এটা জানেন, যে তার স্ত্রীর দুই বোন এই দুর্গে বন্দী?”
ক্রিস্টোফার হতবাক হয়ে লিডিয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। লিডিয়া ওর শ্যেন দৃষ্টি দিয়ে ক্রিস্টোফারের এই বিহ্বল অবস্থাটা খেয়াল করলো কিন্তু কারণটা ধরতে পারলো না।
“ওনাদের নাম হচ্ছে সারাহ আর অ্যাগনেস। কিন্তু সারাই ওনার আসল পরিচয় লুকিয়ে রেখেছেন। কারণ…” সারাহ যে গাই-এর জন্যে নিজের পরিচয় গোপন রাখছে সেটা ও বলে দিতে যাচ্ছিলো কিন্তু কি মনে করে শেষ মুহূর্তে চেপে গেলো। “কারণ ওনার ধারণ আংরিয়া এই সম্পর্কের ফায়দা ওঠাতে চাইবে। আর মুক্তিপণের টাকা বাড়িয়ে দেবে।” শেষে মিথ্যে বললো ও।
“আপনি তার গোপন খবর ফাঁস করে দিচ্ছেন,” ক্রিস্টোফার মন্তব্য করলো। তবে গলা শুনে বোঝা গেলো ও লিডিয়াকে দোষ দিচ্ছে না।
লিডিয়া ওর কাছে ঘেঁষে এলো, এতো কাছে যে ওর উন্নত স্তন প্রায় ক্রিস্টোফারের খোলা বুকে স্পর্শ লেগে গেলো। লিডিয়া ক্রিস্টোফারের শরীরের উত্তাপ টের পেলো।
“আসলে,” মিনতি করলো লিডিয়া। “চিত্তিত্তিঙ্কারাতে এক গণহত্যায় আমার স্বামী মারা যায়। এর পর থেকেই আমি একা। আমি কারো করুণা চাই না; শুধু নিজের মুক্তি আদায় করে নিতে চাই।”
লিডিয়া নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরলো। তারপর ছোট একটা মেয়ের মতো চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকলো ক্রিস্টোফারের দিকে। কি মনে করে ক্রিস্টোফারের বাহু স্পর্শ করলো লিডিয়া। ওর শক্ত মাংসপেশি অনুভব করলো। “আমি জানি না আপনি কিভাবে এখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে ভাগ্যই আমাদেরকে এক করেছে। আমাকে রক্ষা করতে পারবে এরকম একজন লোকের আমার খুব দরকার।”
ক্রিস্টোফার লিডিয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। কথাটা শুনে মনের ভিতর ঝড় বইছে ওর। সমগ্র সত্তা চাচ্ছে লিডিয়াকে ভোগ করতে। কিন্তু এটাও পরিষ্কার যে মেয়েটা ওর এই আকর্ষণকে নিজের সুবিধার জন্যে কাজে লাগাতে চাইছে।
ক্রিস্টোফার হাত বাড়িয়ে লিডিয়ার ছেঁড়া জামাটার গিটু খুলে আবার টেনে খুলে দিলো। লিডিয়া বাধা দেওয়ার কোনো চেষ্টাই করলো না। লিডিয়ার কব্জিতে তখনও হাতকড়া পরানো। ও দুই হাত একসাথে উপরে তুলে হাতকড়া সমেত হাতটা ক্রিস্টোফারের ঘাড়ের পিছনে নিয়ে এলো। তারপর পিছিয়ে যেতে শুরু করলো। ওর টানে ক্রিস্টোফারও আগাতে লাগলো সামনে বিছানায় নিজের হাটুর পিছন দিকটার স্পর্শ পেতে তারপর থামলো লিডিয়া।
“ব্যথা দেবেন না যেন,” বিড়বিড় করে বললো ও, কিন্তু ক্রিস্টোফারের কানে কথাটা গেলো বলে মনে হলো না। ও হামলে পড়লো লিডিয়ার উপর। ধাক্কায় লিডিয়া ধপ করে পিছন দিকে বিছানার উপর পড়ে গেলো। হাতকড়ার টানে ক্রিস্টোফারও ঝুঁকে এলো ওর উপর।
লিডিয়া একই সাথে ব্যথা আর আবেশ দুটোতেই শীকার করে উঠলো। জীবনে প্রথমবারের মতো ওর মনে হলো স্বর্গসুখ লাভ করলো যেনো। উন্মত্ত কামনার সামনে এতোদিনের কষ্ট করে গড়ে তোলা শঠতা আর ধুর্ততার বাঁধ ভেসে গেলো খড়কুটোর মতো।
লিডিয়ার আবেশী ক্রন্দনের সাথে ক্রিস্টোফারের জান্তব গর্জন মিলে মিশে একাকার হয়ে গেলো। উত্তেজনা থিতিয়ে আসার পর, ওভাবে ক্রিস্টোফারের গলায় হাতকড়া বাধিয়ে রেখেই মরার মতো ঘুমিয়ে পড়লো লিডিয়া।
