“আমার কথা কি বুঝতে পারছেন?” পর্তুগিজে বললো ও। “আমি আপনাদের ক্যাপ্টেনের সাথে কথা বলতে চাই।”
ক্যাপ্টেন কাঁধ ঝাঁকালো। একটা বর্ণও বোঝনি সে। আর তাতে ওর কিছু যায় আসে-ও না। ও লোকদেরকে কিছু একটা বলতেই সবাই অশ্লীল ভঙ্গিতে হেসে উঠলো। ক্যাপ্টেন নিজের উরুসন্ধিতে হাত বুলালো। লিডিয়া নিজের অস্বস্তি লুকিয়ে এক পা আগে বাড়লো।
“এখানে কেউ ইংরেজি পারে?” রাগের অভিনয় করে বললো ও। “আমার কাছে একটা গোপন খবর আছে।” লিডিয়া জানে যে ওরা ওর কথা বুঝবে না, কিন্তু আশা করছে যে অন্তত ওর কথার গুরুত্বটা ধরতে পারবে।
ক্যাপ্টেন ওর দিকে সরু চোখে তাকিয়ে মাথা ঝাঁকালো। তারপর ওর অধস্তন কাউকে কিছু একটা আদেশ দিলো।
দুজন লোক ঝট করে উঠে দাঁড়িয়ে লিডিয়ার দুই হাত চেপে ধরলো। লিডিয়া চিৎকার দিতে গেলো কিন্তু তৃতীয় আর একজন পিছন থেকে এগিয়ে এসে ওর মুখ চেপে ধরলো। ক্যাপ্টেন কোমর থেকে একটা ধারালো ছুরি বের করে ওর গলায় ঠেকালো।
ছুরির ডগা লিডিয়ার কাপড়ের গলা দিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে দিলো লোকটা। ছুরির শীতল স্পর্শ চামড়ায় লাগতেই লিডিয়া স্থির হয়ে গেলো। তারপর আচমকা ঘ্যাচ করে একটানে ছুরিটা নামিয়ে আনলো ক্যাপ্টেন। কোমর পর্যন্ত দুই ভাগ হয়ে গেলো লিডিয়ার পোশাক। ওর বিশাল স্তন বেরিয়ে এসে দুলতে লাগলো। ওর বাহু দুটো পিছনে টেনে আটকে রাখা হয়েছে। ফলে ওগুলো ঢাকার সুযোগ নেই। লিডিয়া ক্যাপ্টেনের দিকে তাকিয়ে রইলো, যেনো দৃষ্টি দিয়ে লজ্জা দিতে চাচ্ছে।
ক্যাপ্টেন হেসে ছুরিটা আবার খুঁজে রাখলো বেল্টে। তারপর হাত বাড়িয়ে দুই হাতে দুটো স্তন চেপে ধরে, এমনভাবে ওজন করতে লাগলো যেনো ওগুলো পাকা পেঁপে। ক্যাপ্টেন আবার নিজের উরুসন্ধিতে হাত দিয়ে মালিশ করতে শুরু করলো। লিডিয়াও চোখ নামিয়ে তাকালো সেদিকে। ধুতির নিচে তার পুরুষাঙ্গ শক্ত হয়ে ফুলে উঠেছে।
লিডিয়া পিঠ দিয়ে পিছনের লোকগুলোকে ধাক্কা দিলো। ওরাও সহজাতভাবেই আবার ওকে ঠেলে সোজা করতে সামনের দিকে দিলো টান। লিডিয়া সেই জড়তাকে কাজে লাগিয়ে ওর ডান হাঁটুটা ক্যাপ্টেনের উরুসন্ধি বরারবর ঠেলে দিলো। এতোক্ষণের জমা রাগ আর আক্রোশের পুরোটা ঝাড়লো লাথিটা দিয়ে।
ক্যাপ্টেন একজন মহিলার মতো চিৎকার করতে করতে পিছিয়ে দেয়ালের গায়ে গিয়ে পিঠ ঠেকালো। দুই হাত দিয়ে উরুসন্ধি চেপে ধরে আছে। কিন্তু প্রায় সাথে সাথেই ব্যথাটা সামলে নিয়ে আবার লিডিয়ার দিকে আগালো সে। চেহারা জুড়ে তখনো যন্ত্রণা। ডান হাতে ছুরিটা তুলে নিয়েছে আবার। লিডিয়াকে গেঁথে ফেলবে বোঝাই যাচ্ছে।
“থামো।” রাশভারি একটা কণ্ঠ হুকুম করলো। “ওকে ছেড়ে দাও এখুনি।”
প্রহরীরা সাথে সাথে আজ্ঞা পালন করলো। ওরা লিডিয়াকে ছেড়ে দিয়ে পিছনে সরে হাত পিঠের পিছনে নিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। সবার চেহারায় ভীতি। এমনকি ক্যাপ্টেন পর্যন্ত হাতের ছুরিটা ফেলে দিয়ে দেয়ালে ঠেস দিয়ে মাথা নিচু করে রইলো।
ওদের সবার নজর প্রহরী কক্ষের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার দিকে।
একজন প্রহরী বিনয়ের সাথে কপাল সামান্য ঝুঁকিয়ে বিড়বিড় করে একটা নাম বললো, “রুদ্র”। রুদ্র দুর্গে আসার পর থেকে সবাইকে অবাক করে দিয়ে খুব দ্রুত আংরিয়ার খুব কাছের লোক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে ওকে একটা গ্রামে পাঠানো হয়। ওখানকার লোকজন আংরিয়াকে চাদা দিতে চাইছিলো না। ও দুই বছরের চাদা একসাথে নিয়ে ফিরে আসে। পরের বার ওকে আংরিয়ার এক ক্যাপ্টেনের সাথে সমুদ্র অভিযানে পাঠানো হয়। এবার ও প্রায় পাঁচটা জাহাজ আর একশো হাজার রুপি লুট করে নিয়ে আসে। আংরিয়ার ক্যাপ্টেন অবশ্য মারা গিয়েছিলো। যুদ্ধের ডামাডোলে কেউ বলতে পারবে না যে কিভাবে সে মারা গিয়েছে, তবে লোকজন ভিতরে ভিতরে রুদ্রকেই সন্দেহ করে। যদিও ওর সামনে কিছু বলার সাহস করে না। আংরিয়া গুজবটা শুনে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে। “সাপের গর্তে নামলে সবাইকেই নিজেকে নিজে রক্ষা করতে জানতে হয়।” ও রুদ্রকে মৃত ক্যাপ্টেনের জায়গায় পদোন্নতি দিয়ে দেয়। এরপর থেকে আর এসব গুজব ডালপালা মেলতে পারেনি। বিশেষ করে এক মুখ পাতলা লোককে যখন থেকে দুর্গের নিচের পানিতে ভাসতে দেখা গেলো, তখন থেকেই এই সংক্রান্ত ব্যাপারে সবার মুখে তালা পড়ে যায়।
রুদ্র লিডিয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। “কে তুই?” এতো নিখুঁত উচ্চারণে জিজ্ঞেস করলো যে লিডিয়া চমকে গেলো। লোকটা লম্বা, কাঁধ চওড়া। মাথায় একটা তাজা পোড়া ক্ষত, ফলে তালুতে টাক হয়ে আছে খানিকটা। তবে দাড়ি আর ভ্রু ঘন আর কুঁচকুচে কালো। শুধু একটা চামড়ার আড়াআড়ি বেল্ট ছাড়া কোমর পর্যন্ত গায়ে কাপড় নেই তার। লিডিয়া বুঝতে পারলো বয়সের দিক দিয়ে যতোটা মনে হয়, লোকটা তার চাইতে কম বয়সী হলেও, ভয়ঙ্করত্বের দিকে দিয়ে অনেক অনেক বেশি।
“আমার নাম লিডিয়া ফয়,” হাত দিয়ে পেঁচিয়ে বুক ঢাকতে ঢাকতে বললো ও। তারপর রুদ্রের আগ্রহ কমে যাওয়ার আগেই তাড়াতাড়ি বললো, “আমার কাছে আপনাদের মালিককে দেওয়ার মতো একটা জরুরি খবর আছে।”
“কি খবর?” জানতে চাইলো রুদ্র।
“আমি শুধু আপনাকেই বলতে চাই সেটা,” ও অর্থপূর্ণভাবে বাকি লোকগুলোর দিকে তাকালো। “একাকী কোথাও কথা বলা যাবে না?”
